Friday, April 7, 2023

৭ঃ শিল্পবিরোধ, প্রধান পরিদর্শক , শ্রম পরিচালক

৭.১ ।   শিল্পবিরোধ বলতে কি বুঝ? 

৭.২ ।  কে ইহা উত্থাপন করিতে পারে? 
৭.৩ । শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায় বা পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।

৭.৪ ।   কখন একটি ব্যক্তিগত বিরোধ শিল্প বিরোধে হতে পারে?

৭.৫ ।  শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আইনে কোন কোন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার করা হয়েছে?

৭.৬ ।  ২০০৬ সালের শ্রম আইন অনুসারে শ্রম পরিচালক কে?
 
৭.৭ ।  শ্রম পরিচালক কিভাবে নিযুক্ত হন?

৭.৮।  শ্রম পরিচালকের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।

৭.৯।  প্রধান পরিদর্শক কে? প্রদান পরিদর্শক নিয়োগ কি ভাগে হয়?

৭.১০ । প্রদান পরিদর্শকের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করো ।

৭.১১ ।  প্রদান পরিদর্শকের কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের পদ্দতি। 


শ্রম আদালত কর্তৃক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে একটি শিল্প বিরোধের বিভিন্ন পর্যায় গুলি আলোচনা করো।
পূর্বে নোটিশ না দিয়ে কোন শ্রমিক ইউনিয়ন ধর্মঘটে গেলে তার ফলাফল কি হবে?



৭.১ ।   শিল্পবিরোধ বলতে কি বুঝ? 

শ্রমিকরা যদি তাদের ন্যায় সঙ্গত দাবি থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে তারা ধর্মঘট পালন করে। মালিকপক্ষ যদি মনে করে শ্রমিকদের দাবি অযৌক্তিক তাহলে তারা লক আউট করে তাদের প্রতিষ্ঠান সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। এভাবে শুরু হয় শিল্প বিরোধ।

শিল্প বিরোধ: 
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২( ৬২) ধারা অনুযায়ী- কোন ব্যক্তির চাকুরীর নিয়োগ সংক্রান্ত বা চাকুরীর শর্তাবলী বা কাজের অবস্থা বা পরিবেশ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে মালিক, মালিক- শ্রমিক, শ্রমিক থেকে শ্রমিকের মধ্যে কোন বিরোধ বা মতপার্থক্য কে শিল্প বিরোধ বলে।


৭.২ ।  কে ইহা উত্থাপন করিতে পারে? 

বাংলাদেশ সময় আইন ২০০৬ এর 209 ধারা অনুযায়ী নিম্নের পক্ষগণ শিল্প বিরোধ উত্থাপন করতে পারেন:
১) মালিকপক্ষ
২) cba অর্থাৎ যৌথ দরকষাকষি এজেন্ট


৭.৩ । শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায় বা পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।


বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০৯ ২১০-২১১ ২১২ ধারায় শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায়ে বা পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে।
নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:
১) শিল্প বিরোধ উত্থাপন: মালিকপক্ষ বা সিবিএ অর্থাৎ যৌথ দরগসাঘষি এজেন্ট শিল্পবিরোধ উত্থাপন করবেন। কেউ যদি শিল্প বিরোধ উত্থাপন না করেন তাহলে শিল্পবিরোধ বিদ্যমান আছে বলে গণ্য হবে না।

২) অন্য পক্ষে কে লিখিত জানানো: কোন মালিক বা যৌথ দর্গষাঘষি এজেন্ট শিল্প বিরোধ সম্ভাবনা দেখলে অন্য কোন পক্ষকে লিখিতভাবে জানাবেন।

৩) সভা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা: যে পক্ষ লিখিত পত্র প্রাপ্ত হবে সেই পক্ষপত্র পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সভা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করবেন। এক্ষেত্রে উক্ত সভা উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে পারে।

৪) নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হলে করণীয়:
উভয় পক্ষের সভা যদি বিরোধ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয় তাহলে এটি নিষ্পত্তি নামা লিখতে হবে এবং তাতে উভয় পক্ষের স্বাক্ষর করবে। উক্ত স্বাক্ষরিত নিষ্পত্তিনামার কপি সরকার , শ্রম পরিচালক ও সালিশের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

