Friday, March 31, 2023

যুক্তরাষ্ট্রের

১) যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর / আমেরিকার ফেডারেল সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি কি?

২) আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টকে কেন সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে গণ্য করা যায়? / নাগরিক অধিকারের রক্ষক ও সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা কি?


৩) আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ কিভাবে নিয়োগ পান? 

৪ ) সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক গঠন ক্ষমতা কার্যাবলী ও অদিক্ষেত্র আলোচনা কর। 

৫) বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা বলতে কি বুঝ? 
৬ ) আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা আলোচনা কর। 

৭) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।

৮) সিনেটের ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণ কি?

৯) আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সাথে ইহার সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

১০) ক্ষমতা পৃথকীকরণ নীতি ব্যাখ্যা: 





১) যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর / আমেরিকার ফেডারেল সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি কি?
নিম্নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সংবিধানের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো:
১) লিখিত: যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি লিখিত সংবিধান। 
২) প্রস্তাবনা ও ধারা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের একটি প্রস্তাবনা ও সাতটি ধারা রয়েছে।
৩) ক্ষুদ্র সংবিধান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম সংবিধান। মাত্র সাতটি ধারা নিয়ে এই সংবিধান গঠিত।
৪) স্পষ্ট সংবিধান: লিখিত সংবিধান সাধারণত স্পষ্ট হয়ে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি লিখিত সংবিধান এবং এটি সহজ সরল ভাষায় রচিত যার ফলে এতে অস্পষ্ট তা নেই।

৫) দোষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান: যেকোনো লিখিত সংবিধান দোষ্পরিবর্তনীয়। কারণ এই ধরনের সংবিধান সংশোধনের বা পরিবর্তন করতে হলে বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে করতে হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লিখিত হয় তেমনি দুষ্পরিবর্তনের একটি সংবিধান।

৬) রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা:
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সেখানে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত। রাষ্ট্রপতি একধারে রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধান।

৭) দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা:
যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা অধি কক্ষ বিশিষ্ট। একটি নিম্ন কক্ষ আরেকটি  উচ্চ কক্ষ। নিম্নকক্ষের নাম প্রতিনিধি পরিষদ। উচ্চকক্ষের নাম সিনেট।

৮) মৌলিক অধিকার রক্ষা: যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দ্বারা দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা হয়েছে।

৯) ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ: যুক্তরাষ্ট্র সংবিধান দ্বারা বিভিন্ন বিভাগ যেমন বিচার বিভাগ শাসন বিভাগ আইন বিভাগ ইত্যাদি ক্ষমতা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। 
১০) সাংবিধানিক প্রাধান্য: সংবিধান হলো যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সর্বোচ্চ আইন। সংবিধানের পরিববন্ধু কোন আইন প্রণয়ন করা যায় না ‌‌এরূপ বলে আদালত তা বাতিল করতে পারে।

 

২) আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টকে কেন সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে গণ্য করা যায়? / নাগরিক অধিকারের রক্ষক ও সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা কি?


বাংলাদেশের সংবিধানে যেমন নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত হয়েছে তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত আছে। কেউ এই মৌলিক অধিকার ভঙ্গ করতে পারে না।

যদি কেউ এই মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে এমনকি অঙ্গরাজ্য বা কংগ্রেসও যদি কারো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের নিকট বিচার চাইতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট উক্ত বিষয় বিচার করেন। অর্থাৎ কোন নাগরিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হলে তা রক্ষা করার একমাত্র প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম কোর্ট।
আইন পরিশোদ  কর্তৃক প্রণীত আইন, বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রণীত বিধি-বিধান সংবিধান সংরক্ষিত কিনা তা সুপ্রিম কোর্ট পর্যালোচনা করতে পারে। একে বলে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ‌‌। যদিও বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা বিধান সংবিধানের সুস্পষ্ট লিপিবদ্ধ নেই তবুও এটি মামলার মাধ্যমে এর গুরুত্ব অনুধাবন করা যায়।

একটি মামলায় 1789 সালে জুডিশিয়ারি এক্টের একটি ধারা সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মার্শাল বলেছিলেন' যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান হলো সর্বোচ্চ আইন। সংবিধান আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করে। এই সংবিধানকে রক্ষা করার জন্য বিচারপতিদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। সুতরাং আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইন বিচার করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে। 

সুতরাং বলা যায় নাগরিক অধিকার রক্ষক ও সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা অপরিসীম।


৩) আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের গঠন। 

নিম্ন তো ভাবে আফ্রিকার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ বা সুপ্রিম কোর্টের গঠন করা হয়।


ক) মার্কিন সিনেটের সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি একজন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেন ‌
খ) সিলেটের সুপারিশ ক্রমে রাষ্ট্রপতি আরও আটজন বিচারপতি নিয়োগ করেন।
গ) বিচারপতিদের নিয়োগের সময় তাদের মেধা অভিজ্ঞতা সততা ব্যক্তিত্ব বিবেচনা করা হয়।
ঘ) ছয়জন বিচারপতি নিয়ে কোরাম গঠিত হয়।
ঙ) বিচারপতিদের সাধারণত করা যায় না। একমাত্র ইমপিচমেন্ট দ্বারা বিচারপতিকে পদচ্যুত করা যায়। 
চ) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান কেন্দ্র ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত।  

৪ ) সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক গঠন ক্ষমতা কার্যাবলী ও অদিক্ষেত্র আলোচনা কর। 

১) সংবিধান ব্যাখ্যা করা: আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টই কেবল আমেরিকার সংবিধান ব্যাখ্যা করতে পারে সংবিধানের কোন জটিলতা দেখা দিলে সুপ্রিম কোর্ট তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে থাকে।

২) আইনের বৈধতা দান: কোন ব্যক্তি যদি কোন আইন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সুপ্রিম কোর্টের অভিযোগ করে উক্ত আইনটি অবৈধ তাহলে সুপ্রিম কোর্ট সেই আইনের বৈধতা বিচার করতে পারে।

৩) আইনের অবৈধতা দান: আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট কোনো আইনকে অবৈধ ঘোষণা করতে পারে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন বিচারপতি যদি কোন আইনকে অবৈধ ঘোষণা করে তাহলে উক্ত আইন অবৈধ হয়ে যায়। 


৪) সংবিধানের অভিভাবক; আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের সংবিধানের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করে। সুপ্রিম কোর্টই মূলত সংবিধান কে রক্ষা করে। 

৫) রাষ্ট্রপতিকে নিয়ন্ত্রণ: সুপ্রিম কোর্ট আমেরিকার রাষ্ট্রপতিকে নির্দিষ্ট গতির মধ্যে কাজ করতে বাধ্য করে ‌‌ সুপ্রিম কোর্টের কারণে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা করলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে না।


৬) কংগ্রেসকে নিয়ন্ত্রণ: সুপ্রিম কোর্ট আমেরিকার রাষ্ট্রপতির ন্যায় কংগ্রেসকে নিয়ন্ত্রণ ও নির্দিষ্ট গতির মধ্যে কাজ করতে বাধ্য করে।

৭) জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা,: পৃথিবীর অন্যতম দেশের ন্যায় আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে থাকে। 
৮) প্রতিষ্ঠানের উপর তদারকি: আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য কেন্দ্রীয় সরকার স্থানীয় সরকার ইত্যাদি সংবিধান অনুযায়ী কাজ করছে এবং তাদের তদারক করছে।


৫) বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা বলতে কি বুঝ?  


বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা: 
আইন অনুযায়ী কোন কাজকে কার্যকরযোগ্য অথবা অকার্যকর যোগ্য বলে ঘোষণা দেয়া কে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা বলে। 
আন্তর্জাতিক সমাজবিজ্ঞান বিশ্বকোষ অনুযায়ী- যে পদ্ধতির মাধ্যমে কোন বিচার বিভাগীয় সংস্থা, দেশের আইনসভা কর্তৃক কোন কার্য ব্যবস্থার বৈধতা নিরূপণ করা হয় তাকে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা করে।


৬ ) আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা আলোচনা কর।

নিমরে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা: মূলত বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা কোন দেশের জন্য অমঙ্গলজনক নয়। দেশের মঙ্গলের জন্যই বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা করা হয়ে থাকে।

১)  সংবিধান ব্যাখ্যা করা; 
আমেরিকার সুপ্রিমকোর্টই কেবল আমেরিকার সংবিধান ব্যাখ্যা করতে পারে। সংবিধানে কোন জটিলতা দেখা দিলে সুপ্রিমকোর্ট তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে থাকে।
২) আইনের বৈধতা দান: কোন ব্যক্তি যদি কোন আইন দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সুপ্রিম কোর্টের অভিযোগ করে যে উক্ত আইনটি অবৈধ, তাহলে সুপ্রিম কোর্ট সেই আইনের বৈধতা বিচার করতে পারে। 
৩) আইনকে অবৈধ ঘোষণা: আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট কোনো আইনকে অবৈধ ঘোষণা করতে পারে । সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন বিচারপতি যদি কোন আইনকে অবৈধ ঘোষণা করে তাহলে উক্ত আইন অবৈধ হয়ে যায়।

৪) জণগনর মৌলিক অধিকার রক্ষা:
আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করে থাকে।

আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা সংবিধান স্পষ্ট লিখিত হয়নি কিন্তু আমেরিকার সংবিধানের ৬ অনুচ্ছেদ এই ক্ষমতার ইঙ্গিত রয়েছে।



৭) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট গঠন: 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা বা কংগ্রেসের দ্বিতীয় পক্ষের নাম সিনেট। সিনেট মার্কিন শাসন ব্যবস্থার সবচেয়ে শক্তিশালী ও মর্যাদাশীল সংস্থা। পূর্বে চীনের সদস্যগণ প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য কর্তৃক নির্বাচিত হতেন বর্তমানে জনগণের পক্ষে ভোটের সিলেট সদস্য নির্বাচিত হন জনগণ ও আয়তন যাই হোক না কেন প্রত্যেক অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন চীনের সদস্য নির্বাচিত হবেন সদস্যগণ 6 বছরের জন্য নির্বাচিত হন। প্রতি দুই বছর পর পর এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসরে যান। বর্তমানে সিনেট সদস্য সংখ্যা ১০২।

এছাড়াও সিনেট সদস্য হতে হলে যা প্রয়োজন তা হল:

১) তার বয়স হতে হবে ৩০ বছর
২); নয় বছর যুক্তরাষ্ট্রের বসবাস থাকতে হবে
৩) যে অঙ্গরাজ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সে সেই রাজ্যের নাগরিক হতে হবে। 
প্রতিবছরই সিনটের অধিবেশন বসেন। তাছাড়া প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন। 

৭) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিলেটের ক্ষমতা ও কার্যাবলী। সিলেট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দ্বিতীয় কক্ষ হলেও ক্ষমতার দিক দিয়ে এটি দ্বিতীয় নয় প্রথম। বিশ্বের দ্বিতীয় কক্ষের মধ্যে এটি শক্তিশালী হিসেবে গণ্য ‌। নিম্নে এর ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করা হলো।

১) আইন প্রণয়ন: সিনেট সভা আইন প্রণয়ন করে থাকে। সকল সাধারণ বিল সিনৈট সভায় উত্থাপিত হয়। প্রতিনিধি সভায় যে বিল উত্থাপিত করা হয় তাতে সিলেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সিলেট যে কোন বিলকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে আর চীনের কোন বিল প্রত্যাকন করলে সেটি আর আইনে পরিণত হতে পারে না।
২) বিচার সংক্রান্ত: সিলেট বিচার সংক্রান্ত কাজেও করে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে তার কোন কাজের জন্য একমাত্র সিনাট অভিযুক্ত করতে পারে। 

৩) নিয়োগ: সিলেটের অন্যতম কাজ হলো বিভিন্ন প্রকার নিয়োগ দান করা। প্রেসিডেন্ট যখন কোন অঙ্গরাজ্যে কোন নিয়োগ দেন তখন সেই অঙ্গরাজ্য সিলেট এর সাথে পরামর্শ দেন এটি হলে সিলেটের সৌজন্যমূলক আচরণ

৪);চুক্তি ও সন্ধি অনুমোদন: প্রেসিডেন্ট কোন চুক্তি বা সন্ধি করলে তাদের সিলেটের অনুমতি প্রয়োজন। এটি হলো সিনেটের সৌজন্যমূলক আচরণ

৫); আলাপ আলোচনার অনুরোধ : কোন বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে কোন বিষয়ে আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন হলে সিলেট প্রেসিডেন্ট কে তা জন্য অনুরোধ করতে পারে

৬) সংবিধান সংশোধনের ভূমিকা: সিনেট সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি পরিষদের সাথে যৌথভাবে অংশগ্রহণ করে। 
৭! নির্বাচন: সিলেট নিজের সদস্যদের নির্বাচনের বৈধতা ও যোগ্যতা বিচার করতে পারে। 

৮) নতুন অঙ্গরাজ্য অন্তর্ভুক্তি করন:  অঙ্গরাজ্য অন্তর্ভুক্ত করুন বিশেষ ভূমিকা পালন করে।


৮) সিনেটের ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণ কি?

নিম্নে সিনেট এর ক্ষমতার কারণ উল্লেখ করা হলো

১) আইন প্রণয়নে: অনেক দেশের উভয় কক্ষ সমান ক্ষমতা সম্পন্ন। রাশিয়া সুইজারল্যান্ড। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চকক্ষ নিম্ন কক্ষ থেকে অনেক বেশি ক্ষমতাশীল।

২) প্রশাসনিক ক্ষেত্র: ভারত ব্রিটেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতা নিম্নকক্ষের হাতে কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টেও নিয়ন্ত্রণ করে । কারণ সিনেটের অনুমোদন ব্যতীত প্রেসিডেন্ট কোন নিয়োগ বা বৈদেশিক চুক্তি কার্যকর হয় না। 

৩) বিচারের ক্ষেত্রে: ভারতের উচ্চ কক্ষ অভিযোগ করলে মা আনলে নিম্নপক্ষ তার বিচার করে কিন্তু মার্কিন সিলেটেই এই অভিযোগ আসলে তার অনুসন্ধান ও বিচার।

৯) আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সাথে ইহার সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

তাত্ত্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সিমের তথা কংগ্রেস থেকে স্বতন্ত্র। 

কিন্তু বাস্তবিকভাবে প্রেসিডেন্ট ও সিনেট প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত। অনেক ক্ষেত্রেই প্রেসিডেন্ট কে সিনেটের উপর নির্ভর করতে হয়।  

১) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হলে প্রেসিডেন্ট কে সিনেট সাথে পরামর্শ করতে হয়।

২) অন্য দেশের সাথে কোন চুক্তি বা সন্ধির ক্ষেত্রে দুই বা তৃতীয়াংশ সিনেট সদস্যদের অনুমোদন প্রয়োজন। তা না হলে সেটি কার্যকর হয় না।

৩) প্রেসিডেন্ট যে অর্থের প্রয়োজন হয় তা সিনে ট কর্তৃক বরাদ্দকৃত।

৪) রাষ্ট্রপতি সিনেটের অনুমোদন সাপেক্ষে মন্ত্রী পরিষদ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ করেন।

সুতরাং বলা যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও চীনের বা কংগ্রেস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত। 


১০) ক্ষমতা পৃথকীকরণ নীতি ব্যাখ্যা: 

শাসন ব্যবস্থা তিনটি বিভাগ রয়েছে। ক) শাসন বিভাগ, খ) আইন বিভাগ, গ) বিচার বিভাগ।

এই তিনটি বিভাগ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রীকরনই হলো ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি।  এই তিন বিভাগ সম্পর্কে নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

১) শাসন বিভাগ: সরকারের যে সকল বিভাগ কার্যক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখে ও আইন অমান্যকারীকে আটক করে বিচারের জন্য বিচার বিভাগের নিকট শব্দ করে তাকেই শাসন বিভাগ বলে।

২/ আইন বিভাগ: সরকার যে বিভাগে রাষ্ট্রের জন্য আইন প্রণয়ন করে থাকে তাকে পরবর্তী পরিবর্তন বা পরিবর্তন করে তাকে আইন বিভাগ বলে।

৩) বিচার বিভাগ: সরকারের যে সকল ভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে যে ব্যক্তি ও শাসকগণ এর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয় তার বিচার করে মীমাংসা করার অতঃপর অপরাধী দণ্ডিত হলে তাকে বিচার বিভাগ বলে। 



৭) সিনেটরদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে কি? ব্যাখ্যা কর।
৯) আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী পদমর্যাদা আলোচনা কর।
১১) 
১২) যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্ব ও ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
১৩) 
১৪) অনুসরণীয় মামলার উল্লেখপূর্বক ( মারবেরি বনাম মেডিসন মামলা) যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ব্যাখ্যা কর। 
১৫) বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্টে কি এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে? 
১৬) সিনেটরদের সৌজন্যতা বলতে কি বুঝ?

