Friday, March 17, 2023

ইআ- ৮ উইল, মৃত্যুকালীন ঘোষণা, ওয়াকফ , মুতাওয়াল্লী

৮.১. উইলের সংজ্ঞা দাও এর উপাদান গুলো লিখ। 
৮.২. অজাত ব্যক্তির বরাবরে উইল করা যায় কি? 
৮.৩ কোন মুসলিম তার শরীরের কোন অঙ্গ অন্যকে দান করার বিষয়ে কিয়াস নীতির প্রয়োগ সংক্রান্ত বিধান কি? 

৮.৪ মৃত্যুকালীন ঘোষণার সংজ্ঞা দাও।  

৮.৫ মৃত্যুকালীন দানের বৈধতা, শর্ত বা বিধান আলোচনা কর। 

৮.৫।  ওয়াকফ কাকে বলে
৮.৬ ওয়াকফ এর উদ্দেশ্য: নিলে ওয়াকফ এর উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হলো  : 
৮.৭ ওয়াকফ ও ট্রাস্ট (জিম্মা) এর পার্থক্য:
৮.৮ কে ওয়াকফ করতে পারে বা ওয়াকিফের যোগ্যতা: 
৮.৯ ওয়াকফ কি প্রত্যাহার বা বাতিল করা যায়: 

৮.১০ মুতাওয়াল্লীর অধিকার   :



১০.২. দান ও উলের মধ্যে পার্থক্য দেখাও। 
৬.৪. একজন মুসলিম ব্যক্তির মিলের মধ্যে সম্পত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা নিষেধ গুলি আলোচনা করো। 

৬.৬. উইলকি প্রত্যাহার করা যায়? যদি যায় কখনো কি ভাবে? 

১২.১ হিবা বলতে কি বুঝায়? 

১২.২ বৈধ হিবার অপরিহার্য উপাদানসমূহ আলোচনা কর। 
১২.৩ কোন ক্ষেত্রে হিবা প্রত্যাহার করা যায় না?


৮.১. উইলের সংজ্ঞা দাও এর উপাদান গুলো লিখ। 
সম্পত্তির হস্তান্তরের অন্যতম একটি পদ্ধতি হল উইল। উইলের আরবি প্রতিশব্দ ওসিয়াত। উইল সম্পত্তি হস্তান্তরের এমন একটি আইনসঙ্গত প্রক্রিয়া যা কার্যকর হয় উইলকারীর মৃত্যুর পর। কোন সম্পত্তি উইল করতে হলে বেশ কিছু শর্ত মেনে চলতে হয়। অন্যথা উক্ত উইল বাতিল বলে গণ্য হবে।

উইল (Will) : কোন ব্যক্তি জীবতাবস্থায় যদি তার সম্পদের একটি অংশ কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা জনহিতকর কাজের জন্য প্রদানের বন্দোবস্ত করেন যা কার্যকর হবে ওসিয়তকারীর মৃত্যুর পর তাকে উইল বলে।

উইল করা মুস্তাহাব ‌। সুতরাং কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার কাফন দাফন, ঋণ পরিশোধ, বকেয়া বেতন বা মজুরি পরিশোধের পর সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকলে উইল কার্যকর হবে।
তাছাড়া এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করা বৈধ নয় ‌‌। তবে প্রাপ্তবয়স্ক অন্যান্য ওয়ারিশদের সম্মতি থাকলে এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করা যায় । আর সম্মতি ছাড়া এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করলে এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কার্যকর হবে। অতিরিক্ত অংশ কার্যকর হবে না। তবে ওয়ারিশদের কেউ কেউ সম্মতি প্রদান করলে তার অংশটুকু কার্যকর হবে।

উইলের শর্ত বা উপাদান বা বিধি নিষেধ: 
নিম্নে একটি বৈধ উইলের শর্ত বা উপাদান বা বিধি-নিষেধ উল্লেখ করা হলো:

