Friday, March 10, 2023

চুক্তি, সম্মতি

১. ১. চুক্তির সংজ্ঞা দাও? 

১.২. একটি বৈধ চুক্তির আবশ্যকিয় উপাদান/ বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি/ আলোচনা কর? বাংলাদেশের চুক্তি আইনে বৈধ চুক্তির তালিকা প্রস্তুত কর।

১.৩. চুক্তি বাতিল, বাতিলযোগ্য চুক্তির তালিকা প্রস্তুত কর।  / কি কারণে একটি চুক্তি বাতিলযোগ্য হতে পারে? / কোন কোন চুক্তি বাতিল বলে গণ্য ? / বাংলাদেশের আইনে কোন কোন চুক্তি বাতিল তার একটি তালিকা প্রস্তুত কর। 

১.৪. সম্মতির সংজ্ঞা দাও।  

১.৫.।চুক্তি ও সম্মতির পার্থক্য দেখাও। 

১.৬. একটি বাতিল চুক্তি, বাতিলযোগ্য চুক্তি, বৈধ চুক্তি ও বাতিল সম্মতির আইনগত ফলাফল কি?

১.৭. ' সকল চুক্তিই সম্মতি, কিন্তু সকল সম্মতি চুক্তি নয় ' আলোচনা কর ' ‌‌।

১.৮. 'চুক্তি আইন সমগ্র অধিকারে আইন নয় এবং সমগ্র বাধ্যবাধকতারও আইন নয়' - ব্যাখ্যা কর।



 ১. ১. চুক্তির সংজ্ঞা দাও? 

চুক্তি আইন ১৮৭২ সালের ৯ নং আইন।  মোট ধারা ২৩৮ টি।  এই আইন বলবৎ হয় ১৮৭২ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে।
যখন এই আইন পাশ হয় তখন এটি কার্যকর ছিল সমগ্র ব্রিটিশ ভারতে।  ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ থেকে পৃথক হয়ে গেলে এই আইন কার্যকর করা হয় সমগ্র পাকিস্তানে
 ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে এই আইন কার্যকর হয় সমগ্র বাংলাদেশ। 

মূলত: দুটি কারণে চুক্তি আইন প্রণয়ন করা হয়। ১- চুক্তি আইনের কতিপয় অংশের সংজ্ঞা নিরূপণ করা এবং ২- কতিপয় অংশের সংশোধন করা।

চুক্তি কাকে বলে: 
ইংরেজি Contract শব্দের অর্থ চুক্তি।
আরবিতে বলা হয় আক্ দ । অকদ এর আভিধানিক অর্থ মিলন। 

দুইবার ততোধিক পক্ষের মধ্যে কোন কাজ করা বা কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকার সম্মতি যদি আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য হয় তাহলে তাকে চুক্তি বলে।

চুক্তি আইনের ২ (এইচ) ধারা অনুযায়ী, 'আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য সম্মতিকে চুক্তি বলে।' 

অধ্যাপক স্যামন্ড ( Prof. Salmond) এর ভাষায়, ' বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে এমন সম্মতি হল চুক্তি।'

সুতরাং বলা যায় আইনের সাহায্যে বলবৎ করা যায় এমন সম্মতিকে চুক্তি বলে।


১.২. একটি বৈধ চুক্তির আবশ্যকিয় উপাদান/ বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি/ আলোচনা কর? বাংলাদেশের চুক্তি আইনে বৈধ চুক্তির তালিকা প্রস্তুত কর।

নিম্নে একটি বৈধ চুক্তির আবশ্যকীয় উপাদান বা বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো।

১।  দুই বা ততোধিক পক্ষ থাকতে হবে: একপক্ষ চুক্তি করতে পারে না অর্থাৎ বৈধ চুক্তি সম্পাদন করতে হলে কমপক্ষে দুটি পক্ষ থাকতে হবে।

২। চুক্তি করার যোগ্যতা থাকতে হবে: চুক্তি আইন অনুযায়ী সুস্থ সাবালক ব্যক্তিগণ চুক্তি করতে পারে। কোন নাবালক পাগল বিকৃত মস্তিষ্ক সম্পন্ন ব্যক্তি চুক্তি করতে পারে না। বৈধ চুক্তি হতে হলে পক্ষসমূহের চুক্তি করার যোগ্যতা থাকতে হবে।

৩।  বৈধ প্রস্তাব প্রদান করতে হবে: চুক্তি করতে হলে এক পক্ষকে প্রস্তাব প্রদান করতে হবে। আর এই প্রস্তাব অবশ্যই বৈধ হতে হবে। কারণ বৈধ প্রস্তাব প্রদান করলে তা বৈধ চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে।