১৭) কি মনে কর বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে লঙ্ঘন করে?

১৮) আমেরিকার সংবিধান নিয়ন্ত্রণ এবং ভারসাম্যর একটি পদ্ধতি আলোচনা কর।
১৯) ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরন নীতি বাস্তবে সম্ভব ও নয় এবং অভিব্রত এবং নয়" মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতির কার্যকারিতার আলোকে উক্তিটির উপর মন্তব্য করো।
২০) ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রয়োগ আলোচনা কর।
২১) ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ  উক্তিটি ব্যাখ্যা কর ।
২২) এই তথ্যটি ব্রিটেন এবং বাংলাদেশের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কতটুকু প্রয়োগ করা হয়েছে?
২৩) যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের তিনটি বিভাগ নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য ব্যবস্থা দ্বারা যুক্ত। উক্তিটির ধরতা নিরূপণ কর। 

ষষ্ঠ ভাগ (বিচারবিভাগ)ঃ সুপ্রীম কোর্ট, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, রীট

৬.১।  বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কাঠামো ও গঠন প্রণালী বর্ণনা কর। 

৬.২ ।  সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের অধিক্ষেত্র ও ক্ষমতা ব্যাখ্যা কর। / কার্যাবলী ও ক্ষমতা ব্যাখ্যা কর। 


৬.৩।  হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ কিভাবে করা যায়? / সুপ্রিম কোর্টের ( হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ) বিচারকদের নিয়োগ পদ্ধতি।

৬.৪ ।   বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কি বুঝ? 

৬.৫।   বাংলাদেশের বিচার বিভাগ কি স্বাধীন? /  বিচার সংক্রান্ত কার্যসম্পাদনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা কতটা স্বাধীন? / আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গুরুত্ব আলোচনা কর। 

৬.৬।   মাসদার হোসেন বনাম বাংলাদেশ মামলা ১৯৯৯ এর সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন কর। 

৬.৭।  রীট বলতে কি বুঝ? 

৬.৮ ।    রীট পিটিশানের পূর্ব শর্তগুলি কি কি? / কেন বলার হয়ে থাকে যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদকে বিভিন্ন প্রকার রীটের নাম উল্লেখ না হলেও প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিজের প্রকৃত উপাদান বিশেষভাবে ধারণকৃত, বাক্যসমূহের বর্ণিত হয়েছে।  / বিভিন্ন প্রকার রীটের বর্ণনা দাও। / সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদে রীটের শর্তাবলী পাওয়া যায়, তবে এটি ১০২ অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়, ব্যাখ্যা কর।

৬.৯।  কে রীটের জন্য আবেদন করতে পারে?
 
৬.১০।  কাদের বিরুদ্ধে রীট আবেদন করা যায় না? /  রীটের সীমাবদ্ধতা কি?



৬.১।  বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কাঠামো ও গঠন প্রণালী বর্ণনা কর। 


বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নাম বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। এটি আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত। একজন প্রধান বিচারপতি এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত। প্রধান বিচারপতি সহ সকল বিচারপতিদের বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করেন।

সুপ্রিম কোর্টের গঠন বা কাঠামো: 

বাংলাদেশ সংবিধান এর ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট নামে একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকবে। 
এর দুটি বিভাগ থাকবে:
১) আপিল বিভাগ , ২) হাইকোর্ট বিভাগ
একজন প্রধান বিচারপতি এবং প্রত্যেক বিভাগে আসন গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি যতজন প্রয়োজন মনে করবেন ততজন বিচারপতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি সরাসরি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দান করেন। প্রধান বিচারপতি সাথে পরামর্শ করে তিনি অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগ দেন।


৬.২ ।  সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের অধিক্ষেত্র ও ক্ষমতা ব্যাখ্যা কর। / কার্যাবলী ও ক্ষমতা ব্যাখ্যা কর। 


সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা ও কার্যাবলী কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

১) হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলী
২) আপিল বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলী

১) হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতাও কার্যাবলী: 

নিম্নে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করা হলো:
ক) আদি এখতিয়ার: যে ক্ষমতা বলে কোর্ট প্রাথমিকভাবে মামলা গ্রহণ করতে পারে তাকে আদি এখতিয়ার বলে। হাইকোর্ট বিভাগ সংসদ কর্তৃক পাসকৃত ও নির্ধারিত কোন মামলা প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করতে পারে। 

খ) আপিল এখতিয়ার: সংসদ যেকোনো আইনে হাইকোর্ট বিভাগের উপর আপিল এখতিয়ার প্রদান করতে পারে।

গ) রিভিশনাল এখতিয়ার: অধনস্থ আদালতের রায় পরীক্ষা করাই হলো রিভিশন। দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫ ধারায় হাইকোর্টকে রিভিশনাল এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। 

ঘ) রেফারেন্স এখতিয়ার: অধীনস্থ আদালতের মামলার আইনগত প্রশ্ন পরীক্ষা করে তার উপর মতামত দেওয়া হলো রেফারেন্স। দেওয়ানি কার্যবিধি ১১৩ ধারায় হাইকোর্টকে রিভিশনাল এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। ‌‌
ঙ) মৌলিক অধিকার বলবৎ করন: হাইকোর্ট বিভাগ কোন ব্যক্তি বা কতৃপক্ষের সংবিধানে উল্লেখিত মৌলিক অধিকারগুলো বলব বলবধ করার জন্য যে কোন আদেশ দিতে পারে। 

চ) নিম্ন আদালত সমূহের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ: 
হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালত ও ট্রাইবুনালের উপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ মূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। তবে শর্ত হলো নিম্ন আদালতের বা ট্রাইব্যুনালকে অবশ্যই হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ হতে হবে। 

ছ) অধীনস্থ আদালতের মামলা হস্তান্তর:
হাইকোর্ট বিভাগ তার অধীনস্থ আদালতের কোন মামলা নিজের কাছে আনতে পারে। তবে এই শর্ত হলো হাইকোর্ট বিভাগ যদি মনে করে কোন মামলায় সংবিধানের ব্যাখ্যা জনিত আইনের জটিলত প্রশ্ন জড়িত অথবা জনস্বার্থমূলক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত তাহলে উত্তম মামলা অধনস্থ আদালত থেকে তুলে এনে হাইকোর্ট বিভাগের নিজের নিষ্পত্তি করতে পারে।

জ) সরকারি কর্মচারী বা কর্তৃপক্ষকে কোন কাছ থেকে বিরত রাখা: হাইকোর্ট বিভাগ কোন সংক্ষুব্দ্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে সরকার কর্মচারী বা কর্তৃপক্ষের কাজ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ প্রদান করতে পারে। 

ঝ) কোন কাজকে বেআইনি ঘোষণা: হাইকোর্ট বিভাগ সরকারি কর্মচারী বা কর্তৃপক্ষের কোন কার্যক্রম কেবানী ঘোষণা করতে পারে।

ঞ) বিভিন্ন রিট জারির ক্ষমতা: 

১) হাইকোর্ট বিভাগ বিভিন্ন প্রকারের রিট জারি করতে পারে। যেমন- অন্যায় ভাবে আটক কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করতে আটককারীকে আদেশ দিতে পারেন। 


২) কোন ব্যক্তি কোন আইনগত পথ অবৈধভাবে দখল করলে উক্ত পথ দখলের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিতে পারেন।

৩) হাইকোর্ট বিভাগ তার অধীনস্থ আদালতকে মামলার নথিপত্র সুবিবেচনার আদেশ দিতে পারেন।

৪) হাইকোর্ট বিভাগ তার অধীনস্থ আদালত সমূহকে কোন এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিতে পারেন।

৫) হাইকোর্ট বিভাগ তার অধীনস্থ আদালত ট্রাইবুনাল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তাদের আইনগত দায়িত্ব পালন করতে হুকুম জারি করতে পারেন। 



দুই আপিল বিভাগের ক্ষমতা ( আদি ক্ষেত্র) ও কার্যাবলী: 
আপিল বিভাগের কোন আদি ক্ষমতা নেই। ওর সব এখানে প্রথমে কোন মামলা করা যায় না। বাংলাদেশের সংবিধানে আপিল বিভাগের চার ধরনের এখতিয়ার আছে। নিম্নত আলোচনা করা হলো।

১) আপিল এখতিয়ার: শুধু মাত্র হাইকোর্ট বিভাগের রায় বিক্রি ও আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা যায়। 
অন্য কোন আদালতের রায় ডিগ্রী আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির ক্ষমতা সংবিধান আপিল বিভাগকে দেয়নি। দুইভাবে আপিল বিভাগে আপিল করা যায়। 
ক) অধিকার বলে, খ) আপিল বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে।

