৫.১ হিজানাত এবং উলিয়াত বলতে কি বুঝ?
৫.২. মাতা যখন হিজানাত বা অভিভাবকত্ব হতে বঞ্চিত হয়।
৫.৩. মুসলিম নাবালকের সম্পত্তির আইনগত অভিভাবক কারা?
৫.৪. কখন আইনগত অভিভাবক নাবালকের স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন? / আইনগত অভিভাবক নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর করলে তার ফলাফল।
৫.৫. কার্যত অভিভাবক কারা?
৫.৬. নাবালকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ব্যাপারে কার্যত: অভিভাবক ক্ষমতা আলোচনা কর। / কার্যত অভিভাবকের ক্ষমতার পরিসর আলোচনা কর।/ অভিভাবক নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর করলে তার ফলাফল।
৫.৭. অভিভাবক ও রক্ষকের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
৫.৮. আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর করলে তার ফলাফল।
৫.১ হিজানাত এবং উলিয়াতবলতে কি বুঝ?
মুসলিম আইন অনুযায়ী পিতা হলেন কোন সন্তানের মূল অভিভাবক। ১৮৯০ সালের অভিভাবক এবং প্রতিপাল্য মুসলিম আইনে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এই আইনে অভিভাবকদের যেমন নিয়ন্ত্রণ করেছে তেমনি নাবালকদের স্বার্থকে সংরক্ষণ করেছে।
হিজানাত বা অভিভাবকত্ব:
ইসলামী আইন অনুযায়ী একজন মাতা তার সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক নয়। পিতা হলেন তার সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক। আর মাতা তার নাবালক সন্তানের শরীরের তত্ত্বাবধনের অধিকারী। উক্ত সন্তান বাওপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত বা বালক না হওয়া পর্যন্ত মাতার ওই অধিকার বজায় থাকে।
একে হিজানাত বলে ।
উলিয়াত:
ইসলামী আইন অনুযায়ী একজন মাতা তার সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক নয়। তার মাথা তার নাবালক সন্তানের শরীরের তত্ত্বাবধানের অধিকারী। এক্ষেত্রে পিতা উক্ত সন্তানের অভিভাবক। পিতা অনুপস্থিতিতে পিতা যদি কোন ব্যক্তিকে এক্সিকিউটর নিযুক্ত করে যান তাহলে তিনি নাবালকের অভিভাবক হবেন। এটিই হলো উলিয়াত।
৫.২. মাতা যখন হিজানাত বা অভিভাবকত্ব হতে বঞ্চিত হয়।
একজন মাতা বিভিন্ন কারণে তার সন্তানের হিজানাতের অভিভাবকত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।
নিম্নেতা উল্লেখ করা হলো:
১) পুনরায় বিবাহ করলে: মাতা যদি পুনরায় অজ্ঞাত কোন ব্যক্তিকে বিবাহ করেন তাহলে তিনি পূর্বের ঘরের সন্তানের উপর হিজানাত থেকে বঞ্চিত হবেন।
২) অসতী জীবন যাপন করলে: মাতা যদি অসতী অবস্থায় জীবনযাপন করেন। যেমন পতিতা হিসেবে। তাহলে তিনি তার সন্তানের হিজানাত থেকে বঞ্চিত হবেন।
৩) দূরবর্তী স্থানে বসবাস করলে: মাতা যদি যথাযথ কারণ ছাড়া সন্তান থেকে দূরে কোথাও বসবাস করেন তাহলে হিজানাত থেকে বঞ্চিত হবেন।
৫.৩. মুসলিম নাবালকের সম্পত্তির আইনগত অভিভাবক কারা?
নিম্নে মুসলিম নাবালকের সম্পত্তির আইনগত অভিভাবক উল্লেখ করা হলো:
১) পিতা,
২) পিতা কর্তৃক বিল দ্বারা নিযুক্ত এক্সিকিউটর।
৩) পিতার পিতা বা দাদা।
৪) পিতার পিতা বা দাদা কর্তৃক উইল দ্বারা নিযুক্ত এক্সিকিউটর।
৫.৪. কখন আইনগত অভিভাবক নাবালকের স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন? / আইনগত অভিভাবক নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর করলে তার ফলাফল।
নিম্নপ্ত কারণে একজন আইনগত অভিভাবক নাবালকের স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে:
১) নাবালকের সম্পত্তির দ্বিগুণ মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে।
২) সম্পত্তির আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হলে অর্থাৎ ক্ষতি হলে
৩) সম্পত্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকলে বা ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে থাকলে
৪) নাবালকের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজন হলে
৫) নাবালক জানা থাকলে তা পরিষদের জন্য
৬) সম্প্রতি পুনরুদ্ধারের খরচের জন্য
উপরোক্ত কারণে একজন আইনগত অভিভাবক নাবালকের স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করলে উক্ত হস্তান্তর বৈধ হবে। অন্যথায় অবৈধ হবে।
অর্থাৎ একজন আইনগত অভিভাবক নাবালকের সম্পত্তি অনেক ক্ষেত্রে হস্তান্তর করতে পারেন। উক্তরূপ হস্তান্তর বৈধ বলে গণ্য হবে।
৫.৫. কার্যত অভিভাবক কারা?
