Friday, April 7, 2023

১ঃ শ্রম ও শিল্প আইনের পটভূমি, উদ্দেশ্য , শিশু ও কিশোর তরুণ, মহিলা

১.১।  শ্রম ও শিল্প আইন বলতে কি বুঝ?

১.২।  শ্রম আইনের পটভূমি লিখ। 

১.৩।  উক্ত আইনে শ্রমিকদের যে সকল অধিকার সমূহ বর্ণিত হয়েছে তা বর্ণনা দাও। / বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ প্রণয়নের উদ্দেশ্য সমূহ কি?

১.৪।  রপ্তানি মুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে এই আইনের প্রয়োজনীয়তা সংক্ষেপে আলোচনা কর।
১.৫ ।  শ্রম আইন অনুযায়ী চাকুরী শর্তাবলী।

১.৬।  স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিকদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।

১.৭। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে শিশু ও কিশোর তরুণ কারা?
 

১.৮।  শিশু ও কিশোর নিয়োগ সংক্রান্ত আইনের বিধান বলি বর্ণনা কর। / বাংলাদেশ শ্রম আইনে ২০০৬ অনুযায়ী শিশু ও কিশোর নিয়োগের কি কি বাধা নিষেধ আছে?

১.৯।  বয়স্ক মহিলা ও শিশু শ্রমিকের কাজের সময় সম্পর্কিত বিধান বলে আলোচনা কর।

১.১০।  শিশু-কিশোর নিয়োগের বিধান গুলি লঙ্ঘনের জন্য কি শাস্তি ব্যবস্থা রয়েছে আলোচনা কর।

১.১১।  এই আইন অনুযায়ী কোন কোন ক্ষেত্রে একজন মহিলা শ্রমিকের কর্মে নিয়োগ নিষিদ্ধ। 

১.১২ । প্রসূতি কল্যাণ ছুটির বিধান কি?

১.১৩ একজন শ্রমিক কিভাবে তার আইনগত অধিকার আদায় করতে পারে?

১.১৪ অভিযোগ বা অনুযোগ পদ্ধতি কাকে বলে? 

১.১৫  শ্রমিক কাকে বলে: 

১.১৬ শ্রমিক নিয়োগের শর্ত




 ১.১।  শ্রম ও শিল্প আইন বলতে কি বুঝ?

বাংলাদেশের শ্রম আইন অনেক পূর্বে প্রণীত হয়েছে। যার ফলে এই আইনকে যুগোপযোগী বলা যেত না। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য ২০০৬ সালে বাংলাদেশে শ্রম আইনকে আধুনিকায়ন করে পাস করা হয়েছে। এটি হলো বাংলাদেশের শ্রম আইন ২০০৬।


শ্রম আইন কাকে বলে: 
শ্রম আইনের সুনির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা সময় নিয়ে দেয়া হয়নি। তবে বিভিন্ন অধ্যায় পর্যালোচনা করে বলা যায়, উৎপাদন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিয়োগ, নিয়োগের শর্ত, কাজের পরিবেশ,। মজুরি বা বেতন ভাতা, ক্ষতিপূরণ, শ্রমিকদের ও মালিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় অর্থাৎ শিল্প-শান্তির রক্ষার জন্য রাষ্ট্রের যেসব বিধি বা আইন রয়েছে তাকে সময় আইন বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, সাধারণত: কলকারখানা এবং অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রিত করার জন্য এবং শ্রমিক ও মালিকদের সম্পর্ক উন্নয়ন সাধনের জন্য যে আইন বিধিবদ্ধ ও প্রবর্তিত হয়েছে, পাখি শ্রম ও শিল্প আইন বলে অভিহিত করা হয়।


১.২ শ্রম আইনের পটভূমি/ শ্রম আইনের ঐতিহাসিক উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ লিখ।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ প্রণয়ন করার পূর্বে বাংলাদেশের ৫০ টি অধিক সমও আইন বিদ্যমান ছিল। এর মধ্যে ব্রিটিশ আমলে ১৫ টি পাকিস্তান আমলের ২৩ টি এবং পরবর্তী বাংলাদেশ আমলের ১২টি শ্রম আইন প্রণয়ন করা হয়। এগুলো অনেক আগের রচিত হওয়ায় বর্তমান সময়ের সাথে তা সামঞ্জস্যশীল নয়।
অর্থাৎ তাকে সময়োপযোগী বা যুগোপযোগী বলা যেত না। এজন্য সেই আইনের সংশোধন ও সংযোজন বিয়োজন জরুরি হয়ে পড়ে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শ্রম আইনকে আধুনিকায়ন করার উদ্দেশ্যে ২০০৬ সালে সময় নতুন করে প্রণীত হয় ‌।

