Friday, March 24, 2023

ইকুইটি, ন্যায়পরায়ণতা

১.১ ।  ইকুইটির সংজ্ঞা দাও। / ন্যায় পরতা বলতে কি বুঝ? 

১.২ । ইকুইটি কি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন? ইকুইটি স্বয়ং সম্পূর্ণ ব্যবস্থা।

১.৩। চ্যান্সরী কোর্টের এখতিয়ারের শ্রেণীবিভাগ লিখ এবং সংক্ষেপে আলোচনা কর এবং এর অর্জন গুলির উল্লেখ করো।  / ন্যায়পর আদালতের (চ্যান্সরি আদালত) 'ইকুইটি আইনকে বিনষ্ট করতে আসেনি বরং স্বয়ংসম্পূর্ণতা দানের জন্য এসেছে' ব্যাখ্যা কর।


১.৪।  সাধারণ আইন বা কমন 'ল' এর সাথে ইকুইটির পার্থক্য লিখ।  / আইন ও ইকুইটি এর মধ্যে পার্থক্য কর। / জুডি ক্যাচার আইন ১৮৭৩ ও ১৮৭৫ পাস হওয়ার পূর্বে ও পরে কমন ল কোর্ট ও চ্যান্সেরী কোটের পার্থক্য লিখ।

 
১.৫।  ইংলিশ আইন ব্যবস্থায় ইহার বিকাশের বিবরণ দাও।  /  কমন ল কোর্টের যে সকল দুর্বলতার কারণে ইংল্যান্ড ইকুইটির জন্ম লাভ করেছে বা বিকাশ লাভ করেছে ব্যাখ্যা কর।  /  

১.৬।  ইকুইটি ম্যাক্সিম বা ন্যায়পরায়তার নীতিমালা কি?

১.৭।  ন্যায়পরায়ত এর নীতি বা ম্যাক্সিম সমূহ কিভাবে উৎপত্তি ও বিকাশ লাভ করেছে?/ ম্যাক্সিমগুলো ন্যায়পরায়তাকে সীমাবদ্ধ করেছে। এটা কি তুমি সমর্থন কর?। আলোচনা কর। / বাংলাদেশে ইকুইটি নীতিমালা বা ম্যাক্সিমসমূহের উৎস ও বিকাশ ব্যাখ্যা কর। / ইকুইটির উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ। 

১.৮/ বাংলাদেশের আদালত সমূহ ন্যায়পরায়তা কিভাবে কার্যকর হয়? উদাহরণ দাও।/ বাংলাদেশে ন্যায়পরতার প্রয়োগ কিভাবে হয় আলোচনা কর। / বাংলাদেশের ইকুইটি প্রয়োগ। / ন্যায়পরতা অধিকাংশ মূলনীতি বাংলাদেশের সং বিধিবদ্ধ আইনে সন্নিবেশিত হয়েছে।

১.৯/ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বলতে কি বুঝ? 

১.১০/ যে সকল চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে সম্পাদন করা যায় তা উদাহরণসহ আলোচনা কর ‌‌। 

১.১১/ বাধ্যতামূলক ও নিষেধ মূলক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কর। 

১.১২/ ইকুইটি আদালতে কিভাবে বাধ্যতামূলক বা আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা এবং নিষেধ মূলক নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করে?

১.১৩/ ইকুইটি বা ন্যায়পরতার প্রকৃতি, পরিধি আলোচনা কর। ইকুইটির প্রয়োগ আলোচনা কর অথবা ইংল্যান্ডে এর উৎপত্তি ও ক্রম বিকাশ এবং বাংলাদেশে তার প্রয়োগ আলোচনা কর।

১.১৪ কমন ল বা সাধারন আইন ইকুইটির সম্পর্ক বা মিল আলোচনা কর।



৯। উদাহরণসহ নিম্নের নীতিমালাগুলো ব্যাখ্যা কর- 

১) বিলম্ব ন্যায়পরায়তকে ব্যর্থ করে দেয়।
২) ইটিভিটি বাহ্যিক আকৃতি অপেক্ষায়, উদ্দেশ্যকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে।
৩) ন্যায়পরায়তা ব্যক্তি কেন্দ্রিক কাজ করে।
৪) ন্যায়পরায়তায় বিচার প্রার্থীকে পরিষ্কার হাতে আসতে হবে।
৫) ন্যায় পরায়তা প্রতিকার বিহীন কোন আচরণকে সহ্য করেনা।
৬) সমতাই ন্যায় পরায়ণতা
৭) ন্যায়পরায়তা আইনকে অনুসরণ করে

৬) সাধারণ আইন ব্যতীত ন্যায়পরায়ণতা বা ইকুইটি শূন্যে বিরাজমান ‌‌। এক দুর্গ বিশেষ যা অসম্ভব। আলোচনা কর। অথবা সাধারণ আইন ব্যতীত ইকুইটি শুন্যে সৌধের নেয় অলীক মাত্র। আলোচনা কর। 
১০ ন্যায় পরায়তার এখতিয়ার এবং আইন ও ন্যায়পরায়ণতা একত্রিতরণ ব্যাখ্যা কর। 
১৩। Eral of Oxford মামলার সিদ্ধান্ত Chancery Court কে কিভাবে ভগবান করেছে? তা ব্যাখ্যা কর।
১৪। ইকুইটি আংশিক সম্পাদন নীতি আলোচনা কর ‌‌। 
১৫। আংশিক সম্পাদন নীতি প্রয়োগের শর্ত সমূহ বর্ণনা কর। 
১৬। বাংলাদেশে ইহা কিভাবে বিকাশ লাভ করেছে? 
১৭। ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশের আংশিক সম্পাদন আইনের মধ্যে তুমি কি পার্থক্য দেখতে পাও? 







