Friday, April 7, 2023

৬ঃ শ্রম আদালত, শ্রম ও আপীল ট্রাইবুনাল

 ৬.১।   শ্রম আদালত কাকে বলে ?

৬.২ । শ্রম আদালতের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী।

৬.৩ । শ্রম ও আদালতকে কি দেওয়ানি আদালত হিসেবে গণ্য করা যায়?

৬.৪) আরবিট্রশন কাউন্সিল শ্রম আদালত অথবা শ্রম ও আপিল ট্রাইবুনালের রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত কার উপর বাধ্যকর হয়?

৬.৫।  শ্রম ও আপীল ট্রাইবুনাল এখনো বলতে কি বুঝ?

৬.৬।  বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের গঠন ক্ষমতা ও কার্যাবলী লিখ।
৬.৬।  কখন শ্রম ও আপিল ট্রাইবুনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়। 
৬.৭ ।  আরভিস্টেশন কাউন্সিল শ্রম আদালত কিংবা সম আপিল ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে রোয়েদাদ কাদের উপর বাধ্যতামূলক?


 ৬.১।   শ্রম আদালত কাকে বলে ?

শিল্প কারখানায় অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিক বা মালিকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। কোন শ্রমিকের যদি মালিকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকে তাহলে মালিককে লিখিত ভাবে তা জানাতে পারে। মালিক যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত অভিযোগের সমাধান করতে না পারেন তাহলে শ্রমিক শ্রম আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করতে প্রতিকার লাভ করতে পারেন। আবার মালিকদের কোন অভিযোগ থাকলে তারাও শ্রম আদালতের আশ্রয় গ্রহণ করে প্রতিকার লাভ করতে পারে।

শ্রম আদালত:
বাংলাদেশ শ্রম আইন 2006 এর ২৪(৬৪) ধারা অনুযায়ী- 
শিল্প বিরোধ বা অন্যান্য জটিলতার বিচার কাজ সম্পন্ন করা এবং রায় প্রদান করার জন্য সরকার কর্তৃক গঠিত আদালতকে শ্রম আদালত বলে।
অন্যভাবে বলা যায় শিল্প বিরোধ সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির জন্য যে আদালত গঠন করা হয় তাকে শ্রম আদালত বলে।


৬.২) শ্রম আদালতের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী।

শ্রম আদালতের গঠন:

১) শ্রম আদালতের সদস্য সংজ্ঞা হবেন তিনজন।
ক) একজন চেয়ারম্যান। ( যিনি জেলা জজ অথবা অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে কর্মরত আছেন)
খ) একজন সদস্য। ( যিনি মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবেন)
গ) একজন সদস্য ( যিনি শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করবেন)

২) সরকার প্রয়োজন মনে করলে গ্যাজেটের মাধ্যমে একাধিক শ্রম আদালত গঠন করতে পারে। 

৩) একাধিক শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা করলে সরকার প্রজ্ঞাপন দ্বারা তাদের আঞ্চলিক এলাকা নির্ধারণ করবে। 

শ্রম আদালতের ক্ষমতা ও কার্যাবলী:

১) ক্ষমতার পরিধি: শ্রম আদালতের ক্ষমতা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের ন্যআয়।
২) শিল্প বিরোধদের বিচার: শিল্প বিরত দেখা দিলে সম আদালত তার বিচার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
৩) অধীনস্থ হিসেবে কাজ: সকল শ্রম আদালত ট্রাইব্যুনালের অধীনস্থ হিসেবে কাজ করবে।
৪) কোন সদস্যের অনুপস্থিতির পর সিদ্ধান্ত প্রদান: শ্রম আদালতের কোন সদস্য যদি বিচারকার্যের দিন অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তার অনুপস্থিতিতে আদালত কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। এরূপ ক্ষেত্রে আদালতের কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলা যাবে না।
৫) ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসরণ: আদালত যদি কোন সংক্ষিপ্ত বিচার করে তাহলে যথাসম্ভব ফৌজদারী কার্যবিধি অনুসরণ করবেন।
৬) দায়রা আদালতের সমান ক্ষমতা: অপরাধের শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে দায়রা আদালতের সমান ক্ষমতা শ্রম আদালতে থাকবে।
৭) সিদ্ধান্ত ঘোষণা: শ্রম আদালতের সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে আদালতে প্রকাশ্যভাবে ঘোষণা করতে হবে এবং সংশ্লিষ্টপক্ষকে তার কপি প্রদান করতে হবে।
৮) ট্রাইব্যুনালে আপিল: সম আদালতের রায় বা সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে সংক্ষিপ্তপক্ষ রায় প্রদানের ৬০ দিনের মধ্যে ট্রাইবুনলে আপিল করতে পারবে।

৯) এরূপ আপিলের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালে সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।


৬.৩ শ্রম ও আদালতকে কি দেওয়ানি আদালত হিসেবে গণ্য করা যায়?