১) সম্পদ বৈধ হওয়া: যে সম্পত্তি উইল করা হবে তা অবশ্যই উইলকারীর বৈধ সম্পত্তি হতে হবে।
২) স্বাধীন ও সাবালক হওয়া: যিনি উইল করবেন তাকে স্বাধীন ব্যক্তি হতে হবে এবং প্রাপ্তবয়স্ক সাবালক হতে হবে। অর্থাৎ পরাধীন বা নাবালক উইল করলে তা কার্যকর করা যায় না।

৩) উইল প্রত্যাহার না করা: প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উইল প্রত্যাহার করা যাবে না।

৪) জীবিত ব্যক্তিকে উইল করা: যাকে উইন করা হবে তাকে জীবিত থাকতে হবে। কোন মৃত ব্যক্তিকে উইল করা যায় না। তবে আজাত ব্যক্তির নামে শর্তসাপেক্ষে উইল করা যায়।

৫) উইলকারীকে হত্যা না করা: যার নামে উইল করা হবে সে যদি ২ তারিখে হত্যা করে তাহলে উক্ত উইল কার্যকর হবে না।

৬) ওয়ারিশকে বিল না করা: কোন ওয়ারিশকে উইল করা যাবে না ‌‌ । তবে অন্য ওয়ারিশগণ অনুমতি প্রদান করলে ওয়ারিশকে উইল করা যায়। 

৭) সম্পত্তি মালিকানার যোগ্য হওয়া: উইলকৃত সম্পত্তি মালিকানার যোগ্য হতে হবে।

৮) অন্য ওয়ারিশদের ক্ষতির উদ্দেশ্যে উইল না করা: শুধুমাত্র কোন ওয়ারিশকে ক্ষতি করার জন্য উইল করা যাবে না ‌

৯) একদিন সে বেশি উইল না করা:
কোন ব্যক্তি তার মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করতে পারবেনা। তবে অন্য ওয়ারিশগণ অনুমতি প্রদান করলে ১-৩ দিন বেশি উইল করা যায়। 


৮.২ আজাত ব্যক্তি অথবা জন্ম হয়নি এমন ব্যক্তির অনুকূলে উইল করা যায় কি?

যে ব্যক্তি এখনো জন্মগ্রহণ করেনি কিন্তু যার অস্তিত্ব আছে তাকে অজাত ব্যক্তি বলে। অর্থাৎ মাতৃ গর্ভস্থ সন্তানকে অজাত ব্যক্তি বলে। অযথ ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির মত নয় আবার জীবিত ব্যক্তির মতোও নয়। অজাত ব্যক্তি সীমিত অর্থে অধিকার ধারণ করে। বিভিন্ন আইনে অজাত ব্যক্তির আইনগত অধিকার সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত লক্ষ্য করা যায়। মুসলিম আইন অনুযায়ী অজাত ব্যক্তির অনুকূলে শর্তসাপেক্ষে উইল করা যায়। আর শর্ত হল উইলের তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে অজাত ব্যক্তিকে জীবিত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করতে হবে। 
সুতরাং বলা যায় অজাত ব্যক্তির অনুকূলে শর্তসাপেক্ষে উইল করা যায়।


৮.৩ কোন মুসলিম তার শরীরের কোন অঙ্গ অন্যকে দান করার বিষয়ে কিয়াস নীতির প্রয়োগ সংক্রান্ত বিধান কি? 

কোন মুসলিম তার শরীরের কোন অঙ্গ বিশেষ করে কিডনি বিক্রি করতে পারবে কিনা সেই বিষয়ে কোরআন বা হাদিসে সুনির্দিষ্ট কোন বিধান উল্লেখিত হয়নি। কাজী এই ক্ষেত্রে আমাদেরকে বিজ্ঞ আলেমদের মতামতের উপর নির্ভর করতে হয়। 

এক্ষেত্রে প্রায় সকল আলেম একমত পোষণ করেন যে, শরীরের কোন অঙ্গ বিশেষ করে কিডনি কোন অবস্থাতেই দান বা বিক্রি করা যাবে না। কারো প্রয়োজন হলে রক্ত দেয়া যাবে। এটি শরীয়তে জায়েজ। কিন্তু রক্ত বিক্রি করা যাবে না শুধু দান করা যাবে। সুতরাং বলা যায় একজন মুসলমান তার শরীরের কোন অংশ বিশেষ করে কিডনি বিক্রি তো করতে পারবেই না এমনকি দানও করতে পারবে না