১)
২) ন্যাপরতায় এখতিয়ার এবং আইন ন্যায়পরতা একত্রিকরণ ব্যাখ্যা কর।
৪) ন্যায় পরতা মেক্সিন বলতে কী বোঝো? মেক্সিমগুলো ন্যায় পড়াতে সীমাবদ্ধ করেছে এটি তুমি কি সমর্থন করো? 


৫) নিম্নের যেকোনো দুটি নীতি ব্যাখ্যা করো

ক) নেপরতার প্রার্থীকে অবশ্যই পরিষ্কার হয়ে আসতে হবে।
খ) ন্যায়পরতা ব্যক্তি কেন্দ্রিক কাজ করে।
গ) নেয় বড়দা প্রতিকার বিহীন কোন আচরণকে সহ্য করে না।

৬) চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বলতে কি বুঝ? যে সকল চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যায় তা উদাহরণসহ আলোচনা কর।

খ) বাধ্যতামূলক ও নিষেধ মূলক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কর।
গ) ইকুইটি আদালত কিভাবে এগুলো প্রয়োগ করে?





১. ১।  ইকুইটির সংজ্ঞা দাও। / ন্যায় পরতা বলতে কি বুঝ? 

ইংরেজি Equity শব্দের বাংলা অর্থ ন্যায়পরায়ণতা। এটি রোমান শব্দ Acquitas থেকে উদ্ভূত। Acquitas অর্থ সমকক্ষ বা সমান করা। ইংল্যান্ড কমন ল অপর্যাপ্ত আইনের কারণে বিচারপ্রার্থী অনেকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হতো। অনেক ক্ষেত্রে কমন ল নীরব থাকতো আবার অনেক ক্ষেত্রে অনমনীয় থাকতো। ইকুইটি বা ন্যায়পর আদালত এই সকল সমস্যার সমাধান প্রদান করত।

ইকুইটি বা ন্যায়পরতা কাকে বলে: 
সমতার ভিত্তিতে নিরপক্ষতা মূলক আচরনকে ইকুইটি বা ন্যায়পরতা বলে। আইনবিদ senell এর মতে, ন্যায় পরায়ণতা বলতে স্বাভাবিক ন্যায় বিচারের সেই অংশকে বুঝায় যার প্রয়োগ ইংল্যান্ডের কমন ল আদালত কর্তৃক বর্জিত হলেও চ্যান্সেরী আদালত কর্তৃক গৃহীত ও বিচার্য।

সুতরাং বলা যায় সাধারণ আইনে যে সকল প্রতিকার ছিল না, সেই সকল ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চ্যান্সেলরগণ যে সিদ্ধান্ত প্রদান করতেন তাকে ইকুইটি বা ন্যয়পরতা বলে।


১.২। ইকুইটি কি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন? ইকুইটি স্বয়ং সম্পূর্ণ ব্যবস্থা। 


সাধারণ আইন বা কমন ল হলো ইংল্যান্ডের আইনের মূল ভিত্তি। আর ইকুইটি আইন তার সাহায্যকারী আইন। কমন ল এর পরিপুরুষ হিসেবে এই আইন চালু হয়েছিল। যেখানে কমন ল' নিরব বা ব্যর্থ হতো। সেখানে ইকুইটি আইন সেই ঘাটতি পূরণ করত। কমন ল বা সাধারণ আইন ছাড়া ইকুইটি সম্ভব নয়। 

আইন বিজ্ঞানী মেইটল্যান্ড ( Maitland ) বলেন, ইকুইটি সাধারণ আইনকে ধ্বংস করতে আসেনি বরং পূর্ণতা দান করতে এসেছে। তিনি আরো বলেন' কোন স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন নয়। তার মতে' ইকুইটি ছাড়া দেশ চলতে পারে কিন্তু কমন ল বা সাধারণ আইন ছাড়া দেশ চলতে পারে না। 

সুতরাং বলা যায় কমন ল বা সাধারণ আইন আছে বলেই ইকুইটির মূল্য আছে। সাধারণ আইন না থাকলে ইকুইটি মূল্যহীন। অর্থাৎ ইকুইটি কোন স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন নয়।

৩। চ্যান্সরী কোর্টের এখতিয়ারের শ্রেণীবিভাগ লিখ এবং সংক্ষেপে আলোচনা কর এবং এর অর্জন গুলির উল্লেখ করো।  / ন্যায়পর আদালতের (চ্যান্সরি আদালত) 'ইকুইটি আইনকে বিনষ্ট করতে আসেনি বরং স্বয়ংসম্পূর্ণতা দানের জন্য এসেছে' ব্যাখ্যা কর।


