Friday, April 7, 2023

৮ঃ সি বি এ , ট্রেড ইউনিয়ন

৮.১ ট্রেড ইউনিয়ন কাকে বলে? 

৮.২ ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় শর্ত কি কি?
৮.৩ ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য কি কি বিষয় থাকতে হবে? 
৮.৪) ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের পদ্ধতি।

৮.৫) একটি রেজিস্টার্ড ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার ও সুবিধা।

৮.৬) নিবন্ধন সার্টিফিকেট


 ৯.১ ।   কালেকটিভ বার্গিনি এজেন্ট বা সিবিএ কি?

 ৯.২ ।  সিবিএ কিভাবে নির্ধারিত হয়ে থাকে?

 ৯.৩ ।  সিবিআর ক্ষমতা ও কার্যাবলী বর্ণনা কর। 




৮.১ ট্রেড ইউনিয়ন কাকে বলে? 

ট্রেড ইউনিয়ন মূলত: একটি সংগঠন। এটি মালিকদের দ্বারা গঠিত হতে পারে। আবার শ্রমিকদের দাঁড়াও গঠিত হতে পারে। আবার একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে। মালিকগণ ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করেন মালিকদের উন্নয়ন সাধনের জন্য। আর শ্রমিকগণ ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করেন শ্রমিকদের উন্নয়ন সাধনের জন্য। অর্থাৎ ট্রেড ইউনিয়ন মূলত: পরস্পরের উন্নয়ন সাধনের জন্য গঠিত হয়।  ট্রেড ইউনিয়ন অবশ্যই শ্রম আইন অনুযায়ী সরকারি রেজিস্ট্রি ভুক্ত হতে হবে।

ট্রেড ইউনিয়ন কাকে বলে: 

সাধারণত ট্রেড ইউনিয়ন বলতে শ্রমিকদের সংগঠনকে বুঝায়। কিন্তু ট্রেড ইউনিয়ন শুধু শ্রমিক রক্ষা নয়। মালিকপক্ষও করতে পারে। এটি সারা বিশ্বব্যাপী অতি পরিচিত। বিভিন্ন ব্যক্তির ট্রেড ইউনিয়নের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। 

ভি ভি গিরি বলেন, 'ট্রেড ইউনিয়ন হলো শ্রমিকদের স্বইচ্ছায় গড়ে তোলা কোন সংগঠন যার মাধ্যমে যৌথ প্রচেষ্টা দ্বারা তারা তাদের উন্নয়ন সাধন করে।'

সিডনি ও বিট্রশ ওয়েবর এর মতে, ট্রেড ইউনিয়ন হল মজুরি উপার্জনকারীদের কর্মজীবনের অবস্থার উন্নয়ন সাধন করার নিরবিচ্ছিন্ন একটি সংগঠন। 

বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২(১৫) ধারা অনুযায়ী: ট্রেড ইউনিয়ন হল সম আইনের ১৩ অধ্যায়ের অধীনে গঠিত ও রেজিস্ট্রিকৃত শ্রমিকদের বা মালিকদের ট্রেড ইউনিয়ন। ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও ট্রেড ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হবে।

সুতরাং বলা যায়, ট্রেড ইউনিয়ন হল শ্রমিকদের বা মালিকদের উন্নয়ন সাধনের জন্য তাদের যৌথ উদ্যোগে গঠিত রেজিস্ট্রিকৃত কোন সংগঠন। 


৮.২ ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় শর্ত কি কি?

প্রথমে রেজিস্টার অফ ট্রেড ইউনিয়ন অর্থাৎ শ্রম পরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির নিকট দরখাস্ত করতে হবে। দরখাস্ত ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর থাকতে হবে। 

দরখাস্তে যে বিষয়গুলি সংযোজন করতে হবে তা হল:

১) ট্রেড ইউনিয়নের নাম ও প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা
২) ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের তারিখ
৩) ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাগণের নাম, পিতার নাম ও মাতার নাম, বয়স, ঠিকানা, পেশা এবং ইউনিয়নের তাদের পদ । 
৪) চাঁদা প্রদানকারী সদস্যদের বিবরণ।
৫) যে প্রতিষ্ঠানের সাথে ট্রেড ইউনিয়নটি যুক্ত সেই প্রতিষ্ঠানের নাম এবং সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের সংখ্যা।
৬) ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রের তিনটি কপি এবং যে মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে তার রেজুলেশন কপি।

৭) ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে রেজিস্ট্রেশনের জন্য দরখাস্ত করার ক্ষমতা প্রদানের রেজুলেশন কপি।
৮) ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ক্ষেত্রে সদস্য ইউনিয়ন গুলির নাম ঠিকানা ও রেজিস্ট্রি নাম্বার এবং সদস্য হওয়ার সম্মতি প্রধান করে প্রত্যেক ইউনিয়নের গৃহীত প্রস্তাবের কপি।



৮.৩ ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য কি কি বিষয় থাকতে হবে? 

১) ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্দেশ্য।
২) ট্রেড ইউনিয়নের শ্রমিকদের সদস্য হওয়ার পদ্ধতি।
৩) শ্রমিকরা অন্য কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য নয় তার ঘোষণাপত্র।
৪) ট্রেড ইউনিয়নের তহবিলের উৎস এবং উক্ত তহবিল কি উদ্দেশ্যে ব্যবহার হবে তার বিবরণ।
৫) কোন সদস্য কোন সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হতে হলে তার শর্ত এবং কোন সদস্যকে জরিমানা করতে হলে তার শর্ত।
৬) ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের তালিকা সংরক্ষণ এবং তা কর্মকর্তা ও সদস্যদের কর্তৃক প্রদর্শনের সুবিধা।
৭) গঠনতন্ত্র পরিবর্তন, সংশোধন বা বাতিলের পদ্ধতি।
৮) ট্রেড ইউনিয়নের তহবিলের হেফাজত এবং কর্মকর্তা ও সদস্য কর্তৃক হিসাব পরিদর্শন সুবিধা।
৯) ট্রেড ইউনিয়নের অবলুপ্তির পদ্ধতি।
১০) ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য কর্তৃক কর্মকর্তা নির্বাচনের পদ্ধতি ও মেয়াদ। কর্মকর্তাদের মেয়াদ দুই বছরের বেশি হবে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠান পুঞ্জের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের মেয়াদ ৩ বছরের বেশি হবে না। তবে প্রকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি অবস্থা, ইত্যাদি কারণে নির্দিষ্ট সময় নির্বাচন না হলেও উক্ত কমিটি অবৈধ হবে না।
১১) কর্মকর্তাদের সংখ্যা পাঁচজনের কম হবেনা। এবং ৩৫ জনের বেশি হবে না।
১২) ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার পদ্ধতি।
১৩) ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির মিটিং প্রতি তিন মাসে অন্তত একটি এবং সাধারণ সদস্যদের মিটিং বছরের অন্তত একটি হতে হবে।
১৪) কোন প্রতিষ্ঠানে তিনটির বেশি রেজিস্ট্রিকৃত ট্রেড ইউনিয়ন থাকতে পারবেনা।
১৫) প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে শতকরা 30 ভাগ শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হতে হবে।



৮.৪) ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের পদ্ধতি।

১) প্রত্যয়ন পত্র প্রদান: শ্রম পরিচালক ট্রেড ইউনিয়নের প্রয়োজনীয় সকল বিষয় পালিত হয়েছে মর্মে সন্তুষ্ট হলে রেজিষ্টারে তা রেজিস্ট্রি করবেন। এবং দরখাস্ত পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে তিনি নির্দিষ্ট ফর্মে প্রত্যয়ন প্রদান করবেন।

২) আপত্তি ও জবাব: সমপরিচালক যদি দরখাস্তে তথ্যের অসম্পূর্ণতা দেখতে পান তাহলে তিনি দরখাস্ত প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে ট্রেড ইউনিয়নকে তা লিখিতভাবে জানাবেন এবং ট্রেড ইউনিয়ন চিঠি প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিবেন।

৩) আপত্তি মেটানো বা দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান: শ্রম পরিচালক ট্রেড ইউনিয়নের জবাবে সন্তুষ্ট হলে তাদের রেজিস্ট্রেশন দিবেন আর সন্তুষ্ট না হলে দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান করবেন। 

৪) শ্রম আদালতে আপিল: সমপরিচালক দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান করলে বা ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি না করলে সংশ্লিষ্ট থ্রেড ইউনিয়ন শ্রম আদালতে আপিল করতে পারবে। আবিরের সময়সীমা হবে প্রত্যাখ্যানের তারিখ অথবা উল্লিখিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার তারিখ। যেটি আগে আসে তার থেকে ৩০ দিনের মধ্যে।

৫) শ্রম আদালতের সিদ্ধান্ত: শ্রম আদালত আপিল শুনানির পর তা খারিজ করতে পারে। অথবা আপিলটি উপযুক্ত মনে করলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করে শ্রমপরিচালক কে ইউনিয়নটি রেজিস্ট্রি করার জন্য এবং তার তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করার নির্দেশ দিতে পারেন।

৬) শ্রম ও আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল:
শ্রম আদালতের রায়ে সংক্ষুব্ধ কোন পক্ষ আদালতের আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম ও আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করতে পারবেন।


৮.৫) একটি রেজিস্টার্ড ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার ও সুবিধা।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এ একটি নিবন্ধনকৃত ট্রেড ইউনিয়নের কি কি অধিকার ও সুবিধা তা উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত অধিকার ও সুবিধাসমূহ উল্লেখ করা হলো:
১) বদলি না করা: ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি ও সম্পাদকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের তাদের সম্মতি ব্যতীত এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলি করা যাবে না। ( ধারা - ১৮৭)
২) ষড়যন্ত্রের বাধা: গঠনতন্ত্রের কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কোন চুক্তি করলে ট্রেড ইউনিয়নের কোন কর্মকর্তা বা সদস্য বা সিবিএ প্রতিনিধি ষড়যন্ত্র এর দায়ে অভিযুক্ত হবেন না।

৩) কিছু ক্ষেত্রে দেওয়ানী মামলা থেকে অব্যাহতি: ট্রেড ইউনিয়ন যদি শিল্প বিরোধী জড়িয়ে পড়ে এবং এ উদ্দেশ্যে কোন কার্যক্রম পরিচালনা করলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তা সদস্য ও সিভিএ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না। ( ধারা - ১৯৮)

৪) কিছু চুক্তি বাতিলযোগ্য নয়:
প্রচলিত আইনে যাই থাকুক না কেন কোন কোন চুক্তি ব্যবসায়ের জন্য ক্ষতিকর শুধু এই কারণে ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের কোন চুক্তি বাতিল হবে না। ( ধারা - ১৯৯)

৫) ফেডারেশন গঠন: পাঁচবার তার বেশি ট্রেড ইউনিয়ন এবং একাধিক প্রশাসনিক বিভাগের ট্রেড ইউনিয়ন তাদের সাধারণ সভা অনুমোদনক্রমে একটি ফেডারেশন করতে পারে। ( ধারা ২০০)

