৫.১। অসৎ শ্রমনীতি কি?
৫.২ মালিক ও শ্রমিকের অসৎ কার্যাবলী পৃথকভাবে আলোচনা কর।
৫.৩। এই আইন ভঙ্গ করলে শ্রমিকদের কি শাস্তির বিধান আছে?
৫.৪। অসদাচরণ বলতে কি বুঝ?
৫.৫। অসাধারণের জন্য শাস্তির পদ্ধতি সমূহ আলোচনা কর।
৫.৬। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে কোন কোন কাজ ত্রুটি সমূহ এবং অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হইবে।
বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০০৬ অনুযায়ী অথবা আচরণের শ্রেণীবিভাগ লিখ।
৫.১। অসৎ শ্রমনীতি কি?
ইংরেজি unfair labour practices শব্দের বাংলা অর্থ অসৎ শ্রম নীতি। শ্রমিক পক্ষ বা মালিকপক্ষ যদি তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য যথাযথ পালন না করে তাহলে অসৎ শ্রমনীতির সৃষ্টি হয়।
অর্থাৎ বাংলাদেশ শ্রম আইন যে সকল নিয়ম নীতি রয়েছে তার বিপরীত কিছু করাকে অসৎ শ্রমনীতি হিসেবে গণ্য করা হয়।
অসৎ শ্রম নীতি:
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর অসৎ শ্রম নীতির কোন সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। তবে শ্রম নীতি অধ্যায় থেকে বুঝা যায় নিয়ম বহির্ভূত অস্বাভাবিক অযৌক্তিক ইত্যাদি নীতি হলো অসৎ সঙ্গ নীতি। আর কোন শ্রমিক বা মালিক একা বা সঙ্ঘবদ্ধভাবে বেআইনিভাবে এ সকল নীতি অবলম্বন করলে তাকে অসৎ শ্রম নীতি বলে।
অর্থাৎ মালিকবা শ্রমিক কর্তৃক বিধি বা আইন সমর্থিত নয় এমন নীতি হলো অসৎ শ্রম নীতি।
৫.২ মালিক ও শ্রমিকের অসৎ কার্যাবলী পৃথকভাবে আলোচনা কর।
মালিকপক্ষের অসৎ শ্রমনীতি:
বাংলাদেশ শ্রম আইন 2006 এর ১৯৫ ধারা অনুযায়ী নিম্নের বিষয়গুলি মালিকদের অসৎ শ্রমনীতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
১) অধিকার হরণ: মালিক কর্তৃক চাকুরীর চুক্তিতে কোন ট্রেড ইউনিয়ন করা বা না করার শর্ত দেয়া।
২): ভীতি প্রদর্শন বা চাকুরী অবসানের হুমকি:
কোন ব্যক্তিকে ট্রেড ইউনিয়ন উদ্বুদ্ধ করলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ডিসচার্জ অপসারণ করার হুমকি প্রদান করা।
৩) প্রলুদ্ধ করা: কোন শ্রমিক কি এই মর্মে প্রলুদ্ধ করা যে ট্রেড ইউনিয়ন না করলে অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে।
৪) চুক্তি করতে বাধ্য করা: কোন সিপিএ নেতাকে ভীতি প্রদর্শন হুমকি বল প্রয়োগ নির্যাতন বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে কোন চুক্তি করতে বাধ্য করা।
৫): নির্বাচন হস্তক্ষেপ: সিবিএ নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়ে বা হস্তক্ষেপ করা।
৬) বেআইনি লোকআউট: বেআইনিভাবে লোক আউট করা এবং কোন ব্যক্তিকে বেয়াইনি লকআউট চালু রাখা বা চালু করতে পরিচিত করা।
৭) নতুন শ্রমিক নিয়োগ: আইনসম্মতভাবে ধর্মঘট চলার সময় নতুন শ্রমিক নিয়োগ করা।
৮) পদোন্নতি না দেয়া: ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা কর্তা হওয়া য় কোন শ্রমিককে পদোন্নতি না দেয়া।
৯) চাকুরী বহাল রাখতে অস্বীকৃতি: ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা পদে বহাল চাকরি না দেয়ার এবং বহাল রাখতে অ স্বীকৃতি জানানো।
১০) সম্মতি ব্যতীত বদলি করা: বিধান ভেঙ্গে ট্রেড ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সাংগঠনিক সম্পাদক কোষাধ্যক্ষ বদ্ধি করা ইত্যাদি।
শ্রমিক পক্ষের অসৎ শ্রমনীতি:
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৯৬ ধারা অনুযায়ী নিম্নের বিষয়গুলি শ্রমিকদের অসৎ শ্রমনীতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে:
১) অধিকার হরণ: অন্য শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করতে বাধা প্রদান।
২) ভীতি প্রদর্শন: ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তা পদে থাকা বা না থাকার জন্য কাউকে ভয় দেখানো।
৩) প্রলুদ্ধ করা: ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হতে বা না হতে প্রলুব্ধ করা
৪) চুক্তি করতে বাধ্য করা: ভয়-ভীতি চাপ হয়রানি ইত্যাদির মাধ্যমে মালিককে কোন চুক্তি করতে বাধ্য করা।
৫) নির্বাচনে হস্তক্ষেপ: সিবিএ নির্বাচনের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ বা প্রভাব খাটানো।
৬) বেআইনি ধর্মঘট করা: আইন বহির্ভূত ধর্মঘট করা।
৭) চাঁদা আদায়: আটক বা নির্যাতন করে অন্য শ্রমিক থেকে চাঁদা আদায় করা।
৮) ঢিলে ঢালা ভাবে কাজ করা: কোন শ্রমিক স্বাভাবিক গতিতে কাজ না করে ইচ্ছে কৃতভাবে ঢিলে ঢালা কাজ করা।
৯) সম্পত্তি ধ্বংস করা: পরিবহনবার যোগাযোগ ব্যবস্থা বাধা প্রদান করা বা ধ্বংস করা।
১০) কর্ম সময়ে ট্রেড ইউনিয়নের কাজ করা: মালিকের অনুমতি ব্যতীত কোন শ্রমিক তার কাজে ফাঁকি দিয়ে ট্রেড ইউনিয়নের কাজ করা।
৫.৩। এই আইন ভঙ্গ করলে শ্রমিকদের কি শাস্তির বিধান আছে?