৮.৪ মৃত্যুকালীন ঘোষণার সংজ্ঞা দাও।  

যার জন্ম আছে তার মৃত্যু আছে। অর্থাৎ জন্ম হলে মৃত্যু অবধারিত হবে। কারো মৃত্যু ব্যাধি হলেও একদিন মৃত্যু হবে আর ব্যাধি না হলেও একদিন মৃত্যু হবে।

একবার মৃত্যুবরণ করলে তার আর ফিরে আসার সুযোগ নেই। এমন একটা সময় মানুষ যে ঘোষণা দিয়ে যায় তাই মৃত্যু কালীন ঘোষণা। 
মৃত্যুকালীন ঘোষণাকে আরবিতে মারাজ উল মউথ কালীন ঘোষণা বলে। আর' মারজ -উল - মউত হল মরণব্যাধি বা মৃত্যুর রোগ।
মৃত্যুকালীন ঘোষণা কাকে বলে: 

সাক্ষ্য আইনের ৩২ ( ১ )ধারায় মৃত্যুকালীন ঘোষণার উল্লেখ করা হয়েছে। 
উক্ত ধারা অনুযায়ী" যখন কোন ব্যক্তি তার মৃত্যুর পূর্বে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোন ঘোষণা দিয়ে যায় অথবা কি কারণে তার মৃত্যু ঘটেছে সেই সম্পর্কে কোন বিবৃতি দিয়ে যায় তখন তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষনা বলে। 

অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে যে বিবৃতি বা ঘোষণা প্রদান করা হয় তাকে মৃত্যুকালীন ঘোষনা বলে।

৮.৫ মৃত্যুকালীন দানের বৈধতা, শর্ত বা বিধান আলোচনা কর।

নিম্নে মৃত্যু কালীন দানের বৈধতা, শর্ত বা বিধান আলোচনা করা হলো: 

১) দাতার মনে মৃত্যু ভয় থাকা: যে ব্যক্তি দান করবেন তার মনে অবশ্যই মৃত্যু ভয় থাকতে হবে। স্বাভাবিক অবস্থায় দান করলে তা মৃত্যুকালীন দান হবে না।

২) এক তৃতীয়াংশের বেশি দান করা যাবে না: মৃত্যুকালীন গান যদি মৃত ব্যক্তির মোট সম্পদের এক তৃতীয়াংশের বেশি হয় তাহলে এক তৃতীয়াংশের বেশি অংশটুকু কার্যকর হবে না। তবে অন্যান্য অংশীদারগণ সম্মতি প্রদান করলে উক্ত দান কার্যকর হবে।

৩( অন্য অংশীদারের দান না করা: মৃত্যুকালীন দান যদি অন্য অংশীদারদের অনুকূলে করা হয় তাহলে কার্যকর হবে না। তবে অন্য অংশীদারগণ সম্মতি প্রদান করলে  উক্ত দান কার্যকর হবে।

৪) দখল হস্তান্তর: দখল হস্তান্তর ছাড়া কোন দানই কার্যকর হয় না। অর্থাৎ মৃত্যুকালীন দান ও স্বাভাবিক দানের ন্যায় দখল হস্তান্তরের মাধ্যমে কার্যকর করতে হয়।


৮.৫।  ওয়াকফ কাকে বলে

ওয়াকফ একটি আরবী শব্দ। এর অর্থ কোন সম্পত্তিকে এক স্থানে আটকিয়ে রাখা। ওয়াকফ কারীর সম্পত্তি এক স্থানে আটকে রেখে তা থেকে অর্জিত আয় বা মুনাফা কোন প্রতিষ্ঠান বা দরিদ্রকে দান করা হলো ওয়াকফ।