৬) কর্মচ্যুতি বা বরখাস্তে বাধা: ট্রাইব্যুনালে দায়িত মামলা মুলতবী থাকাকালীন সময়ে নিবন্ধনকৃত ট্রেড ইউনিয়নের কোন কর্মকর্তাকে আদালতের অনুমতি ব্যতীত অসদ আচরণের জন্য কর্মসূচি বরখাস্ত বা অন্য কোন সাজা দেওয়া যাবে না। ( ধারা - ২৮৮)
৭) মালিককে জরিমান: কোন মালিক ২২৮ ধারা অমান্য করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ৫০০০ টাকা জরিমানা বা দন্ড হতে পারে।



৮.৬) নিবন্ধন সার্টিফিকেট

সময়নের 182 ধারার অধীনে শ্রম পরিচালক কর্তৃক কোন ট্রেড ইউনিয়নকে প্রদত্ত সার্টিফিকেটকে নিবন্ধন সার্টিফিকেট বলে। 
কোন ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য এই আইনের ১১৭ ধারার অধীনে আবেদন করলে 182 ধারার বিধান অনুযায়ী শ্রম পরিচালক যদি এই মর্মের সন্তুষ্ট হন যে, উক্ত ট্রেড ইউনিয়ন সকল বিষয় পালন করেছে, তাহলে নির্ধারিত রেজিস্টরে তাকে রেজিস্ট্রি করবেন। 
আবেদন পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করবেন।
এটি হলো নিবন্ধন সার্টিফিকেট।





৯.১ যৌথ দরকষাকষি ( সি বি এ) প্রতিনিধি কে?

মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় শ্রমিকদের পক্ষে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করেন তারাই হলেন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি ( সি বি এ )

সিবিএ এর পূর্ণরূপ হল - collective bargaining agent. 

যৌথ দরকষাকষি সি বি এ প্রতিনিধি:
কোন প্রতিষ্ঠানের কোন ট্রেড ইউনিয়ন যদি শ্রমিক ও মালিকদের দরকষাকষির ব্যাপারে শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে তাহলে তাকে যৌথ দরকষাকষি সিবিএ প্রতিনিধি বলে। 
কোন প্রতিষ্ঠানের ট্রেড ইউনিয়নকে যদি ওই প্রতিষ্ঠানের মোট শ্রমিকের ৩০ শতাংশ শ্রমিক সমর্থন করে তাহলে উক্ত ট্রেড ইউনিয়ন যৌথ দরকষাকষি বা সিবিএ প্রতিনিধি বলে গণ্য হয়।

৯.২ যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি ( সি বি এ ) নির্বাচন বা নির্ধারণ:

বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০২ ধারায় যৌথ দর কষাঘষি প্রতিনিধি সিবিএ নির্বাচন বা নির্ধারণ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্নেতা আলোচনা করা হলো:

১) প্রতিষ্ঠানে একটি ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে: যদি কোন প্রতিষ্ঠানে একটি ট্রেড ইউনিয়ন থাকে তাহলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সেই ট্রেড ইউনিয়নই যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি সিবি এ বলে গণ্য হবে। 

২) কোন প্রতিষ্ঠানে একাধিক ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে: যদি কোন প্রতিষ্ঠানে একাধিক ট্রেড ইউনিয়ন থাকে তাহলে উক্ত ট্রেড ইউনিয়ন গুলি তাদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার মনোনয়ন দিয়ে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি বা সিবিএ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। 

৩) নিজেদের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব না হলে: যদি নিজেদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হয় তাহলে ট্রেড ইউনিয়ন বা মালিকপক্ষ শ্রমপরিচালক বরাবর দরখাস্ত করবেন।

৪) নোটিশ প্রধান: শ্রমপরিচালক দরখাস্ত পাওয়ার পর সকল ট্রেড ইউনিয়নকে নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে কিনা তা জানার জন্য নোটিশ প্রদান করবেন।

৫) নির্বাচন ব্যবস্থা: শ্রম পরিচালক দরখাস্ত পাওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থা করবেন। 

৬) নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে:
যদি কোন ট্রেড ইউনিয়ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তাহলে ট্রেড ইউনিয়ন অংশগ্রহণ করবে বলেন নোটিশের জবাব দিবে তাদের উক্ত প্রতিষ্ঠানের যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি সিবিএ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের এক কৃতীয়াংশ শ্রমিককে ওই ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য থাকতে হবে।

৭) শ্রমিকদের তালিকা সংগ্রহ: নির্বাচন অনুষ্ঠান হলে সমপরিচালক মালিকের নিকট শ্রমিকদের তালিকা চাইতে পারেন। উক্ত তালিকা প্রতিদ্বন্দকারী ট্রেড ইউনিয়ন কে প্রদান করবেন এবং প্রকাশ্য স্থানে ঝুলিয়ে দিবেন। 

৮) তালিকা সংশোধন: উক্ত তালিকার সম্পর্কে কেউ আপত্তি করলে শ্রমপরিচালক তদন্ত করে তা সংশোধন করতে পারেন।

৯) নির্বাচনের সুযোগ সুবিধা: কোন মালিক নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না বরং নির্বাচনের সকল সুযোগ সুবিধা ব্যবস্থা করবেন।

১০) ভোট গ্রহণ: শ্রমপরিচালক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করবেন।

১১) অফিস বরাদ্দ: প্রত্যেক মালিক নির্বাচিত যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির সিবিএ র জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে অফিস কক্ষ বরাদ্দ করবেন।


৯.৩ যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধির ক্ষমতা ও কার্যাবলী

বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০২ ধারা যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির ক্ষমতা ও কার্যাবলী সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্নতা আলোচনা করা হলো:

১) নিজেদের পক্ষোভুক্ত করা: যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি সিবিএ তাদের মর্যাদা ক্ষুন্ন না করে কোন কার্যক্রম নিজেদের পক্ষভুক্ত করতে পারবে। 

২) দরকষাকষি করা: কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান হলে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি সিবিএ মালিকের সাথে দর কষাকষি করতে পারবে।

৩) প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা: যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি সিবিএস শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারবে।

৪) ধর্মঘট আহ্বান: যৌথ দর্কাসাঘষি প্রতিনিধি সিবিএ আইনসঙ্গতভাবে ধর্মঘট আহ্বান করতে পারবে।
৫) মামলা পরিচালনা: সিবি এ শ্রমিকদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করতে পারবে।
৬) আপত্তি উত্থাপন: কোন বিশেষজ্ঞ সম্পর্কে কোন আপত্তি থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য শ্রম পরিচালককে অনুরোধ করতে পারবে।

উপসংহার: এখন বিদ্যমান দুটি পক্ষ ঐক্য মধ্যে পৌঁছাতে পারেনা তখন উক্ত বিবাদ নিষ্কতির জন্য তৃতীয় পক্ষের  প্রয়োজন হয়। যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি সিবিএ মূলত সেই কাজটি করে থাকে। এটি শ্রমিকদের প্রতিনিধি হয়ে মালিকদের সাথে দরকষাকষি করে বিবাদ নিষ্পত্তি করে থাকে।


৭ঃ শিল্পবিরোধ, প্রধান পরিদর্শক , শ্রম পরিচালক

৭.১ ।   শিল্পবিরোধ বলতে কি বুঝ? 

৭.২ ।  কে ইহা উত্থাপন করিতে পারে? 
৭.৩ । শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায় বা পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।

৭.৪ ।   কখন একটি ব্যক্তিগত বিরোধ শিল্প বিরোধে হতে পারে?

৭.৫ ।  শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আইনে কোন কোন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার করা হয়েছে?

৭.৬ ।  ২০০৬ সালের শ্রম আইন অনুসারে শ্রম পরিচালক কে?
 
৭.৭ ।  শ্রম পরিচালক কিভাবে নিযুক্ত হন?

৭.৮।  শ্রম পরিচালকের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।

৭.৯।  প্রধান পরিদর্শক কে? প্রদান পরিদর্শক নিয়োগ কি ভাগে হয়?

৭.১০ । প্রদান পরিদর্শকের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করো ।

৭.১১ ।  প্রদান পরিদর্শকের কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের পদ্দতি। 


শ্রম আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে একটি শিল্প বিরোধের বিভিন্ন পর্যায় গুলি আলোচনা করো।
পূর্বে নোটিশ না দিয়ে কোন শ্রমিক ইউনিয়ন ধর্মঘটে গেলে তার ফলাফল কি হবে?



৭.১ ।   শিল্পবিরোধ বলতে কি বুঝ? 

শ্রমিকরা যদি তাদের ন্যায় সঙ্গত দাবি থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে তারা ধর্মঘট পালন করে। মালিকপক্ষ যদি মনে করে শ্রমিকদের দাবি অযৌক্তিক তাহলে তারা লক আউট করে তাদের প্রতিষ্ঠান সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। এভাবে শুরু হয় শিল্প বিরোধ।

শিল্প বিরোধ: 
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২( ৬২) ধারা অনুযায়ী- কোন ব্যক্তির চাকুরীর নিয়োগ সংক্রান্ত বা চাকুরীর শর্তাবলী বা কাজের অবস্থা বা পরিবেশ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে মালিক, মালিক- শ্রমিক, শ্রমিক থেকে শ্রমিকের মধ্যে কোন বিরোধ বা মতপার্থক্য কে শিল্প বিরোধ বলে।


৭.২ ।  কে ইহা উত্থাপন করিতে পারে? 