অসৎ শ্রমনীতি মালিক পক্ষ থেকে হয় আবার শ্রমিক বক্ষ থেকে হয় আবার অন্য কোন পক্ষ থেকেও হয়।
এদের সাজা বা জরিমানা বা দন্ড একরকম নয়।
বাংলাদেশ শ্রম আইন 2006 এর 291 ধারায় ভিন্ন ভিন্ন পক্ষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দণ্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:
১) মালিকপক্ষের অসৎ শ্রমনীতির দন্ড:
মালিকপক্ষ যদি ১৫৫ ধারা অনুযায়ী অসৎ শ্রমনীতি অবলম্বন করে তাহলে তাদের সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার জরিমানা বা উভয়দণ্ড হতে পারে।
২) শ্রমিক পক্ষের অসৎ শ্রমনীতির দন্ড:
শ্রমিকপক্ষ যদি ১৯৬ ধারা অনুযায়ী অসৎ শ্রমনীতি অবলম্বন করে তাহলে তাদের সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ 5000 টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
৩) অন্য পক্ষের অসৎ শ্রমনীতির দন্ড:
১৯৯৬ ধারা অনুযায়ী যদি এমন কোন ব্যক্তি অসৎ শ্রমনীতির জন্য দোষী সাব্যস্ত হয় যে ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য নয় বা শ্রমিকও নয় তাহলে তার সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
৫.৪। অসদাচরণ বলতে কি বুঝ?
বাংলাদেশ শ্রম আইনে অসদ আচরণের কোন সংজ্ঞা প্রদান করা হয়নি। তবে বিভিন্ন পর্যালোচনায় বলা যায়- আইন যে আচরণকে সমর্থন করে না তাকে অসদ আচরণ বলে।
অর্থাৎ যে আচরণ বা কাজ বা কাছ থেকে বিরতি আইন সমর্থন করে না তাকে অসদ আচরণ বলে।
৫.৫। অসাধারণের জন্য শাস্তির পদ্ধতি সমূহ আলোচনা কর।
বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২৩ (১) ধারা অনুযায়ী কোন শ্রমিক অসৎ আচরণ করলে তার শাস্তি হলো তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা।
উপরুক্ত ধারা অনুযায়ী কোন শ্রমিককে বরখাস্ত করতে হলে তাকে নোটিশ প্রদান করতে হবে।
নোটিশ প্রধান না হলে তার পরবর্তীতে উক্ত সময়ের মজুরি প্রদান করতে হবে। তবে কোন শ্রমিক যদি ফৌজদারি অপরাধ করে অথবা এই আইনের ২৪ ধারার অধীনে কোন অপরাধ করে তাহলে তাকে বিনা নোটিশে বা বিনা মজুরিতে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা যাবে।
কোন শ্রমিককে বরখাস্ত করতে হলে তার চাকরির মেয়াদ অবিচ্ছিন্নভাবে কমপক্ষে এক বছর হলে তাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রত্যেক বছরের জন্য 15 দিনের মজুরি প্রদান করতে হবে।
অর্থাৎ কেউ যদি অবিচ্ছিন্নভাবে আট বছর চাকরি করে তাহলে তাকে ৮×১৬=১২০ দিনের মজুরি প্রদান করতে হবে।
কোন শ্রমিক ছুরি অগ্নিসংযোগ বা দাঙ্গা হাঙ্গামা ইত্যাদির কারণে বরখাস্ত হলে কোন ক্ষতিপূরণ পাবে না। কিন্তু আইনানুগ অন্যান্য সুবিধা পাবে।
কোন শ্রমিককে অসদআচরণের জন্য বরখাস্ত করার পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো:
১) উত্তর শ্রমিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করতে হবে।
২) তাকে অভিযোগের কপি প্রদান করতে হবে।
৩) জবাব দেয়ার জন্য তাকে কমপক্ষে সাত দিনের সময় দিতে হবে।
৪) শুনানির সুযোগ দিতে হবে।
৫) উভয় পক্ষের সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
৬) ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে।