নিম্নে ন্যায়পর আদালতের এখতিয়ার উল্লেখ করা হলো: 
সাধারন আইন যেখানে প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা ছিল না সেখানেই ইকুইটি বা ন্যায়পরায়ণতার আইন প্রয়োগ করে সর্বসাধারণের প্রার্থিত প্রতিকার প্রদান করা হতো। ন্যায়পর বা চ্যান্সেল আদালতের বিচারকগণ তাদের সুবিবেচনার উপর ভিত্তি করে বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। তবে চ্যান্সেলরদের এই বিচারকার্যের নির্দিষ্ট কোন এখতিয়ার ছিল না। ১৭ শতাব্দীতে এসে এই আদালতের বিভিন্ন এখতিয়ার প্রয়োগ শুরু হয়। ন্যায় পর আদালত বার জেমসেরই আদালতের তিন ধরনের এখতিয়ার লক্ষ্য করা যায়। 

১) একচেটিয়া এখতিয়ার: কমন ল বা সাধারণ আইন জনগণের সকল সমস্যার প্রতিকার প্রদানে ব্যর্থ ছিল। যে সকল প্রতিকার কমন ল পেয়েছিল না সেইসব ক্ষেত্রে চ্যান্সেরী আদালত একচেটিয়ে এখতিয়ার প্রয়োগ করত। 

২) সহগামী এখতিয়ার: অনেক ধরনের বিষয় ছিল যেগুলোর ক্ষেত্রে কমন ল পরিপূর্ণভাবে প্রতিকার প্রদান করতে না পারলেও আংশিক সমস্যার সমাধান করতে পারত। এইসব ক্ষেত্রে ন্যায়পরতা আদালত কমন ল আদালতের সাথে জনগণের সমস্যার সমাধান করতে বিচার ব্যবস্থায় পরিপূর্ণতা দান করতো। অর্থাৎ কমন ল আদালত ও ন্যায়পরতা আদালত সহগামী আদালত হিসেবে কাজ করতো।
৩) সহায়ক এখতিয়ার: ন্যায় পরতা আদালত বা চ্যান্সেরী আদালত সর্বদা জনগণকে সহায়ত করত। কমন ল আদালত ও ন্যায়পরতা আদালত সহগামী আদালত হিসেবে কাজ করতো। 

মূলত: ন্যায়পরতা আদালত বা চ্যান্সেরী আদালতের সুনির্দিষ্ট কোন এখতিয়ার পৃথক করা সম্ভব নয় ‌। যার ফলে অনেক উপরোক্ত বিভাজন গুলির সমালোচনা করে থাকেন।


৪।  সাধারণ আইন বা কমন 'ল' এর সাথে ইকুইটির পার্থক্য লিখ।  / আইন ও ইকুইটি এর মধ্যে পার্থক্য কর। / জুডি ক্যাচার আইন ১৮৭৩ ও ১৮৭৫ পাস হওয়ার পূর্বে ও পরে কমন ল কোর্ট ও চ্যান্সেরী কোটের পার্থক্য লিখ।



ইংল্যান্ডের সাধারণ বা common ল ও এর সাথে ইকুইটির পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:

১) সংজ্ঞাগত: ইংল্যান্ডে প্রচলিত সাধারন আইনকে কমন ল বা সাধারণ আইন বলা হয়।
পক্ষান্তরে সমতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষতামূলক আচরণকে ইকুইটি বা ন্যায়পরায়তা বলে।

২) প্রতিশব্দগত: কমন 'ল' এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Common Law. পক্ষান্তরে ইকুইটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Equity. 

৩) উৎসগত: কমন 'ল' ইংল্যান্ডের প্রথা রীতিনীতি এবং বিধিবদ্ধ আইনের সমন্বয়ে গঠিত। পক্ষান্তরে ইকুইটি ন্যায়-নীতি ও সু বিবেচনার উপর প্রতিষ্ঠিত।

৪) সমস্যার সমাধানগত: কমনও যেকোনো সমস্যার সমাধান দিতে পারত না। পক্ষান্তরে ইকুইটি যেকোনো সমস্যার সমাধান দিতে পারতো।

৫) আদালতের নাম গত: সাধারণ আইনের আদালতকে কমন 'ল' আদালত বলা হতো।
পক্ষান্তরে ইকুইজি আদালত কে চ্যান্সেরী আদালত বলা হতো।

৬) নমনীয়তাগত: কমন 'ল' ছিলো অনমনীয়।
পক্ষান্তরে ইকুইটি ছিল নমনীয়। 

৭) পরিচালিতগত: কমন 'ল' দেশে প্রচলিত আইন দ্বারা পরিচালিত হতো। পক্ষান্তরে ইকুইটি বারটি মেক্সিম দ্বারা পরিচালিত হতো।

৮) এখতিয়ার গত: কম মূল্য এর এখতিয়ার ছিলো সম্পত্তিভিত্তিক। পক্ষান্তরে ইকুইটির এক্সপিয়ার সম্পত্তি ও ব্যক্তি ভিত্তিক।

৯) দৃষ্টিগত: কমন ল ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টি দিয়ে বিচার করতো। ইকুইটি অন্যায়ের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে বিচার করতো। 

১০) পূর্ণাঙ্গতাগত: কমন 'ল' একটি পূর্ণাঙ্গ আইন ব্যবস্থা। ইকুইটি একটি পূর্ণাঙ্গ আইন ব্যবস্থা নয়।

কমন ল এর বিভিন্ন দুর্বলতার কারণে ইকুইটি বা ন্যায়পরতার আদালতের সৃষ্টি হয়। তবে ন্যায়পরতা আদালত কমন ল আদালতকে অস্বীকার করত না। বরং দুইটি আদালত পরস্পর একটি অপরটিকে অনুসরণ করত। অর্থাৎ একটি আদালত অন্যটির সহায়ক হিসেবে কাজ করতো।

 
৫।  ইংলিশ আইন ব্যবস্থায় ইহার বিকাশের বিবরণ দাও।  /  কমন ল কোর্টের যে সকল দুর্বলতার কারণে ইংল্যান্ড ইকুইটির জন্ম লাভ করেছে বা বিকাশ লাভ করেছে ব্যাখ্যা কর।  /  ইংল্যান্ডে সাধারণ আইনের আদালত থাকা সত্ত্বেও ইকুইটি আদালত সৃষ্টির প্রয়োজন হল কেন? 