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২১৬(১) ধারা অনুযায়ী শ্রম আইনের অধীনে কোন প্রশ্ন বিরোধের বিচার, নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে শ্রম আদালত দেওয়ানী আদালত হিসেবে গণ্য হবে। হবে কোন অপরাধের ক্ষেত্রে শ্রম ও আদালত দেওয়ানী আদালত হিসেবে গণ্য হবে না। সম আদালত যখন দেওনী আদালত হিসেবে গণ্য হবে তখন নিম্নের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে:
১) দেওয়ানী আদালতের ন্যায় সকল ক্ষমতা
২) কোন ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত হতে বাধ্য করা।
৩) উপস্থিত ব্যক্তির জবানবন্দী ও সাক্ষ্য গ্রহণ করা
৪) দলিলপত্র হাজির করতে বাধ্য করা
৫) দলিল পত্র পরীক্ষার জন্য কমিশনের প্রেরণ করা
৬) এক পক্ষের অনুপস্থিতিতে একতরফা সিদ্ধান্ত প্রদান করা
৭) একতরফা সিদ্ধান্ত বাতিল করা
৮) এক পক্ষের অনুপস্থিতির কারণে মামলা খারিজ হলে উক্ত আদেশ বাতিল করা
৯) অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করা ইত্যাদি।


৬.৪) আরবিট্রশন কাউন্সিল শ্রম আদালত অথবা শ্রম ও আপিল ট্রাইবুনালের রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত কার উপর বাধ্যকর হয়?

আরবিট্রশন কাউন্সিল সময় আদালত অথবা শ্রম ও আপিল ট্রাইবুনালের রোয়েদাদ বা সিদ্ধান্ত তার উপর বাধ্যকর হয় সেই সম্পর্কে শ্রম আইনের ২২২ ধারায় বর্ণিত হয়েছে। নিম্নেতা আলোচনা করা হলো:
১) সালিশ কার্য ধারার কোন নিষ্পত্তি
২) মধ্যস্থতাকারীর প্রদত্ত রওয়আদআদ
৩) শ্রম আদালতের রায় বা সিদ্ধান্ত
৪) ট্রাইবুনারের কোন রায় বা সিদ্ধান্ত
৫) সালিশ কার্যধারা ব্যতীত মালিক এবং ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যে সম্পাদিত শক্তির মাধ্যমে কোন নিষ্পত্ত ইত্যাদি।

৬.৫।  শ্রম ও আপীল ট্রাইবুনাল এখনো বলতে কি বুঝ?

শ্রম আদালতের কোন রায় বা সিদ্ধান্তে অনশ্রমিক ক্ষুদ্ধ হলে তা কর্তৃপক্ষের নিকট উত্তরায় বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারে। সেই কর্তৃপক্ষকে সম আপিল ট্রাইব্যুনাল বলে।

বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২(১৩) ধারায় বলা হয়েছে- ট্রাইবুনাল অর্থ এই আইনের অধীনে স্থাপিত শ্রম ও আপিল ট্রাকোনাল। 

৬.৬।  বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের গঠন ক্ষমতা ও কার্যাবলী লিখ।

শ্রম আপিল ট্রাইবুনাল গঠন:

বাংলাদেশ শ্রম আইন 2006 এর 218 ধারায় শ্রম ও আপিল ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। নেতা উল্লেখ করা হলো।

শ্রম অফিসের একজন চেয়ারম্যান থাকবেন অথবা সরকার প্রয়োজন মনে করলে একজন চেয়ারম্যান ও নির্ধারিত সংখ্যক সদস্যদের সমন্বয়ে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। 
তাদের চাকরির শর্তাবলী সরকার গ্যাজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারণ করবেন।

সম আপিল ট্রাইব্যুনালের গঠন বা চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতা: 
নিম্নে শ্রম ও আকিল ট্রাইব্যুনালের গঠন বা চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতা উল্লেখ করা হলো:
১) ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের কর্মরত বিচারক বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বা অতিরিক্ত বিচারক হবেন।
২) ট্রাইবুনারের সদস্যগণ সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত বিচারক বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বা অতিরিক্ত বিচারক হবেন অথবা তিন বছরের কর্মরত আছেন বা ছিলেন এমন জেলা জজ হবেন।


ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতাও কার্যাবলী:
নিম্নের শ্রমও আপিল ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করা হলো:
১) চেয়ারম্যান যদি কোন কারণে অনুপস্থিত থাকেন তাহলে সদস্যদের মধ্য থেকে যিনি জ্যেষ্ঠ তিনি উক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
২) যে ক্ষেত্রে ট্রাইবুনারের সদস্য থাকে সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান আদালতের কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ গঠন করে।
৩) কোন আপিল শুনানি বা নিষ্পত্তি পূর্ণ আদালতেও হতে পারবে আবার কোন বেঞ্চ ও হতে পারবে। 
৪) কোন বিষয়ে বেঞ্চের সদস্যদের মতপার্থক্য দেখা দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ অভিমত অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে।
৫) মতপার্থক্য সংখ্যাগরিষ্ঠ না থাকলে যদি সমান হয় তাহলে চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরণ করতে হবে এবং তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
৬) আপিল দায়ের পড়ার ৬০ দিনের মধ্যে রায় প্রদান করতে হবে। তবে উক্ত সময়ের রায় প্রদান করা না হলে শুধু বিলম্বের কারণে রায় অবৈধ হবে না।
৭) ট্রাইবুনাল কোন পক্ষকে হাইকোর্টের নেয় শ্রম আদালত বা ট্রাইব্যুনালের অমান্য জন্য শাস্তি প্রদান করতে পারবে।
৮) ট্রাইবুনাল সহ প্রণোদিত হয়ে কোন পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে কোন মামলা এক সময় আদালত থেকে অন্যতম আদালতে হস্তান্তর করতে পারবেন।

৯) সকল সময় আদালত ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৬.৬।  কখন শ্রম ও আপিল ট্রাইবুনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়।

নিম্নে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান উল্লেখ করা হলো:
সম আদালতের পুনরায় সিদ্ধান্ত দন্ড ইত্যাদির বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্তপক্ষ ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করতে পারবে। 
আপিল দায়ের করার ৬০ দিনের মধ্যে রায় প্রদান করতে হবে। তবে উক্ত সময়ের মধ্যে রায় প্রদান করা না হলে শুধু বিলম্বের কারণে রায় অবৈধ হবে না
ট্রাইবুনাল কোন পক্ষকে হাইকোর্টের নেয় শ্রম ও আদালত বা ট্রাইব্যুনাল অবমাননের জন্য শাস্তি প্রদান করতে পারবে।
ট্রাইবুনাল কোন পক্ষকে শ্রম আদালত বা ট্রাইব্যুনাল রহমানের জন্য ২০০ টাকার বেশি জরিমানা করলে উক্ত ব্যক্তি হাইকোর্টের আপিল দায়ের করতে পারবেন।

অর্থাৎ কোন ব্যক্তিকে ট্রাইব্যুনালের অবমাননের জন্য ২০০ টাকার বেশি জরিমানা করলেই শুধু হাইকোর্টের আপিল দায়ের করা যায়।  ২০০ টাকার কম যদি মনে করলে তার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যায় না। 

৬.৭ ।  আরভিস্টেশন কাউন্সিল শ্রম আদালত কিংবা সম আপিল ট্রাইবুনালের বিরুদ্ধে রোয়েদাদ কাদের উপর বাধ্যতামূলক?

সময়ের ২২২ ধারা অনুযায়ী নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের উপর আরবিট্রেশন কাউন্সিল, শ্রম আদালত বা শ্রম আপিল ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ বাধ্যতামূলক হবে:

১) সকল পক্ষবণের উপর: বিরোধের সকল পক্ষবনের উপর আরবিটেশন কাউন্সিল সম ূহ আদালত বা শ্রম অফিসের সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ বাধ্যতামূলক হবে।
২) অন্য কোন পক্ষ: আদালতের নির্দেশ বিরোধ-পক্ষ হিসেবে মামলায় হাজিরকৃত অন্য কোন পক্ষের উপর আরবিটেশন কাউন্সিল, শ্রম আদালত বা শ্রম ও আকিল ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ বাধ্যতামূলক হবে।
৩) উত্তরাধিকারী বা স্বত্ব প্রাপক: কোন প্রতিষ্ঠান বিরোধের পক্ষ হলে তার উত্তরাধিকারী বা সত্যপ্রাপক যেকোনো ব্যক্তির উপর আরবিটেশন কাউন্সিল সম আদালতের বা শ্রম ও আপিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বা রোয়েদার বাধ্যতামূলক হবে।
৪) যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি: যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি যদি বিরোধের পক্ষে হয়, তাহলে বিরোধ উত্থাপিত হওয়ার সময় বা পরে উক্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকগণের উপর আরবিট্রেশন কাউন্সিল, শ্রম আদালত বা শ্রম অফিস ট্রাইবুনোলের সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ বাধ্যতামূলক।
৫) চুক্তি ভুক্ত পক্ষ: ট্রেড ইউনিয়নের মাধ্যমে সম্পাদিত চুক্তির নিষ্পত্তি হলে চুক্তিভুক্ত সকল পক্ষের উপর আর্ট্রি বেশন কাউন্সিল সম আদালত বা শ্রম আকিল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ বাধ্যতামূলকভাবে।

No comments:

Post a Comment