ক) অধিকার বলে: অধিকার বলে তিনটি ক্ষেত্রে আপিল বিভাগে আপিল করা যাবে।
১) হাইকোর্ট বিভাগ যদি কোন ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে,
২) হাইকোর্টের অবমাননার জন্য হাইকোর্ট যদি কাউকে দন্ড প্রদান করে, 
৩) হাইকোর্টে যদি সংবিধান ব্যাখ্যার বিষয়ে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত মর্মে সার্টিফিকেট প্রদান করে।

খ) আপিল বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে: উপরের তিনটি বিষয় ব্যতীত অন্য যেকোনো দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে আপিল করা যাবে।


২) পারোনা জারির এখতিয়ার: 

সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারাধীন কোন বিষয় সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের স্বার্থে আপিল বিভাগ যে কোন আদেশ বা নির্দেশ জারি করতে পারে। এটি আদালতের ইচ্ছা দিন ক্ষমতা। এটি আপিল বিভাগ সব প্রণোদিত হয়ে করতে পারে আবার কারো আবেদনের প্রেক্ষিতেও করতে পারে।

৩) পুনর্বিবেচনার অধিকার: সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দুটি শর্তে আপিল বিভাগ তার নিজের ভূষিত রায় বা আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে। 
শর্ত১: সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোন আইনের বিধান সাপেক্ষে,
শর্ত দুই: আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রণীত কোন বিধান সাপেক্ষে

৪) উপদেষ্টা মূলক এখতিয়ার: সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যদি কখনো কোন জন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেয়ার প্রয়োজন মনে করেন তাহলে তিনি প্রশ্নটি আপিল বিভাগে বিবেচনার জন্য পাঠাতে পারেন। এক্ষেত্রে আপিল বিভাগ মতামত প্রদানের বাধ্য নয়। আপিল বিভাগ মতামত দিতেও পারে আবার মতামত দিতে অস্বীকৃতি করতে পারে। যে তদ্রুপ আপিল বিভাগ মতামত প্রদান করলে রাষ্ট্রপতি ও মানতে বাধ্য নন। তিনি মানতেও পারেন আবার মানতে নাও পারেন।



৬.৩।  হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ কিভাবে করা যায়? / সুপ্রিম কোর্টের ( হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ) বিচারকদের নিয়োগ পদ্ধতি।



ইমনে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ বিচারকদের নিয়োগ পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো:

সংবিধানের ৯৫ দুই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ বিচারক পদে নিয়োগ লাভের জন্য কোন ব্যক্তিকে - 
১) বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে,
৩) সুপ্রিম কোর্টে কমপক্ষে ১০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে থাকতে হবে, অথবা
৩) কোন বিচার বিভাগীয় কাজে কমপক্ষে ১০ বছর অধিষ্ট থাকতে হবে। 
৪) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে নিয়োগ লাভের জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতা থাকতে হবে। 

বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৫-২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ নিয়োগ করবেন।


৬.৪ ।   বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কি বুঝ?


সরকারের প্রধান বিভাগ তিনটি ‌‌। শাসন বিভাগ আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। এই বিভাগগুলি একটি আরেকটি নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য এই বিভাগগুলি একে অন্যের থেকে প্রভাব মুক্ত থাকা উচিত। 

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: 
সরকারের শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের প্রভাব মুক্ত থেকে বিচারকার্য পরিচালনাকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলে। তিন ধরনের স্বাধীনতা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হিসেবে গণ্য হয়। 

১) ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: বিচারকদের বিচারিক কাজ, তাদের সুযোগ-সুবিধা সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না এটি হলো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। 

২)  সমষ্টিগত স্বাধীনতা: বিচার বিভাগের সকল ব্যবস্থাপনা যেমন: কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও অপসারণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ি সরকারের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত থাকাকে সমষ্টিগত স্বাধীনতা বলে।

৩) নৈতিক স্বাধীনতা: যেকোনো ধরনের প্রলোভন, বিশেষ সম্পর্ক স্থাপন ইত্যাদি দ্বারা বিচারক কর্মকর্তাদের প্রভাবিত না করে তাদেরকে সুবিবেচনার উপর বিচার কার্য পরিচালনা করতে দেওয়াকে নৈতিক স্বাধীনতা বলে।

 

৬.৫।   বাংলাদেশের বিচার বিভাগ কি স্বাধীন? /  বিচার সংক্রান্ত কার্যসম্পাদনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা কতটা স্বাধীন? / আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গুরুত্ব আলোচনা কর। 

১৯৭২ সালের সংবিধান হলো বাংলাদেশের মূল সংবিধান। উক্ত সংবিধানে বিধান রাখা হয় প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়োগ করবেন।
কিন্তু 1975 সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে প্রধান বিচারপতির পরামর্শের বিধানটি বাদ দেয়া হয়। 

পৃথিবীর সকল দেশের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পরামর্শ গ্রহণ করা হয়। কারণ রাষ্ট্রপতি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সম্পর্কে খুব বেশি অবহিত থাকেন না। ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীতে পুনরায় প্রধান বিচারপতির পরামর্শের বিধানটি যুক্ত করা হয়।

চতুর্দশ সংশোধনী অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরে যাওয়ার বয়স ৬৭ বছর নির্ধারণ করা হয়। বিচারপতি থাকা অবস্থায় তাকে দুইভাবে অপসারণ করা যাবে। এক শারীরিক বা মানসিক দায়িত্ব পালনে অসমাপ্ত হলে। দুই গুরুতর অসাধার আচরণের জন্য দায়ী হলে।  

পূর্বে আইন ও শাসন বিভাগ বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতো। যার ফলে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারত না। মাজদার হোসেন মামলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। 




৬.৬।   মাসদার হোসেন বনাম বাংলাদেশ মামলা ১৯৯৯ এর সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন কর। 
বিভিন্ন দেওয়ানী আদালতের ৪৪১ জন বিচারক ১৯৯৫ সালে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। পিটিশন নং ২৪২৪ /৯৫। এটি মাসদার হোসেন মামলা নামে পরিচিত। আবেদনকারী বিচারকদের যুক্তি ছিল- 
১। জুডিশিয়াল সার্ভিসকে ১৯৮০ সালের সিভিল সার্ভিস আদেশের অধীনে অন্তর্ভুক্তিকরণ সংবিধান বহির্ভূত।
২। অধীনস্থ আদালতের বিচারকগণ বিচারক থাকা অবস্থায় কোন ট্রাইব্যুনালের অধীন হতে পারেন না। 
৩। সংবিধান দ্বারাই অধীনস্থ আদালতকে পৃথক করা হয়েছে। শুধু ১১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারবিভাগ পৃথকীকরণ কার্যকর করা অত্যাবশক। 

হাইকোর্ট বিভাগ ১৯ ৯৭ সালের রায় প্রদান করে। সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ১৯৯৯ সালে প্রধান বিচারপতি মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে ১২টি নির্দেশনা দিয়ে রায় প্রদান করা হয়। সংক্ষিপ্ত আকারে উক্ত রায় নিম্নে উল্লেখ করা হলো: 

১) বিচার বিভাগীয় চাকুরীকে নির্বাহী ও প্রশাসনিক চাকরির সাথে মিলিয়ে ফেলা বা বিলুপ করা বা প্রতিস্থাপন করা যাবে না।

২) রাষ্ট্রপতি বিচারক ও বিচার বিভাগীয় কাজে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য স্বতন্ত্র জুডিশিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করবেন।

৩) অন্যান্য নির্বাহী ও প্রশাসনিক ক্যাডারের পাশাপাশি বিসিএস (বিচার) ক্যাডার সৃষ্টি করা সংবিধান বিরোধী।
৪) বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস নামে স্বতন্ত্র সার্ভিস করতে হবে।
৫) বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকুরীর বিভিন্ন শর্তাবলী সম্পর্কে সরকারকে আইন করতে হবে।
৬) বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক পে কমিশন গঠনের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়া হলো। 
৭) বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা বিচারিক কাজে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেটের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত নির্বাহী বিভাগের উপর স্থান পাবে। 

৮) সংসদ ও নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
৯) সুপ্রিম কোর্টের বাজেটে  বরাদ্দকৃত অর্থ খরচের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের অনুমোদন লাগবে না।
১০) জুডিশিয়াল সার্ভিস এর সদস্যরা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের আওতাভুক্ত থাকবেন।
১১) নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করার জন্য সংবিধানে কোন সংশোধনের প্রয়োজন নেই।
১২) অন্যদের বেতন বৃদ্ধি পেলে বিচারকদের বেতন ও বৃদ্ধি পাবে।


৬.৭।  রীট বলতে কি বুঝ? 