১.৩।  উক্ত আইনে শ্রমিকদের যে সকল অধিকার সমূহ বর্ণিত হয়েছে তা বর্ণনা দাও। / বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ প্রণয়নের উদ্দেশ্য সমূহ কি?
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হলেও এ দেশে অনেক শিল্প কারখানা রয়েছে। আর শিল্প কারখানায় থাকার কারণে অনেক শ্রমিক ও মালিক রয়েছে। আর অনেক শ্রমিক মালিক রয়েছে অর্থ সেখানে নানারকম সমস্যা রয়েছে। এগুলো সমাধানের জন্য সরকার শ্রম আইন ২০০৬ প্রণয়ন করেছে। 

নিম্নে এর উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হলো:
১) যুগোপযোগী করা: সময়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এই আইনকে যুগোপযোগী হিসেবে তৈরি করা।

২) সংশোধন করা: শ্রম আইন অনেক পূর্বের আইন । একে সংশোধন করা এই আইনের একটি উদ্দেশ্য
৩) শ্রমিকদের সুসম্পর্ক তৈরি: সময়ের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো শ্রমিকদের মধ্যে পারস্পরিক সু সম্পর্ক তৈরি করা।
৪) শ্রমিক মালিকদের সু-সম্পর্ক তৈরি: সময়ের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো শ্রমিক এবং মালিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করা।
৫) মালিকদের মধ্যে সু-সম্পর্ক তৈরি করা: সময়ের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো মালিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি করা।
৬) ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা: সময়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য হলো শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা ‌। 
৭) সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ: একসময় শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা ছিল না। শ্রম আইন শ্রমিকদের সর্বোজনের নির্ধারণ করার জন্য এই আইন তৈরি করা হয়
৮) স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: শ্রমিকদের থেকে ভালো সার্ভিস পেতে হলে তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরী। শ্রম আইন শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়। ঃঃ
৯) সুস্থ কাজের পরিবেশ নিশ্চিতকরণ: স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শ্রমিকদের সুস্থ কাজের পরিবেশ তৈরি করা জরুরী। 
১০) ট্রেড ইউনিয়ন গঠন:
সময়ের মাধ্যমে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
১১) শিশু ও কিশোরদের বিশেষ সুবিধা: শিশু-কিশোররা যে কোন কাজ করতে পারে না যার ফলে এই আইনের মাধ্যমে তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
১২) মৃত্যু জনিত সুবিধা: শ্রম আইনের মাধ্যমে শ্রমিকদের মৃত্যুজনিত সুবিধার বিধান হয়েছে।

১৩) মাতৃকালীন সুবিধা: গর্ভবতী মহিলারা যে কোন কাজ করতে পারে না ‌‌। তাদের মাতৃকালীন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য এই আইন তৈরি করা হয়েছে।
১৪) চাকুরীর অবসরজনিত সুবিধা :
শ্রমিকদের চাকুরীর অবসরজনিত সুবিধা প্রদান করাও এই আইনের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।
১৫) ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা: শ্রমিকদের কর্মরত অবস্থায় কোন ক্ষতি হলে তার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা এই আইনের একটি উদ্দেশ্য ‌
১৬,:। শাস্তির বিধান: কোন শ্রমিক আইন লঙ্ঘন করলে তার শাস্তির বিধান সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করা উচিত এর উদ্দেশ্য ‌

১.৪।  রপ্তানি মুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে এই আইনের প্রয়োজনীয়তা সংক্ষেপে আলোচনা কর।

শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, পরিবেশ, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শ্রম আইনের গুরুত্ব অনেক। শ্রম আইনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হলো:

১) শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিধান: বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের নানারকম ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় ‌‌। যেমন - খনিতে কাজ করা, চলন্ত যন্ত্রপাতির সামনে কাজ করা, পর্যাপ্ত আলো বাতাস এবং অক্সিজেন না থাকা, সহনীয় আলোর ব্যবস্থার না থাকা ইত্যাদি ‌‌‌। অনেক ক্ষেত্রে মালিকগণ এগুলোর প্রতি দৃষ্টি দেন না। সময়ের মাধ্যমে মালিকদের এগুলোর প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে বাধ্য করা হয়। 

২) ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক সংঘ গঠনে সহায়তা: মালিকগণ যদি শ্রমিকদের প্রতি কোন অন্যায় করেন তাহলে ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক সংঘ তার বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ করে। যার ফলে শ্রমিকরা প্রতিকার পায়। সময় আইনে ট্রেড ইউনিয়ন করার বিধান থাকায় শ্রমিকগণ তাদের অধিকার আদায়ের সক্ষম হচ্ছে। 

৩) দর কষাকষির সুবিধা: শ্রমিকদের মজুরি ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা জন্য তারা মালিকের সাথে সরাসরি দরকষাকষি করতে পারে না। শ্রম আইনের চিবিয়ে গঠনের বিধান থাকায় তাদের মধ্যে শ্রমিকগণ দর কষাকষির সুযোগ পাচ্ছে।

৪) বিরোধ নিষ্পত্তি: ছবি ভৌম মালিকদের মধ্যে নানা রকম বিরোধ দেখা দিতে পারে। আবার শ্রমিক ও শ্রমিকদের মধ্যেও বিরোধ দেখা দিতে পারে। যে তদ্রুপ মালিক ও মালিকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিতে পারে। আর ইউরোপ বিরোধ দেখা দিলে শিল্প অন্যগুলি রপ্তানি কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হওয়াসহ নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হয়। এ সকল বিরোধী নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আইন বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৫) আইনি সহায়তা: পূর্বের শ্রমিকগণ কোন সমস্যায় পড়লে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করতে পারত না। তাদেরকে সেই মালিকের নিকট যেতে হতো। কিন্তু সময় ের প্রবর্তন হওয়ায় শ্রমিকগণ তাদের সমস্যার জন্য আইনের মাধ্যমে প্রতিকার পায়। 

৬) যুগোপযোগী: শ্রম আইন ২০০৬ দ্বারা শ্রম ও আইনকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। যার ফলে সময়ের চাহিদা পূরণে এটি যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে ‌‌

৭) অন্যান্য সুবিধা: শ্রমিকদের চিকিৎসা চাকরির আবাসন সুবিধা, মৃত্যুজনিত সুবিধা ,প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা শিশু ও কিশোর বিশেষ সুবিধা, দুর্ঘটনা জনিত ও সুবিধাসহ নানারকম সুবিধা-সম আইনের মাধ্যমে সম্ভব করা হয়েছে। 

১.৫ ।  শ্রম আইন অনুযায়ী চাকুরী শর্তাবলী: 

১) কোন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে শ্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। 
২) ৪৯ নিজস্ব চাকরির বিডি থাকতে পারে তবে তা শ্রম আইনের কোন বিধানের চেয়ে কম সুবিধা হবে না।
৩) কোন প্রতিষ্ঠান চাকরিবিধি তৈরি করলে তা প্রধান পরিদর্শকের নিকট পেশ করতে হবে। প্রধান পরিদর্শক ছয় মাসের মধ্যে যথাযথ আদেশ দিবেন।
৪) প্রধান পরিদর্শকের আদেশ সন্তুষ্ট না হলে সরকার এর নিকট উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। এক্ষেত্রে সরকারের আদেশ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
৫) এই বিধান সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে না।


১.৬।  স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিকদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।

১। সংজ্ঞাগত পার্থক্য: যে শ্রমিককে কোন প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী পদে নিয়োগ করা হয়েছে এবং তিনি তার শিক্ষানবিশকল সন্তোষজনকভাবে শেষ করেছেন তাকে স্থায়ী শ্রমিক বলে।

পক্ষান্তরে যে সকল শ্রমিকদের অস্থায়ী ধরনের কাজে নিযুক্ত করা হয় এবং যাদের কাজ সীমিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাকে অস্থায়ী শ্রমিক বলে।

২) প্রতিশব্দ গত: স্থায়ী শ্রমিক এর ইংরেজি প্রতিশব্দ পার্মানেন্ট ওয়ার্কার permanent worker. পক্ষান্তরে অস্থায়ী শ্রমিকের ইংরেজি প্রতিশব্দ Temporary worker।

