৩.১। কর্মচ্যুতি বলতে কি বুঝ?
৩.২। চাকরি হতে অবসান কাকে বলে?
৩.৩। কোন শ্রমিককে চাকরি হতে অপসারণ করার জন্য মালিকে কি কি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়? / একজন শ্রমিকের চাকরির অবসানের নিয়ম ব্যাখ্যা কর।/ বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ সর্বশেষ সংস্কৃত ২০১৮ অনুসারে মালিক কে কি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে? আলোচনা কর।
৩.৪ । কোন স্থায়ী শ্রমিক কি তার নিজের চাকুরীর অবসান ঘটাতে পারে? আলোচনা কর।
৩.৫। শ্রম আইন অনুসারে সাময়িক বরখাস্ত বলতে কি বুঝ? / একজন শ্রমিককে কতদিন পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্ত রাখা যায়? কোন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্ত করা যাবে কি?
৩.৬ । বরখাস্তের জন্য সাময়িক বরখাস্ত কি বাধ্যতামূল? / কোন আইনগত অবস্থার প্রেক্ষিতে সাময়িক বরখাস্তের অবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে?
৩,৭। যখন একজন শ্রমিক শ্রম আদালতে তার চাকরির অবসানের আদেশের বিরুদ্ধে নালিশ করতে পারে?
৩.৮ । মালিক কর্তৃক কি বিনা নোটিশে কোন স্থায়ী শ্রমিকের চাকরির অবসান ঘটাতে পারে?
৩.৯ যে সকল আচরণের জন্য বরখাস্ত করা যায়।
৩.১। কর্মচ্যুতি বলতে কি বুঝ?
ইংরেজি retrenchment শব্দের বাংলা অর্থ ছাঁটাই। বিভিন্ন কারণে অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের কাজ কমে যায়। আবার অনেক সময় শ্রমিক বেশি নিয়োগ দেওয়া হলে তাদের কাজ দেওয়া সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ অতিরিক্ত শ্রমিকদের ছাটাই করেন। শ্রমিকদের কোন অপরাধের কারণে মূলত: তাদেরকে ছাটাই করা হয় না বা কোন শাস্তি স্বরূপ তাদেরকে ছাড়াই করা হয় না।
কর্মচ্যুতি: একজন শ্রমিককে তার চাকুরি থেকে বিভিন্ন উপায়ে সরিয়ে দেয়া যায়। কর্মচ্যুতি তার মধ্যে একটি। বাংলাদেশ সময় আইন ২০০৬ এর ২/১৭ ধারা অনুযায়ী মালিক কর্তৃক কোন শ্রমিকের দৈহিক বা মানসিক অক্ষমতার কারণে বা অবিচ্ছন্ন খারাপ স্বাস্থ্যের কারণে চাকুরীর অবসান ঘটানোকে কর্মচ্যুতি বলে।
৩.২। চাকরি হতে অবসান কাকে বলে?
কোন শ্রমিক যখন কোন শিল্পকারখানা কাজ করেন তখন তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হন। মহিলা শ্রমিক গন অতিরিক্ত কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন। এই সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলে একজন শ্রমিক আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। আবার নিজেই চাকরি থেকে সরে যেতে পারেন। এগুলো শ্রমিকের অধিকার
চাকুরী অবসান:
কোন শ্রমিকের চাকুরী সমাপ্ত হওয়াকে চাকরি থেকে অবসান বলে।
চাকুরী থেকে অবসান বিভিন্নভাবে হতে পারে।
১) অবসর গ্রহণ:
কোন শ্রমিকের বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হলে বা চাকুরী বিধি অনুযায়ী চাকুরীর জীবন শেষ হলে তাকে অবসর গ্রহণ বলে।
২) বরখাস্ত: কোন শ্রমিকের অসদাচরণ বা অন্যায়ের জন্য মালিক যদি তার চাকুরীর অবসান ঘটান তাহলে তাকে বরখাস্ত বলে।
৩) ছাটাই: শাস্তি মূলক ব্যবস্থা বা অন্যায়ের জন্য নয় বরং কোন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক বেশি হয়ে গেলে বা প্রতিষ্ঠানের কাজ কমে গেলে কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান ঘটলে তাকেই ছাড়াই বলে।
৪) কর্মচ্যুতি: কোন শ্রমিকের দৈহিক বা মানসিক অক্ষমতার কারণে চাকুরীর অবসান ঘটানো হলে তাকে কর্মচ্যুতি বলে।
৫) অন্যান্যভাবে: গুরুত্ব কারণ ছাড়াও মালিক কোন শ্রমিককে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে চাকুরী থেকে অবসান ঘটাতে পারেন।
৩.৩। কোন শ্রমিককে চাকরি হতে অপসারণ করার জন্য মালিকে কি কি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়? / একজন শ্রমিকের চাকরির অবসানের নিয়ম ব্যাখ্যা কর।/ বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ সর্বশেষ সংস্কৃত ২০১৮ অনুসারে মালিক কে কি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে? আলোচনা কর।