বাংলাদেশ সময় আইন ২০০৬ এর 209 ধারা অনুযায়ী নিম্নের পক্ষগণ শিল্প বিরোধ উত্থাপন করতে পারেন:
১) মালিকপক্ষ
২) cba অর্থাৎ যৌথ দরকষাকষি এজেন্ট


৭.৩ । শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায় বা পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।


বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০৯ ২১০-২১১ ২১২ ধারায় শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায়ে বা পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:
১) শিল্প বিরোধ উত্থাপন: মালিকপক্ষ বা সিবিএ অর্থাৎ যৌথ দরগসাঘষি এজেন্ট শিল্পবিরোধ উত্থাপন করবেন। কেউ যদি শিল্প বিরোধ উত্থাপন না করেন তাহলে শিল্পবিরোধ বিদ্যমান আছে বলে গণ্য হবে না।

২) অন্য পক্ষে কে লিখিত জানানো: কোন মালিক বা যৌথ দর্গষাঘষি এজেন্ট শিল্প বিরোধ সম্ভাবনা দেখলে অন্য কোন পক্ষকে লিখিতভাবে জানাবেন।

৩) সভা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা: যে পক্ষ লিখিত পত্র প্রাপ্ত হবে সেই পক্ষপত্র পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সভা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করবেন। এক্ষেত্রে উক্ত সভা উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে পারে।

৪) নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হলে করণীয়:
উভয় পক্ষের সভা যদি বিরোধ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয় তাহলে এটি নিষ্পত্তি নামা লিখতে হবে এবং তাতে উভয় পক্ষের স্বাক্ষর করবে। উক্ত স্বাক্ষরিত নিষ্পত্তিনামার কপি সরকার , শ্রম পরিচালক ও সালিশের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

৫) নিষ্পত্তি না হলে করণীয়:
লিখিত পত্র পাওয়া ১৫ দিনের মধ্যে সভা অনুষ্ঠান করতে ব্যর্থ হলে অথবা অনুষ্ঠান হলেও এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত না হলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সালিশ কে অনুরোধ করা যাবে।

৬) সরকার কর্তৃক সালিশ নিয়োগ: সরকারি গ্যাজেটের প্রজ্ঞাপন দ্বারা সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক সালিশ নিয়োগ করতে পারবেন।

৭) সালিশ কর্তৃক সভা আহ্বান:
অনুরোধ প্রাপ্ত হলে দশ দিনের মধ্যে সালিশ তার কাজ শুরু করবেন অর্থাৎ উভয়পক্ষকে সবার জন্য আহ্বান করবেন।
৮) উভয় পক্ষের হাজিরা: উভয়পক্ষ তাদের প্রতিনিধি নির্ধারিত তারিখ হাজির হবেন।

৯) সালিশ কর্তৃক রিপোর্ট পেশ:
সবাই যদি বিরোধ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয় তাহলে একটি নিষ্পতি নামা লিখতে হবে এবং তাতে উভয়পক্ষ স্বাক্ষর করবে। সরকারের নিকট উক্ত রিপোর্ট পেশ করবেন।

১০) সালিশ কর্তৃক সময় বৃদ্ধি: অনুরোধ প্রাপ্ত হয়ে শালী যদি 30 দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে না পারে তাহলে উভয়পক্ষের লিখিত অনুরোধের সময় বৃদ্ধি করতে পারবে অথবা কার্যক্রম ব্যর্থ হবে।

১১) মধ্যস্থতা কারীর নিকট প্রেরণ:
সালিশের কার্যক্রম ব্যর্থ হলে সালিশ উভয়পক্ষকে কোন মধ্যস্থতাকারী নিকট প্রেরণের জন্য রাজি করাতে পারবেন।
১২) প্রত্যয়ন পত্র প্রদান:
মধ্যস্থতা কারীর নিকট প্রেরণ ের জন্য রাজি করাতে না পারলে তিন দিনের মধ্যে সালিশ উভয়পক্ষকে কার্যক্রম ব্যর্থ হয়েছে এই মর্মে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবেন।
১৩) মধ্যস্থতা কারীর নিকট প্রেরণের জন্য রাজি হলে: মধুস্তরকারি নিকট প্রেরণের জন্য রাজি হলে সকলের নিকট স্বীকৃতি কোন মজস্রোতা কারীর নিকট বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করবেন।

১৪) মধ্যস্থতাকারী: মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সরকারের তালিকাভুক্ত কোন ব্যক্তি মতস্পতাকারী হতে পারবেন অথবা স্বীকৃত যেকোনো ব্যক্তি মধ্য সরকারী হতে পারবেন।

১৫) রোয়েদাদ প্রদান: মধ্যস্থতাকারী অনুরোধ পাওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে বা লিখিতভাবে স্বীকৃত তারিখের মধ্যে রোয়েদাদ প্রদান করবেন।
১৬) রোয়েদাদ এর কপি প্রেরণ: মধ্যস্থতাকারী রয়দাদের কপি পক্ষগণকে এবং সরকারকে প্রেরণ করবেন।
১৭) রোয়েদাদের বিরুদ্ধে আপিল: মধ্যস্থতাকারীর রোয়েদাদ চূড়ান্ত হবে । অর্থাৎ এর বিরুদ্ধে আপিল চলবেনা।
১৮) রোয়েদাদ এর সময়: মধ্যসত্তাকারীর রোয়েদাদ দুই বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে।
১৯) শ্রম পরিচালকের কাজ: শ্রম পরিচালক যেকোনো সময় সালিশি কার্যক্রম উঠিয়ে নিয়ে নিজেই তা চালাতে পারবেন।
২০) ধর্মঘট বা লকআউট শুরু হলে: ধর্মঘট বা লগ আউট শুরু হয়ে গেলে তা কোন পক্ষ বিরক্তি নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালতের দরখাস্ত পেশ করতে পারবে।
২১) সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা: ধর্মঘট বা লকআউট ৩০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা তা নিষিদ্ধ করতে পারবে। জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হলে সরকার ৩০ দিন পূর্বে লিখিত আদেশ দ্বারা তা নিষিদ্ধ করতে পারবে।
২২) সরকার কর্তৃক শ্রম আদালতে প্রেরণ:
সরকার কোন ধর্মঘট বা লকআউট নিষিদ্ধ করলে তার সাথে সাথে নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালতে প্রেরণ করবেন।
২৩) শ্রম আদালতের করণীয়: শ্রম আদালত উভয়পক্ষকে শুনানির সুযোগ দিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য রোয়েদাদ প্রদান করবেন।
২৪) রোয়েদাদ এর স্থায়িত্ব: শ্রম আদালত এর রোয়েদাদ দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
২৫) নতুন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে: নতুন স্থাপিত কোন প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন শুরু হওয়ার পরবর্তী তিন বছর ধর্মঘট বা লক আউট নিষিদ্ধ থাকবে।

৭.৪ ।   কখন একটি ব্যক্তিগত বিরোধ শিল্প বিরোধে হতে পারে?

যখন একজন মালিক ও একজন মাত্র শ্রমিকের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় তখন সেটিও শিল্প বিরোধ হিসেবে গণ্য হয়।।
কিং বেঞ্চ ডিভিশন এর প্রধান বিচারপতি lord Goddard অভিমত দিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত বিরোধী শিল্প বিরোধ হতে পারে।
মাদ্রাজের লেবার অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল এর সিদ্ধান্ত হলো- একজন শ্রমিকের নিয়োগ বরখাস্ত বা কর্মচ্যুতি, চাকুরীর শর্ত বা কাজের অবস্থা সম্পর্কিত বিষয় একাকী উত্থাপিত বিরোধ ও শিল্প বিরোধ হিসেবে গণ্য হবে।

উপসংহার: বিভিন্ন কারণে কোন শিল্পে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এর অন্যতম কারণ হিসেবে শ্রমিকদের অধিকার বঞ্চিত হওয়াকে উল্লেখ করা যায়। অর্থাৎ শ্রমিকগণ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে শিল্পে বিরোধ সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের পক্ষে যৌথ দর্পষাঘষি এজেন্ট যেমন শিল্প বিরোধ উত্থাপন করতে পারেন তেমনি মালিকপক্ষ ও শিল্পবিরোধ উত্থাপন করতে পারেন। সাধারণত উভয় পক্ষের সমঝোতা বা আদালতের মাধ্যমে এই বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়।

৭.৫ ।  শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আইনে কোন কোন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার করা হয়েছে?

শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সময় নিয়ে নিম্নোক্ত কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে- 
১) সালিশ পরিষদ
২) মধ্যস্থতাকারী
৩) শ্রম পরিচালক
৪) শ্রম আদালত

৭.৬ ।  ২০০৬ সালের শ্রম আইন অনুসারে শ্রম পরিচালক কে?

একজন শ্রম পরিচালক বা রেজিস্টার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন। যেমন- ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা। কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা, যৌথ দরকার কষাকষি প্রতিনিধি নির্বাচন করা, শ্রমিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা ইত্যাদি।
একজন প্রধান পরিদর্শক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন। যেমন- উপপ্রধান পরিদর্শক সহকারী প্রধান পরিদর্শক, সরকারি পরিদর্শকের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করা প্রধান পরিদর্শকের অন্যতম কাজ। এছাড়া সময় নিয়ে প্রদত্ত অন্যান্য ক্ষমতাও তিনি প্রয়োগ করেন।

শ্রম পরিচালক: 
যিনি কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন প্রদান বা বাতিল, সিবিএ এর নির্বাচন, শ্রমিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কাজ করেন তাকে শ্রম পরিচালক বলে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২ ( ৪৮) ধারা অনুযায়ী, শ্রম পরিচালক, অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ম-শ্রম পরিচালক, উপশ্রম পরিচালক, সরকারি শ্রম পরিচালক এবং শ্রম কর্মকর্তা হলো এই আইনের বিংশ অধ্যায়ে উক্ত পদে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি। 
৩১৭(১) ধারা অনুযায়ী এই আইনের উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা একজন শ্রম পরিচালক নিযুক্ত করবে।
 
৭.৭ ।  শ্রম পরিচালক কিভাবে নিযুক্ত হন?
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৩১৭ ধারায় শ্রম পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ আছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:
১) সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে:
সরকার গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে একজন শ্রম পরিচালক, অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ন শ্রম পরিচালক, উপ শ্রম পরিচালক, এবং শ্রম কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন। ( ধারা - ৩১৭(১))

২) কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ:
অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ন শ্রম পরিচালক, উপ-শ্রম পরিচালক, এবং শ্রম কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে সরকার তাদের কর্মক্ষেত্র বা এলাকা নির্ধারণ করে দেবে। ( ধারা - ৩১৭(১))

৩) অন্যদের ক্ষমতা প্রদান: শ্রম পরিচালক লিখিত আদেশ দ্বারা বা বিশেষ আদেশ দ্বারা তার কোন ক্ষমতা অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ন শ্রম পরিচালক, উপ শ্রম পরিচালক, বা শ্রম কর্মকর্তাকে প্রদান করতে পারেন।


৭.৮।  শ্রম পরিচালকের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৩১৭ ধারায় শ্রম পরিচালকের ক্ষমতা ও কার্যাবলীর বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচনা করা হলো:

১) সমপরিচালক তার অধীনস্থ অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্নু পরিচালক ,উপ-পরিচালক, সহকারী শ্রম পরিচালক এবং শ্রম ও কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করেন।

২) শ্রমপরিচালক লিখিত বা বিশেষ আদেশ দ্বারা তার অধীনস্থদের উপর ক্ষমতাব অর্পণ করেন।
৩) শ্রম পরিচালক ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন ও রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করেন।
৪) শ্রম পরিচালক অসৎসম আচরণ বা অন্যান্য অপরাধের জন্য ট্রেড ইউনিয়নের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।
৫) শ্রম পরিচালক কোন কোন প্রতিষ্ঠান যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি হিসেবে প্রত্যায়িত হবে তা নির্ধারণ করেন।
৬) শ্রমপরিচালক ও ট্রেড ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন করেন।
৭) শ্রমপরিচালক ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা প্রয়োজন মনে করলে শ্রম আদালতে দরখাস্ত করেন।
৮) শ্রম আদালতের অনুমতি পেলে শ্রমপরিচালক অনুমতি প্রার্থীর 30 দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে পারে।
৯) শ্রম পরিচালক শিল্প বিরোধ সালিশ হিসেবে কাজ করেন।
১০) অংশগ্রহণকারী কমিটির কাজের তত্ত্বাবধান ও এই আইন দ্বারা অন্যকোন দায়িত্ব পালন করেন।