৩) শিক্ষানবিশ কালগত : স্থায়ী শ্রমিকদের শিক্ষানবিশ কাল থাকে। পক্ষান্তরে অস্থায়ী শ্রমিকদের শিক্ষানবিশ কাল থাকে না।
৪) স্থায়িত্বগত: স্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হয়। পক্ষান্তরে অস্থায়ী শ্রমিকদের সীমিত আকারের জন্য নিয়োগ করা হয়। 
৫) মালিক কর্তৃক চাকুরীর অবসানগত : 
স্থায়ী শ্রমিক যদি মাসিক বেতনভুক্ত হয় তাহলে তার চাকুরীর অবসানের জন্য কমপক্ষে ১২০ দিনের নোটিশ প্রদান করতে হয় অথবা উক্ত সময়ের মজুরি প্রদান করতে হয়। স্থায়ী শ্রমিক মাসিক বেতনভুক্ত নাহলে কমপক্ষে ৬০ দিনে নোটিশ প্রদান করতে হয় অথবা উক্ত সময়ের মজুরি প্রদান করতে হয়। পক্ষান্তরে অস্বাশ শ্রমিক যদি মাসিক বেতনভুক্ত হয় তাহলে তার চাকরির অবসরের জন্য কমপক্ষে ৩০ দিনে নোটিশ প্রদান করতে হয় অথবা উক্ত সময়ের মজুরি প্রদান করতে হয়। অস্থায়ী শ্রমিক মাসিক বেতনভুক্ত না হলে কমপক্ষে 14 দিনের নোটিশ প্রদান করতে হয় অথবা উক্ত সময়ের মজুরি প্রদান করতে হয়।

৬) নিজ কর্তৃক চাকরির অবসান গত:
স্থায়ী শ্রমিক নিজের চাকরির অবসান ঘটাতে চাইলে মালিক কে কমপক্ষে ৬০ দিনে নোটিশ প্রদান করতে হয়। পক্ষান্তরে অস্থায়ী শ্রমিক যদি মাসিক বেতনভুক্ত হয় তাহলে নিজের চাকরির অবসরের জন্য মালিকপক্ষকে ৩০ দিনের নোটিশ প্রদান করতে হয়। অস্থায়ী শ্রমিক মাসিক বেতনভুক্ত নাহলে কমপক্ষে 14 দিনের নোটিশ প্রদান করতে হয়।

৭) অতিরিক্ত সুবিধাগত: স্থায়ী শ্রমিকের চাকুরীর অবসান ঘটানে প্রতি এক বছর জন্য ৩০ দিনের অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করতে হয়। পক্ষান্তরে অস্থায়ী শ্রমিকের চাকরির অবসান ঘটালে অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করতে হয় না।


১.৭। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে শিশু ও কিশোর তরুণ কারা?

বাংলা ইসলাম ও আইন অনুযায়ী 14 বছরের কম যেকোনো ব্যক্তিকে শিশু ১৪ বছর থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত যেকোনো ব্যক্তিকে কিশোর বা তরুণ, ১৮ বছরের বেশি হলে তাকে পূর্ণবয়স্ক হিসেবে গণ্য করা হয় ‌‌।

শিশু: 
বাংলাদেশ তম আইন ২ এর ৬৩ ধারা অনুযায়ী যার বয়স ১৪ বছর পূর্ণ হয়নি তাকেই শিশু বলে। অর্থাৎ যার বয়স ১৪ বছরের কম থাকে শিশু বলে।

কিশোর/তরুন:
বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২-০৮ ধারা অনুযায়ী যার বয়স ১৪ বছর পূর্ণ হয়েছে কিন্তু ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তাকে কিশোর বলে। অর্থাৎ যার বয়স ১৪ বছরের বেশি কিন্তু ১৮ বছরের কম তাকে কিছু বলে।
 

১.৮।  শিশু ও কিশোর নিয়োগ সংক্রান্ত আইনের বিধান বলি বর্ণনা কর। / বাংলাদেশ শ্রম আইনে ২০০৬ অনুযায়ী শিশু ও কিশোর নিয়োগের কি কি বাধা নিষেধ আছে?

এমনি শিশু-কিশোর বা তরুণ শ্রমিকদের নিয়োগ ও কাজের সম্পর্কিত বিধান বলি উল্লেখ করা হলো:

১) শিশু-কিশোর কোন পেশা বা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
২) সক্ষমতা প্রত্যয়ন পত্র না থাকলে কোন কিশোরকেও কোন পেশা বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
৩) তবে কিশোরকে এই শিক্ষাধীন বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য কোন পেশা বা প্রতিষ্ঠার নিয়োগ দেয়া যাবে।
৪) জরুরি অবস্থায় বিরাজ করলে সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে কিশোরকে কোন পেশা বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেয়া যাবে।
৫) কোন শিশুর পিতা বা মাতা বা অভিভাবক উত্তর শিশুকে কাজে নিয়োগের জন্য কারো সাথে চুক্তি করতে পারবে না।
৬) কোন ব্যক্তি শিশু নাকি কিশোর এই সম্পর্কে বিরোধ দেখা দিলে তার জন্ম নিবন্ধন সনদ বা স্কুল সার্টিফিকেট বা রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক পদার্থ প্রত্যয়ন পত্রের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি হতে হবে।
৭) যদি পূর্ণ কাজে কিশোরকে নিয়োগ করা যাবে না।
৮) কোন প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি চালু অবস্থায় কোন কিশোরকে সেখানে কাজের অনুমতি দেয়া যাবে না।
৯) প্রশিক্ষণ না থাকলে কিশোরকে বিপদজনক যন্ত্রপাতির কাজে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
১০) কোন কিশোরকে কারখানা বা খনিতে দৈনিক পাঁচ ঘন্টার বেশি এবং সপ্তাহে 30 ঘণ্টার বেশি কাজ করতে দেয়া যাবে না।
১১) কোন কিশোরকে অন্য প্রতিষ্ঠানে দৈনিক সাত ঘন্টা বেশি এবং সপ্তাহে ৪২ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে দেয়া যাবে না।
১২) কোন কিশোরকে সন্ধ্যা সাতটা থেকে সকাল সাতটার মধ্যবর্তী সময় কোন কাজ করতে দেয়া যাবে না।
১৩) কিশোর বেশি সময় কাজ করলে তা কারখানা বা পনিতে সপ্তাহে 36 ঘণ্টা এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে দেয়া যাবে না।
১৪) একই দিনে কোন কিশোর একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাজ করতে পারবে না।
১৫) মিশরকে ভূগর্ভে বা পানির নিচে কোন কাজে নিয়োগ দেয়া যাবে না।
১৬) কিশোরদের এই বিধান যতদূর সম্ভব শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

১.৯।  বয়স্ক মহিলা ও শিশু শ্রমিকের কাজের সময় সম্পর্কিত বিধান বলে আলোচনা কর।

নিম্নে বয়স্ক মহিলা ও শিশু কিশোর শ্রমিকদের নিয়োগ ও কাজের সময় সম্পর্কিত বিধান আলোচনা করা হলো:

বয়স্ক শ্রমিকদের কাজের সময় সম্পর্কিত বিধান:
১) প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকদের দিয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ আট ঘন্টা কাজ করানো যাবে। এর বেশি কাজে লাগানো যাবে না। 
২) সময়ের ১০৮ ধারার বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাতা প্রদান সাপেক্ষে 10 ঘণ্টা পর্যন্ত কাজে লাগানো যাবে।
৩) প্রাপ্তবয়স্য শ্রমিকদের দিয়ে প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করানো যাবে। এর বেশি কাজে লাগানো যাবে না।
৪) সময়ের ১০৮ ধারার বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত ভাতা প্রদান সাপেক্ষে প্রতি সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজে লাগানো যাবে। তবে কোন সপ্তাহে তার ষাট ঘণ্টার বেশি হতে পারবেনা। বার্ষিক হিসাবে সাপ্তাহিক গড় ৫৬ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না। আর যে সকল শ্রমিক সড়ক পরিবহন কাজে নিয়োজিত তাদের অতিরিক্ত কর্ম ঘন্টা বছরে ১৫০ ঘণ্টার বেশি হবে না।
৫) প্রতিদিন কোন শ্রমিককে পাঁচ ঘন্টার বেশি কাজে লাগানো হলে আধাঘন্টা বিরোধী দিতে হবে।
৬) প্রতিদিন কোন শ্রমিককে ছয় ঘন্টার বেশি কাজে লাগানো হলে একঘন্টা বিরতি দিতে হবে।
৭) প্রতিদিন কোন শ্রমিককে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজে লাগানো হলে একঘন্টা বিরোধী অথবা আধা ঘন্টার ২টি বিরতি দিতে হবে।

৮) নির্মাণ কাজ, জাহাজ ভাঙ্গা, নিউজ বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কর্ম ঘন্টা ও বিশ্রাম কারখানা বিধি দ্বারা নির্ধারিত হতে হবে।

৯) শ্রমিকদের অতিরিক্ত কাজের ভাতার পরিমাণ হবে তার মূল মজুরি ও মহার্ঘ ভাতা এবং অন্তর্ভুক্তি মজুরি হারের দ্বিগুন।


১.১০।  শিশু-কিশোর নিয়োগের বিধান গুলি লঙ্ঘনের জন্য কি শাস্তি ব্যবস্থা রয়েছে আলোচনা কর।