রীট শব্দের মূল অর্থ হল রাজাজ্ঞা বা রাজার আদেশ। বৃটেনে এর উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে। বৃটেনের রাজা বা রানী যে দলিল দ্বারা কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করার জন্য অথবা কোন কাজ না করার জন্য আদেশ দিতেন তাই ছিল রীট। 


রীট কাকে বলে:   define writ :
বাংলাদেশের সংবিধানে ১০২ অনুচ্ছেদে রীট ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগ এই এখতিয়ার প্রয়োগ করে। 
রীট হল আদালত বা যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্বারা ঘোষিত আদেশ। রীট নাগরিকের ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষা কবচ। অর্থাৎ নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হলে তা বলবধ করার জন্য উচ্চ আদালত যে নির্দেশ প্রদান করে তাই হল রীট।



৬.৮ ।    রীট পিটিশানের পূর্ব শর্তগুলি কি কি? / কেন বলার হয়ে থাকে যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদকে বিভিন্ন প্রকার রীটের নাম উল্লেখ না হলেও প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিজের প্রকৃত উপাদান বিশেষভাবে ধারণকৃত, বাক্যসমূহের বর্ণিত হয়েছে।  / বিভিন্ন প্রকার রীটের বর্ণনা দাও। / সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদে রীটের শর্তাবলী পাওয়া যায়, তবে এটি ১০২ অনুচ্ছেদে আলোচনা করা হয়, ব্যাখ্যা কর।


রীট পাঁচ প্রকার। যথআ-

১) হ্যাবিয়াস কার্পাস বা বন্দী প্রদর্শন রীট
২) ম্যান্ডামাস বা পরমাদেশ বা হুকুম জারির রিট
৩) প্রহিবিশন বা নিষেধাজ্ঞা মূলক রিট
৪) সার্শিয়োরারি বা উৎপ্রেষণমূলক রিট
৫) কয়োওয়ারেন্টো বা কারণ দর্শাও রিট


বাংলাদেশ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বিভিন্ন ধরনের রীটের উল্লেখ না করলেও সবগুলো রীটের উপাদানই পরোক্ষভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। নিম্নে সেগুলি উল্লেখ করা হলো: 

বিভিন্ন প্রকার রীট পিটিশানের শর্ত বা বিভিন্ন প্রকার রীটের বৈশিষ্ট্য:


১) হ্যাবিয়াস কার্পাস বা বন্দী প্রদর্শন রীট:
হ্যাবিয়াস কার্পাস শব্দটি ল্যাটিন শব্দ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ স্বশরীরে হাজির করা। (To have the body before the court)।
হাইকোর্ট অন্যায় ভাবে আটক বা কারারুদ্ধ ব্যক্তিকে বিচারের জন্য আদালতে হাজির করতে আটককারীকে যে আদেশ দেন তাকেই হ্যাভিয়াস কার্পাস বা বন্দী প্রদর্শন রীট বলে।

এই নির জারি করে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জানতে চান কেন আটকৃত ব্যক্তিকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে? উক্ত কর্তৃপক্ষ যদি যথাযথ কারণ দশতে না পারে তাহলে হাইকোর্ট আপেক্ষকৃত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক মুক্তির জন্য আদেশ দেন। আর যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দিতে পারে তাহলে হাইকোর্ট আটক ব্যক্তির দ্রুত বিচারের জন্য আদেশ দেন। 



২) ম্যান্ডামাস বা পরমাদেশ বা হুকুম জারির রিট: 
ম্যান্ডামাস একটি ল্যাটিন শব্দ। এর অর্থ আমরা হুকুম করেছি। কোন অধনস্থ আদালত, ট্রাইবুনাল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি তার আইনগত দায়িত্ব পালনে ও স্বীকৃতির জানায় বা ব্যর্থ হয় তাহলে উচ্চ আদালত যে আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আদালত ট্রাইমুনাল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উক্ত আইনগত দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করে তাকে ম্যান্ডামাস বা পরমাদেশ বা হুকুমজারির রীট বলে।

৩) প্রহিবিশন বা নিষেধাজ্ঞা মূলক রিট:
উচ্চ আদালত অধঃস্থ আদালত সমূহকে কোন এখতিয়ার বহির্ভূত কাজ করা থেকে বিরত থাকার জন্য যে রিট জারি করেন তাকে প্রহিবিশন বা নিষেধাজ্ঞা মূলক রূপ বলে। 

৪) সার্শিয়োরারি বা উৎপ্রেষণমূলক রিট:

সার্শিয়োরারি একটি লেগুন শব্দ এর অর্থ বিশেষভাবে জ্ঞাত হওয়া। উচ্চ আদালত অধঃস্থ আদালতকে মামলার নথি সুবিবেচনার আদেশ দিলে অর্থাৎ সুবিচারের জন্য পুনর্বিবেচনার আদেশ দিলে তাকে সার্শিয়োরারি বা উৎপেষণামূলক রিট বলে। 

৫) কয়োওয়ারেন্টো বা কারণ দর্শাও রিট: 

কয়োওয়ারেন্টো অর্থ কোন অধিকারের। (By what authority) । কোন ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে সংবিধান বা আইন দ্বারা সৃষ্ট কোন সরকারি পদ দখল করে তাহলে উচ্চ আদালত যে আদেশের মাধ্যমে সেই ব্যক্তিকে উচ্চ পথ দখলের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন তাকে কয়োওয়ারেন্টো বা কারণ দর্শানোর রীট বলে। এই রিটের মাধ্যমে উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবির আইনগত দিক অনুসন্ধান করে। দাবি বা দখল যদি অবৈধ প্রমাণিত হয় তাহলে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পদচ্যুত করার ব্যবস্থা করেন।



৬.৯।  কে রীটের জন্য আবেদন করতে পারে?

উচ্চ আদালত নিজের ইচ্ছায় রীট জারি করতে পারেন না। কোন একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই উচ্চ আদালতে রীট জারির জন্য আবেদন করতে হয়।

আবার ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯১ ধারায় উচ্চ আদালতকে হেভিয়াস কার্পাস রীট জারির ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এটি উচ্চ আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ এর বিভিন্ন অংশে কে রিট আবেদন করতে পারে তা উল্লেখিত হয়েছে। যেমন:
১) কোন ব্যক্তির মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তা বলবৎ করার জন্য সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত অধিকার বলে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে। এবং বাদীর অভিযোগ প্রমাণিত হলে উচ্চ আদালত যথোপযুক্ত প্রতিকারের জন্য রীট জারি করতে পারবে।

২) ম্যান্ডামাস , প্রহিবিশন ও সার্শিয়োরারি রীটের জন্য কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি মামলা করতে পারবে।

৩) হ্যাবিয়াস কার্পাস ও কয়োওয়ারেন্টো রিটের জন্য যে কেউ মামলা করতে পারে।
 
৬.১০।  কাদের বিরুদ্ধে রীট আবেদন করা যায় না? /  রীটের সীমাবদ্ধতা কি?

১) মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য উচ্চ আদালতে যেকোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে রীট জারি করতে পারে। তবে নিম্নলিখিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রীট জারি করা যাবে না।

১) বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগসমূহ।

২) সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত কোনো প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল।
৩) সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ যেসব ক্ষেত্র প্রযোজ্য হয় সেসব ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার বলবদ করার জন্য উচ্চ আদালত রীট জারি করতে পারবে না।

৪) সংক্ষুব্ধ না হলে ম্যান্ডামাস , প্রহিবিশন ও কয়োওয়ারেন্টো রিটের জন্য মামলা করতে পারবে না। 

৫) উন্নয়ন কর্মসূচি, উন্নয়নমূলক কাজ ও জনস্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর হলে রীট জারির আদেশ করা যায় না।

উপসংহার: রীট জনগণের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। আইনগতভাবে কোন প্রতিকার পাওয়া না গেলে রিটের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়া যায়। অন্যভাবে বলা যায় আইনসঙ্গত ভাবে যদি কেউ কোন অধিকার হারায় তাহলে তার প্রতিকার হিসেবে রীট কাজ করে।

পঞ্চমঃ রাষ্ট্রপতি

৫.১ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদা ও যোগ্যতা আলোচনা কর।

৫.২ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।
৫.৩ প্রধানমন্ত্রী সাথে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক সম্পর্ক কি? / প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ব্যতিরেকে রাষ্ট্রপতি কি কি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন? এবং প্রধানমন্ত্রী কি কি বিষয় রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন?
৫.৪) কিভাবে রাষ্ট্রপতি কে অপসারণ ও অভিসংসন করা যায়?
৫.৫) রাষ্ট্রপতি সুশাসন নিশ্চিত করতে কিভাবে তার ক্ষমতা ব্যবহার করেন? 
৫.৬) রাষ্ট্রপতি কিভাবে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন?
৫.৭) কখন জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকে না?
৫.৭ কখন একটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়?