৭.৯।  প্রধান পরিদর্শক কে? প্রধান পরিদর্শক নিয়োগ ?
প্রধান পরিদর্শক:
বাংলাদেশ শ্রম আইন 2006 এর ২(৪৭) অনুযায়ী প্রধান পরিদর্শক, উপ প্রদান পরিদর্শক, সরকারি প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক, পরিদর্শক হল এই আইনের বিংশ অধ্যায়ে উক্ত পদে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি।

প্রধান পরিদর্শক নিয়োগ:

বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০০৬ এর ৩১৮ ধারায় প্রধান পরিদর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ আছে। নিম্ন আলোচনা করা হলো:
১) সরকারী গ্যাজেট প্রজ্ঞাপন জারি করে:
সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করে একজন প্রধান পরিদর্শক, প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপপ্রধান পরিদর্শক, সহকারী প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক, সরকারি পরিদর্শক, নিয়োগ করবেন।

২) কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ:
উপপ্রধান পরিদর্শক, সরকারি প্রধান পরিদর্শক নিয়োগ করা হলে সরকার তাদের কর্মক্ষেত্র এলাকা বা এখতিয়ারাধীন প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে দিবেন।

৩) অন্যান্যদের ক্ষমতা প্রদান:
শ্রম পরিদর্শক লিখিত আদেশ দ্বারা বা বিশেষ আদেশ দ্বারা বা  বিশেষ আদেশ দ্বারা তার কোন ক্ষমতা পরিদর্শক, সহকারী প্রধান পরিদর্শক, সহকারী পরিদর্শক, উপপ্রধান পরিদর্শক  ইত্যাদিকে প্রদান করতে পারেন। 

৭.১০ । প্রধান পরিদর্শকের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করো ।


এই আইনের প্রদত্ত ক্ষমতা ছাড়াও সমগ্র দেশে তার ক্ষমতা থাকবে। উপ-প্রদান পরিদর্শক, সহকারী প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক, সহকারী পরিদর্শকদের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করা প্রদান পরিদর্শকের অন্যতম কাজ। প্রধান পরিদর্শক লিখিত বা বিশেষ আদেশ দ্বারা এদের উপর ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন।
সময়ের ৩১৯ ধারায় একজন প্রধান পরিদর্শকের ক্ষমতা ও কার্যাবলী উল্লেখিত হয়েছে। নিম্নে আলোচনা করা হলো:

১) প্রধান পরিদর্শক প্রয়োজনের সংখ্যক সহকারী নিয়ে কোন প্রতিষ্ঠান, নৌযান, আঙ্গিনা, যানবহন ইত্যাদি পরিদর্শন ও পরীক্ষাকার্য পরিচালনা করতে পারেন।

২) প্রধান পরিদর্শক কোন রেজিস্টার, রেকর্ড, নথিপত্র ,নোটিশ ,প্রত্যয়ন পত্র বা অন্যান্য কোন দলিল তলব করতে পারেন বা আটক করতে পারেন বা পরীক্ষা করতে পারেন বা এর নকল করতে পারেন।

৩) প্রধান পরিদর্শক কোন প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত শ্রমিকদের প্রতি এই আইন মানা হচ্ছে কিনা তা অনুসন্ধান বা পরীক্ষা করতে পারেন।

৪) একজন প্রধান পরিদর্শক কোন প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত ব্যক্তির জবানবন্দী গ্রহণ করতে পারেন।
৫) জবানবন্দীর সত্যতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্বাক্ষর করতে পারেন।
৬) একজন প্রধান পরিদর্শক কোন মালিক কর্তৃক রক্ষিত কোন রেজিস্টার রেকর্ড রতন-পটন নোটিশ কোন দলিল ইত্যাদি সম্বন্ধে কৈফিয়ত তলব করতে পারেন।
৭) শ্রম আইন দ্বারা আরোপিত অন্য কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।

৭.১১ ।  প্রধান পরিদর্শকের কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের পধতি। 


সময়ের ৩২৭ ধারায় প্রধান পরিদর্শকের কোন হাদিসের বিরুদ্ধে আপিলের পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে। নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

১) প্রধান পরিদর্শক যদি কোন মালিকের উপর লিখিতভাবে কোন আদেশ জারি করেন এবং উক্ত আদেশ তিনি সংক্ষুব্ধ হলে আদেশের প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপিল কর্তৃপক্ষ উক্ত আদেশ বহাল রাখতে বা সংশোধন করতে বা বাতিল করতে পারেন। (dhata- ৩২৭ (১))

২) আপিল কর্তৃপক্ষ উক্ত আপিল উপযুক্ত বিবেচনা করলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত আদেশ স্থগিত রাখতে পারেন। ( ধারা - ৩২৭(২))


উপসংহার : শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই সকল প্রতিষ্ঠান যেন স্বেচ্ছাচারী না হয় তার জন্য শ্রম পরিচালক ও প্রধান পরিদর্শক অন্যতম ভূমিকা পালন করেন। শিল্প কারখানায় ভারসাম্য বজায় রাখতে শ্রম পরিচালক ও প্রধান পরিদর্শক বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকেন।

৬ঃ শ্রম আদালত, শ্রম ও আপীল ট্রাইবুনাল

 ৬.১।   শ্রম আদালত কাকে বলে ?

৬.২ । শ্রম আদালতের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী।

৬.৩ । শ্রম ও আদালতকে কি দেওয়ানি আদালত হিসেবে গণ্য করা যায়?

৬.৪) আরবিট্রশন কাউন্সিল শ্রম আদালত অথবা শ্রম ও আপিল ট্রাইবুনালের রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত কার উপর বাধ্যকর হয়?

৬.৫।  শ্রম ও আপীল ট্রাইবুনাল এখনো বলতে কি বুঝ?

৬.৬।  বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের গঠন ক্ষমতা ও কার্যাবলী লিখ।
৬.৬।  কখন শ্রম ও আপিল ট্রাইবুনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়। 
৬.৭ ।  আরভিস্টেশন কাউন্সিল শ্রম আদালত কিংবা সম আপিল ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে রোয়েদাদ কাদের উপর বাধ্যতামূলক?


 ৬.১।   শ্রম আদালত কাকে বলে ?

শিল্প কারখানায় অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিক বা মালিকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। কোন শ্রমিকের যদি মালিকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকে তাহলে মালিককে লিখিত ভাবে তা জানাতে পারে। মালিক যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত অভিযোগের সমাধান করতে না পারেন তাহলে শ্রমিক শ্রম আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করতে প্রতিকার লাভ করতে পারেন। আবার মালিকদের কোন অভিযোগ থাকলে তারাও শ্রম আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করে প্রতিকার লাভ করতে পারে।

শ্রম আদালত:
বাংলাদেশ শ্রম আইন 2006 এর ২৪(৬৪) ধারা অনুযায়ী- 
শিল্প বিরোধ বা অন্যান্য জটিলতার বিচার কাজ সম্পন্ন করা এবং রায় প্রদান করার জন্য সরকার কর্তৃক গঠিত আদালতকে শ্রম আদালত বলে।
অন্যভাবে বলা যায় শিল্প বিরোধ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির জন্য যে আদালত গঠন করা হয় তাকে শ্রম আদালত বলে।


৬.২) শ্রম আদালতের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী।

শ্রম আদালতের গঠন:

১) শ্রম আদালতের সদস্য সংজ্ঞা হবেন তিনজন।
ক) একজন চেয়ারম্যান। ( যিনি জেলা জজ অথবা অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে কর্মরত আছেন)
খ) একজন সদস্য। ( যিনি মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবেন)
গ) একজন সদস্য ( যিনি শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবেন)

২) সরকার প্রয়োজন মনে করলে গ্যাজেটের মাধ্যমে একাধিক শ্রম আদালত গঠন করতে পারে। 

৩) একাধিক শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা করলে সরকার প্রজ্ঞাপন দ্বারা তাদের আঞ্চলিক এলাকা নির্ধারণ করবে। 

শ্রম আদালতের ক্ষমতা ও কার্যাবলী:

১) ক্ষমতার পরিধি: শ্রম আদালতের ক্ষমতা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ন্যআয়।
২) শিল্প বিরোধদের বিচার: শিল্প বিরত দেখা দিলে সম আদালত তার বিচার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
৩) অধীনস্থ হিসেবে কাজ: সকল শ্রম আদালত ট্রাইব্যুনালের অধীনস্থ হিসেবে কাজ করবে।
৪) কোন সদস্যের অনুপস্থিতির পর সিদ্ধান্ত প্রদান: শ্রম আদালতের কোন সদস্য যদি বিচারকার্যের দিন অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তার অনুপস্থিতিতে আদালত কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। এরূপ ক্ষেত্রে আদালতের কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলা যাবে না।
৫) ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসরণ: আদালত যদি কোন সংক্ষিপ্ত বিচার করে তাহলে যথাসম্ভব ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসরণ করবেন।
৬) দায়রা আদালতের সমান ক্ষমতা: অপরাধের শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে দায়রা আদালতের সমান ক্ষমতা শ্রম আদালতে থাকবে।
৭) সিদ্ধান্ত ঘোষণা: শ্রম আদালতের সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে আদালতে প্রকাশ্যভাবে ঘোষণা করতে হবে এবং সংশ্লিষ্টপক্ষকে তার কপি প্রদান করতে হবে।
৮) ট্রাইব্যুনালে আপিল: সম আদালতের রায় বা সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে সংক্ষিপ্তপক্ষ রায় প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে ট্রাইবুনলে আপিল করতে পারবে।

৯) এরূপ আপিলের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালে সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।


৬.৩ শ্রম ও আদালতকে কি দেওয়ানি আদালত হিসেবে গণ্য করা যায়?

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২১৬(১) ধারা অনুযায়ী শ্রম আইনের অধীনে কোন প্রশ্ন বিরোধের বিচার, নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে শ্রম আদালত দেওয়ানী আদালত হিসেবে গণ্য হবে। হবে কোন অপরাধের ক্ষেত্রে শ্রম ও আদালত দেওয়ানী আদালত হিসেবে গণ্য হবে না। সম আদালত যখন দেওনী আদালত হিসেবে গণ্য হবে তখন নিম্নের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে:
১) দেওয়ানী আদালতের ন্যায় সকল ক্ষমতা
২) কোন ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত হতে বাধ্য করা।
৩) উপস্থিত ব্যক্তির জবানবন্দী ও সাক্ষ্য গ্রহণ করা
৪) দলিলপত্র হাজির করতে বাধ্য করা
৫) দলিল পত্র পরীক্ষার জন্য কমিশনের প্রেরণ করা
৬) এক পক্ষের অনুপস্থিতিতে একতরফা সিদ্ধান্ত প্রদান করা
৭) একতরফা সিদ্ধান্ত বাতিল করা
৮) এক পক্ষের অনুপস্থিতির কারণে মামলা খারিজ হলে উক্ত আদেশ বাতিল করা
৯) অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করা ইত্যাদি।


৬.৪) আরবিট্রশন কাউন্সিল শ্রম আদালত অথবা শ্রম ও আপিল ট্রাইবুনালের রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত কার উপর বাধ্যকর হয়?

