Friday, April 7, 2023

৪ঃ ক্ষতিপূরণ, মালিক, মৃত্যুকালীন , আংশিক অক্ষমতা

 ৪.১ ।  শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ কাকে বলে?

৪.২ ক্ষতিপূরণ আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তা। / শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা কি ছিল?

৪.৩ ।  আংশিক অক্ষমতা এবং সম্পূর্ণ ক্ষমতার সংজ্ঞা দাও। 

 ৪.৪ ।  আংশিক অক্ষমতা এবং সম্পূর্ণ ক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।

৪.৫।  কি কি পরিস্থিতিতে একজন কর্মচারী নিয়োগ কর্তার নিকট ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।  যদিও সেই একজন কন্ট্রাক্টর কর্তৃক নিযুক্ত হয়ে থাকে। / ক্ষতিপূরণের বিধান কিভাবে নির্ধারণ করা হয়? / কিভাবে ক্ষতিপূরণ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়?

৪.৬ ।  চাকরি হতে উদ্ভূত এবং চাকরি কালীন দুর্ঘটনা বলতে কি বুঝ?

৪.৭ ।  মৃত্যুকালীন সুবিধা কি? কে মৃত্যু কালীন সুবিধা দাবি করতে পারে? 

৪.৮।  একজন মৃত শ্রমিকের প্রতিনিধি যিনি মৃত্যু কালীন সুবিধা গ্রহণ করেছেন তিনি কি অবসরকালীন সুবিধা এবং কোন প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত বীমা স্ক্যামের আয়তায় সুবিধা দাবী করতে পারেন।

৪. ৯ মালিক কাকে বলে?

৪.১০ ।  মালিকের দেউলিয়াত্ব সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বিধানের আলোচনা কর। 

৪.১১ কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটলে কি অবস্থায় মালিকপক্ষ দৈহিক আঘাতের জন্য শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ দিতে কখন বাধ্য নয়।

 ৪.১২ যখন একজন মালিক তার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয়।


কিভাবে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয়?
ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত চুক্তির কি নিবন্ধন প্রয়োজন?
ইহার অভাবে কি পরিস্থিতির উদ্ভব হয়?


------------------------------------

৪.১ ।  শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ কাকে বলে?

প্রত্যেক শিল্প কারখানায় ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি থাকে। অনেক ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতি দিয়ে অনেক শিল্প কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। এই সকল কাজ করতে গিয়ে শ্রমিক কোন দুর্ঘটনায় পড়তে পারেন। অনেক সময় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আর এই ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিক তার উত্তরাধিকার ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হন। এটি শ্রম আইন দ্বারা স্বীকৃত শ্রমিকদের একটি অধিকার। 

শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ:
১৯২৩ সালের পূর্বে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত কোনো আইন ছিল না। ১৯২৩ সালে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। 

কর্মরত অবস্থায় কোন শ্রমিক আঘাতপ্রাপ্ত হলে বা জখম হলে মালিক পক্ষ থেকে যে প্রতিদান পায় তাকে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বলে।

আবার কর্মরত অবস্থায় কোন শ্রমিক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে তার মনোনীত ব্যক্তি বা পোষ্যগণ মালিকপক্ষ থেকে যে প্রতিদান পায় তাকেই শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ বলে।


৪.২ ক্ষতিপূরণ আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তা। / শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা কি ছিল?

১৯২৩ সালের পূর্বে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত কোন আইন ছিল না। ১৯২৩ সালে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। নিম্নে ক্ষতিপূরণ আইনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হলো।
১) প্রতিষ্ঠানের কর্মরত অবস্থায় কোন শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার ক্ষতিপূরণ দেয়ার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়।
২) প্রতিষ্ঠানের কর্মরত অবস্থায় কোন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করলে তার মনোনীতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়।
৩) কোন শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা মৃত্যুবরণ করলে মালিকের দায়-দায়িত্ব কি হবে তা নির্ধারণ করার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়।
৪) কোন শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা মৃত্যুবরণ করলে তার মনোনীত বা পোষ্যদের করণীয় কি হবে তা নির্ধারণ করার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়। 

৫) কোন শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা মৃত্যুবরণ করলে কি পরিমান ক্ষতিপূরণ পাবে তা নির্ধারণ করার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়।