৫) নিষ্পত্তি না হলে করণীয়:
লিখিত পত্র পাওয়া ১৫ দিনের মধ্যে সভা অনুষ্ঠান করতে ব্যর্থ হলে অথবা অনুষ্ঠান হলেও এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত না হলে পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সালিশ কে অনুরোধ করা যাবে।

৬) সরকার কর্তৃক সালিশ নিয়োগ: সরকারি গ্যাজেটের প্রজ্ঞাপন দ্বারা সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক সালিশ নিয়োগ করতে পারবেন।

৭) সালিশ কর্তৃক সভা আহ্বান:
অনুরোধ প্রাপ্ত হলে দশ দিনের মধ্যে সালিশ তার কাজ শুরু করবেন অর্থাৎ উভয়পক্ষকে সবার জন্য আহ্বান করবেন।
৮) উভয় পক্ষের হাজিরা: উভয়পক্ষ তাদের প্রতিনিধি নির্ধারিত তারিখ হাজির হবেন।

৯) সালিশ কর্তৃক রিপোর্ট পেশ:
সবাই যদি বিরোধ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয় তাহলে একটি নিষ্পতি নামা লিখতে হবে এবং তাতে উভয়পক্ষ স্বাক্ষর করবে। সরকারের নিকট উক্ত রিপোর্ট পেশ করবেন।

১০) সালিশ কর্তৃক সময় বৃদ্ধি: অনুরোধ প্রাপ্ত হয়ে শালী যদি 30 দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে না পারে তাহলে উভয়পক্ষের লিখিত অনুরোধের সময় বৃদ্ধি করতে পারবে অথবা কার্যক্রম ব্যর্থ হবে।

১১) মধ্যস্থতা কারীর নিকট প্রেরণ:
সালিশের কার্যক্রম ব্যর্থ হলে সালিশ উভয়পক্ষকে কোন মধ্যস্থতাকারী নিকট প্রেরণের জন্য রাজি করাতে পারবেন।
১২) প্রত্যয়ন পত্র প্রদান:
মধ্যস্থতা কারীর নিকট প্রেরণ ের জন্য রাজি করাতে না পারলে তিন দিনের মধ্যে সালিশ উভয়পক্ষকে কার্যক্রম ব্যর্থ হয়েছে এই মর্মে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করবেন।
১৩) মধ্যস্থতা কারীর নিকট প্রেরণের জন্য রাজি হলে: মধুস্তরকারি নিকট প্রেরণের জন্য রাজি হলে সকলের নিকট স্বীকৃতি কোন মজস্রোতা কারীর নিকট বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করবেন।

১৪) মধ্যস্থতাকারী: মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সরকারের তালিকাভুক্ত কোন ব্যক্তি মতস্পতাকারী হতে পারবেন অথবা স্বীকৃত যেকোনো ব্যক্তি মধ্য সরকারী হতে পারবেন।

১৫) রোয়েদাদ প্রদান: মধ্যস্থতাকারী অনুরোধ পাওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে বা লিখিতভাবে স্বীকৃত তারিখের মধ্যে রোয়েদাদ প্রদান করবেন।
১৬) রোয়েদাদ এর কপি প্রেরণ: মধ্যস্থতাকারী রয়দাদের কপি পক্ষগণকে এবং সরকারকে প্রেরণ করবেন।
১৭) রোয়েদাদের বিরুদ্ধে আপিল: মধ্যস্থতাকারীর রোয়েদাদ চূড়ান্ত হবে । অর্থাৎ এর বিরুদ্ধে আপিল চলবেনা।
১৮) রোয়েদাদ এর সময়: মধ্যসত্তাকারীর রোয়েদাদ দুই বছর পর্যন্ত বৈধ থাকবে।
১৯) শ্রম পরিচালকের কাজ: শ্রম পরিচালক যেকোনো সময় সালিশি কার্যক্রম উঠিয়ে নিয়ে নিজেই তা চালাতে পারবেন।
২০) ধর্মঘট বা লকআউট শুরু হলে: ধর্মঘট বা লগ আউট শুরু হয়ে গেলে তা কোন পক্ষ বিরক্তি নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালতের দরখাস্ত পেশ করতে পারবে।
২১) সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা: ধর্মঘট বা লকআউট ৩০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা তা নিষিদ্ধ করতে পারবে। জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হলে সরকার ৩০ দিন পূর্বে লিখিত আদেশ দ্বারা তা নিষিদ্ধ করতে পারবে।
২২) সরকার কর্তৃক শ্রম আদালতে প্রেরণ:
সরকার কোন ধর্মঘট বা লকআউট নিষিদ্ধ করলে তার সাথে সাথে নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালতে প্রেরণ করবেন।
২৩) শ্রম আদালতের করণীয়: শ্রম আদালত উভয়পক্ষকে শুনানির সুযোগ দিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য রোয়েদাদ প্রদান করবেন।
২৪) রোয়েদাদ এর স্থায়িত্ব: শ্রম আদালত এর রোয়েদাদ দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
২৫) নতুন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে: নতুন স্থাপিত কোন প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন শুরু হওয়ার পরবর্তী তিন বছর ধর্মঘট বা লক আউট নিষিদ্ধ থাকবে।