ইংল্যান্ডে কমন ল বা সাধারণ আইনের আদালত থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে ইকুইটি আদালত সৃষ্টির প্রয়োজন হয়েছিল বা ন্যায় পরায়তা বিকাশ লাভ করেছিল। নিম্নে সেগুলি আলোচনা করা হলো

১) উৎসগত: কম মূল্য ইংল্যান্ডের প্রথা, রীতি রীতি এবং বিধিবদ্ধ আইনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল। যার ফলে অনেক বিষয়ে এর বাহিরে রয়ে যেত। এজন্য ইকুইটি আদালত সৃষ্টির প্রয়োজন হল।

২) সকল সমস্যা সমাধানে অক্ষম: 
কমন ল যেহেতু নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর সৃষ্টি হয়েছিল সেহেতু এই আইন যেকোনো সমস্যা সমাধান দিতে পারত না। যার ফলে ইকুইটি আইন বিকাশ লাভ করে।

৩) অপর্যাপ্ত আইন: কমন লক আদালতে যে সকল আইন ব্যবহৃত হতো তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। যার ফলে সকল ধরনের বিচারপ্রার্থীরা তাদের বিচার পেতেন না। এই সমস্যা দূর করার জন্য ইকুইটি আদালত প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন হয় বা ইকুইটি আইন বিকাশ লাভ করে।

৪) অনমনীয় আইন: কমন ল ছিল অনমনীয়। প্রয়োজনের তাগিদে তা পরিবর্তন করার যেত না অথচ করা দরকার। এই সমস্যার কারণেই equity আদালতের প্রয়োজন হয়।

৫) অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা: কম মূল্য অনেক প্রতিকার প্রদান করতে পারত না যার ফলে নীরবতা পালন করত। যার ফলে ইকুইটি আইন বিকাশ লাভ করে।

৬) এখতিয়ারের অপর্যাপ্ততা: কমন ল এর একটি আর ছিল সম্পত্তি ভিত্তিক। কিন্তু সম্পত্তির বাইরে অনেক কিছু ছিল। অর্থাৎ অনেক কিছুই আদালতের এখতিয়ারের বাইরে ছিল। এজন্য ইকুইটি আদালত প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন হয় বা ইকুইটি আইন বিকাশ লাভ করে।

৭) ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টি: কমন ল ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টি দিয়ে বিচার করতো। যার ফলে অনেকেই ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হতো। কাজেই ইকুইটি আদালত প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন হয় এবং ইকুইটি আইন বিকাশ লাভ করে।

৮) স্বাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করতে অক্ষম: কমন ল অনেক ক্ষেত্রে স্বাক্ষ্য দেয়ার জন্য কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হতে বাধ্য করতে পারত না। যার ফলে অনেক ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতো। আদালত প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন হয় বা ইজি আইন বিকাশ লাভ করে। 

৯) জটিলতার ক্ষেত্রে অসহায়ত্ব: সাধারণ আইনে বা কমল্য আদালতে বিচার করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতো। আর জটিলতার সৃষ্টি হলে কমনও আদালত ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হতো। আদালতে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হতো বিধায় ইকুইটি আইন বিকাশ লাভ করে।


৬।  ইটুইটি ম্যাক্সিম বা ন্যায় পরায়তার নীতিমালা কি?

ইংল্যান্ডের অন্যান্য আদালত যখন সাধারণ জনগণকে ন্যায়বিচার দিতে অপরাধ হতো তখন চ্যান্সেলর কোন তাদের বিচার বুদ্ধি সুবেচনা দ্বারা এই সকল সমস্যার সমাধান দিতেন। এই সময় চ্যান্সেলর গণ যে সকল নীতিমালার উপর নির্ভর করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন তাকে ইকুইটি বা ন্যায় পরায়তার ম্যাক্সিম বলে।

ন্যায় পরতার ম্যাক্সিম কাকে বলে: ইংল্যান্ডের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন আদালত কাজ করতো।
১) রাজার আদালত, ২) সাধারণ জনগণের আদালত, ৩): রাজস্ব বিভাগ , ৪) এ্যসাইজ আদালত
সাধারণ জনগণ তাদের জন্য নির্ধারিত আদালতে মামলা দায়ের করতো। কিন্তু সাধারণ আদালত জনগণের সকল সমস্যার সমাধানে সক্ষম ছিল না। ‌‌সাধারণ জনগণ অনেক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতো। সে ক্ষেত্রে তারা রাজকীয় আদালতে বিচারপ্রার্থী হতেন। কিন্তু ওরা যদিও আদালত এই সকল মামলার ভিড় জমতে থাকায় চ্যান্সেলরদের উপর এসব বিচারের কার্যক্রম নিষ্পন্ন করার দায়িত্ব পড়ে। 
বিজ্ঞ চ্যান্সেলরগণ তাদের শুভেবেচনা দ্বারা এ সকল সমস্যার সমাধান করত। এক্ষেত্রে বিভিন্ন নীতিমালার জন্ম নেয় যা ন্যায় পরায়তার ম্যাক্সিম নামে অভিহিত। 