৬) পেশাজনিত রোগ নির্ণয় করার লক্ষ্যে এই আইন প্রণয়ন করা হয়।




৪.৩ ।  আংশিক অক্ষমতা এবং সম্পূর্ণ ক্ষমতার সংজ্ঞা দাও। 


আংশিক অক্ষমতা:
যে অক্ষমতার ফলে শ্রমিকের উপার্জন ক্ষমতা হ্রাস পায় বা কমে যায় তাকে আংশিক অক্ষমতা বলে।

আংশিক অক্ষমতার ফলে শ্রমিকের উপার্জন ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায় না বরং পূর্বে যা ছিল তার থেকে কমে যায়।
আংশিক অক্ষমতা দুই ধরনের হয়।
১) অস্থায়ী প্রকৃতির আংশিক অক্ষমতা:
কোন শ্রমিক পূর্বে যে কাজ করতে পারতো কোন দুর্ঘটনার ফলে উপার্জন ক্ষমতা কমে গেলে তাকে অস্থায়ী প্রকৃতির আংশিক অক্ষমতা বলে।

২) স্থায়ী প্রকৃতির আংশিক অক্ষমতা:
কোন শ্রমিক পূর্বে যে যে কাজ করতে পারতো কোন দুর্ঘটনার ফলে তার সবগুলি সম্পর্কে উপার্জন ক্ষমতা কমে গেলে তাকে স্থায়ী প্রকৃতির আংশিক অক্ষমতা বলে।



সম্পূর্ণ অক্ষমতা: 

কোন দুর্ঘটনার ফলে শ্রমিকের উপার্জন ক্ষমতা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেলে তাকে সম্পূর্ণ অক্ষমতা বলে।

অর্থাৎ সম্পূর্ণ অক্ষমতার ফলে শ্রমিকের উপার্জন ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। 
কোন শ্রমিক প্রতিষ্ঠানের কর্মরত অবস্থায় যে কাজ করতে সক্ষম ছিলেন সম্পূর্ণ অক্ষমতা তাকে উক্ত সকল কাছ থেকে বঞ্চিত করে দেয়। যেমন চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া, হাত বা পা বিনষ্ট হয়ে যাওয়া।


৪.৪ ।  আংশিক অক্ষমতা এবং সম্পূর্ণ ক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।


নিম্নে আংশিক কক্ষনতা ও সম্পূর্ণ অক্ষমতার পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:

১) সংজ্ঞা গত পার্থক্য: যে অক্ষমতার ফলে শ্রমিকের উপার্জন ক্ষমতা হ্রাস পায় বা কমে যায় তাকে আংশিক অক্ষমতা বলে।
পক্ষান্তরে কোন দুর্ঘটনার ফলে শ্রমিকের উপার্জন ক্ষমতা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেলে তাকে সম্পূর্ণ অক্ষমতা বলে।

২) প্রতিশব্দ গত: আংশিক অক্ষমতার ইংরেজি প্রতিশব্দ partial disablement.
পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ অক্ষমতার ইংরেজি প্রতিশব্দ total disablement.

৩) প্রকার গত: আংশিক অক্ষমতা দুই প্রকার হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ অক্ষমতার কোন প্রকারভেদ নেই।

৪) ধারা গত: আংশিক অক্ষমতা শ্রম আইনের ২ এর ১ এ ধারায় উল্লেখিত হয়েছে। পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ অক্ষমতা শ্রম আইনের ২ এর ৬৭ ধারায় উল্লেখিত হয়েছে।

৫) ক্ষতিপূরণ গত: আংশিক অক্ষমতায় ক্ষতিপূরণ কম হয়। পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ অক্ষমতায় ক্ষতিপূরণ বেশি হয়।

৬) উপার্জন ক্ষমতাগত: আংশিক অক্ষমতায় উপার্জন ক্ষমতা একেবারে শেষ হয়ে যায় না। পক্ষান্তরে সম্পূর্ণ অক্ষমতায় উপার্জন ক্ষমতা একেবারে শেষ হয়ে যায়।

৪.৩ কি কি পরিস্থিতিতে একজন কর্মচারী নিয়োগকর্তার নিকট ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে? / কখন একজন শ্রমিক অথবা কর্মচারী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন?

