৮.১ ট্রেড ইউনিয়ন কাকে বলে?
৮.২ ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় শর্ত কি কি?
৮.৩ ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য কি কি বিষয় থাকতে হবে?
৮.৪) ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের পদ্ধতি।
৮.৫) একটি রেজিস্টার্ড ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার ও সুবিধা।
৮.৬) নিবন্ধন সার্টিফিকেট
৯.১ । কালেকটিভ বার্গিনি এজেন্ট বা সিবিএ কি?
৯.২ । সিবিএ কিভাবে নির্ধারিত হয়ে থাকে?
৯.৩ । সিবিআর ক্ষমতা ও কার্যাবলী বর্ণনা কর।
৮.১ ট্রেড ইউনিয়ন কাকে বলে?
ট্রেড ইউনিয়ন মূলত: একটি সংগঠন। এটি মালিকদের দ্বারা গঠিত হতে পারে। আবার শ্রমিকদের দাঁড়াও গঠিত হতে পারে। আবার একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে। মালিকগণ ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করেন মালিকদের উন্নয়ন সাধনের জন্য। আর শ্রমিকগণ ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করেন শ্রমিকদের উন্নয়ন সাধনের জন্য। অর্থাৎ ট্রেড ইউনিয়ন মূলত: পরস্পরের উন্নয়ন সাধনের জন্য গঠিত হয়। ট্রেড ইউনিয়ন অবশ্যই শ্রম আইন অনুযায়ী সরকারি রেজিস্ট্রি ভুক্ত হতে হবে।
ট্রেড ইউনিয়ন কাকে বলে:
সাধারণত ট্রেড ইউনিয়ন বলতে শ্রমিকদের সংগঠনকে বুঝায়। কিন্তু ট্রেড ইউনিয়ন শুধু শ্রমিক রক্ষা নয়। মালিকপক্ষও করতে পারে। এটি সারা বিশ্বব্যাপী অতি পরিচিত। বিভিন্ন ব্যক্তির ট্রেড ইউনিয়নের বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
ভি ভি গিরি বলেন, 'ট্রেড ইউনিয়ন হলো শ্রমিকদের স্বইচ্ছায় গড়ে তোলা কোন সংগঠন যার মাধ্যমে যৌথ প্রচেষ্টা দ্বারা তারা তাদের উন্নয়ন সাধন করে।'
সিডনি ও বিট্রশ ওয়েবর এর মতে, ট্রেড ইউনিয়ন হল মজুরি উপার্জনকারীদের কর্মজীবনের অবস্থার উন্নয়ন সাধন করার নিরবিচ্ছিন্ন একটি সংগঠন।
বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২(১৫) ধারা অনুযায়ী: ট্রেড ইউনিয়ন হল সম আইনের ১৩ অধ্যায়ের অধীনে গঠিত ও রেজিস্ট্রিকৃত শ্রমিকদের বা মালিকদের ট্রেড ইউনিয়ন। ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও ট্রেড ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হবে।
সুতরাং বলা যায়, ট্রেড ইউনিয়ন হল শ্রমিকদের বা মালিকদের উন্নয়ন সাধনের জন্য তাদের যৌথ উদ্যোগে গঠিত রেজিস্ট্রিকৃত কোন সংগঠন।
৮.২ ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় শর্ত কি কি?
প্রথমে রেজিস্টার অফ ট্রেড ইউনিয়ন অর্থাৎ শ্রম পরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির নিকট দরখাস্ত করতে হবে। দরখাস্ত ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর থাকতে হবে।
দরখাস্তে যে বিষয়গুলি সংযোজন করতে হবে তা হল:
১) ট্রেড ইউনিয়নের নাম ও প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা
২) ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের তারিখ
৩) ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাগণের নাম, পিতার নাম ও মাতার নাম, বয়স, ঠিকানা, পেশা এবং ইউনিয়নের তাদের পদ ।
৪) চাঁদা প্রদানকারী সদস্যদের বিবরণ।
৫) যে প্রতিষ্ঠানের সাথে ট্রেড ইউনিয়নটি যুক্ত সেই প্রতিষ্ঠানের নাম এবং সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের সংখ্যা।
৬) ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রের তিনটি কপি এবং যে মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে তার রেজুলেশন কপি।
৭) ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে রেজিস্ট্রেশনের জন্য দরখাস্ত করার ক্ষমতা প্রদানের রেজুলেশন কপি।
৮) ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ক্ষেত্রে সদস্য ইউনিয়ন গুলির নাম ঠিকানা ও রেজিস্ট্রি নাম্বার এবং সদস্য হওয়ার সম্মতি প্রধান করে প্রত্যেক ইউনিয়নের গৃহীত প্রস্তাবের কপি।
৮.৩ ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য কি কি বিষয় থাকতে হবে?
১) ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্দেশ্য।
২) ট্রেড ইউনিয়নের শ্রমিকদের সদস্য হওয়ার পদ্ধতি।
৩) শ্রমিকরা অন্য কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য নয় তার ঘোষণাপত্র।
৪) ট্রেড ইউনিয়নের তহবিলের উৎস এবং উক্ত তহবিল কি উদ্দেশ্যে ব্যবহার হবে তার বিবরণ।
৫) কোন সদস্য কোন সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হতে হলে তার শর্ত এবং কোন সদস্যকে জরিমানা করতে হলে তার শর্ত।
৬) ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের তালিকা সংরক্ষণ এবং তা কর্মকর্তা ও সদস্যদের কর্তৃক প্রদর্শনের সুবিধা।
৭) গঠনতন্ত্র পরিবর্তন, সংশোধন বা বাতিলের পদ্ধতি।
৮) ট্রেড ইউনিয়নের তহবিলের হেফাজত এবং কর্মকর্তা ও সদস্য কর্তৃক হিসাব পরিদর্শন সুবিধা।
৯) ট্রেড ইউনিয়নের অবলুপ্তির পদ্ধতি।
১০) ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য কর্তৃক কর্মকর্তা নির্বাচনের পদ্ধতি ও মেয়াদ। কর্মকর্তাদের মেয়াদ দুই বছরের বেশি হবে না। কিন্তু প্রতিষ্ঠান পুঞ্জের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের মেয়াদ ৩ বছরের বেশি হবে না। তবে প্রকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি অবস্থা, ইত্যাদি কারণে নির্দিষ্ট সময় নির্বাচন না হলেও উক্ত কমিটি অবৈধ হবে না।
১১) কর্মকর্তাদের সংখ্যা পাঁচজনের কম হবেনা। এবং ৩৫ জনের বেশি হবে না।
১২) ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার পদ্ধতি।
১৩) ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির মিটিং প্রতি তিন মাসে অন্তত একটি এবং সাধারণ সদস্যদের মিটিং বছরের অন্তত একটি হতে হবে।
১৪) কোন প্রতিষ্ঠানে তিনটির বেশি রেজিস্ট্রিকৃত ট্রেড ইউনিয়ন থাকতে পারবেনা।
১৫) প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে শতকরা 30 ভাগ শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হতে হবে।
৮.৪) ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের পদ্ধতি।
১) প্রত্যয়ন পত্র প্রদান: শ্রম পরিচালক ট্রেড ইউনিয়নের প্রয়োজনীয় সকল বিষয় পালিত হয়েছে মর্মে সন্তুষ্ট হলে রেজিষ্টারে তা রেজিস্ট্রি করবেন। এবং দরখাস্ত পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে তিনি নির্দিষ্ট ফর্মে প্রত্যয়ন প্রদান করবেন।
২) আপত্তি ও জবাব: সমপরিচালক যদি দরখাস্তে তথ্যের অসম্পূর্ণতা দেখতে পান তাহলে তিনি দরখাস্ত প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে ট্রেড ইউনিয়নকে তা লিখিতভাবে জানাবেন এবং ট্রেড ইউনিয়ন চিঠি প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দিবেন।
৩) আপত্তি মেটানো বা দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান: শ্রম পরিচালক ট্রেড ইউনিয়নের জবাবে সন্তুষ্ট হলে তাদের রেজিস্ট্রেশন দিবেন আর সন্তুষ্ট না হলে দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান করবেন।
৪) শ্রম আদালতে আপিল: সমপরিচালক দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান করলে বা ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি না করলে সংশ্লিষ্ট থ্রেড ইউনিয়ন শ্রম আদালতে আপিল করতে পারবে। আবিরের সময়সীমা হবে প্রত্যাখ্যানের তারিখ অথবা উল্লিখিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার তারিখ। যেটি আগে আসে তার থেকে ৩০ দিনের মধ্যে।