৪। গ্রহণ থাকতে হবে: চুক্তিতে এক পক্ষ প্রস্তাব প্রদান করে আর অন্য পক্ষকে গ্রহণ করতে হবে। যতক্ষণ অন্য পক্ষ গ্রহণ না করবে ততক্ষণ তা চুক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

৫।  স্বাধীন সম্মতি থাকতে হবে: একটি বৈধ চুক্তিতে যতগুলো পক্ষ থাকবে তাদের সকলের স্বাধীন সম্মতি থাকতে হবে।

৬। লিখিত বা নিবন্ধিত হতে হবে: চুক্তি মৌখিকভাবে হতে পারে, লিখিত হতে পারে। যদি নিবন্ধনের নির্দেশ থাকে তাহলে অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে।

৭। আইনসম্মত হতে হবে: চুক্তি অবশ্যই আইনসম্মত হতে হবে । প্রচলিত আইনবিরোধী কোন চুক্তি করা হলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

৮।  বৈধ প্রতিদান থাকতে হবে: চুক্তির ক্ষেত্রে পক্ষ সময়ের মধ্যে কোন না কোন প্রতিদান থাকতে হবে ‌। ব্যতিক্রম ছাড়া প্রতিদান না থাকলে চুক্তি বৈধ হয় না। 



১.৩. চুক্তি বাতিল, বাতিলযোগ্য চুক্তির তালিকা প্রস্তুত কর।  / কি কারণে একটি চুক্তি বাতিলযোগ্য হতে পারে? / কোন কোন চুক্তি বাতিল বলে গণ্য ? / বাংলাদেশের আইনে কোন কোন চুক্তি বাতিল তার একটি তালিকা প্রস্তুত কর। 

বিভিন্ন কারণে একটি চুক্তি বাতিল হতে পারে।  নিম্ন তা আলোচনা করা হলো:

১।  দুই বা ততোধিক পক্ষ না থাকলেএক পক্ষ চুক্তি করতে পারে না।  অর্থাৎ একটি চুক্তি যদি দুই বা ততোধিক পক্ষ না থাকে তাহলে চুক্তি বাতিল হবে।

২।  চুক্তি করার যোগ্যতা না থাকলে:  চুক্তি আইন অনুযায়ী সুস্থ সাবলক ব্যক্তিগণ চুক্তি করতে পারে। কোন নাবালক, পাগ্‌ বিকৃত মস্তিষ্ক সম্পন্ন ব্যক্তি, চুক্তি করলে উক্ত চুক্তি বাতিল হবে।

৩।  প্রস্তাব বৈধ না হলে: চুক্তি করতে হলে যে কোন এক পক্ষকে প্রস্তাব করতে হবে। আর এই প্রস্তাব অবশ্যই বৈধ হতে হবে। কারণ অবৈধ প্রস্তাব প্রদান করলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

৪।  গ্রহণ না থাকলে: চুক্তিতে এক পক্ষ যেমন প্রস্তাব প্রদান করে তেমনি অন্য পক্ষকে তা গ্রহণ করতে হয়।  কোন পক্ষ যদি গ্রহণ না করে তাহলে উক্ত চুক্তি বাতিল হবে।

৫। স্বাধীন সম্মতি না থাকলে: একটি বধু চুক্তিতে যতগুলো পক্ষ থাকবে তাদের সকলের স্বাধীন সম্মতি না থাকলে উক্ত চুক্তি বাতিল হবে।

৬।  আইনসম্মত না হলে: চুক্তি অবশ্যই আইনসম্মত হতে হবে। প্রচলিত আইনবিরোধী কোন চুক্তি করা হলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। 

৭।  বৈধপ্রতিদান না থাকলে: ব্যতিক্রম ছাড়া যুক্তির ক্ষেত্রে পক্ষসমূহের মধ্যে কোন না কোন প্রতিদান থাকে। আর এই প্রতিদান বৈধ না হলে উক্ত চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।

৮।  অসম্ভব কাজ করার চুক্তি করলে: বাস্তবের যে কাজ করা সম্ভব নয় এমন কোন চুক্তি করলে তা বাতিল হবে।  যেমন: আকাশ থেকে চাঁদ ধরে আনা।



১.৪. সম্মতির সংজ্ঞা দাও।  

পরস্পর পক্ষসমূহের মধ্যে প্রতিদান সৃষ্টি করতে পারে এমন প্রতিশ্রুতিকে সম্মতি বা অঙ্গীকার বা এগ্রিমেন্ট বলে। 