আরবিট্রশন কাউন্সিল সময় আদালত অথবা শ্রম ও আপিল ট্রাইবুনালের রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত তার উপর বাধ্যকর হয় সেই সম্পর্কে শ্রম আইনের ২২২ ধারায় বর্ণিত হয়েছে। নিম্নেতা আলোচনা করা হলো:
১) সালিশ কার্য ধারার কোন নিষ্পত্তি
২) মধ্যস্থতাকারীর প্রদত্ত রওয়আদআদ
৩) শ্রম আদালতের রায় বা সিদ্ধান্ত
৪) ট্রাইবুনারের কোন রায় বা সিদ্ধান্ত
৫) সালিশ কার্যধারা ব্যতীত মালিক এবং ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যে সম্পাদিত শক্তির মাধ্যমে কোন নিষ্পত্ত ইত্যাদি।

৬.৫।  শ্রম ও আপীল ট্রাইবুনাল এখনো বলতে কি বুঝ?

শ্রম আদালতের কোন রায় বা সিদ্ধান্তে অনশ্রমিক ক্ষুদ্ধ হলে তা কর্তৃপক্ষের নিকট উত্তরায় বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে। সেই কর্তৃপক্ষকে সম আপিল ট্রাইব্যুনাল বলে।

বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২(১৩) ধারায় বলা হয়েছে- ট্রাইবুনাল অর্থ এই আইনের অধীনে স্থাপিত শ্রম ও আপিল ট্রাকোনাল। 

৬.৬।  বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের গঠন ক্ষমতা ও কার্যাবলী লিখ।

শ্রম আপিল ট্রাইবুনাল গঠন:

বাংলাদেশ শ্রম আইন 2006 এর 218 ধারায় শ্রম ও আপিল ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। নেতা উল্লেখ করা হলো।

শ্রম অফিসের একজন চেয়ারম্যান থাকবেন অথবা সরকার প্রয়োজন মনে করলে একজন চেয়ারম্যান ও নির্ধারিত সংখ্যক সদস্যদের সমন্বয়ে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। 
তাদের চাকরির শর্তাবলী সরকার গ্যাজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারণ করবেন।

সম আপিল ট্রাইব্যুনালের গঠন বা চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতা: 
নিম্নে শ্রম ও আকিল ট্রাইব্যুনালের গঠন বা চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতা উল্লেখ করা হলো:
১) ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের কর্মরত বিচারক বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বা অতিরিক্ত বিচারক হবেন।
২) ট্রাইবুনারের সদস্যগণ সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত বিচারক বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বা অতিরিক্ত বিচারক হবেন অথবা তিন বছরের কর্মরত আছেন বা ছিলেন এমন জেলা জজ হবেন।


ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতাও কার্যাবলী:
নিম্নের শ্রমও আপিল ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করা হলো:
১) চেয়ারম্যান যদি কোন কারণে অনুপস্থিত থাকেন তাহলে সদস্যদের মধ্য থেকে যিনি জ্যেষ্ঠ তিনি উক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
২) যে ক্ষেত্রে ট্রাইবুনারের সদস্য থাকে সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান আদালতের কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ গঠন করে।
৩) কোন আপিল শুনানি বা নিষ্পত্তি পূর্ণ আদালতেও হতে পারবে আবার কোন বেঞ্চ ও হতে পারবে। 
৪) কোন বিষয়ে বেঞ্চের সদস্যদের মতপার্থক্য দেখা দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিমত অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।
৫) মতপার্থক্য সংখ্যাগরিষ্ঠ না থাকলে যদি সমান হয় তাহলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরণ করতে হবে এবং তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
৬) আপিল দায়ের পড়ার ৬০ দিনের মধ্যে রায় প্রদান করতে হবে। তবে উক্ত সময়ের রায় প্রদান করা না হলে শুধু বিলম্বের কারণে রায় অবৈধ হবে না।
৭) ট্রাইবুনাল কোন পক্ষকে হাইকোর্টের নেয় শ্রম আদালত বা ট্রাইব্যুনালের অমান্য জন্য শাস্তি প্রদান করতে পারবে।
৮) ট্রাইবুনাল সহ প্রণোদিত হয়ে কোন পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে কোন মামলা এক সময় আদালত থেকে অন্যতম আদালতে হস্তান্তর করতে পারবেন।

৯) সকল সময় আদালত ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৬.৬।  কখন শ্রম ও আপিল ট্রাইবুনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়।

নিম্নে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান উল্লেখ করা হলো:
সম আদালতের পুনরায় সিদ্ধান্ত দন্ড ইত্যাদির বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্তপক্ষ ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করতে পারবে। 
আপিল দায়ের করার ৬০ দিনের মধ্যে রায় প্রদান করতে হবে। তবে উক্ত সময়ের মধ্যে রায় প্রদান করা না হলে শুধু বিলম্বের কারণে রায় অবৈধ হবে না
ট্রাইবুনাল কোন পক্ষকে হাইকোর্টের নেয় শ্রম ও আদালত বা ট্রাইব্যুনাল অবমাননের জন্য শাস্তি প্রদান করতে পারবে।
ট্রাইবুনাল কোন পক্ষকে শ্রম আদালত বা ট্রাইব্যুনাল রহমানের জন্য ২০০ টাকার বেশি জরিমানা করলে উক্ত ব্যক্তি হাইকোর্টের আপিল দায়ের করতে পারবেন।

অর্থাৎ কোন ব্যক্তিকে ট্রাইব্যুনালের অবমাননের জন্য ২০০ টাকার বেশি জরিমানা করলেই শুধু হাইকোর্টের আপিল দায়ের করা যায়।  ২০০ টাকার কম যদি মনে করলে তার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যায় না। 

৬.৭ ।  আরভিস্টেশন কাউন্সিল শ্রম আদালত কিংবা সম আপিল ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে রোয়েদাদ কাদের উপর বাধ্যতামূলক?

সময়ের ২২২ ধারা অনুযায়ী নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের উপর আরবিট্রেশন কাউন্সিল, শ্রম আদালত বা শ্রম আপিল ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ বাধ্যতামূলক হবে:

১) সকল পক্ষবণের উপর: বিরোধের সকল পক্ষবনের উপর আরবিটেশন কাউন্সিল সম ূহ আদালত বা শ্রম অফিসের সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ বাধ্যতামূলক হবে।
২) অন্য কোন পক্ষ: আদালতের নির্দেশ বিরোধ-পক্ষ হিসেবে মামলায় হাজিরকৃত অন্য কোন পক্ষের উপর আরবিটেশন কাউন্সিল, শ্রম আদালত বা শ্রম ও আকিল ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ বাধ্যতামূলক হবে।
৩) উত্তরাধিকারী বা স্বত্ব প্রাপক: কোন প্রতিষ্ঠান বিরোধের পক্ষ হলে তার উত্তরাধিকারী বা সত্যপ্রাপক যেকোনো ব্যক্তির উপর আরবিটেশন কাউন্সিল সম আদালতের বা শ্রম ও আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বা রোয়েদার বাধ্যতামূলক হবে।
৪) যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি: যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি যদি বিরোধের পক্ষে হয়, তাহলে বিরোধ উত্থাপিত হওয়ার সময় বা পরে উক্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকগণের উপর আরবিট্রেশন কাউন্সিল, শ্রম আদালত বা শ্রম অফিস ট্রাইবুনোলের সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ বাধ্যতামূলক।
৫) চুক্তি ভুক্ত পক্ষ: ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে সম্পাদিত চুক্তির নিষ্পত্তি হলে চুক্তিভুক্ত সকল পক্ষের উপর আর্ট্রি বেশন কাউন্সিল সম আদালত বা শ্রম আকিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ বাধ্যতামূলকভাবে।

৫ঃ অসদাচরণ,অসৎ শ্রমনীতি

৫.১।  অসৎ শ্রমনীতি কি?
৫.২ মালিক ও শ্রমিকের অসৎ কার্যাবলী পৃথকভাবে আলোচনা কর।
৫.৩। এই আইন ভঙ্গ করলে শ্রমিকদের কি শাস্তির বিধান আছে?

৫.৪।  অসদাচরণ বলতে কি বুঝ? 

৫.৫।  অসাধারণের জন্য শাস্তির পদ্ধতি সমূহ আলোচনা কর।

৫.৬।  বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে কোন কোন কাজ ত্রুটি সমূহ এবং অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হইবে।

বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০০৬ অনুযায়ী অথবা আচরণের শ্রেণীবিভাগ লিখ। 





৫.১।  অসৎ শ্রমনীতি কি?


ইংরেজি unfair labour practices শব্দের বাংলা অর্থ অসৎ শ্রম নীতি। শ্রমিক পক্ষ বা মালিকপক্ষ যদি তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য যথাযথ পালন না করে তাহলে অসৎ শ্রমনীতির সৃষ্টি হয়।
অর্থাৎ বাংলাদেশ শ্রম আইন যে সকল নিয়ম নীতি রয়েছে তার বিপরীত কিছু করাকে অসৎ শ্রমনীতি হিসেবে গণ্য করা হয়।

অসৎ শ্রম নীতি: 
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর অসৎ শ্রম নীতির কোন সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। তবে শ্রম নীতি অধ্যায় থেকে বুঝা যায় নিয়ম বহির্ভূত অস্বাভাবিক অযৌক্তিক ইত্যাদি নীতি হলো অসৎ সঙ্গ নীতি। আর কোন শ্রমিক বা মালিক একা বা সঙ্ঘবদ্ধভাবে বেআইনিভাবে এ সকল নীতি অবলম্বন করলে তাকে অসৎ শ্রম নীতি বলে। 
অর্থাৎ মালিকবা শ্রমিক কর্তৃক বিধি বা আইন সমর্থিত নয় এমন নীতি হলো অসৎ শ্রম নীতি।

৫.২ মালিক ও শ্রমিকের অসৎ কার্যাবলী পৃথকভাবে আলোচনা কর।

মালিকপক্ষের অসৎ শ্রমনীতি:
বাংলাদেশ শ্রম আইন 2006 এর ১৯৫ ধারা অনুযায়ী নিম্নের বিষয়গুলি মালিকদের অসৎ শ্রমনীতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