৫) শ্রম আদালতের সিদ্ধান্ত: শ্রম আদালত আপিল শুনানির পর তা খারিজ করতে পারে। অথবা আপিলটি উপযুক্ত মনে করলে তার কারণ লিপিবদ্ধ করে শ্রমপরিচালক কে ইউনিয়নটি রেজিস্ট্রি করার জন্য এবং তার তারিখ থেকে সাত দিনের মধ্যে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করার নির্দেশ দিতে পারেন।
৬) শ্রম ও আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল:
শ্রম আদালতের রায়ে সংক্ষুব্ধ কোন পক্ষ আদালতের আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম ও আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করতে পারবেন।
৮.৫) একটি রেজিস্টার্ড ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার ও সুবিধা।
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এ একটি নিবন্ধনকৃত ট্রেড ইউনিয়নের কি কি অধিকার ও সুবিধা তা উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত অধিকার ও সুবিধাসমূহ উল্লেখ করা হলো:
১) বদলি না করা: ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি ও সম্পাদকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের তাদের সম্মতি ব্যতীত এক জেলা থেকে অন্য জেলায় বদলি করা যাবে না। ( ধারা - ১৮৭)
২) ষড়যন্ত্রের বাধা: গঠনতন্ত্রের কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কোন চুক্তি করলে ট্রেড ইউনিয়নের কোন কর্মকর্তা বা সদস্য বা সিবিএ প্রতিনিধি ষড়যন্ত্র এর দায়ে অভিযুক্ত হবেন না।
৩) কিছু ক্ষেত্রে দেওয়ানী মামলা থেকে অব্যাহতি: ট্রেড ইউনিয়ন যদি শিল্প বিরোধী জড়িয়ে পড়ে এবং এ উদ্দেশ্যে কোন কার্যক্রম পরিচালনা করলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তা সদস্য ও সিভিএ প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না। ( ধারা - ১৯৮)
৪) কিছু চুক্তি বাতিলযোগ্য নয়:
প্রচলিত আইনে যাই থাকুক না কেন কোন কোন চুক্তি ব্যবসায়ের জন্য ক্ষতিকর শুধু এই কারণে ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যদের কোন চুক্তি বাতিল হবে না। ( ধারা - ১৯৯)
৫) ফেডারেশন গঠন: পাঁচবার তার বেশি ট্রেড ইউনিয়ন এবং একাধিক প্রশাসনিক বিভাগের ট্রেড ইউনিয়ন তাদের সাধারণ সভা অনুমোদনক্রমে একটি ফেডারেশন করতে পারে। ( ধারা ২০০)
৬) কর্মচ্যুতি বা বরখাস্তে বাধা: ট্রাইব্যুনালে দায়িত মামলা মুলতবী থাকাকালীন সময়ে নিবন্ধনকৃত ট্রেড ইউনিয়নের কোন কর্মকর্তাকে আদালতের অনুমতি ব্যতীত অসদ আচরণের জন্য কর্মসূচি বরখাস্ত বা অন্য কোন সাজা দেওয়া যাবে না। ( ধারা - ২৮৮)
৭) মালিককে জরিমান: কোন মালিক ২২৮ ধারা অমান্য করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ৫০০০ টাকা জরিমানা বা দন্ড হতে পারে।
৮.৬) নিবন্ধন সার্টিফিকেট
সময়নের 182 ধারার অধীনে শ্রম পরিচালক কর্তৃক কোন ট্রেড ইউনিয়নকে প্রদত্ত সার্টিফিকেটকে নিবন্ধন সার্টিফিকেট বলে।
কোন ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য এই আইনের ১১৭ ধারার অধীনে আবেদন করলে 182 ধারার বিধান অনুযায়ী শ্রম পরিচালক যদি এই মর্মের সন্তুষ্ট হন যে, উক্ত ট্রেড ইউনিয়ন সকল বিষয় পালন করেছে, তাহলে নির্ধারিত রেজিস্টরে তাকে রেজিস্ট্রি করবেন।
আবেদন পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করবেন।
এটি হলো নিবন্ধন সার্টিফিকেট।
মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় শ্রমিকদের পক্ষে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যারা দায়িত্ব পালন করেন তারাই হলেন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি ( সি বি এ )
সিবিএ এর পূর্ণরূপ হল - collective bargaining agent.