১) ২৮৪ ধারা অনুযায়ী শিশু-কিশোর নিয়োগ করলে বা নিয়োগের অনুমতি প্রদান করলে 5000 টাকা জরিমানা।
২) ৩৫ ধারা অনুযায়ী চুক্তি করলে ১ হাজার টাকা জরিমান।
৩) ৪৫ ধারা থেকে ৫০ ধারা লঙ্ঘন করলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।
৪) চতুর্থ অধ্যায় অনুযায়ী নগদ অর্থ বা কোন জিনিসের বিনিময়ে কাজ করলে এক হাজার টাকা জরিমানা।
৫) ৩০৭ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি এই আইন বা বিধি লঙ্ঘন করলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।
৬) উপরোক্ত কোন অপরাধে সাজা পাওয়ার পর দ্বিতীয়বার অপরাধ করলে নির্ধারিত দন্ডের দ্বিগুণ দণ্ড হবে। তবে সেই অপরাধ প্রথমবার সংগঠনের দুই বছরের মধ্যে সংঘটিত না হলে দ্বিগুণ সাজা হবে না।


১.১১।  এই আইন অনুযায়ী কোন কোন ক্ষেত্রে একজন মহিলা শ্রমিকের কর্মে নিয়োগ নিষিদ্ধ। 


মহিলা শ্রমিকদের নিয়োগ ও কাজের সময় সম্পর্কিত বিধান বা কোন কোন ক্ষেত্রে মহিলা শ্রমিকের কর্মে নিয়োগ নিষিদ্ধ।

নিম্নে মহিলা শ্রমিকদের নিয়োগ ও কাজের সময় সম্পর্কিত বিধান উল্লেখ করা হলো:
১। কোন মালিক কোন মহিলাকে তার সন্তান প্রসবের পর আট সপ্তাহ অতিবাহিত না হলে কাজে লাগাতে পারবে না।
২। কোন মহিলা কোন মালিককে অবহিত করলে তার সন্তান প্রসবের দশ সপ্তাহ পূর্ব পর্যন্ত কোন কাজে লাগাতে পারবেনা। তবে চা বাগানের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সক্ষমতা পত্র থাকলে যতদিন সম্ভব হালকা ধরনের কাজ করতে পারবে।
৩। কোন মালিক কোন মহিলাকে দিয়ে এমন কাজ করাতে পারবে না যা দুষ্কর বা শ্রমসাধ্য বা দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বা তার সম্মানের জন্য হানিক র। 

৪। প্রত্যেক মহিলা তার সন্তান প্রসবের পূর্ববর্তী আট সপ্তাহ এবং পরবর্তী 8 সপ্তাহ মোট ১৬ সপ্তাহ প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাবেন। মালিক এই সুবিধা দিতে বাধ্য থাকবেন। উক্ত মহিলাকে ওই প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ছয় মাস কাজ করতে হবে।

৫। প্রস্তুতি কল্যাণ সুবিধা মহিলা শ্রমিকের গড়মজুরি হারে নগদ টাকায় পরিশোধ করতে হবে।
৬। প্রসিটি কল্যাণ সুবিধার সময় কোন মহিলাকে যথেষ্ট কারণ ছাড়া চাকরি থেকে বরখাস্ত বা ডিসচার্জ বা অপসারণ করলে উক্ত মহিলা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি কল্যাণ সুবিধা পাবেন।

৭। চলমান যন্ত্রে তেল দেওয়া, বেল্ট লাগানো ইত্যাদি কাজে মহিলা শ্রমিক নিয়োগ করা যাবে না।
৮। ঘুনায়মান যন্ত্রপাতির মাঝে বা বিপদজনক যন্ত্রপাতির কাজে বা পানির নিচে মহিলা শ্রমিক নিয়োগ করা যাবে না।

৯। মহিলা শ্রমিকদের জন্য ভালোভাবে ঘেরা এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্বতন্ত্র পায়খানা প্রসাবখানার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
১০। কোন প্রতিষ্ঠানে ২৫ জনের বেশি মহিলা শ্রমিক থাকলে তাদের জন্য পৃথক বিশ্রামাগার থাকতে হবে। জনের কম মহিলা শ্রমিক থাকলে তাদের জন্য পৃথক পর্দা ঘেরা বিশ্রামাগার থাকতে হবে।
১১) কোন প্রতিষ্ঠানে 40 জনের বেশি মহিলা শ্রমিক থাকলে সেখানে পৃথক শিশু পক্ষ থাকতে হবে। শিশু কক্ষ পর্যাপ্ত আলো-বাতাস সম্পন্ন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, আসবাবপত্রসজ্জিত সম্পন্ন হতে হবে। এবং শিশুদের জন্য খেলা সামগ্রী থাকতে হবে।