চুক্তি আইনের ২(ই) ধারা অনুযায়ী- প্রতিটি অঙ্গীকার এবং প্রতিটি অঙ্গীকার উৎস যা একটি অপরটির পণ, তাকে সম্মতি বলে।

তবে এই অঙ্গীকার আইন দ্বারা বলবৎ হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।

আবার দুই বা অধিকপক্ষ একই অর্থে মতৈক্য পৌঁছালে তাকে সম্মতি বলে।  ( ধারা -১৩)



১.৫.।চুক্তি ও সম্মতির পার্থক্য দেখাও। 

নিম্নে চুক্তি ও সম্মতি বা অঙ্গীকারের পার্থক্য উল্লেখ করা হলো: 

১। সংজ্ঞাগত: আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য সম্মতিকে চুক্তি বলে। পক্ষান্তরে পরস্পর পক্ষসমূহের মধ্যে প্রতিদান সৃষ্টি করতে পারে এমন প্রতিশ্রুতিকে সম্মতি বা অঙ্গীকার বলে।

২।  প্রতিশব্দ গত: চুক্তির ইংরেজি প্রতিশব্দ Contractঅপরদিকে সম্মতি বা অঙ্গীকারের ইংরেজি প্রতিশব্দ ( Consent/ Agreement).

৩।  ধারা গত: ১৮৭২ সনের চুক্তি আইনের ২( এইচ) ধারায় চুক্তির সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। পক্ষান্তরে ১৮৭২ সনের চুক্তি আইনের ২( ই) ধারায় সম্মতির সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।

৪।  উপাদানগত: চুক্তির অন্যতম উপাদান হলো- প্রস্তাব, গ্রহণ , প্রতিদান, সম্মতি, বৈধ উদ্দেশ্য, ইত্যাদি। পক্ষান্তরে সম্মতির অন্যতম উপাদান হলো- প্রস্তাব, গ্রহণ, প্রতিদান।

৫।  পরিধিগত: চুক্তির পরিধি কম। অপরদিকে সম্মতির পরিধি ব্যাপক।

৬।  পর্যায়গত: চুক্তি হলো সম্মতির পরবর্তী পর্যায়ে।  পক্ষান্তরে সম্মতি হলো চুক্তির পূর্ববর্তী পর্যায়।

৭।  নির্ভরতাগত: চুক্তি সম্মতির উপর নির্ভরশীল।  পক্ষান্তরে সম্মতি চুক্তির উপর নির্ভরশীল নয়।

৮।  প্রকৃতি গত: সকল চুক্তিকেই সম্মতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।  পক্ষান্তরে সকল সম্মতিকে চুক্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।

৯।  যোগ্যতা: চুক্তির ক্ষেত্রে অবশ্যই উভয় পক্ষের যুক্তি পালনের যোগ্যতা থাকতে হয়। পক্ষান্তরে সম্মতির ক্ষেত্রে উয়পক্ষের চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা আছে কিনা তা বিবেচ্য বিষয় নয়।

১০।  জনস্বার্থ বিরোধী: চুক্তি বিশেষ করে জনস্বার্থ বিরোধী হতে পারেনা।  পক্ষান্তরে সম্মতির জনস্বার্থ বিরোধী হতে পারে।



১.৬. একটি বাতিল চুক্তি, বাতিলযোগ্য চুক্তি, বৈধ চুক্তি ও বাতিল সম্মতির আইনগত ফলাফল কি?

একটি বাতিল চুক্তি গত ফলাফল: 
যে চুক্তি মূলত চুক্তিই নয়, তাকে বাতিল যুক্তি বলে।  বাতিল চুক্তি কখনোই আইনের বৈধতা পায় না। বাতিল চুক্তি অবৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বাতিল চুক্তি কোন পক্ষের ইচ্ছা অনুসারে বাতিল হয় না এটা এমনিতেই বাতিল ‌‌‌।  বাতিল চুক্তিতে আইনের কোন সহায়তা পাওয়া যায় না।


একটি বাতিযোগ্য চুক্তির আইনগত ফলাফল: 
যে চুক্তি একপক্ষের ইচ্ছা অনুযায়ী বাতিল করা যায় তাকে বাতিলযোগ্য চুক্তি বলে। কোন চুক্তিতে প্রতারণা, মিথ্যা বর্ণনা বা জবরদস্তি দ্বারা কোন পক্ষের সম্মতি আদায় করলে সেই চুক্তি সম্পূর্ণ বৈধ হবে না।  এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ ইচ্ছে করলে উক্ত চুক্তি বৈধ চুক্তি হিসেবে রাখতে পারে অথবা বাতিল করতে পারে। তবে বাতিলযোগ্য চুক্তি আইনের বৈধতা পায় এবং অবৈধ চুক্তি হিসেবে গণ্য হয় না।