ওয়াকফের সংজ্ঞা: ইমাম মুহাম্মদ ও ইমাম আবু ইউসুফ এর মতে, ওয়র্ক অফকৃত সম্পত্তিতে মালিকানা বিলোপ করে তার মালিকানা মহান আল্লাহর উপর ন্যস্ত করা এবং তা থেকে অর্জিত মুনাফা মানব কল্যাণে নিয়োগ করা হলো ওয়াকফ ‌‌। 

১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশের দুই এর দশ ধারা অনুযায়ী, মুসলিম আইনে কোন ব্যক্তি কর্তৃক স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি চিরস্থায়ীভাবে উৎসর্গ করাকে ওয়াকফ বলে ‌‌।


৮.৬ ওয়াকফ এর উদ্দেশ্য: নিলে ওয়াকফ এর উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হলো  : 


১) গরিবদের দান করা: কোন সম্পত্তি ওয়াকফ করার অন্যতম উদ্দেশ্য গরিবদের দান করার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করা।
২) ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা: কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করার জন্য সম্পত্তি ওয়াকফ করা হয়। 
৩) ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মেরামত করা: ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মেরামত করার জন্য সম্পত্তি ওয়াকফ করা হয়। 
৪) ইমাম মুয়াজ্জিনদের সহযোগিতা করা: ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের থাকা বা খাওয়ার সুব্যবস্থা জন্য সম্পত্তি ওয়াকফ করা হয়।
৫) সামাজিক কাজ করা: সামাজিক কাজের জন্য সম্পত্তি ওয়াকফ করা হয়। যেমন বাঁধ সারাইখানা, পান্থশালা, নির্মাণ ইত্যাদি।
৬) সাধারণ শিক্ষকদের সহযোগিতা করা: শিক্ষাদানের জন্য সাধারণ শিক্ষকদের থাকা এবং খাওয়ার সুব্যবস্থা জন্য সম্পত্তি ওয়াকফ করা হয়। 


৮.৭ ওয়াকফ ও ট্রাস্ট (জিম্মা) এর পার্থক্য:

১: সঙ্গাগত পার্থক্য: কোন মুসলিম কোন সম্পত্তি ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে তার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি চিরস্থায়ীভাবে উৎসর্গ করলে তাকে ওয়াকফ বলে। পক্ষান্তরে কোন ব্যক্তি যখন তার উপর অর্পিত কোন অধিকার অন্যের পক্ষে ব্যবহারের জন্য বাধ্য হয় তখন উক্ত বাধ্যবাধকতাকে ট্রাস্ট বলে।

২) প্রতিশব্দ গত পার্থক্য: ওয়াকফ কে ইংরেজিতে wakf বলে। পক্ষান্তরে ট্রাস্ট কে ইংরেজিতে ট্রাস্ট বলে।

৩( উদ্দেশ্য গত গত পার্থক্য: ওয়াকফ এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণমূলক কাজ। পক্ষান্তরে কোন বৈধ উদ্দেশ্যের জন্য জিম্মা সৃষ্টি হয়।

৪) উৎসর্গগত পার্থক্য: ওয়াকফ সম্পত্তি আল্লাহর নামে উৎসর্গ করতে হয়। পক্ষান্তরে জিন্মার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।

৫) ভাতা গত পার্থক্য: ওয়াকফ সম্পত্তির মতোয়াল্লি তার পরিশ্রমের জন্য ভাতা পেতে পারেন। পক্ষান্তরে জিন্মার ক্ষেত্রে জিম্মাদার এরূপ দাবি করতে পারেন না।



৮.৮ কে ওয়াকফ করতে পারে বা ওয়াকিফের যোগ্যতা: 

যে সকল ব্যক্তির চুক্তি করার যোগ্যতা আছে তারা কোন সম্পত্তি ওয়াকফ করতে পারে। সাধারণত ধর্মীয় বা জনকল্যাণে কোন সম্পত্তি ওয়াকফ করা হয়। নিম্নের একজন ওয়াকি ফের যোগ্যতা উল্লেখ করা হলো: 