৭।  ন্যায়পরায়ত এর নীতি বা ম্যাক্সিম সমূহ কিভাবে উৎপত্তি ও বিকাশ লাভ করেছে?/ ম্যাক্সিমগুলো ন্যায়পরায়তাকে সীমাবদ্ধ করেছে। এটা কি তুমি সমর্থন কর?। আলোচনা কর। / বাংলাদেশে ইকুইটি নীতিমালা বা ম্যাক্সিমসমূহের উৎস ও বিকাশ ব্যাখ্যা কর। / ইকুইটির উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ। 

সাধারণ জনগণ কমল ল আদালত বা সাধারণ আদালতে মামলা দায়ের করতো। কিন্তু সাধারণ আদালত জনগণের এই সকল সমস্যার সমাধানে সক্ষম ছিল না।
ইকুইটি বা ন্যয়পরতা আইনের সূত্রপাত হয় ১৩ শতাব্দীতে রাজা প্রথম এডওয়ার্ড এর রাজত্বকালে। তখন সাধারণ জনগণের জন্য নির্ধারিত ছিল কমন ল কোর্ট। সাধারণ জনগণ এই কোর্ট এ গিয়ে তাদের বিচার প্রার্থনা করত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কমন ল কোর্ট সাধারণ জনগণের প্রতিকার প্রদানের ব্যর্থ হতো। যার ফলে সাধারণ জনগণ রাজকীয় আদালতে মামলা করত। রাজকীয় আদালতে নিযুক্ত চ্যান্সেলর গণ তাদের সুবিবেচনা দ্বারা বিচার করতেন। 

পরবর্তীতে এই বিষয়গুলি আইন অজ্ঞদের হাতে আসে। একই সাথে দুইটি আইন চলার কারণে একসময় আইনগত সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়ে। এই সংঘাত এমন পর্যায়ে এসে পড়ে যে রাজার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়। রাজা হস্তক্ষেপে উক্ত সংঘাত চ্যান্সেলরের পক্ষে নিষ্পত্তি হয়। দীর্ঘদিন পর অষ্টাদশ শতকে এসে ইকুইটি আইন পাঠ্য পুশুকে স্থান পায়। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এসে কমন ল কোর্ট এবং চ্যান্সেরী কোর্ট বিলোপ হয়ে হাই কোর্ট অফ জাস্টিস প্রতিষ্ঠিত হয়।

কমন ল এবং ইকুইটির মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে কমন আইন প্রাধান্য পায়। 

উপসংহার: যেখানেই সাধারন আইনের দুর্বলতা বা অপর্যাপ্ততা লক্ষ্য করা যায় সেখানেই ন্যায়পরতা প্রয়োগ হয়। বাংলাদেশের আদালত এই ধরনের নীতির উপর ভিত্তি করে অনেক সময় প্রতিকার প্রদান হয়ে থাকে।

৮/ বাংলাদেশের আদালত সমূহ ন্যায়পরায়তা কিভাবে কার্যকর হয়? উদাহরণ দাও।/ বাংলাদেশে ন্যায়পরতার প্রয়োগ কিভাবে হয় আলোচনা কর। / বাংলাদেশের ইকুইটি প্রয়োগ। / ন্যায়পরতা অধিকাংশ মূলনীতি বাংলাদেশের সং বিধিবদ্ধ আইনে সন্নিবেশিত হয়েছে।


আমাদের দেশে প্রচলিত অধিকাংশ বিধিবদ্ধ আইন ব্রিটিশ আমলে প্রণীত হয়েছে। যার ফলে আমাদের আইন ইকুইটি র প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:

১) সম্পত্তি হস্তান্তর আইন: বাংলাদেশের প্রচলিত হস্তান্তর আইনে- নির্বাচন, মতবাদ, এ্যাস্টোপেল নীতি, শঠতামূলক হস্তান্তর, রেহেন বা বন্ধক, রিসিভার নিয়োগ, ইত্যাদি বিষয়ের মধ্যে ইকুইটি আইন সন্নিবেশিত হয়েছে।

২) দেওয়ানি কার্যবিধি: বাংলাদেশের প্রচলিত দেওয়ানী কার্যবিধিতে- অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, রিসিভার নিয়োগ পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। আবার যদি এমন অবস্থা সৃষ্টি হয় যে কোন বিষয়ে প্রচলিত আইনের মোকাবেলা করা সম্ভব নয় তাহলে দেওয়ানি কার্যবিধির ১৫১ ধারা অনুযায়ী আদালত অন্তর্নিহিত ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারে। এটি ইকুইটির ন্যায় সুবিচার বা সুবিবেচনার উপর প্রতিষ্ঠিত।
৩) চুক্তি আইন: চুতিয়া এনে ৬৪ ও ৬৫ ধারায় ইকুইটি আইনের প্রয়োগ দেখা যায়।

৪) ট্রাস্ট আইন: ট্রাস্ট আইনি ট্রাস্ট সম্পত্তির স্বার্থ সংরক্ষণ, সুবিধাভোগীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, ট্রাস্টির এর দায়িত্ব ও কর্তব্য, ইত্যাদির মাধ্যমে ইকুইটির প্রয়োগ করা হয়েছে।

৫) সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন, দলিল সংশোধন ও রদ, চুক্তি বাতিল, ঘোষণা মূলক ডিক্রি ইত্যাদির মাধ্যমে ইকুইটির প্রয়োগ করা হয়েছে।
৬) বিভিন্ন আদালতের সিদ্ধান্ত: আমাদের দেশে বিভিন্ন আদালতে বিভিন্ন সময়ে ইকুইটি প্রয়োগ করে থাকে।

৭) সংবিধান: আমাদের দেশের সংবিধানেও ইকুইটির বিভিন্ন প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়।



১.৯/ চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বলতে কি বুঝ?