যৌথ দরকষাকষি সি বি এ প্রতিনিধি:
কোন প্রতিষ্ঠানের কোন ট্রেড ইউনিয়ন যদি শ্রমিক ও মালিকদের দরকষাকষির ব্যাপারে শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে তাহলে তাকে যৌথ দরকষাকষি সিবিএ প্রতিনিধি বলে।
কোন প্রতিষ্ঠানের ট্রেড ইউনিয়নকে যদি ওই প্রতিষ্ঠানের মোট শ্রমিকের ৩০ শতাংশ শ্রমিক সমর্থন করে তাহলে উক্ত ট্রেড ইউনিয়ন যৌথ দরকষাকষি বা সিবিএ প্রতিনিধি বলে গণ্য হয়।
৯.২ যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি ( সি বি এ ) নির্বাচন বা নির্ধারণ:
বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০২ ধারায় যৌথ দর কষাঘষি প্রতিনিধি সিবিএ নির্বাচন বা নির্ধারণ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্নেতা আলোচনা করা হলো:
১) প্রতিষ্ঠানে একটি ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে: যদি কোন প্রতিষ্ঠানে একটি ট্রেড ইউনিয়ন থাকে তাহলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সেই ট্রেড ইউনিয়নই যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি সিবি এ বলে গণ্য হবে।
২) কোন প্রতিষ্ঠানে একাধিক ট্রেড ইউনিয়ন থাকলে: যদি কোন প্রতিষ্ঠানে একাধিক ট্রেড ইউনিয়ন থাকে তাহলে উক্ত ট্রেড ইউনিয়ন গুলি তাদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার মনোনয়ন দিয়ে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি বা সিবিএ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।
৩) নিজেদের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব না হলে: যদি নিজেদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হয় তাহলে ট্রেড ইউনিয়ন বা মালিকপক্ষ শ্রমপরিচালক বরাবর দরখাস্ত করবেন।
৪) নোটিশ প্রধান: শ্রমপরিচালক দরখাস্ত পাওয়ার পর সকল ট্রেড ইউনিয়নকে নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে কিনা তা জানার জন্য নোটিশ প্রদান করবেন।
৫) নির্বাচন ব্যবস্থা: শ্রম পরিচালক দরখাস্ত পাওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থা করবেন।
৬) নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে:
যদি কোন ট্রেড ইউনিয়ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তাহলে ট্রেড ইউনিয়ন অংশগ্রহণ করবে বলেন নোটিশের জবাব দিবে তাদের উক্ত প্রতিষ্ঠানের যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি সিবিএ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের এক কৃতীয়াংশ শ্রমিককে ওই ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য থাকতে হবে।
৭) শ্রমিকদের তালিকা সংগ্রহ: নির্বাচন অনুষ্ঠান হলে সমপরিচালক মালিকের নিকট শ্রমিকদের তালিকা চাইতে পারেন। উক্ত তালিকা প্রতিদ্বন্দকারী ট্রেড ইউনিয়ন কে প্রদান করবেন এবং প্রকাশ্য স্থানে ঝুলিয়ে দিবেন।
৮) তালিকা সংশোধন: উক্ত তালিকার সম্পর্কে কেউ আপত্তি করলে শ্রমপরিচালক তদন্ত করে তা সংশোধন করতে পারেন।
৯) নির্বাচনের সুযোগ সুবিধা: কোন মালিক নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না বরং নির্বাচনের সকল সুযোগ সুবিধা ব্যবস্থা করবেন।
১০) ভোট গ্রহণ: শ্রমপরিচালক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করবেন।
১১) অফিস বরাদ্দ: প্রত্যেক মালিক নির্বাচিত যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির সিবিএ র জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে অফিস কক্ষ বরাদ্দ করবেন।
৯.৩ যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধির ক্ষমতা ও কার্যাবলী
বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০২ ধারা যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির ক্ষমতা ও কার্যাবলী সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্নতা আলোচনা করা হলো:
১) নিজেদের পক্ষোভুক্ত করা: যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি সিবিএ তাদের মর্যাদা ক্ষুন্ন না করে কোন কার্যক্রম নিজেদের পক্ষভুক্ত করতে পারবে।
২) দরকষাকষি করা: কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান হলে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি সিবিএ মালিকের সাথে দর কষাকষি করতে পারবে।
৩) প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা: যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি সিবিএস শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারবে।
৪) ধর্মঘট আহ্বান: যৌথ দর্কাসাঘষি প্রতিনিধি সিবিএ আইনসঙ্গতভাবে ধর্মঘট আহ্বান করতে পারবে।
৫) মামলা পরিচালনা: সিবি এ শ্রমিকদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করতে পারবে।
৬) আপত্তি উত্থাপন: কোন বিশেষজ্ঞ সম্পর্কে কোন আপত্তি থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য শ্রম পরিচালককে অনুরোধ করতে পারবে।
উপসংহার: এখন বিদ্যমান দুটি পক্ষ ঐক্য মধ্যে পৌঁছাতে পারেনা তখন উক্ত বিবাদ নিষ্কতির জন্য তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন হয়। যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি সিবিএ মূলত সেই কাজটি করে থাকে। এটি শ্রমিকদের প্রতিনিধি হয়ে মালিকদের সাথে দরকষাকষি করে বিবাদ নিষ্পত্তি করে থাকে।
No comments:
Post a Comment