একটি বৈধ চুক্তির আইনগত ফলাফল: 
আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য সম্মতিকে চুক্তি বলে। 
অর্থাৎ দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে কোন কাজ করা বা কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকার সম্মতি যদি আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য হয় তাহলে তাকে চুক্তি বলে। একটি বৈধ চুক্তি একটি বাতিল চুক্তির সম্পূর্ণ বিপরীত। বৈধ চুক্তি উভয় পক্ষের সম্মতিতে কার্যকর হয়।  বৈধ চুক্তি সর্বদা আইনের সহায়তা লাভ করে।

বাতিল সম্মতি আইনগত ফলাফল: 
চুক্তি আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী- দুই বা ততোধিক পক্ষ একই অর্থে মতৈক্য পৌঁছালে তাকে সম্মতি বলে। অর্থাৎ দুই বা ততোধিক পক্ষ এক বিষয়ে ঐক্যমত হলে উক্ত বিষয়ে তারা সম্মতি দিয়েছেন বলে গণ্য হয়। 
যে সম্মতিকে আইনবলে কার্যকর করা যায় না তাকে বাতিল সম্মতি বলে। 

আইন দ্বারা কার্যকর করা যায় না এমন সম্মতি হল বাতিল সম্মতি।  প্রকৃতপক্ষে বাতিল সম্মতির কোন মূল্য নেই।  যেহেতু বাতিল সম্মতির কোন মূল্য নেই সেহেতু এর কোন প্রতিকারও নেই।  পরস্পর পক্ষসমূহের মধ্যে যদি এমন কোন কাজ করার জন্য সম্মত হয় যা বৈধ নয়, তাহলে উক্ত সম্মতি দ্বারা চুক্তির সৃষ্টি হবে না। 

সুতরাং এই ধরনের সম্মতির আইনগত ভিত্তি নেই।


১.৭. ' সকল চুক্তিই সম্মতি, কিন্তু সকল সম্মতি চুক্তি নয়' আলোচনা কর ' ‌‌।

একটি বৈধ চুক্তির অন্যতম উপাদান হলো সম্মতি।  অর্থাৎ একপক্ষ প্রস্তাব প্রদান করার পর অন্য পক্ষ তা মেনে না নেওয়া পর্যন্ত বা সম্মতি প্রদান না করা পর্যন্ত চুক্তি হয় না। কিন্তু কোন প্রস্তাব মেনে নিলেই বা সম্মতি প্রদান করলেই সব সময় তা চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয় না।

চুক্তির অন্যতম প্রধান উপাদান হলো সম্মতি।  অর্থাৎ চুক্তি করলেই তার মধ্যে সম্মতি থাকতেই হবে।  কিন্তু যেকোনো সম্মতি চুক্তি হয় না।  এই সম্মতি যদি আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য হয় তাহলে তা চুক্তিতে পরিণত হয়।  আর আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য না হলে তা চুক্তিতে রূপান্তরিত হয় না। 

যে সকল সম্মতি চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হয় না তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

১।  সম্মতির মধ্যে ভ্রম থাকলে।
২।  সব লোকের বিবাহে প্রতিবন্ধক সৃষ্টি কারী সম্মতি।
৩।  বাণিজ্যের জন্য প্রতিবন্ধক সৃষ্টিকারী সম্মতি।
৪।  বিচারকার্যে সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধক সৃষ্টিকারী সম্মতি।
৫।  যে সম্মতির কোন অর্থ নেই।
৬।  বাজি রেখে সম্মতি প্রদান করলে।
৭। অসম্ভব কোন কাজের জন্য সম্মতি।

সুতরাং দেখা যায়, অনেক সম্মতি আছে যা চুক্তি হিসেবে গ্রহণীয় নয়। অর্থাৎ বলা যায় সকল চুক্তিই সম্মতি, কিন্তু সকল সম্মতি চুক্তি নয়।



১.৮. 'চুক্তি আইন সমগ্র অধিকারে আইন নয় এবং সমগ্র বাধ্যবাধকতারও আইন নয়' - ব্যাখ্যা কর।