সাধারণ আইনে চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে প্রতিকার দেওয়া হয়। চুক্তি ভঙ্গের কারণে চুক্তিভুক্ত পক্ষবনের কোন এক পক্ষ কখনো কখনো এমন ক্ষতির সম্মুখীন হন যা অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথাযথ হিসেবে বিবেচিত না বা অপর্যাপ্ত বলে বিবেচিত হয়। এজন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয় এমন ক্ষতিগ্রস্তপক্ষকে যথাযথ ও আইনগত প্রতিকার হিসেবে চুক্তিটি সুনির্দিষ্ট এবং কার্য সম্পাদনের মাধ্যমে প্রতিকার দেওয়া হয়। আদালত উক্ত চুক্তির শর্তাবলী সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী চুক্তি ভঙ্গকারী পক্ষ সংশ্লিষ্ট চুক্তির শর্তাবলী সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করে। একেই সুনির্দিষ্ট চুক্তি পালন বা সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন বলে। এক কথায় বলতে গেলে যে কার্যটি করার জন্য পক্ষগণ চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল সেই কার্যটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করাকে সুনির্দিষ্ট চুক্তি সম্পাদন বলে। 

১.১০/ যে সকল চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে সম্পাদন করা যায় তা উদাহরণসহ আলোচনা কর ‌‌। 
যে সকল চুক্তি শুধু সৃষ্টভাবে সম্পাদন করা যায়:
সুদৃষ্ট পত্রিকার আইনে ৫ ধারায় পাঁচ প্রকার প্রতিকারের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

১) নির্দিষ্ট কোনো সম্পত্তির দখল গ্রহণ করে তা প্রকৃত দাবিদারকে অর্পণের মাধ্যমে সুনিষ্ঠ প্রতিকার দেওয়া হয়। (অফ আইনের, ৮,৯,১০,১২ ও ১১ ধারায় বর্ণনা আছে।)

২) যে কাজ করতে কোন পক্ষের বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেই কাজ সম্পাদন করার আদেশ প্রদান করে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দেওয়া। ( অত্র আইনের ১২ থেকে ৩০ ও ৫৫ ধারায় বর্ণনা আছে) 

৩) যে কাজ না করতে কোন পক্ষের বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেই কাজ সম্পাদন না করার আদেশ প্রদান করে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দেয়া হয়েছে। ( অত্র আইনের ৫২ থেকে ৫৪ এল ৫৭ ধারায় বর্ণিত আছে)

৪) ক্ষতিপূরণের রায় প্রধান ব্যতীত অন্য কোন প্রকার পক্ষসমূহের অধিকার নির্ণয় ও ঘোষনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দেওয়া। ( অত্র আইনের ৩১ থেকে ৪৩ ধারা পর্যন্ত বর্ণনা আছে)

৫) রিসিভার কিংবা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার দেয়া। ( অত্র আইনের 44 ধারায় বর্ণনা আছে।)


১.১১/ বাধ্যতামূলক ও নিষেধ মূলক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কর। 

১) সংজ্ঞা গত পার্থক্য: কোন বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ করা হলে তা রোধ করার জন্য যদি নির্দিষ্ট কাজ করা আবশ্যক হয়, তাহলে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে তা রোধ করতে পারেন ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদনে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন। এটি হলো বাধ্যতামূলক বা আদেশ মুলক নিষেধাজ্ঞা। 
পক্ষান্তরে আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে স্থায়ী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যে নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয় তাকে নিষেধাজ্ঞামূলক নিষেধাজ্ঞা বলে।


২) প্রতিশব্দ গত: বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার ইংরেজি প্রতিশব্দ ম্যান্ডেটরি ইঞ্জেকশন ( mandatory injection). 
পক্ষান্তরে নিষেধাজ্ঞামূলক নিষেধাজ্ঞার ইংরেজি প্রতিশব্দ prohibitory injection.