১২। কোন মহিলা শ্রমিককে তার বিনা অনুমতিতে রাত দশটা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোন কাজ দেওয়া যাবে না।

১৩। মহিলা শ্রমিকদের সাথে অভদ্র বা অশ্লীল আচরণ করা যাবে না।



১.১২ প্রসূতি কল্যাণ ছুটির বিধান:

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৪৫ থেকে ৫০ ধারায় মহিলাদের প্রসূতি কল্যাণ বিধান উল্লেখ করা হয়েছে:

মহিলারা গর্ভধারণের ফলে যে সময়টি কাজ করতে সক্ষম নন সেই সময়টিতে যে সকল সুবিধা ভোগ করেন তাকে প্রকৃতি কল্যাণ সুবিধা বলে।

কোন মালিক গর্ভবতী কোন মহিলাকে তার সন্তান প্রসবের পূর্ববর্তী ছয় মাস এবং পরবর্তী আট সপ্তাহ চাকরি থেকে ডিসচার্জ বরখাস্ত অপসারণ করতে পারবেন না।

১) কোন মহিলা এই আইনের অধীনে প্রস্তুতি কল্যাণ সুবিধা পাবার অধিকারী হলে তিনি মালিককে মৌখিক বা লিখিত নোটিশ দিবেন যে, নোটিশের আট সপ্তাহের মধ্যে তার সন্তান প্রসবের সম্ভাবনা আছে। মহিলার যদি মৃত্যু হয় তাহলে কে সুবিধা গ্রহণ করবে উক্ত নোটিশের তার নাম উল্লেখ করতে হবে। 

২) কোন মহিলা উক্ত নোটিশ প্রধান না করলে সন্তান প্রসবের সাত দিনের মধ্যে নোটিশ করে মালিক কে জানাতে হবে।
৩) মালিক যদি সন্তান প্রসবের সম্ভাবনা নোটিশ পান তাহলে নোটিশ প্রাপ্তির পরের দিন থেকে তাকে পরবর্তী আট সপ্তাহ কাজে অনুপস্থিত থাকার অনুমতি দিবেন।
৪) মালিক যদি সন্তান প্রসব হয়ে যাওয়ার নোটিশ পান তাহলে সন্তান প্রসবের দিন থেকে পরবর্তী 8 সপ্তাহ কাজে অনুপস্থিত থাকার অনুমতি দিবেন।
৫) কোন মালিক সংশ্লিষ্ট মহিলার ইচ্ছা অনুযায়ী পন্থায় প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রদান করবেন।
৬) কোন রেজিস্টার চিকিৎসক সন্তান প্রসবের সম্ভাবনার প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবেন। হিরু প্রত্যয়ন পত্র বা সন্ধান প্রসবের প্রমাণ মালিক হাতে পেলে পরবর্তী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত মহিলাকে প্রস্তুতি কল্যাণ সুবিধা দিবেন।
৭) কোন মহিলা সন্তান প্রসবের তিন মাসের মধ্যে প্রমাণ পেশ না করলে তিনি প্রস্তুতি কল্যাণ সুবিধা পাবেন না। 
৮) সন্তান প্রসবের প্রমাণ হিসেবে জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন আইন 2004 এর অধীনে জন্ম রেজিস্টারের সত্যায়িত কপি রেজিস্টার চিকিৎসকের প্রত্যয়ন পত্র বা মালিকের নিকট গ্রহণযোগ্য কোন প্রমাণ হলেও চলবে।


১.১৩ একজন শ্রমিক কিভাবে তার আইনগত অধিকার আদায় করতে পারে?

নিম্নে শ্রমিকের আইনগত অধিকার উল্লেখ করা হলো:
১) শ্রমিকের নিয়োগপত্র ও পরিচয় পত্র প্রাপ্তি
২) শ্রমিকদের সার্ভিস বই সংরক্ষণ
৩) শ্রমিকদের বিভিন্ন প্রকার ছুটির ব্যবস্থা
৪) শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা
৫) শ্রমিকদের গ্রেচুইয়েটি সুবিধা 
৬) শ্রমিকদের মৃত্যুকালীন সুবিধা
৭) শিশু কিশোরদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
৮) মহিলা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
৯); শ্রমিকগণ অতিরিক্ত কাজ করলে তার জন্য অতিরিক্ত ভাতার ব্যবস্থা
১০) শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার সুবিধা
১১) শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন
১২) আইনসঙ্গত ভাবে ধর্মঘট আহবান করা
১৩) শ্রমিকদের জন্য ভবিষ্যৎ তহবিল ব্যবস্থা করা