নিম্নোক্ত ঘটনা ঘটলে একজন শ্রমিক ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন:
১) শ্রমিকের শরীর জখম হলে: কোন শ্রমিক প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে অবস্থায় দুর্ঘটনায় পতিত হলে এবং যখন প্রাপ্ত হলে একজন শ্রমিক অথবা কর্মচারী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।

২) জখমের ফলে মৃত্যু হলে: 
রকমের ফলে শ্রমিকের মৃত্যু হলে উক্ত শ্রমিকের প্রতিনিধি বা পোষ্য ক্ষতিপূরণ পাবেন।

৩)  পেশা জনিত কোন রোগে আক্রান্ত হলে:
শ্রমিক যদি পেশা জনিত কোন রোগে আক্রান্ত হন তাহলে একজন শ্রমিক অথবা কর্মচারী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।

৪) নতুন পেশা জনিত কোনে রোগে আক্রান্ত হলে: শ্রমিককে তার চাকরির সাথে অন্য কোন পেশায় নিযুক্ত করলে সে ক্ষেত্রে পেশাজনিত রোগ নির্দিষ্ট করতে হবে এবং সেই ধরনের রোগে আক্রান্ত হলে একজন শ্রমিক কর্মচারী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।

উপরোক্ত ক্ষেত্রে একজন শ্রমিক ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন।



৪.৫।  কি কি পরিস্থিতিতে একজন কর্মচারী নিয়োগ কর্তার নিকট ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।  যদিও সেই একজন কন্ট্রাক্টর কর্তৃক নিযুক্ত হয়ে থাকে। / ক্ষতিপূরণের বিধান কিভাবে নির্ধারণ করা হয়? / কিভাবে ক্ষতিপূরণ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়?

১) শ্রমিকের শরীর জখম হলে: কোন শ্রমিক প্রতিষ্ঠানের চাকরিরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় পতিত হলে এবং জখম প্রাপ্ত হলে মালিক ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে।
২) পেশাজনিত কোন রোগে আক্রান্ত হলে:
শ্রমিক যদি পেশাজনিত কোন রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে মালিক ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবেন।
৩) নতুন পেশাজনিত কোন রোগে আক্রান্ত হলে: শ্রমিকে তার চাকুরীর সাথে অন্য কোন পেশায় নিযুক্ত করলে সেক্ষেত্রে প্যাসাজনিত রোগের নির্দিষ্ট করতে হবে এবং সেই ধরনের রোগে আক্রান্ত হলে মালিক ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবেন। 

৪) জখমের স্থায়িত্ব: যখন যদি এমন হয় যে উক্ত শ্রমিক তিন দিনের বেশি সময়ের জন্য কার্যক্ষমতা হারায়নি মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বা। 

৫) মদ্যপ হলে: দুর্ঘটনার সময় শ্রমিক যদি কোন মদ বা পানীয়ের প্রভাবে আচ্ছন্ন থাকে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।

৬) ওষুধের প্রভাব আচ্ছন্ন থাকলে: দুর্ঘটনার সময় শ্রমিক যদি কোন ঔষধের প্রভাব আচ্ছন্ন থাকে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।

৭) নিরাপত্তা নির্দেশ অমান্য করলে: নিরাপত্তা নির্দোষ সমন্বয় করে দুর্ঘটনা স্থলে উপস্থিত হলে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।

৮) নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা অপসারণ করলে: নিরাপত্তার বিশেষ কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা অপসারণ করলে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন ‌
৯) অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হলে: পেশা সংক্রান্ত ছাড়া অন্য কোন রোগে আক্রান্ত হলে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।

১০) দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করলে: ক্ষতিপূরণের জন্য কোন শ্রমিক যদি কোন দেওয়া নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে তাহলে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।


৪.৬ ।  চাকরি হতে উদ্ভূত এবং চাকরি কালীন দুর্ঘটনা বলতে কি বুঝ?