৩) ধারা গত পার্থক্য: বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের 55 ধারায় বর্ণনা করা হয়েছে। পক্ষান্তরে
নিষেধাজ্ঞা মূলক সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের বায়ান্ন ধারায় বর্ণনা করা হয়েছে।


৪) আদেশ নিষেধ গত: এই নিষেধাজ্ঞায় আদালত কোনপক্ষকে কোন কাজ করতে নির্দেশ দেয়। পক্ষান্তরে এই নিষেধাজ্ঞায় আদালত কোনো পক্ষকে কোন কাজ না করতে নির্দেশ দেয়।

৫) উদ্দেশ্য গত: এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট সম্পত্তি পূর্ব অবস্থায় ফিরে আনা। পক্ষান্তরে এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হল কোন অন্যায়কে প্রতিহত করা।

৬) মঞ্জুর গত: কোন কাজ সম্পাদনের প্রয়োজনীয়তা দেখার দিলে বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়।

পক্ষান্তরে কোন চুক্তি ভঙ্গ বা অন্য কোন অন্যায় কাজ রোধ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে নিষেধ মূলক নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়।

৭) সতর্কতা গত: বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে আদালতকে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। পক্ষান্তরে নিষেধ মূলক নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে আদালতকে তুলনামূলক কম সর্তকতা অবলম্বন করতে হয়।



১.১.২/ ইকুইটি আদালতে কিভাবে বাধ্যতামূলক বা আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা এবং নিষেধ মূলক নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করে?
নিম্নাক্ত ভাবে ইকুইটি আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করে:

বাধ্যতামূলক বা আদেশ মূলক নিষেধাজ্ঞ:
১) কোন বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ করা হলে তা রোধ করার জন্য যদি নির্দিষ্ট কোন কাজ করা আবশ্যক হয়, তাহলে আদালত তার ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে তা রোধ করতে পারেন ও প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদনে বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন।

২) আদালত কোন পক্ষকে কাজ করতে নির্দেশ প্রদান করে এটি প্রয়োগ করে।
৩) নির্দিষ্ট সম্পত্তি পূর্ব অবস্থায় ফিরে আনার মাধ্যমে এটি প্রয়োগ করে।
৪) কোন কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে এটি প্রয়োগ করে।
৫) তবে এই প্রতিকারগুলো আদালতের নিকট অধিকার হিসেবে দাবি করা যায় না।


নিষেধ মূলক নিষেধাজ্ঞ:
১) আদালতের ইচ্ছা দিন ক্ষমতা বলে স্থায়ী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নিষেধ মূলক নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন।
২) আদালত কোনো পক্ষকে কোন কাজ না করতে নির্দেশ প্রদানের মাধ্যমে এটি প্রয়োগ করে। 
৩) কোন অন্যায়কে প্রতিহত করার মাধ্যমে এটি প্রয়োগ করেন।

৪) কোন চুক্তি রোধ করার মাধ্যমে এটি প্রয়োগ করে।

৫) তবে এই প্রতিকারগুলো আদালতের নিকট অধিকার হিসেবে দাবি করা যায় না।

উপসংহার: আইনের উদ্দেশ্য হলো সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। এজন্য যে কাজ করা কারো কর্তব্য আদালত সেই কাজ করতে তাকে আদেশ প্রদান করে ন। আবার যে কাজ না করা কারো কর্তব্য সেই কাজ না করতে আদালত তাকে আদেশ প্রদান করেন। এভাবে কোন কাজ করতে বা না করতে আদেশ প্রদান করতে আদালত সংশ্লিষ্টপক্ষকে প্রতিকার প্রদান করে থাকেন।




১.১৩/ ইকুইটি বা ন্যায়পরতার প্রকৃতি, পরিধি আলোচনা কর। ইকুইটির প্রয়োগ আলোচনা কর অথবা ইংল্যান্ডে এর উৎপত্তি ও ক্রম বিকাশ এবং বাংলাদেশে তার প্রয়োগ আলোচনা কর।

ন্যায়পরায়ণতার প্রকৃতি: 
নিমে ইকুইটি বা ন্যায়পরায়ণতার প্রকৃতি আলোচনা করা হলো:
১) ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা: আদালতের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু ইংল্যান্ডের সাধারণ আইনে অনেক বিষয় সমাধান করা যেত না বা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে যেত। এই সকল ক্ষেত্রে ইকুইটি আদালত তার সুবিবেচনা দ্বারা সিদ্ধান্ত প্রদান করত। কোন বিষয়ে সাধারন আইনে নেই বলে তা ফেলে রাখা যায় না। সেই সকল বিষয় সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ইকুইটি আদালত অগ্রণী ভূমিকা পালন করতো। 

২) চুক্তি অনুযায়ী কাজ করা: 
ইংল্যান্ডের সাধারণ আইনে চুক্তি ভঙ্গের প্রতিকার ছিল। অর্থাৎ কেউ চুক্তি ভঙ্গ করলে শাস্তি স্বরূপ তার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হতো। কিন্তু অনেক চুক্তি আছে যা ভঙ্গ করলে ক্ষতিপূরণ প্রদানের মাধ্যমে যথাযথ প্রতিকার প্রদান করা সম্ভব হয় না। ইংল্যান্ডের কমন ল তে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিদের চুক্তি পালনে বাধ্য করা যেত না। ইকুইটি আদালতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে চুক্তি পালনের বাধ্য করতে পারত।

৩) অপরাধ প্রতিহত করা: কোন অপরাধ সংগঠিত হয়ে গেলে কমন লতে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু অপরাধের আশঙ্কা দেখা দিলে তা মোকাবেলার ব্যবস্থা ছিল না। ইকুইটি আদালত নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বিভিন্ন অন্যায়কে প্রতিহত করতে সক্ষম হতো। 

৪) আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করা: কম মূল্য এর অনেক বাধ্যবাধকতা ছিল। নির্দিষ্ট সীমার বাইরে কমোন ল যেতে পারত না। যার ফলে অনেকে যথার্থ প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হত। চ্যান্সেলরগণ বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে প্রতিকার প্রদান করতেন।