১) অধিকার হরণ: মালিক কর্তৃক চাকুরীর চুক্তিতে কোন ট্রেড ইউনিয়ন করা বা না করার শর্ত দেয়া।

২): ভীতি প্রদর্শন বা চাকুরী অবসানের হুমকি:
কোন ব্যক্তিকে ট্রেড ইউনিয়ন উদ্বুদ্ধ করলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ডিসচার্জ অপসারণ করার হুমকি প্রদান করা।

৩) প্রলুদ্ধ করা: কোন শ্রমিক কি এই মর্মে প্রলুদ্ধ করা যে ট্রেড ইউনিয়ন না করলে অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে।

৪) চুক্তি করতে বাধ্য করা: কোন সিপিএ নেতাকে ভীতি প্রদর্শন হুমকি বল প্রয়োগ নির্যাতন বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে কোন চুক্তি করতে বাধ্য করা।

৫): নির্বাচন হস্তক্ষেপ: সিবিএ নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়ে বা হস্তক্ষেপ করা।

৬) বেআইনি লোকআউট: বেআইনিভাবে লোক আউট করা এবং কোন ব্যক্তিকে বেয়াইনি লকআউট চালু রাখা বা চালু করতে পরিচিত করা।

৭) নতুন শ্রমিক নিয়োগ: আইনসম্মতভাবে ধর্মঘট চলার সময় নতুন শ্রমিক নিয়োগ করা।

৮) পদোন্নতি না দেয়া: ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা কর্তা হওয়া য় কোন শ্রমিককে পদোন্নতি না দেয়া।
৯) চাকুরী বহাল রাখতে অস্বীকৃতি: ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা পদে বহাল চাকরি না দেয়ার এবং বহাল রাখতে অ স্বীকৃতি জানানো।
১০) সম্মতি ব্যতীত বদলি করা: বিধান ভেঙ্গে ট্রেড ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক সম্পাদক কোষাধ্যক্ষ বদ্ধি করা ইত্যাদি।


শ্রমিক পক্ষের অসৎ শ্রমনীতি:

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৯৬ ধারা অনুযায়ী নিম্নের বিষয়গুলি শ্রমিকদের অসৎ শ্রমনীতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে:

১) অধিকার হরণ: অন্য শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে বাধা প্রদান।
২) ভীতি প্রদর্শন: ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তা পদে থাকা বা না থাকার জন্য কাউকে ভয় দেখানো।
৩) প্রলুদ্ধ করা: ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হতে বা না হতে প্রলুব্ধ করা ‌
৪) চুক্তি করতে বাধ্য করা: ভয়-ভীতি চাপ হয়রানি ইত্যাদির মাধ্যমে মালিককে কোন চুক্তি করতে বাধ্য করা।
৫) নির্বাচনে হস্তক্ষেপ: সিবিএ নির্বাচনের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ বা প্রভাব খাটানো।
৬) বেআইনি ধর্মঘট করা: আইন বহির্ভূত ধর্মঘট করা।
৭) চাঁদা আদায়: আটক বা নির্যাতন করে অন্য শ্রমিক থেকে চাঁদা আদায় করা।
৮) ঢিলে ঢালা ভাবে কাজ করা: কোন শ্রমিক স্বাভাবিক গতিতে কাজ না করে ইচ্ছে কৃতভাবে ঢিলে ঢালা কাজ করা।
৯) সম্পত্তি ধ্বংস করা: পরিবহনবার যোগাযোগ ব্যবস্থা বাধা প্রদান করা বা ধ্বংস করা।
১০) কর্ম সময়ে ট্রেড ইউনিয়নের কাজ করা: মালিকের অনুমতি ব্যতীত কোন শ্রমিক তার কাজে ফাঁকি দিয়ে ট্রেড ইউনিয়নের কাজ করা।


৫.৩। এই আইন ভঙ্গ করলে শ্রমিকদের কি শাস্তির বিধান আছে?


অসৎ শ্রমনীতি মালিক পক্ষ থেকে হয় আবার শ্রমিক বক্ষ থেকে হয় আবার অন্য কোন পক্ষ থেকেও হয়।
এদের সাজা বা জরিমানা বা দন্ড একরকম নয়।
বাংলাদেশ শ্রম আইন 2006 এর 291 ধারায় ভিন্ন ভিন্ন পক্ষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দণ্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:

১) মালিকপক্ষের অসৎ শ্রমনীতির দন্ড:
মালিকপক্ষ যদি ১৫৫ ধারা অনুযায়ী অসৎ শ্রমনীতি অবলম্বন করে তাহলে তাদের সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে।

২) শ্রমিক পক্ষের অসৎ শ্রমনীতির দন্ড: 
শ্রমিকপক্ষ যদি ১৯৬ ধারা অনুযায়ী অসৎ শ্রমনীতি অবলম্বন করে তাহলে তাদের সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ 5000 টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

৩) অন্য পক্ষের অসৎ শ্রমনীতির দন্ড:
১৯৯৬ ধারা অনুযায়ী যদি এমন কোন ব্যক্তি অসৎ শ্রমনীতির জন্য দোষী সাব্যস্ত হয় যে ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য নয় বা শ্রমিকও নয় তাহলে তার সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

৫.৪।  অসদাচরণ বলতে কি বুঝ? 


বাংলাদেশ শ্রম আইনে অসদ আচরণের কোন সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। তবে বিভিন্ন পর্যালোচনায় বলা যায়- আইন যে আচরণকে সমর্থন করে না তাকে অসদ আচরণ বলে।

অর্থাৎ যে আচরণ বা কাজ বা কাছ থেকে বিরতি আইন সমর্থন করে না তাকে অসদ আচরণ বলে।



৫.৫।  অসাধারণের জন্য শাস্তির পদ্ধতি সমূহ আলোচনা কর।


বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২৩ (১) ধারা অনুযায়ী কোন শ্রমিক অসৎ আচরণ করলে তার শাস্তি হলো তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা।

উপরুক্ত ধারা অনুযায়ী কোন শ্রমিককে বরখাস্ত করতে হলে তাকে নোটিশ প্রদান করতে হবে।
নোটিশ প্রধান না হলে তার পরবর্তীতে উক্ত সময়ের মজুরি প্রদান করতে হবে। তবে কোন শ্রমিক যদি ফৌজদারি অপরাধ করে অথবা এই আইনের ২৪ ধারার অধীনে কোন অপরাধ করে তাহলে তাকে বিনা নোটিশে বা বিনা মজুরিতে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে।


কোন শ্রমিককে বরখাস্ত করতে হলে তার চাকরির মেয়াদ অবিচ্ছিন্নভাবে কমপক্ষে এক বছর হলে তাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রত্যেক বছরের জন্য 15 দিনের মজুরি প্রদান করতে হবে।
অর্থাৎ কেউ যদি অবিচ্ছিন্নভাবে আট বছর চাকরি করে তাহলে তাকে ৮×১৬=১২০ দিনের মজুরি প্রদান করতে হবে।
কোন শ্রমিক ছুরি অগ্নিসংযোগ বা দাঙ্গা হাঙ্গামা ইত্যাদির কারণে বরখাস্ত হলে কোন ক্ষতিপূরণ পাবে না। কিন্তু আইনানুগ অন্যান্য সুবিধা পাবে।

কোন শ্রমিককে অসদআচরণের জন্য বরখাস্ত করার পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো:
১) উত্তর শ্রমিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করতে হবে।
২) তাকে অভিযোগের কপি প্রদান করতে হবে।
৩) জবাব দেয়ার জন্য তাকে কমপক্ষে সাত দিনের সময় দিতে হবে।
৪) শুনানির সুযোগ দিতে হবে।
৫) উভয় পক্ষের সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
৬) ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।
৭) তদন্ত সাপেক্ষে কোন শ্রমিককে লিখিতভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা যাবে। তবে সাময়িক বরখাস্তের মেয়াদ ৬০ দিনের বেশি হবে না।
৮) সাময়িক বরখাস্ত করা হলে তাকে অর্ধেক মজুরি সহ অন্যান্য ভাতা প্রদান করতে হবে।
৯) অভিযোগ প্রমাণিত হলে এবং ২৩(১) ধারায় দণ্ডিত হলে তাকে উক্ত শ্রমিক সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ের বাকি অর্ধেক মজুরি পাবে না।
১০) অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাকে সাময়িক বরখাস্তের সময় কর্মরত বলে গণ্য করতে হবে এবং বাকি অর্ধেক মজুরি প্রদান করতে হবে।
১১) প্রমাণিত হওয়ার পর দণ্ডিত হলেই সেই আদেশ কপি উত্তর শ্রমিককে প্রদান করতে হবে। ১২) কোন শ্রমিক উক্ত দ্বন্দাদেশ বা কোন নোটিশ বা চিঠি গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে তা নোটিশ বোর্ডে প্রদর্শন করতে হবে এবং তার সর্বশেষ জানার ঠিকানায় রেজিস্ট্রিট যাগযোগে প্রেরণ করতে হবে।
১৩) কোন শ্রমিককে শাস্তি প্রদান করলে মালিক কে উক্ত শ্রমিকের পূর্বে নথিপত্র চাকরি কালীন কৃতিত্ব বা অবদান বিশেষ বিবেচনায় আনতে হবে।


অসৎ সহনীতির জন্য মামলা করতে হলে সমপরিচালক বা তার অনুমোদিত ব্যক্তির পূর্ব অনুমতি প্রয়োজন। এ সকল অপরাধের বিচারসমূহ আদালত বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পন্ন হবে।



৫.৬।  বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে কোন কোন কাজ ত্রুটি সমূহ এবং অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হইবে।


বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২৩(৪) ধারা অনুযায়ী শ্রমিকদের কিছু কাজের অসদাচরণ বলে গণ্য করা হয়েছে।

নিম্বে সেগুলি উল্লেখ করা হলো: 
১) আইন ভঙ্গ করা: প্রতিষ্ঠানের কোন আইন ধারাবাহিকভাবে ভঙ্গ করলে অসদআচরণ বলে গণ্য হবে। 
২) ধ্বংসাত্মক কাজ করলে: কোন শ্রমিক অগ্নিসংযোগ করলে বা দাঙ্গা হাঙ্গামা করলে ওষুধ আচরণ বলে গণ্য হবে।
৩) আদেশ অমান্য করলে: কোন শ্রমিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইন সংগত আদেশ অমান্য করলে অসদ-আচরণ বলে গণ্য হবে।
৪) ঘুষ প্রদান করলে: যেকোনো কাজের জন্য ঘুষ প্রদান করলে অসদআচরণ বলে গণ্য হবে।
৫) ঘুষ গ্রহণ করলে: কোন কাজের জন্য ঘুষ গ্রহণ করলে অসদ আচরণ বলে গণ্য হবে।
৬) বিনা ছুটিতে দশ দিনের অতিরিক্ত সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে বা অভ্যাসগতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।
৭) বিলম্বে উপস্থিত হলে: অভ্যাসগতভাবে বা নিয়মিত বিলম্বে কর্মস্থলে উপস্থিত হলে অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।

৮) অসাধুমূলক কাজ করলে: মালিকের ব্যবসার কোন সম্পদ চুরি করলে বা আত্মসাৎ করলে বা ছিনতাই করলে অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।

৯) কর্তব্য অবহেলা করলে: শ্রমিক তার কর্তব্যে নিয়মিতভাবে অবহেলা করলে অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।
১০) শৃঙ্খলা নষ্ট করলে: অভিষেক শৃঙ্খলা নষ্ট করলে অসদআচরণ বলে গণ্য হবে।
১১) রেকর্ড পত্র পরিবর্তন করলে: অফিসের রেকর্ড পত্র জাল করলে বা পরিবর্তন করলে অসদাচরন বলে গণ্য হবে।

বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০০৬ অনুযায়ী অথবা আচরণের শ্রেণীবিভাগ লিখ। 


৪ঃ ক্ষতিপূরণ, মালিক, মৃত্যুকালীন , আংশিক অক্ষমতা

 ৪.১ ।  শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ কাকে বলে?