৫.১ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদা ও যোগ্যতা আলোচনা কর।


বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সর্বোচ্চ সম্মানিত ও মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি। তিনি দেশের অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন। জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদা বা রাষ্ট্রপতির যোগ্যতা:

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন যিনি সংসদ সদস্য কর্তৃক প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। অনুযায়ী তার মেয়াদকাল হবে পাঁচ বছর। তবে মেয়াদ শেষ হলেও তার উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।  (আর্টিকেল ৪৮ এর ৪) অনুযায়ী কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না যদি-

১) বয়স ৩৫ বছরের কম হয়
২) সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা না থাকে
৩) কখনো অভিশংসন দ্বারা অপসারণ হয়ে থাকলে
৪) দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকলে

উল্লেখ্য কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হয়ে থাকলে তাকে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করতে হলে সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে।


৫.২ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।

বাংলাদেশে একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী হবেন। তিনি নির্বাহী বিভাগের প্রধান। তবে নির্বাহী বিভাগ রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হলেও প্রস্তাবের সকল ক্ষমতার প্রয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা।
নিম্নে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করা হলো:
১) প্রশাসনিক বা নির্বাহী বিভাগ সংক্রান্ত:
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি। দেশের সকল নির্বাহী ক্ষমতার রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হবে। প্রশাসন বা নির্বাহী বিভাগে তার কার্যাবলী উল্লেখ করা হলো: 
ক) সংসদ সদস্যদের মধ্যে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দান। 
খ) প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দান এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগ।

রাষ্ট্রপতি মূলত উপরের দুইটি নিয়োগ স্বাধীনভাবে করতে পারেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী তিনি অন্যান্য যে কাজ করেন তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

গ) অন্যান্য মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ
ঘ) অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ
ঙ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ
চ) মহা হিসাব রক্ষক নিয়োগ
ছ) সরকারি কর্মকমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য নিয়োগ
জ) রাষ্ট্রপতি প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের সর্বাধিনায়ক হবেন


২ । আইন সংক্রান্ত: 
রাষ্ট্রপতির আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা ও কার্যাবলী নিম্নে উল্লেখ করা হলো: 

ক) প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান স্থগিত এবং সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারবেন। 
খ) সংসদে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দান করতে পারবেন এবং বাণী প্রেরণ করতে পারবেন। প্রত্যেক ইংরেজি বছরের সূচনায় তিনি ভাষণ দান করবেন।
গ) সংসদে গৃহীত প্রতিটি বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিবেন। তার সম্মতি ব্যতীত কোন বিল আইনে পরিণত হবে না।
ঘ) সংসদ অধিবেশন না থাকলে বা সংসদ ভেঙ্গে গেলে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন মনে করলে অধ্যাদেশ জারি করতে পারবেন।  


৩) অর্থ সংক্রান্ত: 
রাষ্ট্রপতির অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা বা কার্যাবলী নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
ক) কোন অর্থ বিল রাষ্ট্রপতি সুপারিশ না করলে সংসদে উত্থাপন করা যাবে না। 
খ) রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ব্যতীত মঞ্জুরী দাবি করা যাবে না।
গ) কোন কর্ম বিভাগের অনুমোদিত ব্যয় অপযপ্ত হলে বা কোন কর্ম বিভাগের ব্যয় মঞ্জুরীকৃত অর্থের চেয়ে বেশি হলে রাষ্ট্রপতি সংযুক্ত তহবিল থেকে ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন। তবে তাকে সম্পূর্ণ ও অতিরিক্ত বাজেট সংসদে পেশ করতে হবে।

৪) বিচার সংক্রান্ত:
রাষ্ট্রপতি কোন আদালত, ট্রাইবুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যেকোনো দ্বন্দ্বের মার্জনা, বিলম্বন এবং যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করতে পারবেন।

৫) অবহিত থাকা: রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের যে কোন বিষয় সম্পর্কে অবৈধ থাকার অধিকার রাষ্ট্রপতি রয়েছে।

৬) জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত: দেশের সংকটকালে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
৭) দায় মুক্তি: রাষ্ট্রপতির কার্য ভারকালে তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের করা যাবে না। গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালতে পরোয়ানা জারি করা যাবে না। 
৮) অন্যান্য: উপরের কার্যাবলী ছাড়াও রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধান বিচারপতির শপথ বাক্য পাঠ করান।


৫.৩ প্রধানমন্ত্রী সাথে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক সম্পর্ক কি? / প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ব্যতিরেকে রাষ্ট্রপতি কি কি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন? এবং প্রধানমন্ত্রী কি কি বিষয় রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন?


বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি  দুটি কাজে স্বাধীনভাবে করতে পারেন। 
আর তা হলো প্রধান মন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতির নিয়োগ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ অনুযায়ী তিনি অন্যান্য কাজ করে থাকেন। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:

ক) অন্যান্য মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ
খ) অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ
গ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ
ঘ) মহা হিসাব রক্ষক নিয়োগ
ঙ) সরকারি কর্মকমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য নিয়োগ
চ) প্রধানমন্ত্রী লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত এবং সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।

সংসদের সাথে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক সম্পর্ক: 

ক) রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত এবং সংসদ ভেঙে দিতে পারবেন।( আর্টিকেল ৭২)
খ) সংসদে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দান করতে পারবেন এবং বাণী প্রেরণ করতে পারবেন। প্রত্যেক ইংরেজি বছরের সূচনায় তিনি ভাষণ দান করবেন।

গ) সংসদে গৃহীত প্রতিটি মিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিবেন। তার সম্মতি ব্যতীত কোন বিল আইনে পরিণত হবে না। ( আর্টিকেল ৮০)


৫.৪) কিভাবে রাষ্ট্রপতি কে অপসারণ ও অভিসংসন করা যায়?

রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই দুই নিয়মে তাকে অপসারণ করা যায়।
১) অবিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ , এবং ২) অসমর্থ্য বা অপারগতার কারণে অপসারণ

১) অবিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ:
বাংলাদেশের সংবিধান লংঘন বা গুরুতর কোন অপরাধ করলে পার্লামেন্ট রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করলে তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ বলে। সে ক্ষেত্রে যে নিয়ম অনুসরণ করতে হবে তা হলো:
ক) রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উত্থাপিত হতে হবে।
খ) অভিযোগটি লিখিত এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত হতে হবে।
গ) স্পিকার নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে ১৪ দিন পর কিন্তু ৩০ দিনের পূর্বে সংসদে তা আলোচিত হতে হবে। ১৪ দিনের পূর্বে যেমন আলোচনা করা যাবে না তদ্রূপ 30 দিন পর আলোচনা অব্যাহত রাখা যাবে না ‌।
ঘ) নোটিশ পাওয়ার সময় সংসদ অধিবেশন চালু না থাকলে স্পিকার অবিলম্বে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন।
ঙ) অভিযোগ আলোচনাকালে রাষ্ট্রপতি বা তার প্রতিনিধি সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
চ) অভিযোগটি আলোচনার পর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে তিন চতুর্থাংশ সদস্য অভিযোগটি যথাযথ বলে ভোট প্রদান করলে প্রস্তাব গৃহীত হবে। এবং প্রস্তাব গৃহীত হবার দিন থেকেই রাষ্ট্রপতির পথ শূন্য হবে।


২) অসামর্থ্য বা অপারগতার কারণে অপসারণ:

ক) রাষ্ট্রপতি শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ বা অপারগতার কারণে রাষ্ট্র পরিচালনার অযোগ্য হয়ে পড়েছেন এই মর্মে অভিযোগ উত্থাপিত হতে হবে। 
খ) অভিযুক্ত লিখিত এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত হতে হবে। অতঃপর দা প্রস্তাব আকারে স্পিকার নোটিশ করতে হবে।
গ) নুদিসটিক পাওয়ার সময় সংসদ অধিবেশন চালু না থাকলে স্পিকার অবিলম্বে সংসদ অধিবেশন চালু করবেন এবং চিকিৎসা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আহ্বান করবেন। 