১) ওয়াকফকারীকে মুসলিম হতে হবে।
২( ওয়াকফ কারী কে সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন হতে হবে।
৩) ওয়াকফ কারী কে সাবালক হতে হবে ‌

৪) ওয়াকফকারীকে ওয়াকফকৃত সম্পত্তির মালিক হতে হবে ‌‌

হিন্দু আইন অনুযায়ী একজন হিন্দু কোন সম্পত্তি ওয়াকফ করতে পারে ‌


৮.৯ ওয়াকফ কি প্রত্যাহার বা বাতিল করা যায়: 
একটি উইল উইল কারীর জীবদ্দশায় যেকোনো সময় প্রত্যাহার করা যায় ‌‌। কিন্তু ওয়াকফকৃত সম্পত্তি প্রত্যাহার বা বাতিল করা যায় না। 
ওয়াকসকৃত সম্পত্তিতে যদি তা ফেরত নেয়ার কোন শর্ত থাকে তাহলে তা বৈধ ওয়াকফ বলে গণ্য হবে না ‌‌। অর্থাৎ ওয়ার্ক অফকৃত সম্পত্তি কোনক্রমে প্রত্যাহার বা বাতিল করা যাবে না। কিন্তু কেউ যদি অবৈধ কোন ওয়াকফ করে, যেমন- অন্যের সম্পত্তি ওয়াকফ করলে উক্ত ওয়াকফ বৈধ হবে না। এই ধরনের ওয়াকফ প্রত্যাহার বা বাতিল করা যায়। 


৮.১০ মুতাওয়াল্লীর অধিকার   :

একজন মোতাওয়াল্লী নিম্নের অধিকার ভোগ করেন-
১) পারিশ্রমিক প্রাপ্তি- একজন মোতাওয়ালী নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক পাবেন।
২) পথ থেকে অপসারণ না করা: ব্যক্তিগত কোন ডিগ্রি জারির মাধ্যমে মতয়াল্লিকে তারপর থেকে অপসারণ করা যাবে না।

৩) বক্তব্য প্রদানের সুযোগ: মুতালিকে অপসারণ করতে হলে তাকে তার বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দিতে হবে। অন্যথা অপসারণ করা যাবে না।

৪) পদ হস্তান্তর করা যাবে না: মুতাওয়ালীর পথ অন্য কারো নিকট হস্তান্তর করা যাবে না।

মতোয়ালির দায়িত্ব-কর্তব্য কার্যাবলী:

নিম্নে মুতাওয়ালীর দায়িত্ব-কর্তব্য ও কার্যাবলী উল্লেখ করা হলো: 

১) আয় ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ ও দাখিল: একজন মোতাওয়ালী ওয়াকফকৃত সম্পত্তির যাবতীয় আয় ব্যয় হিসাব সংরক্ষণ করবেন এবং প্রশাসক বরাবর দাখিল করবেন।

২) পরবর্তী মতয়াল্লি নিয়োগ: ওয়াকফ নামায় মতোয়ালিনী নিয়োগের কোন বিধান উল্লেখ না থাকলে একজন মুতয়াল্লি পরবর্তী মুতয়াল্লি নিয়োগ করতে পারেন ‌‌‌‌।
৩) সম্পত্তি ইজারা প্রদান: একজন মতওয়ালি ওয়াকসকৃত সম্পত্তি ইজারা প্রদান করতে পারেন। এক্ষেত্রে উক্ত জমি যদি আবাদি হয় তাহলে সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য এবং অনাবাদি হলে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য ইজারা প্রদান করতে পারেন। 

৪) অর্থ ব্যয় করার ক্ষমতা: ওয়াকরকৃত সম্পত্তির উদ্দেশ্য পরিপন্থী নয় এমন ক্ষেত্রে মতয়ালী অর্থ ব্যয় করতে পারেন।

৫) সম্পত্তির তালিকা প্রণয়ন: মতোয়ালি ওয়াকসকৃত সম্পত্তি প্রশাসকের দপ্তরে তালিকাভুক্ত করবেন। 

No comments:

Post a Comment