৭.৪ ।   কখন একটি ব্যক্তিগত বিরোধ শিল্প বিরোধে হতে পারে?

যখন একজন মালিক ও একজন মাত্র শ্রমিকের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় তখন সেটিও শিল্প বিরোধ হিসেবে গণ্য হয়।।
কিং বেঞ্চ ডিভিশন এর প্রধান বিচারপতি lord Goddard অভিমত দিয়েছেন যে, ব্যক্তিগত বিরোধী শিল্প বিরোধ হতে পারে।
মাদ্রাজের লেবার অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল এর সিদ্ধান্ত হলো- একজন শ্রমিকের নিয়োগ বরখাস্ত বা কর্মচ্যুতি, চাকুরীর শর্ত বা কাজের অবস্থা সম্পর্কিত বিষয় একাকী উত্থাপিত বিরোধ ও শিল্প বিরোধ হিসেবে গণ্য হবে।

উপসংহার: বিভিন্ন কারণে কোন শিল্পে বিরোধ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এর অন্যতম কারণ হিসেবে শ্রমিকদের অধিকার বঞ্চিত হওয়াকে উল্লেখ করা যায়। অর্থাৎ শ্রমিকগণ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে শিল্পে বিরোধ সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের পক্ষে যৌথ দর্পষাঘষি এজেন্ট যেমন শিল্প বিরোধ উত্থাপন করতে পারেন তেমনি মালিকপক্ষ ও শিল্পবিরোধ উত্থাপন করতে পারেন। সাধারণত উভয় পক্ষের সমঝোতা বা আদালতের মাধ্যমে এই বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়।

৭.৫ ।  শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আইনে কোন কোন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার করা হয়েছে?

শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সময় নিয়ে নিম্নোক্ত কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে- 
১) সালিশ পরিষদ
২) মধ্যস্থতাকারী
৩) শ্রম পরিচালক
৪) শ্রম আদালত

৭.৬ ।  ২০০৬ সালের শ্রম আইন অনুসারে শ্রম পরিচালক কে?

একজন শ্রম পরিচালক বা রেজিস্টার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন। যেমন- ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা। কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা, যৌথ দরকার কষাকষি প্রতিনিধি নির্বাচন করা, শ্রমিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা ইত্যাদি।
একজন প্রধান পরিদর্শক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন। যেমন- উপপ্রধান পরিদর্শক সহকারী প্রধান পরিদর্শক, সরকারি পরিদর্শকের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করা প্রধান পরিদর্শকের অন্যতম কাজ। এছাড়া সময় নিয়ে প্রদত্ত অন্যান্য ক্ষমতাও তিনি প্রয়োগ করেন।