৪.২ ক্ষতিপূরণ আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তা। / শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা কি ছিল?

৪.৩ ।  আংশিক অক্ষমতা এবং সম্পূর্ণ ক্ষমতার সংজ্ঞা দাও। 

 ৪.৪ ।  আংশিক অক্ষমতা এবং সম্পূর্ণ ক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।

৪.৫।  কি কি পরিস্থিতিতে একজন কর্মচারী নিয়োগ কর্তার নিকট ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।  যদিও সেই একজন কন্ট্রাক্টর কর্তৃক নিযুক্ত হয়ে থাকে। / ক্ষতিপূরণের বিধান কিভাবে নির্ধারণ করা হয়? / কিভাবে ক্ষতিপূরণ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়?

৪.৬ ।  চাকরি হতে উদ্ভূত এবং চাকরি কালীন দুর্ঘটনা বলতে কি বুঝ?

৪.৭ ।  মৃত্যুকালীন সুবিধা কি? কে মৃত্যু কালীন সুবিধা দাবি করতে পারে? 

৪.৮।  একজন মৃত শ্রমিকের প্রতিনিধি যিনি মৃত্যু কালীন সুবিধা গ্রহণ করেছেন তিনি কি অবসরকালীন সুবিধা এবং কোন প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত বীমা স্ক্যামের আয়তায় সুবিধা দাবী করতে পারেন।

৪. ৯ মালিক কাকে বলে?

৪.১০ ।  মালিকের দেউলিয়াত্ব সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বিধানের আলোচনা কর। 

৪.১১ কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটলে কি অবস্থায় মালিকপক্ষ দৈহিক আঘাতের জন্য শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ দিতে কখন বাধ্য নয়।

 ৪.১২ যখন একজন মালিক তার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয়।


কিভাবে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয়?
ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত চুক্তির কি নিবন্ধন প্রয়োজন?
ইহার অভাবে কি পরিস্থিতির উদ্ভব হয়?


------------------------------------

৪.১ ।  শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ কাকে বলে?

প্রত্যেক শিল্প কারখানায় ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি থাকে। অনেক ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতি দিয়ে অনেক শিল্প কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। এই সকল কাজ করতে গিয়ে শ্রমিক কোন দুর্ঘটনায় পড়তে পারেন। অনেক সময় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আর এই ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিক তার উত্তরাধিকার ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হন। এটি শ্রম আইন দ্বারা স্বীকৃত শ্রমিকদের একটি অধিকার। 

শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ:
১৯২৩ সালের পূর্বে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত কোনো আইন ছিল না। ১৯২৩ সালে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। 

কর্মরত অবস্থায় কোন শ্রমিক আঘাতপ্রাপ্ত হলে বা জখম হলে মালিক পক্ষ থেকে যে প্রতিদান পায় তাকে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বলে।

আবার কর্মরত অবস্থায় কোন শ্রমিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে তার মনোনীত ব্যক্তি বা পোষ্যগণ মালিকপক্ষ থেকে যে প্রতিদান পায় তাকেই শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বলে।


৪.২ ক্ষতিপূরণ আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তা। / শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা কি ছিল?

১৯২৩ সালের পূর্বে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত কোন আইন ছিল না। ১৯২৩ সালে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। নিম্নে ক্ষতিপূরণ আইনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হলো।
১) প্রতিষ্ঠানের কর্মরত অবস্থায় কোন শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ক্ষতিপূরণ দেয়ার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়।
২) প্রতিষ্ঠানের কর্মরত অবস্থায় কোন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করলে তার মনোনীতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়।
৩) কোন শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা মৃত্যুবরণ করলে মালিকের দায়-দায়িত্ব কি হবে তা নির্ধারণ করার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়।
৪) কোন শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা মৃত্যুবরণ করলে তার মনোনীত বা পোষ্যদের করণীয় কি হবে তা নির্ধারণ করার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়। 

৫) কোন শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা মৃত্যুবরণ করলে কি পরিমান ক্ষতিপূরণ পাবে তা নির্ধারণ করার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়।

৬) পেশাজনিত রোগ নির্ণয় করার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়।




৪.৩ ।  আংশিক অক্ষমতা এবং সম্পূর্ণ ক্ষমতার সংজ্ঞা দাও। 


আংশিক অক্ষমতা:
যে অক্ষমতার ফলে শ্রমিকের উপার্জন ক্ষমতা হ্রাস পায় বা কমে যায় তাকে আংশিক অক্ষমতা বলে।

আংশিক অক্ষমতার ফলে শ্রমিকের উপার্জন ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায় না বরং পূর্বে যা ছিল তার থেকে কমে যায়।
আংশিক অক্ষমতা দুই ধরনের হয়।
১) অস্থায়ী প্রকৃতির আংশিক অক্ষমতা:
কোন শ্রমিক পূর্বে যে কাজ করতে পারতো কোন দুর্ঘটনার ফলে উপার্জন ক্ষমতা কমে গেলে তাকে অস্থায়ী প্রকৃতির আংশিক অক্ষমতা বলে।

২) স্থায়ী প্রকৃতির আংশিক অক্ষমতা:
কোন শ্রমিক পূর্বে যে যে কাজ করতে পারতো কোন দুর্ঘটনার ফলে তার সবগুলি সম্পর্কে উপার্জন ক্ষমতা কমে গেলে তাকে স্থায়ী প্রকৃতির আংশিক অক্ষমতা বলে।



সম্পূর্ণ অক্ষমতা: 

কোন দুর্ঘটনার ফলে শ্রমিকের উপার্জন ক্ষমতা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেলে তাকে সম্পূর্ণ অক্ষমতা বলে।

অর্থাৎ সম্পূর্ণ অক্ষমতার ফলে শ্রমিকের উপার্জন ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। 
কোন শ্রমিক প্রতিষ্ঠানের কর্মরত অবস্থায় যে কাজ করতে সক্ষম ছিলেন সম্পূর্ণ অক্ষমতা তাকে উক্ত সকল কাছ থেকে বঞ্চিত করে দেয়। যেমন চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া, হাত বা পা বিনষ্ট হয়ে যাওয়া।


৪.৪ ।  আংশিক অক্ষমতা এবং সম্পূর্ণ ক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।


নিম্নে আংশিক কক্ষনতা ও সম্পূর্ণ অক্ষমতার পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:

১) সংজ্ঞা গত পার্থক্য: যে অক্ষমতার ফলে শ্রমিকের উপার্জন ক্ষমতা হ্রাস পায় বা কমে যায় তাকে আংশিক অক্ষমতা বলে।
পক্ষান্তরে কোন দুর্ঘটনার ফলে শ্রমিকের উপার্জন ক্ষমতা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেলে তাকে সম্পূর্ণ অক্ষমতা বলে।

২) প্রতিশব্দ গত: আংশিক অক্ষমতার ইংরেজি প্রতিশব্দ partial disablement.
পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ অক্ষমতার ইংরেজি প্রতিশব্দ total disablement.

৩) প্রকার গত: আংশিক অক্ষমতা দুই প্রকার হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ অক্ষমতার কোন প্রকারভেদ নেই।

৪) ধারা গত: আংশিক অক্ষমতা শ্রম আইনের ২ এর ১ এ ধারায় উল্লেখিত হয়েছে। পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ অক্ষমতা শ্রম আইনের ২ এর ৬৭ ধারায় উল্লেখিত হয়েছে।

৫) ক্ষতিপূরণ গত: আংশিক অক্ষমতায় ক্ষতিপূরণ কম হয়। পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ অক্ষমতায় ক্ষতিপূরণ বেশি হয়।

৬) উপার্জন ক্ষমতাগত: আংশিক অক্ষমতায় উপার্জন ক্ষমতা একেবারে শেষ হয়ে যায় না। পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ অক্ষমতায় উপার্জন ক্ষমতা একেবারে শেষ হয়ে যায়।

৪.৩ কি কি পরিস্থিতিতে একজন কর্মচারী নিয়োগকর্তার নিকট ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে? / কখন একজন শ্রমিক অথবা কর্মচারী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন?

নিম্নোক্ত ঘটনা ঘটলে একজন শ্রমিক ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন:
১) শ্রমিকের শরীর জখম হলে: কোন শ্রমিক প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে অবস্থায় দুর্ঘটনায় পতিত হলে এবং যখন প্রাপ্ত হলে একজন শ্রমিক অথবা কর্মচারী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।

২) জখমের ফলে মৃত্যু হলে: 
রকমের ফলে শ্রমিকের মৃত্যু হলে উক্ত শ্রমিকের প্রতিনিধি বা পোষ্য ক্ষতিপূরণ পাবেন।

৩)  পেশা জনিত কোন রোগে আক্রান্ত হলে:
শ্রমিক যদি পেশা জনিত কোন রোগে আক্রান্ত হন তাহলে একজন শ্রমিক অথবা কর্মচারী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।

৪) নতুন পেশা জনিত কোনে রোগে আক্রান্ত হলে: শ্রমিককে তার চাকরির সাথে অন্য কোন পেশায় নিযুক্ত করলে সে ক্ষেত্রে পেশাজনিত রোগ নির্দিষ্ট করতে হবে এবং সেই ধরনের রোগে আক্রান্ত হলে একজন শ্রমিক কর্মচারী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।

উপরোক্ত ক্ষেত্রে একজন শ্রমিক ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।



৪.৫।  কি কি পরিস্থিতিতে একজন কর্মচারী নিয়োগ কর্তার নিকট ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।  যদিও সেই একজন কন্ট্রাক্টর কর্তৃক নিযুক্ত হয়ে থাকে। / ক্ষতিপূরণের বিধান কিভাবে নির্ধারণ করা হয়? / কিভাবে ক্ষতিপূরণ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়?