ঘ) স্পিকার নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে ১৪ দিন পর কিন্তু ৩০ দিন ৩০ দিনের পূর্বে সংসদে তা আলোচিত হতে হবে। ১৪ দিনের পূর্বে যেমন আলোচনা করা যাবে না তেমনি ৩০ দিন পর আলোচনা অব্যাহত রাখা যাবে না।
ঙ) প্রস্তাব উত্থাপন ও গৃহীত হবার পর তাৎক্ষণিক উক্ত নোটিশের প্রতিলিপি স্পিকার রাষ্ট্রপতির নিকট পাঠাবেন এবং রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করবেন 10 দিনের মধ্যে চিকিৎসা পরিষদের নিকট পরিক্ষিত হওয়ার জন্য।

চ) অভিযোগ আলোচনাকালে রাষ্ট্রপতি বা তার প্রতিনিধি সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন
ছ) রাষ্ট্রপতি নিজেই সময়ের মধ্যে হাজির না হলে চিকিৎসা পরিষদের রিপোর্ট বা মতামত ছাড়াই প্রস্তাব ভোট দেয়া যাবে। এবং সংসদ সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশ বোর্ডে প্রস্তাবটি গৃহীত হলে সেদিনই থেকে রাষ্ট্রপতির পথ শূন্য হবে। 
জ) রাষ্ট্রপতি উল্লেখিত সময়ের মধ্যে চিকিৎসার জন্য পরিশোধ নিকট উপস্থিত হলে চিকিৎসা পরিষদ ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট বা মতামত পেশ করবেন। অতঃপর সেটি ভোট দেয়া যাবে এবং সংসদ সদস্যদের দুই অংশ ভোটের প্রস্তাবটি গৃহীত হলে সেদিন থেকেই রাষ্ট্রপতির পথ শূন্য হবে। 


৫.৫) রাষ্ট্রপতি সুশাসন নিশ্চিত করতে কিভাবে তার ক্ষমতা ব্যবহার করেন? 

সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করে তার ক্ষমতা ব্যবহার করে থাকেন। আবার প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ছাড়াও তার ক্ষমতা ব্যবহার করে থাকেন।

১) প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করে ক্ষমতা ব্যবহার: প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য সকল কাজ রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।

২) প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ছাড়া ক্ষমতা ব্যবহার: বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের তিন দফা অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং বিচারপতি নিয়োগ এই দুইটি কাজ রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ছাড়া করতে পারেন।


৫.৬) রাষ্ট্রপতি কিভাবে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন?

 বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিম্নোক্তভাবে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
১) সংসদের প্রয়োজন না থাকলে,
২) সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হলে,
৩) দেশের মাধ্যমে সংবিধানের কোন পরিবর্তন করা যাবে না।
৪) পূর্বে জারিকৃত অধ্যাদেশের পরবর্তী অধ্যাদেশের মাধ্যমে বলবৎ করা যাবে না।
৫) অন্ত দেশ জারির পর তা যদি বাতিল করা না হয় তাহলে পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত সংসদে প্রথম বৈঠকে উপস্থাপিত হবে।
৬) ৩০ দিনের মধ্যে উক্ত অধ্যাদেশ পাস হতে হবে।
৭) ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে উক্ত অধ্যাদেশের কার্যকারিতা থাকবে না।
৮) যে অধ্যাদেশ গুলোর সরকার আইনে পরিণত করতে চাই সেগুলোর প্রত্যেকটির ব্যাপারে বিলের নোটিশ প্রদান করতে হবে। উক্ত নোটিসের ভিত্তিতে আইন ও সংসদ বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করবেন। 
৯) ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর উত্থাপিত বিল সাধারণ বিলের ন্যয় আলোচনা হতে পারে আবার আলোচনা ছাড়াও আইনে পরিণত হতে পারে।
১০) রাষ্ট্রপতি সংযুক্ত তহবিল থেকে ব্যয় নির্বাহের আদেশ জারি করতে পারবেন।
১১) রাষ্ট্রপতির জারিগৃত অধ্যাদেশ সংসদের আইনের ন্যায় সমান ক্ষমতা সম্পন্ন হবে।


৫.৭) কখন জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকে না?

কখন জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকবে না সেই সম্পর্কে বাংলাদেশ সংবিধানের 141 অনুচ্ছেদের ২ দফায় বিধানে উল্লেখিত হয়েছে।
নিয়ে উক্ত বিধান উল্লেখ করা হলো:

১) ঘোষণা দ্বারা জরুরি অবস্থা রহিত করা: একবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর পরবর্তীতে কোন ঘোষণা দ্বারা এই অবস্থা প্রত্যাহার করা যায়। অর্থাৎ পরবর্তী ঘোষণা দ্বারা প্রত্যাহার করলে জরুরি অবস্থা আর কার্যকর থাকে না। 

২) সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত না হলে: জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর তা অনুমোদনের জন্য সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। সংসদে উপস্থাপনের ১২০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না হলে উক্ত ঘোষণা কার্যকর থাকে না।

৩) সংসদ ভেঙ্গে গেলে: জোরীর অবস্থা ঘোষণার ১২০ দিনের মধ্যে যদি সংসদ ভেঙ্গে যায় তাহলে নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার পর প্রথম বৈঠকের ৩০ দিনের মধ্যে অথবা ১২০ দিনের অবসান যেটি আগে আসে তার মধ্যে অনুমোদন না হলে জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকে না।

৪) সংসদ না থাকলে: জোরজব অবস্থায় ঘোষণার সময় যদি দেশে সংসদ না থাকে তাহলে নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার প্রথম বৈঠকের ৩০ দিনের মধ্যে অথবা ১২০ দিনের অবসান যেটি আগে আসে তার মধ্যে অনুমোদন না হলে জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকে না।

উপসংহার: কোন ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করবে এটি তার অধিকার। আবার কোন অন্যায় না করলে কেউ আটক করবে না এটি ও তার অধিকার। কিন্তু দেশে বিশেষ অবস্থায় বিরাজ করলে জনগণের অনেক অধিকার বজায় থাকে না। অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থের জনগণের অনেক অধিকার হরণ করা হয়। মূলত জনগণের কল্যাণের জন্য এটি করা হয়।



৫.৭ কখন একটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়?

চতুর্থঃ প্রধানমন্ত্রী

৪.১।   বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ পদ্ধতি কি ?

৪.২   বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর। 

৪.৩।   প্রধানমন্ত্রী কিভাবে ক্যাবিনেট গঠন পরিচালনা ও তার পতনের মূল ব্যক্তি?

৪.৪।   জাতীয় সংসদ সদস্য নন এমন কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের মন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কি? ব্যাখ্যা দাও। 

৪.৫। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার কাকে বলে?/ সংসদীয় সরকার।

৪.৬ সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনের পর প্রধানমন্ত্রী এখন কি কি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন?



১.৭১।   বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এর কারণে মন্ত্রীদের যৌথ দায়িত্ব শীলতা নিশ্চিত করা কি সম্ভব?


৪.১।   বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ পদ্ধতি কি ?

যে সকল দেশের মন্ত্রী পরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু আছে সেই সকল দেশের প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার মূল ব্যক্তি। বাংলাদেশের মন্ত্রী পরিষদ শাসিত ব্যবস্থা প্রচলিত। সুতরাং সরকারের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু হল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই ক্ষমতা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৫ থেকে ৫৮ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলী উল্লেখিত হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ পদ্ধতি: 
নিম্নে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো: 
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন মন্ত্রী পরিষদ ও সংসদের মূল ব্যক্তি। যে তিনি রাষ্ট্রপতির চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতা ভোগ করেন। সংবিধানের ৫৬ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান অথবা অধিকাংশ আস্থাভাজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। 
অর্থাৎ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে সেই দলের প্রধান কে বা অধিকাংশ সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।

৪.২   বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর। 

১) সংসদ নেতা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন জাতীয় সংসদের নেতা। জাতীয় সংসদে তিনি যে বিবৃতি প্রদান করবেন তা সরকারের নীতি হিসেবে গণ্য হয়। মন্ত্রিপরিষদের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে তিনি তার নিষ্পত্তি করে থাকেন। 

২) নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষমতা: প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সকল নিয়োগের প্রধানমন্ত্রীর মতামত মূলত প্রতিফলিত হয়। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির নিয়োগ ছাড়া  রাষ্ট্রপতি অন্যান্য যত নিয়োগ দেন তা প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ অনুযায়ী দিয়ে থাকেন। এটি রাষ্টপতির সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।