শ্রম পরিচালক: 
যিনি কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন প্রদান বা বাতিল, সিবিএ এর নির্বাচন, শ্রমিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কাজ করেন তাকে শ্রম পরিচালক বলে।
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২ ( ৪৮) ধারা অনুযায়ী, শ্রম পরিচালক, অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ম-শ্রম পরিচালক, উপশ্রম পরিচালক, সরকারি শ্রম পরিচালক এবং শ্রম কর্মকর্তা হলো এই আইনের বিংশ অধ্যায়ে উক্ত পদে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি। 
৩১৭(১) ধারা অনুযায়ী এই আইনের উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা একজন শ্রম পরিচালক নিযুক্ত করবে।
 
৭.৭ ।  শ্রম পরিচালক কিভাবে নিযুক্ত হন?
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৩১৭ ধারায় শ্রম পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ আছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:
১) সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে:
সরকার গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে একজন শ্রম পরিচালক, অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ন শ্রম পরিচালক, উপ শ্রম পরিচালক, এবং শ্রম কর্মকর্তা নিয়োগ করবেন। ( ধারা - ৩১৭(১))

২) কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ:
অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ন শ্রম পরিচালক, উপ-শ্রম পরিচালক, এবং শ্রম কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে সরকার তাদের কর্মক্ষেত্র বা এলাকা নির্ধারণ করে দেবে। ( ধারা - ৩১৭(১))

৩) অন্যদের ক্ষমতা প্রদান: শ্রম পরিচালক লিখিত আদেশ দ্বারা বা বিশেষ আদেশ দ্বারা তার কোন ক্ষমতা অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ন শ্রম পরিচালক, উপ শ্রম পরিচালক, বা শ্রম কর্মকর্তাকে প্রদান করতে পারেন।


৭.৮।  শ্রম পরিচালকের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ৩১৭ ধারায় শ্রম পরিচালকের ক্ষমতা ও কার্যাবলীর বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচনা করা হলো:

১) সমপরিচালক তার অধীনস্থ অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্নু পরিচালক ,উপ-পরিচালক, সহকারী শ্রম পরিচালক এবং শ্রম ও কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করেন।

২) শ্রমপরিচালক লিখিত বা বিশেষ আদেশ দ্বারা তার অধীনস্থদের উপর ক্ষমতাব অর্পণ করেন।
৩) শ্রম পরিচালক ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন ও রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করেন।
৪) শ্রম পরিচালক অসৎসম আচরণ বা অন্যান্য অপরাধের জন্য ট্রেড ইউনিয়নের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন।
৫) শ্রম পরিচালক কোন কোন প্রতিষ্ঠান যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি হিসেবে প্রত্যায়িত হবে তা নির্ধারণ করেন।
৬) শ্রমপরিচালক ও ট্রেড ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন করেন।
৭) শ্রমপরিচালক ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা প্রয়োজন মনে করলে শ্রম আদালতে দরখাস্ত করেন।
৮) শ্রম আদালতের অনুমতি পেলে শ্রমপরিচালক অনুমতি প্রার্থীর 30 দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে পারে।
৯) শ্রম পরিচালক শিল্প বিরোধ সালিশ হিসেবে কাজ করেন।
১০) অংশগ্রহণকারী কমিটির কাজের তত্ত্বাবধান ও এই আইন দ্বারা অন্যকোন দায়িত্ব পালন করেন।


৭.৯।  প্রধান পরিদর্শক কে? প্রধান পরিদর্শক নিয়োগ ?
প্রধান পরিদর্শক:
বাংলাদেশ শ্রম আইন 2006 এর ২(৪৭) অনুযায়ী প্রধান পরিদর্শক, উপ প্রদান পরিদর্শক, সরকারি প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক, পরিদর্শক হল এই আইনের বিংশ অধ্যায়ে উক্ত পদে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি।

প্রধান পরিদর্শক নিয়োগ:

বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০০৬ এর ৩১৮ ধারায় প্রধান পরিদর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত বিধান উল্লেখ আছে। নিম্ন আলোচনা করা হলো:
১) সরকারী গ্যাজেট প্রজ্ঞাপন জারি করে:
সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করে একজন প্রধান পরিদর্শক, প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপপ্রধান পরিদর্শক, সহকারী প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক, সরকারি পরিদর্শক, নিয়োগ করবেন।

২) কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ:
উপপ্রধান পরিদর্শক, সরকারি প্রধান পরিদর্শক নিয়োগ করা হলে সরকার তাদের কর্মক্ষেত্র এলাকা বা এখতিয়ারাধীন প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে দিবেন।

৩) অন্যান্যদের ক্ষমতা প্রদান:
শ্রম পরিদর্শক লিখিত আদেশ দ্বারা বা বিশেষ আদেশ দ্বারা বা  বিশেষ আদেশ দ্বারা তার কোন ক্ষমতা পরিদর্শক, সহকারী প্রধান পরিদর্শক, সহকারী পরিদর্শক, উপপ্রধান পরিদর্শক  ইত্যাদিকে প্রদান করতে পারেন। 

৭.১০ । প্রধান পরিদর্শকের ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করো ।


এই আইনের প্রদত্ত ক্ষমতা ছাড়াও সমগ্র দেশে তার ক্ষমতা থাকবে। উপ-প্রদান পরিদর্শক, সহকারী প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক, সহকারী পরিদর্শকদের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করা প্রদান পরিদর্শকের অন্যতম কাজ। প্রধান পরিদর্শক লিখিত বা বিশেষ আদেশ দ্বারা এদের উপর ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন।
সময়ের ৩১৯ ধারায় একজন প্রধান পরিদর্শকের ক্ষমতা ও কার্যাবলী উল্লেখিত হয়েছে। নিম্নে আলোচনা করা হলো:

১) প্রধান পরিদর্শক প্রয়োজনের সংখ্যক সহকারী নিয়ে কোন প্রতিষ্ঠান, নৌযান, আঙ্গিনা, যানবহন ইত্যাদি পরিদর্শন ও পরীক্ষাকার্য পরিচালনা করতে পারেন।

২) প্রধান পরিদর্শক কোন রেজিস্টার, রেকর্ড, নথিপত্র ,নোটিশ ,প্রত্যয়ন পত্র বা অন্যান্য কোন দলিল তলব করতে পারেন বা আটক করতে পারেন বা পরীক্ষা করতে পারেন বা এর নকল করতে পারেন।

৩) প্রধান পরিদর্শক কোন প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত শ্রমিকদের প্রতি এই আইন মানা হচ্ছে কিনা তা অনুসন্ধান বা পরীক্ষা করতে পারেন।

৪) একজন প্রধান পরিদর্শক কোন প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত ব্যক্তির জবানবন্দী গ্রহণ করতে পারেন।
৫) জবানবন্দীর সত্যতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্বাক্ষর করতে পারেন।
৬) একজন প্রধান পরিদর্শক কোন মালিক কর্তৃক রক্ষিত কোন রেজিস্টার রেকর্ড রতন-পটন নোটিশ কোন দলিল ইত্যাদি সম্বন্ধে কৈফিয়ত তলব করতে পারেন।
৭) শ্রম আইন দ্বারা আরোপিত অন্য কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।

৭.১১ ।  প্রধান পরিদর্শকের কোন আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের পধতি। 


সময়ের ৩২৭ ধারায় প্রধান পরিদর্শকের কোন হাদিসের বিরুদ্ধে আপিলের পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে। নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

১) প্রধান পরিদর্শক যদি কোন মালিকের উপর লিখিতভাবে কোন আদেশ জারি করেন এবং উক্ত আদেশ তিনি সংক্ষুব্ধ হলে আদেশের প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপিল কর্তৃপক্ষ উক্ত আদেশ বহাল রাখতে বা সংশোধন করতে বা বাতিল করতে পারেন। (dhata- ৩২৭ (১))

২) আপিল কর্তৃপক্ষ উক্ত আপিল উপযুক্ত বিবেচনা করলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত আদেশ স্থগিত রাখতে পারেন। ( ধারা - ৩২৭(২))


উপসংহার : শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই সকল প্রতিষ্ঠান যেন স্বেচ্ছাচারী না হয় তার জন্য শ্রম পরিচালক ও প্রধান পরিদর্শক অন্যতম ভূমিকা পালন করেন। শিল্প কারখানায় ভারসাম্য বজায় রাখতে শ্রম পরিচালক ও প্রধান পরিদর্শক বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকেন।

No comments:

Post a Comment