চুক্তি আইন সমগ্র অঙ্গীকার আইন নয় এবং সমগ্র বাধ্যবাধকতার ও আইন নয় বিষয়টি বিভিন্নভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন। তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

' চুক্তি আইন সমগ্র অঙ্গীকার আইন নয় ' : 

কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির নিকট কোন কাজ করতে অথবা কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকতে প্রস্তাব করলে এবং যাকে প্রস্তাব করা হয় সেই ব্যক্তি তাতে সম্মতি প্রদান করলে তাদের মধ্যে প্রতিশ্রুতি সৃষ্টি হয়।
পরস্পরের মধ্যে প্রতিদান সৃষ্টি করে এমন প্রতিশ্রুতি হলো অঙ্গীকার।  নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে একটি অঙ্গীকার আইন দ্বারা বলবৎ করা যায়। শর্ত গুলি হলো: সকল পক্ষকে চুক্তি করার যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে, বৈধ প্রতিদান থাকতে হবে, সম্মতি থাকতে হবে, প্রস্তাব থাকতে হবে,।  প্রস্তাব গ্রহণ থাকতে হবে, বৈধ উদ্দেশ্য থাকতে হবে, ইত্যাদি।

অন্যদিকে কোন নাবালক এর সাথে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের অঙ্গীকার করলে, সকল তথ্য যদি চুক্তি করার যোগ্যতা সম্পন্ন না হয়, যদি বৈধ প্রতিদান না থাকে, স্বাধীন সম্মতি না থাকে, প্রস্তাব না থাকে, প্রস্তাব গ্রহণ না থাকে, বৈধ উদ্দেশ্য না থাকে তাহলে এই অঙ্গীকার আইন দ্বারা বলবৎ হবে না।

অর্থাৎ বলবৎযোগ্য হলে তা চুক্তি আইনের অন্তর্ভুক্ত আর বলবৎযোগ্য না হলে তা চুক্তি আইনের অন্তর্ভুক্ত নয়।

সুতরাং বলা যায়, চুক্তি আইন সমগ্র অঙ্গীকার আইন নয়, শুধুমাত্র বলবৎযোগ্য অঙ্গীকারের আইন।


' চুক্তি আইন সমগ্র বাধ্যবাধকতারও আইন নয় ':

কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তির নিকট কোন কাজ করতে অথবা কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকতে প্রস্তাব করলে এবং যাকে প্রস্তাব করা হয় সেই ব্যক্তি তাতে সম্মতি প্রদান করলে তাদের মধ্যে প্রতিশ্রুতি সৃষ্টি হয়।

পরস্পরের মধ্যে প্রতিদান সৃষ্টি করে এমন প্রতিশ্রুতি হলো অঙ্গীকার। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে একটি অঙ্গীকার আইন দ্বারা বলবৎ করা যায়। শর্ত গুলি হলো: সকল পক্ষকে চুক্তি করার যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে, বৈধ প্রতিদান থাকতে হবে, সম্মতি থাকতে হবে, প্রস্তাব থাকতে হবে,।  প্রস্তাব গ্রহণ থাকতে হবে, বৈধ উদ্দেশ্য থাকতে হবে, ইত্যাদি।

এই সকল শর্ত পালন হলে পরস্পর পক্ষসমূহের মধ্যে আইনগত বাধ্যবাধকতার সৃষ্টি হয়। আইনগত বাধ্যবাধকতা হলে কোন পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করতে পারবে না। যদি কোন পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করে অপরপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। অর্থাৎ আইনের আশ্রয় গ্রহণ করে চুক্তি ভঙ্গকারী পক্ষকে চুক্তি পালনে বাধ্য করতে পারে। এক্ষেত্রে দেখা যায় চুক্তি আইন বাধ্যবাধকতারো আইন।

অন্যদিকে চুক্তি ছাড়াও বাধ্যবাধকতার সৃষ্টি হতে পারে। যেমন: কোন আদালতের রায়, প্রায় চুক্তি, টর আইনের অধীনে বাধ্যবাধকতা ইত্যাদি। এই ধরনের বাধ্যবাধকতা চুক্তি আইন নিয়ন্ত্রণ করে না।

সুতরাং বলা যায়, শুকরিয়া আইন সমগ্র বাধ্যবাধকতার আইন নয় ‌‌বরং নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতার আইন। 

পরিশেষে বলা যায়, সুপ্তি আইন সমগ্র অঙ্গীকার আইন নয় এবং সমগ্র বাধ্যবাধকতার আইন নয়। 

No comments:

Post a Comment