শ্রম আইন অনুযায়ী কোন শ্রমিক চাকুরী থেকে উদ্ভূত এবং চাকুরীকালীন দুর্ঘটনার শিকার হলে উক্ত দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। ( শ্রম আইন দ্বারা ১৫০ (১))
তবে দুর্ঘটনাটি পরিকল্পিত হলে চলবে না বা চাকুরীর সাথে সম্পর্কযুক্ত না হলে চলবে না।
কিন্তু কর্তব্য পালনের সময় বা তার ফলশ্রুতিতে সংগঠিত দুর্ঘটনা চাকরি থেকে উদ্ভূত এবং চাকরি কালীন দুর্ঘটনার আওতাভুক্ত হবে।

Air , 1995 All, 132 মামলার সিদ্ধান্ত হয়, খনিতে কর্তব্যরত শ্রমিক তার কাজের অবসর সময়ে কিছু দূরে সংগঠিত দুর্ঘটনা চাকরি থেকে উদ্ভূত এবং চাকুরী কালীন দুর্ঘটনা।

আর পরবর্তী বাই বনাম ম্যানেজার রাজকুমার মামলায় সিদ্ধান্ত হয়- হৃদরোগে মৃত্যু হলে যদি পরিমিত হয় যে অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়নি এবং উক্ত রোগের স্বাভাবিক পরিনিতি স্বরূপ শ্রমিক মারা গেছে তাহলে সে ক্ষতিপূরণ পাবে না।


৪.৭ ।  মৃত্যুকালীন সুবিধা কি? কে মৃত্যু কালীন সুবিধা দাবি করতে পারে? 


মৃত্যুকালীন সুবিধা:

বাংলাদেশ সময় নেই মৃত্যুকালীন সুবিধার সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। 
তবে বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করলে বলা যায়- কোন শ্রমিকের মৃত্যুর পর তার প্রতিনিধি বা মনোনীত ব্যক্তি বা স্পশগণ মালিকপক্ষের থেকে যে আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন তাকে মৃত্যু কালীন সুবিধা বলে।


কে মৃত্যু কালিন সুবিধা দাবি করতে পারে:
মৃত্যু কালীর সুবিধা কে গ্রহণ করতে পারেন সেই সম্পর্কে শ্রম আইনের ১৯ ধারায় বিধান বর্ণিত হয়েছে। দুই ধরনের ব্যক্তি মৃত্যুকালীন সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।

১) মৃত ব্যক্তির প্রতিনিধি বা মনোনীত ব্যক্তি
২) মনোনীত ব্যক্তির অবর্তমানে মৃতের কোন পোশ্য


৪.৮।  একজন মৃত শ্রমিকের প্রতিনিধি যিনি মৃত্যু কালীন সুবিধা গ্রহণ করেছেন তিনি কি অবসরকালীন সুবিধা এবং কোন প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত বীমা স্ক্যামের আয়তায় সুবিধা দাবী করতে পারেন।


যে শ্রমিক কোন মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে অন্তত দুই বছর কাজ করেছেন এবং চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন সেই শ্রমিকের মনোনীত ব্যক্তি মৃত্যু কালীন সুবিধা প্রাপ্য হবেন। এক্ষেত্রে প্রত্যেক পূর্ণ বছরের জন্য ৩০ দিনের মজুরি পাবেন। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে ৪৫ দিনের মজুরি পাবেন। এছাড়া মৃত শ্রমিক চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করলে যে সকল সুবিধা প্রাপ্ত হতেন সেই সকল সুবিধা পাবেন।
আওয়ার মৃত শ্রমিক প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক বীমা স্কিম অধীনে থাকলে তার প্রতিনিধি বীমা স্কিম এর সুবিধা দাবি করতে পারেন। 

সুতরাং বলা যায় কোন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করলে তার মনোনীত ব্যক্তি মৃত্যু কালীন সুবিধা গ্রহণ করলেও অবসরকালীন সহ অন্যান্য সুবিধা দাবি করতে পারেন।




৪. ৯ মালিক কাকে বলে?

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২(৪৯) ধারা অনুযায়ী - যে ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগ করেন তাকে মালিক বলে।

এছাড়া নিম্নের ব্যক্তিগণ মালিকের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
১) উক্ত ব্যক্তির কোন উত্তরাধিকারী বা অভিভাবক বা আইনগত অধিকারী।
২) প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বা ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রক বা নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি।
৩) সরকারের কর্তৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানে সরকারের নিয়োজিত কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রধান।
৫) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্য নিযুক্ত ব্যক্তি।
৬) এছাড়া অন্য কারো দখলে আছে এরূপ প্রতিষ্টানের ক্ষেত্রে দখলকারী ব্যক্তি।


৪.১০ ।  মালিকের দেউলিয়াত্ব সেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বিধানের আলোচনা কর।