১.১৪ অভিযোগ বা অনুযোগ পদ্ধতি

শ্রমিকের অভিযোগ মনোযোগ পদ্ধতির সম্পর্কে শ্রম আইনের ৩৩ দ্বারা বর্ণিত হয়েছে।
নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:
১) কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান হলে তার যদি কোন অভিযোগ থাকে এবং সে যদি প্রতিকার চায় তাহলে ৩০ দিনের মধ্যে মালিকের নিকট লিখিত রেজিস্ট্রি ডাকে অভিযোগ পেশ করতে হবে।

২) মালিক অভিযোগটি সরাসরি গ্রহণ করলে রেজিস্ট্রি করার প্রয়োজন নেই।

৩) মালিক অভিযোগ পাওয়ার 15 দিনের মধ্যে তদন্ত করে উক্ত শ্রমিককে শুনানির সুযোগ দিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
৪) মালিক কোন সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হলে অথবা মালিকের সিদ্ধান্তে সংক্ষিপ্ত হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগ পেশ করতে হবে।
৫) শ্রম আদালত অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে তাদের বক্তব্য শুনে ন্যায় সঙ্গত আদেশ দিবেন
৬) শ্রম আদালত উত্তর শ্রমিককে চাকুরীতে পুনর্বহাল বা গুরুদণ্ডকে লঘুদন্ডে রূপান্তর করতে পারেন।
৭) শ্রম আদালতের সিদ্ধান্তে কোনপক্ষ সংক্ষিপ্ত হলে উক্ত সিদ্ধান্তের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাইবুনালে আপিল করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
৮) শ্রম ও আদালত বা ট্রাইব্যুনালে কোন কোর্ট ফিস প্রদান করতে হবে না
৯) এই ধারার কোন অভিযোগ ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।


১.১৫  শ্রমিক কাকে বলে: 

সাধারণত বিভিন্ন শিল্প কারখানায় যারা কাজ করেন তাদেরকে শ্রমিক বলে। বাংলাদেশের শ্রম আইনে শ্রমিকের নিম্ন সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।
কোন প্রতিষ্ঠান বা শিল্পে দক্ষ অদক্ষ ব্যক্তিকে মজুরির বিনিময়ে বিভিন্ন কাজে নিয়োগ করলে সেই নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যক্তিকে শ্রমিক বলে। 
তবে যারা ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক কাজে নিয়োগ গ্রহণ তারা শ্রমিকের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। ( ধারা ২৬৫) 

অর্থাৎ যারা মজুরের বিনিময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন তাদেরকে শ্রমিক বলে।



১.১৬ শ্রমিক নিয়োগের শর্ত

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৩ ধারায় শ্রমিক নিয়োগের শর্ত উল্লেখিত হয়েছে.
১) শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগ করতে হবে: কোন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক নিয়োগ করতে হলে বাংলাদেশ শ্রম আইন 2006 এর বিধান মোতাবেক নিয়োগ করতে হবে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান যদি শ্রম আইন প্রযোজ্য না হয় তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের সুযোগ সুবিধা শ্রম আইন থেকে কম হতে পারবে না ।( ধারা- ৩(১))
২) অনুমোদন: কোন প্রতিষ্ঠান চাকরির বিধিমালা প্রণয়ন করলে তা প্রধান পরিদর্শকের নিকট পেশ করবেন। প্রধান পরিদর্শক উক্ত বিধিমালা প্রাপ্তির ছয় মাসের মধ্যে বিবেচনা করে যথাযথ আদেশ প্রদান করবেন। ( ধারা - ৩২)

৩) বিধি নিষেধ: প্রধান পরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত কোন চাকরি বিধি কার্যকর করা যাবে না। ( ধা রা - ৩(৩))

৪) আপিল: প্রধান পরিদর্শক এর আদেশে সংক্ষিপ্ত হলে কোন ব্যক্তি উক্ত আদেশের প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট আপিল করতে পারবেন।  ( ৩(৪))

৫) সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য নয়: গুরুত্ব চাকুরীর বিধান সরকারি মালিকানাধীন কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে না। ধারা - ৩(৫)

No comments:

Post a Comment