কার্যত অভিভাবক:
কোন ব্যক্তি যদি কোন নাবালকের আইনগত অভিভাবক বা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক না হওয়া সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় তার দেহ ও সম্পত্তির অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তাহলে তাকে কার্যত অভিভাবক বলে।
কোন নাবালকের আইনগত অভিভাবক অর্থাৎ পিতা বা দাদা না থাকলে যদি আদালত কোন অভিভাবক নিযুক্ত না করেন তাহলে উক্ত নাবালকের মাতা চাচা ভাই ইত্যাদি ব্যক্তি কার্যত অভিভাবক হতে পারেন।
৫.৬. নাবালকের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ব্যাপারে কার্যত: অভিভাবক ক্ষমতা আলোচনা কর। / কার্যত অভিভাবকের ক্ষমতার পরিসর আলোচনা কর।/ অভিভাবক নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর করলে তার ফলাফল।
নিম্নে নাবালকের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ব্যাপারে কার্যত অভিভাবকের ক্ষমতা উল্লেখ করা হলো:
১) স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর: কার্যত অভিভাবক নাবালকের কোন স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন না। যদি করে থাকেন তাহলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
২) অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর: কার্যত অভিভাবক এর কোন অস্থাবর সম্পত্তি তার আবশ্যিক প্রয়োজনীয় হস্তান্তর করতে পারেন।
৩) ইজারা প্রদান: কার্যত অভিভাবক নাবালকের কোন স্থাবর সম্পত্তি ইজারা প্রদান করতে পারেন না।
৪) বন্ধক প্রদান: কার্যত অভিভাবক না ব্লকের কোন স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক প্রদান করতে পারেন না।
৫) কারবার পরিচালনা: কার্যত অভিভাবক না ব্লকের স্থাপন সম্পত্তি দ্বারা অংশীদারি কারবারের অংশীদার হিসেবে দায়বদ্ধ করতে পারেন না।
৫.৭. অভিভাবক ও রক্ষকের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
নিম্নে অভিভাবক ও রক্ষকের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:
১) সংজ্ঞা গত পার্থক্য: যার প্রতিপালনে কোন নাবালক রয়েছে, সেই ব্যক্তিকে উক্ত নাবালকের অভিভাবক বলে। পক্ষান্তরে আদালত যখন কোন নাবালককে কোন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে অর্পণ করেন, সেই ব্যক্তিকে নিযুক্ত অভিভাবক বা রক্ষক বলে।
২) প্রতিশব্দ গত পার্থক্য: অভিভাবক এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Guardian. পক্ষান্তরে রক্ষকের ইংরেজি প্রতিশব্দ Custody.
৩) প্রকারভেদগত পার্থক্য: অভিভাবক তিন শ্রেণীর হতে পারে। ১) আইনগত অভিভাবক, ২) আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক, ৩) কার্যত অভিভাবক। পক্ষান্তরে রক্ষকের কোন প্রকারভেদ নেই।
৪) সম্পত্তি হস্তান্তর্গত পার্থক্য: অভিভাবক কখনো কখনো নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে। পক্ষান্তরে রক্ষক কখনোই নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না।
৫) ব্যাপকতা গত: অভিভাবক ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। অন্তরে রক্ষক সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
৬) আত্মীয়তা গত: অভিভাবকের সাথে নাবালকের অবশ্যই আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকে।
পক্ষান্তরে রক্ষকের সাথে নাবালকের আত্মীয়তার সম্পর্ক নাও থাকতে পারে।
৫.৮. আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর করলে তার ফলাফল।
কোন নাবালকের যদি আইনগত অভিভাবক না থাকে তাহলে আদালত উত্তর নাবালকের মাতা চাচা ভাই বা অন্য কোন ব্যক্তিকে অভিভাবক নিযুক্ত করতে পারেন.। একে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক বলে।
নিম্নে আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবকের নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তরের ফলাফল উল্লেখ করা হলো:
১) স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর: আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক আদালতের অনুমতি ব্যতীত স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন না। যদি করেন তাহলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
২) অস্থাবর সম্পত্তির হস্তান্তর: আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক নাবালকের কোন অস্থাবর সম্পত্তি তার আবশ্যকীয় প্রয়োজনে বিবেকবান ব্যক্তির ন্যায় হস্তান্তর করতে পারেন।
৩) ইজারা প্রধান: আদালত কর্তৃক নিযুক্ত অভিভাবক নাবালকের কোন স্থাবর সম্পত্তি পাঁচ বছরের বেশি সময়ের জন্য ইশারা প্রদান করতে পারেন না। আবার নাবালকত্ব অবসানের তারিখ হতে এক বছর বেশি মেয়াদের জন্য ইজারা প্রদান করতে পারেন না।
No comments:
Post a Comment