কোন শ্রমিককে অপসারণ করতে হলে মালিক কে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয় তা সময়ের 26 দ্বারা উল্লেখ করা হয়েছে।
নিম্নে সেগুলি আলোচনা করা হলো:
১) স্থায়ী শ্রমিক যদি মাসিক মজুরি ভিত্তিক হয় তাহলে তাকে ১২০ দিনের লিখিত প্রদান করতে হবে। অথবা
২) উক্ত দিনের সমপরিমাণ মজুরি প্রদান করতে হবে।
৩) স্থায়ী শ্রমিকের মাসিক মজুরি ভিত্তিক না হলে ৬০ দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে। অথবা
৪) উক্ত দিনের সমপরিমাণ মজুরি প্রদান করতে হবে।
৫) স্থায়ী শ্রমিক যতদিন চাকুরীরত ছিলেন প্রত্যেক বছরের জন্য ৩০ দিন করে ক্ষতিপূরণ পাবেন।
৬) এছাড়া অন্য কোন সুবিধা থাকলে সেগুলো প্রাপ্য হবেন।
৭) অস্থায়ী শ্রমিক যদি মাসিক মজুরি ভিত্তিক হয় তাহলে তাকে ৩০ দিনে লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে।
৮) উক্ত দিনের সমপরিমাণ মজুরি প্রদান করতে হবে।
৯) অস্থায়ী শ্রমিক মাসিক মজুরি ভিত্তিক না হলে 14 দিনের লিখিত নোটিশ দিতে হবে।
১০) উক্ত দিনের সমপরিমাণ মজুরি প্রদান করতে হবে।
৩.৪ । কোন স্থায়ী শ্রমিক কি তার নিজের চাকুরীর অবসান ঘটাতে পারে? আলোচনা কর।
কোন শ্রমিক তার নিজের চাকরির অবসান ঘটাতে পারে কিনা সেই সম্পর্কে শ্রম আইনের ২৭ ধারায় বিধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:
১) কোন স্থায়ী শ্রমিক তার নিজের চাকরি অবসান ঘটাতে চাইলে মালিককে ৬০ দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে।
২) যদি শ্রমিক নির্দিষ্ট সময়ে মালিক কে লিখিত নোটিশ প্রদান না করে তাহলে উক্ত মেয়াদের মজুরি মালিকে ফেরত দিতে হবে।
৩) বিনা নোটিশের কোন শ্রমিক কর্মস্থল দশ দিন অনুপস্থিত থাকলে মালিক আরো দশ দিনের সময় দিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ দিবেন।
৪) এই সময়ের মধ্যে শ্রমিক কাজের যোগদান না করলে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য মালিক আরো সাত দিনের সময় দিবেন।
৫) এই সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে উক্ত শ্রমিক অনুপস্থিতির দিন থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবে।
৬) স্থায়ী শ্রমিক যদি 5 থেকে 10 বছর চাকরি করে তাহলে চাকরি থেকে ইস্তেফা দিলে 14 দিনের মজুরি পাবেন।
৭) স্থায়ী শ্রমিক ১০ বছরের অধিক সময় চাকরি করে তাহলে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে ৩০ দিনের মজুরি পাবেন।
৮) গ্র্যাচুটি থাকলে মজুরি এবং গ্রাজুইটি এর মধ্যে যেটি বেশি সেটি প্রাপ্য হবেন। উপরোক্তভাবে একজন শ্রমিক তার নিজের চাকরির অবসান ঘটাতে পারে।
৩.৫। শ্রম আইন অনুসারে সাময়িক বরখাস্ত বলতে কি বুঝ? / একজন শ্রমিককে কতদিন পর্যন্ত সাময়িক বরখাস্ত রাখা যায়?
কোন কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে অথবা অভিযোগের তদন্তের পূর্বে যে কোন কারণে কোন হলে কর্মচারী জেলে আটক হলে, গ্রেফতারের তারিখ হতে সাময়িক বরখাস্ত বলে বিবেচিত হবে এবং সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ের জন্য বিধি মোতাবেক প্রাপ্য বেতন-ভাতা প্রাপ্য হবেন। এ ক্ষেত্রে বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন।
২০০৬ সালের শ্রমিক নিয়োগ আইনের চব্বিশ দুই ধারা বলা হয়েছে যে অসদাচরণ এর দায় অভিযুক্ত শ্রমিককে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত সাপেক্ষে তাগে সাসপেন্ড বা সাময়িক বরাখস্ত করা যাবে। সাময়িক বরখাস্তের মেয়াদ ৬০ দিনের অধিক হবে না তবে সাময়িক বরখাস্ত কালে মালিক তাহাকে গড়মজুরি মোহর্গ ভাতা বা অন্তর্বর্তীকালীন মজুরি যদি থাকে তার অর্ধেক খোরাকি ভাতা প্রদান করতে হবে।
কোন শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্ত করা যাবে কি?