মালিক যদি দলীয় হয়ে যায় তাহলে ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে তার বিধান কি হবে সেই সম্পর্কের সময়ের ১৬২ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১) শ্রমিকদের দায় সম্পর্কে মালিক যদি কোন বীমাকারীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়, সে ক্ষেত্রে মালিক দেউলিয়া হলে বীমাকারী এমন দায়-দায়িত্বের অধীনে থাকবে যেন তিনি মালিক। তবে মালিকের দায় থেকে বীমাকারীর দায় বেশি হবে না।

২) বীমাকারীর দায় মালিকের দায় হতে কম হলে দেউলিয়াত্ব কার্যক্রমে শ্রমিক তা প্রমাণ করতে পারবে।

৩) বীমা কারীর সাথে মালিকের চুক্তি বাতিল হলে: 
ক) প্রিমিয়াম প্রদান না করার কারণে বাতিল হলে শ্রমিকদের প্রতি বীমাকারীর কোন দায় থাকবে না।

খ) প্রিমিয়াম প্রদান ছাড়া অন্য যেকোনো কারণে বাতিল হলে শ্রমিকদের প্রতি বীমা কারীর দায় থাকবে। অর্থাৎ চুক্তি বাতিল না হলে যেভাবে প্রযোজ্য হতো সেভাবেই হবে।

৪) দেউলিয়া বিষয় ক আইন অনুসারে ক্ষতিপূরণের জন্য রিসিভারের নিকট আবেদন জানানো যায়।

৫) পাওনাদারের পাওনা মেটানোর পূর্বে শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

৬) কোম্পানি পুনর্গঠন বা অন্য কোম্পানির সাথে একত্রিত হওয়ার জন্য গুটিয়ে ফেললে এই আইন প্রযোজ্য হবে না ‌।
 

৪.১১ কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটলে কি অবস্থায় মালিকপক্ষ দৈহিক আঘাতের জন্য শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ দিতে কখন বাধ্য নয়।

মালিকের কারখানা বা শিল্পে কর্তব্যরত থাকা অবস্থায় যদি কোন শ্রমিক দুর্ঘটনার ফলে আহত হয়। সে ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিক ২০০৬ সালের শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আইনের ১৫০ ধারার বিধান সাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ পাবার অধিকারী। 
উক্ত আইনের ১৫০ (১) ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন শ্রমিক চাকরি অবস্থায় দুর্ঘটনায় শরীরে জখমরপ্ত হলে তার মালিক তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকিবেন।

তবে শর্ত থাকে যে নিম্নোক্ত অবস্থায় মালিক উপরোক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকিবে না। ধারা ১৫০(২)

ক) যদি জখমের ফলে তিন দিনের অধিক সময় অনুশ্রম িক সম্পূর্ণ বা আংশিক কর্মক্ষমতা না হারান।
খ) যদি জখমের ফলে মারা যান নাই এরকম কোন শ্রমিকের দুর্ঘটনায় যখন প্রাপ্ত হওয়ার প্রত্যক্ষ কারণ ছিল।


১) দুর্ঘটনার সময়ে শ্রমিক মদ্যপান বা মাদক দ্রব্য সেবনের ফলে উপহার প্রভাবাধীন থাকা।
২) শ্রমিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত বিধি ও সুবিধা আদেশ শ্রমিক কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা।
৩) শ্রমিক গণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করনের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইহা জানা সত্ত্বেও শ্রমিক করতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোন আঘাত নিরোধক নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা অন্য কোন কৌশল অপসারণ করার উপেক্ষা করা।

তো ধারাটি মূল বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে চাকরির ফলশ্রুতিতে সংগঠিত দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে যখন প্রাপ্ত শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য মালিকের উপর দায়িত্ব করাই হলো এই ধরনের মূল উদ্দেশ্য।


 ৪.১২ যখন একজন মালিক তার শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয়।
১)  জখমের স্থায়িত্ব: যখন যদি এমন হয় যে উক্ত শ্রমিক তিন দিনের বেশি সময়ের জন্য কার্যক্ষমতা যায়নি মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।
২) মদ্যপ হলে: দুর্ঘটনার সময় শ্রমিক যদি কোন মদ বা পানীয় এর প্রভাবে আচ্ছন্ন থাকে মালিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নন।





No comments:

Post a Comment