১) শ্রমিকের শরীর জখম হলে: কোন শ্রমিক প্রতিষ্ঠানের চাকরিরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় পতিত হলে এবং জখম প্রাপ্ত হলে মালিক ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।
২) পেশাজনিত কোন রোগে আক্রান্ত হলে:
শ্রমিক যদি পেশাজনিত কোন রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে মালিক ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবেন।
৩) নতুন পেশাজনিত কোন রোগে আক্রান্ত হলে: শ্রমিকে তার চাকুরীর সাথে অন্য কোন পেশায় নিযুক্ত করলে সেক্ষেত্রে প্যাসাজনিত রোগের নির্দিষ্ট করতে হবে এবং সেই ধরনের রোগে আক্রান্ত হলে মালিক ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবেন। 

৪) জখমের স্থায়িত্ব: যখন যদি এমন হয় যে উক্ত শ্রমিক তিন দিনের বেশি সময়ের জন্য কার্যক্ষমতা হারায়নি মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বা। 

৫) মদ্যপ হলে: দুর্ঘটনার সময় শ্রমিক যদি কোন মদ বা পানীয়ের প্রভাবে আচ্ছন্ন থাকে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।

৬) ওষুধের প্রভাব আচ্ছন্ন থাকলে: দুর্ঘটনার সময় শ্রমিক যদি কোন ঔষধের প্রভাব আচ্ছন্ন থাকে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।

৭) নিরাপত্তা নির্দেশ অমান্য করলে: নিরাপত্তা নির্দোষ সমন্বয় করে দুর্ঘটনা স্থলে উপস্থিত হলে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।

৮) নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা অপসারণ করলে: নিরাপত্তার বিশেষ কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা অপসারণ করলে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন ‌
৯) অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হলে: পেশা সংক্রান্ত ছাড়া অন্য কোন রোগে আক্রান্ত হলে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।

১০) দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করলে: ক্ষতিপূরণের জন্য কোন শ্রমিক যদি কোন দেওয়া নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে তাহলে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।


৪.৬ ।  চাকরি হতে উদ্ভূত এবং চাকরি কালীন দুর্ঘটনা বলতে কি বুঝ?


শ্রম আইন অনুযায়ী কোন শ্রমিক চাকুরী থেকে উদ্ভূত এবং চাকুরীকালীন দুর্ঘটনার শিকার হলে উক্ত দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। ( শ্রম আইন দ্বারা ১৫০ (১))
তবে দুর্ঘটনাটি পরিকল্পিত হলে চলবে না বা চাকুরীর সাথে সম্পর্কযুক্ত না হলে চলবে না।
কিন্তু কর্তব্য পালনের সময় বা তার ফলশ্রুতিতে সংগঠিত দুর্ঘটনা চাকরি থেকে উদ্ভূত এবং চাকরি কালীন দুর্ঘটনার আওতাভুক্ত হবে।

Air , 1995 All, 132 মামলার সিদ্ধান্ত হয়, খনিতে কর্তব্যরত শ্রমিক তার কাজের অবসর সময়ে কিছু দূরে সংগঠিত দুর্ঘটনা চাকরি থেকে উদ্ভূত এবং চাকুরী কালীন দুর্ঘটনা।

আর পরবর্তী বাই বনাম ম্যানেজার রাজকুমার মামলায় সিদ্ধান্ত হয়- হৃদরোগে মৃত্যু হলে যদি পরিমিত হয় যে অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়নি এবং উক্ত রোগের স্বাভাবিক পরিনিতি স্বরূপ শ্রমিক মারা গেছে তাহলে সে ক্ষতিপূরণ পাবে না।


৪.৭ ।  মৃত্যুকালীন সুবিধা কি? কে মৃত্যু কালীন সুবিধা দাবি করতে পারে? 


মৃত্যুকালীন সুবিধা:

বাংলাদেশ সময় নেই মৃত্যুকালীন সুবিধার সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। 
তবে বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করলে বলা যায়- কোন শ্রমিকের মৃত্যুর পর তার প্রতিনিধি বা মনোনীত ব্যক্তি বা স্পশগণ মালিকপক্ষের থেকে যে আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন তাকে মৃত্যু কালীন সুবিধা বলে।


কে মৃত্যু কালিন সুবিধা দাবি করতে পারে:
মৃত্যু কালীর সুবিধা কে গ্রহণ করতে পারেন সেই সম্পর্কে শ্রম আইনের ১৯ ধারায় বিধান বর্ণিত হয়েছে। দুই ধরনের ব্যক্তি মৃত্যুকালীন সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

১) মৃত ব্যক্তির প্রতিনিধি বা মনোনীত ব্যক্তি
২) মনোনীত ব্যক্তির অবর্তমানে মৃতের কোন পোশ্য


৪.৮।  একজন মৃত শ্রমিকের প্রতিনিধি যিনি মৃত্যু কালীন সুবিধা গ্রহণ করেছেন তিনি কি অবসরকালীন সুবিধা এবং কোন প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত বীমা স্ক্যামের আয়তায় সুবিধা দাবী করতে পারেন।


যে শ্রমিক কোন মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে অন্তত দুই বছর কাজ করেছেন এবং চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন সেই শ্রমিকের মনোনীত ব্যক্তি মৃত্যু কালীন সুবিধা প্রাপ্য হবেন। এক্ষেত্রে প্রত্যেক পূর্ণ বছরের জন্য ৩০ দিনের মজুরি পাবেন। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে ৪৫ দিনের মজুরি পাবেন। এছাড়া মৃত শ্রমিক চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করলে যে সকল সুবিধা প্রাপ্ত হতেন সেই সকল সুবিধা পাবেন।
আওয়ার মৃত শ্রমিক প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক বীমা স্কিম অধীনে থাকলে তার প্রতিনিধি বীমা স্কিম এর সুবিধা দাবি করতে পারেন। 

সুতরাং বলা যায় কোন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করলে তার মনোনীত ব্যক্তি মৃত্যু কালীন সুবিধা গ্রহণ করলেও অবসরকালীন সহ অন্যান্য সুবিধা দাবি করতে পারেন।




৪. ৯ মালিক কাকে বলে?

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২(৪৯) ধারা অনুযায়ী - যে ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগ করেন তাকে মালিক বলে।

এছাড়া নিম্নের ব্যক্তিগণ মালিকের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
১) উক্ত ব্যক্তির কোন উত্তরাধিকারী বা অভিভাবক বা আইনগত অধিকারী।
২) প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বা ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রক বা নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
৩) সরকারের কর্তৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানে সরকারের নিয়োজিত কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রধান।
৫) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্য নিযুক্ত ব্যক্তি।
৬) এছাড়া অন্য কারো দখলে আছে এরূপ প্রতিষ্টানের ক্ষেত্রে দখলকারী ব্যক্তি।


৪.১০ ।  মালিকের দেউলিয়াত্ব সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বিধানের আলোচনা কর।


মালিক যদি দলীয় হয়ে যায় তাহলে ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে তার বিধান কি হবে সেই সম্পর্কের সময়ের ১৬২ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১) শ্রমিকদের দায় সম্পর্কে মালিক যদি কোন বীমাকারীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়, সে ক্ষেত্রে মালিক দেউলিয়া হলে বীমাকারী এমন দায়-দায়িত্বের অধীনে থাকবে যেন তিনি মালিক। তবে মালিকের দায় থেকে বীমাকারীর দায় বেশি হবে না।

২) বীমাকারীর দায় মালিকের দায় হতে কম হলে দেউলিয়াত্ব কার্যক্রমে শ্রমিক তা প্রমাণ করতে পারবে।

৩) বীমা কারীর সাথে মালিকের চুক্তি বাতিল হলে: 
ক) প্রিমিয়াম প্রদান না করার কারণে বাতিল হলে শ্রমিকদের প্রতি বীমাকারীর কোন দায় থাকবে না।

খ) প্রিমিয়াম প্রদান ছাড়া অন্য যেকোনো কারণে বাতিল হলে শ্রমিকদের প্রতি বীমা কারীর দায় থাকবে। অর্থাৎ চুক্তি বাতিল না হলে যেভাবে প্রযোজ্য হতো সেভাবেই হবে।

৪) দেউলিয়া বিষয় ক আইন অনুসারে ক্ষতিপূরণের জন্য রিসিভারের নিকট আবেদন জানানো যায়।

৫) পাওনাদারের পাওনা মেটানোর পূর্বে শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

৬) কোম্পানি পুনর্গঠন বা অন্য কোম্পানির সাথে একত্রিত হওয়ার জন্য গুটিয়ে ফেললে এই আইন প্রযোজ্য হবে না ‌।
 

৪.১১ কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটলে কি অবস্থায় মালিকপক্ষ দৈহিক আঘাতের জন্য শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ দিতে কখন বাধ্য নয়।

মালিকের কারখানা বা শিল্পে কর্তব্যরত থাকা অবস্থায় যদি কোন শ্রমিক দুর্ঘটনার ফলে আহত হয়। সে ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিক ২০০৬ সালের শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আইনের ১৫০ ধারার বিধান সাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ পাবার অধিকারী। 
উক্ত আইনের ১৫০ (১) ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন শ্রমিক চাকরি অবস্থায় দুর্ঘটনায় শরীরে জখমরপ্ত হলে তার মালিক তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকিবেন।

তবে শর্ত থাকে যে নিম্নোক্ত অবস্থায় মালিক উপরোক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকিবে না। ধারা ১৫০(২)

ক) যদি জখমের ফলে তিন দিনের অধিক সময় অনুশ্রম িক সম্পূর্ণ বা আংশিক কর্মক্ষমতা না হারান।
খ) যদি জখমের ফলে মারা যান নাই এরকম কোন শ্রমিকের দুর্ঘটনায় যখন প্রাপ্ত হওয়ার প্রত্যক্ষ কারণ ছিল।


১) দুর্ঘটনার সময়ে শ্রমিক মদ্যপান বা মাদক দ্রব্য সেবনের ফলে উপহার প্রভাবাধীন থাকা।
২) শ্রমিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত বিধি ও সুবিধা আদেশ শ্রমিক কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা।
৩) শ্রমিক গণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করনের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইহা জানা সত্ত্বেও শ্রমিক করতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোন আঘাত নিরোধক নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা অন্য কোন কৌশল অপসারণ করার উপেক্ষা করা।

তো ধারাটি মূল বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে চাকরির ফলশ্রুতিতে সংগঠিত দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে যখন প্রাপ্ত শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য মালিকের উপর দায়িত্ব করাই হলো এই ধরনের মূল উদ্দেশ্য।


 ৪.১২ যখন একজন মালিক তার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয়।
১)  জখমের স্থায়িত্ব: যখন যদি এমন হয় যে উক্ত শ্রমিক তিন দিনের বেশি সময়ের জন্য কার্যক্ষমতা যায়নি মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।
২) মদ্যপ হলে: দুর্ঘটনার সময় শ্রমিক যদি কোন মদ বা পানীয় এর প্রভাবে আচ্ছন্ন থাকে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।