৫) দেওয়ানী আইনের উপর প্রভাব বিস্তার করা: ইকুইটি আদালতের ক্যান্সেলর গণ তাদের সুবিবেচনার দ্বারা সিদ্ধান্ত প্রদান করার ফলে উক্ত সিদ্ধান্ত গুলি দেওয়ানী আইনের বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।



)) ন্যায় পরতার পরিধি: 

ইকুইটি বা ন্যায়পরতার পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। কমন ল এক দুর্বলতাকে পরিপূর্ণতা দান করা ছিল ন্যায়পরতার অন্যতম কাজ। কমন লতে অনেক কিছুর সমাধান সম্ভব না হওয়ায় ন্যায়পরতার সাহায্য নিতে হতো।

নিম্নে ন্যায় পরতার পরিধি উল্লেখ করা হলো:

১) অধিকার প্রতিষ্ঠা: কমন ল বা সাধারণ আইন জনগণের সকল অধিকার বলবৎ করতে পারত না। নেপরতা সেই সকল অধিকার প্রতিষ্ঠা করত।
২) প্রতিকার প্রতিষ্ঠা: অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ন্যায়পরতা জনগণের বিভিন্ন সমস্যার প্রতিকার প্রদান করত। সাধারণ আইনে যে সকল প্রতিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব উপর ছিল না ন্যায়পরতা সেই সকল প্রতিকার প্রতিষ্ঠা করত।

৩) ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন: যেখানে কমন ল নীরব থাকতো বা ব্যর্থ হতো সেখানে ইকুইটি আইন সেই ঘাটতি পূরণ করতো। বিজ্ঞ চ্যান্সেলর গণ তাদের সুবিবেচনা দ্বারা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে উক্ত সমস্যার সমাধান করত।




)) ন্যায়পরতার প্রয়োগ: মূলত কমন ল এর একটি দুর্বলতম স্থানে ন্যায়পরতা আইন প্রয়োগ করা হতো। নিম্নের ইকুইটির প্রয়োগের ক্ষেত্র উল্লেখ করা হলো:

১) সাধারণ সাধারণ আইনের যেখানে প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা ছিল না সেখানে ইকুইটি বা ন্যায় পরায়নতা আইন প্রয়োগ করে সর্বসাধারণের প্রার্থিত প্রতিকার প্রদান করা হতো। আবার নতুন কোন সমস্যা দেখা দিলে সাধারন আইন সেখানে নিরব ভূমিকা পালন করত। ইকুইটি আইন বা ন্যায়পরায়ণতা আইন নতুন নতুন সমস্যার ক্ষেত্রে নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন করে প্রতিকার প্রদান করতো।

২) ট্রাস্ট আইন, বন্ধক নীতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা আইন প্রয়োগ করে উক্ত আইন গুলোকে পূর্ণতা দান করেছে।

৩) বিভিন্ন চুক্তির ক্ষেত্রে, রিসিভার নিয়োগ, নিষেধাজ্ঞা, দলিল বাতিল, দলিল নাকচ ইফতারি ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতার আইনের প্রয়োগ হয়েছে।

৪) যেখানে নির্দিষ্ট কোন আইন নেই বা সুনির্দিষ্টভাবে কোন কিছু বলা হয়নি সেখানে ন্যায়পরতা আইনের প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়।

 
১.১৪ কমন ল বা সাধারন আইন ইকুইটির সম্পর্ক বা মিল আলোচনা কর।

সাধারণ আইন ও ইকুইটির মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। ইকুইটি ছাড়া কমন ল বা সাধারন আইন চলতে পারে না। আবার কমন ল বা সাধারণ আইন ছাড়াও ইকুইটি চলতে পারে না। ইকুইটি সাধারণ আইনকে অস্বীকার করে না। আবার কমন ল বা সাধারণ আইন ইকুইটি কে অস্বীকার করে না। ইকুইটি ও সাধারন আইন একটি অন্যটি কে অনুসরণ করে। নিম্নে কমন ল বা সাধারণ আইন ও ইকুইটির সম্পর্ক বা মিল আলোচনা করা হলো: 
১) একই উদ্দেশ্য: ইকুইটি ও সাধারণ আইন উভয়ের উদ্দেশ্যই এক। আর তা হল অন্যায়ের প্রতিবিধান করা।

২) আইন অনুসরণ: সাধারণ আইনের নেয় ইকুইটি ও আইনকে অনুসরণ করে চলে। এজন্য দুই আইনের মধ্যে কখনো সংঘাত সৃষ্টি হতো না।

৩) নিজস্ব এখতিয়ার: ইকুইটি চলত তার নিজস্ব এখতিয়ারে। আবার সাধারন আইন ও চল তো তার নিজস্ব এখতিয়ারে। 
৪) পরস্পরকে স্বীকার: ইকুইটি আদালত সাধারণ আইনকে স্বীকার করতো। সাধারণ আইন ও ইকুইটি আদালত কে স্বীকার করতো।

৫) একটি ছাড়া অন্যটি অচল: ইকুইটি আদালত ও সাধারণ আইন একটি ছাড়া অন্যটি অচল। কোন প্রতিকার প্রদান করতে গেলে একটি অন্যটি সাহায্য ছাড়া সম্ভব হতো না। 

No comments:

Post a Comment