৩) পদচ্যুত সংক্রান্ত ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সকল পদচ্যুতিতেও প্রধানমন্ত্রীর মতামতি মূলত প্রতিফলিত হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি যে সকল পদচ্যুতি ঘটান তা প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ অনুযায়ী ঘুরিয়ে থাকেন। এটি রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। 

৪) মুরগির পরিষদের দপ্তর বন্টন:
প্রধানমন্ত্রী মূলত অন্যান্য মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বন্টন করে থাকেন। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

৫) রাষ্ট্রপতির পরামর্শদাতা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে থাকেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যে কোন কাজে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী বাস্তবায়ন করে থাকেন। 

৬) মন্ত্রীদের কাজের ব্যাখ্যা: প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রী ওভারপ্রতি মন্ত্রীদের কার্যাবলী রাষ্ট্রপতি নিকট ব্যাখ্যা করেন।

৭) চরমাধিকার প্রয়োগ: রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের চরম অধিকার মূলত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রয়োগ করে থাকেন ‌‌। কারণ সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতি কাউকে ক্ষমা করতে পারেন না।

৮) মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ: কোন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন.
৯) বৈদেশিক নীতি নির্ধারণ: বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে বৈদেশিক নীতি কি হবে তা প্রধানমন্ত্রী ঠিক করে থাকেন।
১০) সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় সেই দল সরকার গঠন করে। অর্থাৎ সংঘরিষ্ঠ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

১১) কেবিনেট নেতা: প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সরকার প্রধান সেহেতু তিনি কেবিনেটেরও নেতা হিসেবে গণ্য হন।


৪.৩।   প্রধানমন্ত্রী কিভাবে ক্যাবিনেট গঠন পরিচালনা ও তার পতনের মূল ব্যক্তি?

সংবিধানের ৫৩ এর তিন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান অথবা অধিকাংশের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। 

৫৬ এর দুই অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও অন্যান্য মন্ত্রী উপমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।

কেবিনেট পরিচালনা: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন জাতীয় সংসদের নেতা। জাতীয় সংসদে তিনি যে বিবৃতি প্রদান করবেন তা সরকারের নীতি হিসেবে গণ্য হয়। যে মন্ত্রী পরিষদের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে তিনি তার নিষ্পত্তি করে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী সাথে মতবিরোধ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। মন্ত্রীগণ তাদের কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট দায়ী থাকেন।

কেবিনেট পতন:
সংবিধানের ৫৭ এর দুই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন হারালে পদত্যাগ করবেন।

সংবিধানের ৫৮ ৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন অথবা স্বীয় পদে বহাল না থাকলে সকল মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হয়। অর্থাৎ মন্ত্রী পরিষদ বাতিল হয়ে যাবে। ‌

সুতরাং বলা যায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কেবিনেট গঠন পরিচালনা ও তার পতনের মূল ব্যক্তি।। 

৪.৪।   জাতীয় সংসদ সদস্য নন এমন কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের মন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কি? ব্যাখ্যা দাও। 

সংসদ সদস্য না হয়েও মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়া যায় বা মন্ত্রী হওয়া যায়। ্য এদেরকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বলা হয়। এছাড়া উপমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের কে প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে মন্ত্রী বানাতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যের সর্বোচ্চ ১০ ভাগের এক ভাগ হতে পারবে। (বাংলাদেশ সংবিধান অনুচ্ছেদ ৫৬ এর ১)


অর্থাৎ সংসদ সদস্য না হয়েও বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হওয়া যায়। এখানে দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো-সংসদ সদস্য না হয়েও প্রধানমন্ত্রী হতে; হওয়া যায় কিনা?

এ বিষয়ে সংবিধানের ৫৬ এর তিন অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বিধানে উল্লেখ রয়েছে। যে সংসদ সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতিমান হইবেন। রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। ( বাংলাদেশ সংবিধান অনুচ্ছেদ ৫৬ -৩)।
এই অনুচ্ছেদের সারমর্ম হল- যে সংসদ সদস্য অধিকাংশ সংসদ সদস্যদের নিকট আস্থাভাজন, রাষ্ট্রপতি তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করবেন। 
তাহলে সংসদ সদস্য না হয়েও প্রধানমন্ত্রী হওয়া যেত। কিন্তু এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যকেই অধিবেশনে সদস্য হওয়ার আস্থাভাজন হতে হবে। এবং তাকে রাষ্ট্র পতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। 
বলা যায় জাতীয় সংসদের সদস্য নয় এমন কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের মন্ত্রী হতে পারবেন কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।



৪.৫) মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার কাকে বলে?/ সংসদীয় সরকার।

যে শাসনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় মন্ত্রী পরিষদ কর্তৃক শাসন কার্য পরিচালিত হয় এবং মন্ত্রী পরিষদ তার কাজের জন্য আইনসভার নিকট ব্যক্তিগতভাবে এবং যৌথভাবে দায়ী থাকে তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার বলে ‌‌একে সংসদীয় সরকার ও বলা হয়।  

মন্ত্রী পরিষদ শাসন ব্যবস্থা মন্ত্রী পরিষদ হল প্রকৃত শাসক। এর শীর্ষে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রী পরিষদ শাসন ব্যবস্থায় নামমাত্র একজন রাষ্ট্রপতি থাকেন। তার হাতে উল্লেখযোগ্য কোন ক্ষমতা থাকে না ‌‌। প্রকৃত ক্ষমতা থাকে মন্ত্রিসভার নিকট।  আর প্রথম মন্ত্রিসভার প্রধান সেহেতু তিনি সকল ক্ষমতার ভোগ করেন। তিনি একই সাথে সংশোধন নেতা এবং সরকারের ও প্রধান। যেমন -বাংলাদেশ, ভারত ,কানাডা।


৪.৬ সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনের পর প্রধানমন্ত্রী এখন কি কি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন?

১৯৯১ সালের ২রা জুলাই দ্বাদশ সংশোধনী বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। ওই বছর ৬ আগস্ট বিলটি সংসদে গৃহীত ও পাস হয়। দেশে পুনরায় সংসদীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমানো হয়। এই সংশোধনী মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির মূলত স্বাধীনভাবে দুটি কাজ করার সুযোগ থাকে। আর তা হল-

১) অধিকাংশ সংসদ সদস্যের আস্থাভাজন ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং
২) প্রধান বিচারপতি নিয়োগ

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন না। দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মূলত সকল নির্বাহী ক্ষমতাপ্রধান ও মন্ত্রীসভার উপর ন্যাস্ত হয়। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের সীমাহীন ক্ষমতার মালিক হয়ে যান। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা যে অপজিদ্ধ করে তোলা হয়েছে। নিম নেতা উল্লেখ করা হলো: 

১) টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ: দ্বাদশ সংশোধনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ করতে পারতেন। তবে তা মোট মন্ত্রীর এক তৃতীয়াংশের বেশি হবে না। কিন্তু দ্বাদশ সংশোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ৯.১০ মাংস সংসদ সদস্যদের মধ্যে থেকে মন্ত্রী নিয়োগ করতে পারবেন এবং অনধিক একদশমাংশ সদস্য হওয়ার যোগ্য এমন ব্যক্তি মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করতে পারবেন।

দলের বিপক্ষে ভোট দিলে সদস্য বোধ বাতিল:
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি সংসদের নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তা সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে।

ভোট দানের ক্ষেত্রে নীরব থাকলে সদস্য পদ বাতিল:

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন সংসদ সদস্য সংসদে তার দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া তো দূরের কথা নিজের দলের কোন প্রস্তাব পছন্দ না হলেও তার পক্ষে ভোট দিতে হবে। অর্থাৎ কোন সংসদ সদস্য তার দলের ভোট না দিয়ে নীরব থাকলেও তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। 

উপরোক্ত বিধানের মাধ্যমে মূলত প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করা হয়েছে । কারণ প্রধানমন্ত্রী একদিকে সংসদের নেতা আবার তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্য নেতা। তিনি সংসদে কোন প্রস্তাব আনয়ন করলে বা তার পক্ষে কোন প্রস্তাব আনা হলে তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্য তার স্বপক্ষে ভোট দিতে বাধ্য অর্থাৎ উক্ত প্রস্তাব অনুমোদন হবেই।


উপসংহার: সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অসীম ক্ষমতার অধিকারী। রাষ্ট্রপতি ও তার সকল কাজ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে করেন। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা কিছুটা হ্রাস করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পুনরায় সেই ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়।