বাংলাদেশ তম আইন অনুযায়ী কোন শ্রমিক যদি অসদাচরণের সাথে অভিযোগে অভিযুক্ত হয় তাহলে বিষয়টি তদন্তের জন্য উক্ত শ্রমিককে সাময়িক দরখাস্ত করা যাবে।
শ্রম আইনের ২৪ এর দুই ধারা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত শ্রমিকের তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তের জন্য সাময়িক দরখাস্ত করা যাবে । এই সামরিক বরখাস্তের বিষয়টি যদি আদালতে বিচারের দিন না থাকে তাহলে তার মেয়াদ 60 দিনে বেশি হবে না। সাময়িক বরখাস্ত করলে উক্ত শ্রমিক মূলমজুরি মহার্ঘ ভাতা এড হক বা অন্তর্বর্তী মজুরি যদি থাকে তাহলে এগুলোর অর্ধেক পাবেন এবং অন্যান্য ভাতা পূর্ণ অংশ পাবেন।
৩.৬ । বরখাস্তের জন্য সাময়িক বরখাস্ত কি বাধ্যতামূল? / কোন আইনগত অবস্থার প্রেক্ষিতে সাময়িক বরখাস্তের অবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে?
কোন ছবিকে বরখাস্ত করনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত বাধ্যতামূলক কিনা সে বিষয়ে সময় নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
তবে শ্রম আইনের ২৪ ধারা পর্যালোচনা করে বলা যায়-
কোন শ্রমিক যদি অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত হন তাহলে মালিক উত্তর শ্রমিকের অসদাচরণের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারেন আবার সাময়িক বরখাস্ত না করে সরাসরি বরখাস্ত করতে পারেন।
সুতরাং বলা যায় কোন শ্রমিককে বরখাস্ত করনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা মালিকের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
৩,৭। যখন একজন শ্রমিক শ্রম আদালতে তার চাকরির অবসানের আদেশের বিরুদ্ধে নালিশ করতে পারে?
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৩৩ নয় ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই আইনের ২৬ ধারার অধীনে শ্রমিকের চাকরির অবসান হলে তার আদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যাবে না । কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা ইচ্ছাকৃতভাবে বা ট্রেড ইউনিয়নের কার্যকলাপের কারণে চাকুরীর অবসান ঘটানো হলে তার বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে নালিশ করা যাবে।
ক) কোন শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন করার কারণে অর্থাৎ ট্রেড ইউনিয়নে তার কার্যকলাপের কারণে তার চাকরির অবসান ঘটানো হলে।
খ) কোন শ্রমিককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ইচ্ছাকৃতভাবে তার চাকুরীর অবসান ঘটানো হবে।
গ) কোন শ্রমিক অস্ত্র আইনের ২৬ ধারার কোন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলে।
অভিযোগের কারণে উদ্ভব হলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ৩০ দিনের মধ্যে মালিকের নিকট অভিযোগ দিবে । মালিক নির্দিষ্ট সময়ের ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত না দিলে মালিকের সিদ্ধান্তে শ্রমিক সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে শ্রম ও আদালতে তিনি লিখিত অভিযোগ করতে পারবেন।
৩.৮ । মালিক কর্তৃক কি বিনা নোটিশে কোন স্থায়ী শ্রমিকের চাকরির অবসান ঘটাতে পারে?
শ্রম আইনের ২ ধারার ৩৯ উপধারায় বরখাস্ত সম্পর্কে বলা হয়েছে। বরখাস্ত অর্থ অসদাচরণের কারণে মালিক কর্তৃক কোন শ্রমিকের চাকরির অবসান। শ্রম আইনের ২৩ ধারায় বলা হয়েছে- কোন শ্রমিককে বিনা নোটিশে বা নোটিশের পরিবর্তে বিনা মজুরীতে চাকরি হতে মালিক বরখাস্ত করতে পারবে। যদি শ্রমিক কোন ফৌজদারি অপরাধের জন্য দন্ডপ্রাপ্ত হন এবং শ্রম আইনের ধারা ২৪ এর অধীন কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
৩.৯ যে সকল আচরণের জন্য বরখাস্ত করা যায়।
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২৩( ৪) ধারা অনুযায়ী নিম্নের কাজগুলি অসদ আচরণ বলে গণ্য হবে।
১) উপরস্থ ব্যক্তির আইনসম্মত আদেশ না মানা।
২) মালিকের ব্যবসা সম্পর্কে চুরি প্রতারণা বা অসাধুতা
৩) অন্য শ্রমিকের চাকুরীর ব্যাপারে ঘুষ গ্রহণ বা ঘুষ প্রদান করা
৪) বিনা ছুটিতে একত্রে দশ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকা
৫) নিয়মিত বিলম্বে উপস্থিত হওয়া
৬) প্রতিষ্ঠানের কোন আইন লঙ্ঘন করা
৭) চাকুরীর বিধি লঙ্ঘন করা
৮) কাজে গাফিলতি করা
৯) উশৃংখল আচরণ করা
১০) অফিসের রেকর্ড জাল করা, বদল করা, হারিয়ে ফেলা ইত্যাদি।
৩.৩। বেআইনি ধর্মঘটের প্রতিকার রয়েছে? আলোচনা কর।
৩.২৩।
চাকুরী হতে অপসারণ বরখাস্ত করন ও চাকরির অবসান ঘটানোর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।
পারলে
No comments:
Post a Comment