৭) তদন্ত সাপেক্ষে কোন শ্রমিককে লিখিতভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা যাবে। তবে সাময়িক বরখাস্তের মেয়াদ ৬০ দিনের বেশি হবে না।
৮) সাময়িক বরখাস্ত করা হলে তাকে অর্ধেক মজুরি সহ অন্যান্য ভাতা প্রদান করতে হবে।
৯) অভিযোগ প্রমাণিত হলে এবং ২৩(১) ধারায় দণ্ডিত হলে তাকে উক্ত শ্রমিক সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ের বাকি অর্ধেক মজুরি পাবে না।
১০) অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাকে সাময়িক বরখাস্তের সময় কর্মরত বলে গণ্য করতে হবে এবং বাকি অর্ধেক মজুরি প্রদান করতে হবে।
১১) প্রমাণিত হওয়ার পর দণ্ডিত হলেই সেই আদেশ কপি উত্তর শ্রমিককে প্রদান করতে হবে। ১২) কোন শ্রমিক উক্ত দ্বন্দাদেশ বা কোন নোটিশ বা চিঠি গ্রহণ করতে অস্বীকার করলে তা নোটিশ বোর্ডে প্রদর্শন করতে হবে এবং তার সর্বশেষ জানার ঠিকানায় রেজিস্ট্রিট যাগযোগে প্রেরণ করতে হবে।
১৩) কোন শ্রমিককে শাস্তি প্রদান করলে মালিক কে উক্ত শ্রমিকের পূর্বে নথিপত্র চাকরি কালীন কৃতিত্ব বা অবদান বিশেষ বিবেচনায় আনতে হবে।
অসৎ সহনীতির জন্য মামলা করতে হলে সমপরিচালক বা তার অনুমোদিত ব্যক্তির পূর্ব অনুমতি প্রয়োজন। এ সকল অপরাধের বিচারসমূহ আদালত বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পন্ন হবে।
৫.৬। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে কোন কোন কাজ ত্রুটি সমূহ এবং অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হইবে।
বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২৩(৪) ধারা অনুযায়ী শ্রমিকদের কিছু কাজের অসদাচরণ বলে গণ্য করা হয়েছে।
নিম্বে সেগুলি উল্লেখ করা হলো:
১) আইন ভঙ্গ করা: প্রতিষ্ঠানের কোন আইন ধারাবাহিকভাবে ভঙ্গ করলে অসদআচরণ বলে গণ্য হবে।
২) ধ্বংসাত্মক কাজ করলে: কোন শ্রমিক অগ্নিসংযোগ করলে বা দাঙ্গা হাঙ্গামা করলে ওষুধ আচরণ বলে গণ্য হবে।
৩) আদেশ অমান্য করলে: কোন শ্রমিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইন সংগত আদেশ অমান্য করলে অসদ-আচরণ বলে গণ্য হবে।
৪) ঘুষ প্রদান করলে: যেকোনো কাজের জন্য ঘুষ প্রদান করলে অসদআচরণ বলে গণ্য হবে।
৫) ঘুষ গ্রহণ করলে: কোন কাজের জন্য ঘুষ গ্রহণ করলে অসদ আচরণ বলে গণ্য হবে।
৬) বিনা ছুটিতে দশ দিনের অতিরিক্ত সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে বা অভ্যাসগতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।
৭) বিলম্বে উপস্থিত হলে: অভ্যাসগতভাবে বা নিয়মিত বিলম্বে কর্মস্থলে উপস্থিত হলে অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।
৮) অসাধুমূলক কাজ করলে: মালিকের ব্যবসার কোন সম্পদ চুরি করলে বা আত্মসাৎ করলে বা ছিনতাই করলে অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।
৯) কর্তব্য অবহেলা করলে: শ্রমিক তার কর্তব্যে নিয়মিতভাবে অবহেলা করলে অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।
১০) শৃঙ্খলা নষ্ট করলে: অভিষেক শৃঙ্খলা নষ্ট করলে অসদআচরণ বলে গণ্য হবে।
১১) রেকর্ড পত্র পরিবর্তন করলে: অফিসের রেকর্ড পত্র জাল করলে বা পরিবর্তন করলে অসদাচরন বলে গণ্য হবে।
বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০০৬ অনুযায়ী অথবা আচরণের শ্রেণীবিভাগ লিখ।
No comments:
Post a Comment