Friday, March 17, 2023

ইআ-৪ দেনমোহর

৪.১. দেনমোহর এর সংজ্ঞা দাও। 

৪.২. মুসলিম বিবাহ ও তালাকের দেনমোহরের গুরুত্ব ও প্রভাব আলোচনা কর। / মুসলিম বিবাহ ও তালাক মোহরানার গুরুত্ব ও প্রভাব আলোচনা কর। 

৪.৩. দেনমোহরের শ্রেণীবিভাগ বর্ণনা কর।  কিসের ভিত্তিতে দেনমোহন নির্ধারিত হয়?

৪.৪. কোন বিবাহের দেনমোহরের শর্ত না থাকলে কিভাবে দেনমোহন নির্ধারণ করা হয় তা আলোচনা কর ‌


৪.৫. কেন বলা হয়ে থাকে যে, 'বিবাহ হলেই তাতে মোহর থাকবে' ? 


৪.৬.  মোহরানায়ের জন্য কোন আদালতে এইরূপ মামলা করা যায়? / মোহরানা আদায়ের জন্য কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যায়?

৪.৭. দেনমোহরের দাবি নিরাপদ সংরক্ষিত দাবি কিনা? আলোচনা কর ‌‌। 

৪.৮. এই মামলার আর্জিতে কি কি উপাদান থাকবে? 

৪.৯. দৈহিক মিলন হয়নি এমন বিবাহের মোহরানার আইনগত ফলাফল কি?


৪.১০. দেনমোহরের পরিবর্তে স্ত্রী কি তার স্বামীর সম্পত্তি দখল করতে পারে? আলোচনা কর। / দেন মোহরের দেনার জন্য মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার কি দায়ী?



৪.১৪. কখন ও কি অবস্থায় স্ত্রী নিম্নলিখিত ধরনের দেনমোর লাভ করে? 
ক) নির্দিষ্ট অথবা উপযুক্ত দেনমোহর, 
খ) তাৎক্ষণিক বা বিলম্ব প্রদয় দেনমোহর , 
গ) সম্পূর্ণ মোহর, অথবা কোন মোহর নয়।

৪.১৫. মোহরানাকে বিনিময়ের মূল্য হিসেবে অবহিত করা কি আইনগত শুদ্ধ হবে? 

৪.৬. তলব মাত্র দেনমোহর ও বিলম্বিত দেনমোহর আদায়ের সময়সীমা কত ?



৪.১. দেনমোহর এর সংজ্ঞা দাও।
ইংরেজি Dower শব্দের বাংলা অর্থ 'মোহর'। মোহর মুসলিম বিবাহের অন্যতম একটি শর্ত যা স্ত্রীর জন্য নির্ধারিত।

এটি বিবাহের অন্যতম একটি শর্ত। পবিত্র কুরআনে এর উল্লেখ রয়েছে। মহান আল্লাহ প্রত্যেক স্বামীকে তাদের স্ত্রীদের দেনমোহর প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।

দেন মোহর: 
বিবাহের সময় স্বামীর নিকট থেকে স্ত্রী যে পরিমাণ টাকা বা সম্পদ পাওয়ার অধিকারিণী  হয় তাকে দেনমোহর বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, মুসলিম বিবাহ বন্ধন উপলক্ষে স্ত্রীকে স্বামী কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে প্রদত্ত অর্থ বা সম্পাদককে মোহর বলে। অর্থাৎ স্ত্রীর মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবাহের সময় স্বামী যে সম্পর্ক প্রদান করেন তাই-ই দেনমোহর।

দেনমোহর স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালবাসার একটি অন্যতম নিদর্শন। এটি প্রধান করা প্রত্যেক স্বামীর জন্য অবশ্য পালনীয় বা ফরয। তবে স্ত্রী যদি কিছু অংশ ক্ষমা করে দেয় সেই অংশ স্বামীকে পরিশোধ করতে হবে না। 

* যেকোনো পরিমাণ দেনমোহর নির্ধারণ করা যায় অর্থাৎ স্বামীর সামর্থ্য নেই এমন পরিমাণও নির্ধারণ করা যায়।

* বিবাহের পূর্বে বা বিবাহের সময় বা বিবাহের পরে দেনমোহন নির্ধারণ করা যায়।

* DF Molla এর ভাষায়- মুসলিম বিবাহে চুক্তির প্রতিদান হিসেবে স্বামী তার স্ত্রীকে যা প্রদান করে তাকে দেনমোহর বলে।


৪.২. মুসলিম বিবাহ ও তালাকের দেনমোহরের গুরুত্ব ও প্রভাব আলোচনা কর। / মুসলিম বিবাহ ও তালাক মোহরানার গুরুত্ব ও প্রভাব আলোচনা কর। 

দেনমোহর মুসলিম বিবাহের অন্যতম একটি শর্ত বা উপাদান। এটির শামীম কর্তৃক স্ত্রীকে প্রদত্ত বাধ্যতামূলক কর্তব্য। 
অর্থাৎ পবিত্র আল কুরআনের সূরা আন নিসার বিভিন্ন আয়াতে মহান রাব্বুল আলামীন স্ত্রীকে মোহর প্রদানের কথা বলেছেন।

যেমন: পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন" "এবং তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রদান কর।" ( সূরা আন নিসা, আয়াত নং - ৪)

যেমন: "কোন ব্যক্তি মোহরের বিনিময়ে কোন নারীকে বিবাহ করলো, কিন্তু তার পরিশোধের ইচ্ছা তার নেই - সেই ব্যক্তি ব্যভিচারী।" ( বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, প্রথম খন্ড, প্রথম ভাগ, পৃষ্ঠা ৫৩৬)

এজন্য প্রতিটি বিবাহে অবশ্যই দেনমোহর থাকবে যদি বিবাহের সময় তা নির্ধারিত না হয় তাহলে পরবর্তীতে স্ত্রী উপযুক্ত মোহর পাওয়ার অধিকারী হবেন। বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে নিমাত্মভাবে স্ত্রী মোহর পাবেন:

* সহীহ বিবাহের পর স্বামীর মৃত্যু হলে- সহবাস হলে স্ত্রী সম্পন্ন মোহর পাবেন আর সহবাস না হলে অর্ধেক মোহর পাবেন ‌‌ । 
* সহীহ বিবাহের পর তালাক হলে- সহবাস হলে স্ত্রী সম্পূর্ণ মহল পাবেন আর সহবাস না হলে অর্ধেক মোহর পাবেন।
* অনিয়মিত বিবাহের পর স্বামীর মৃত্যু হলে- বিবাহ পরবর্তী সহবাস হলে স্ত্রীর মোহর পাবেন আর সহবাস না হলে মোহর পাবেন না।
* অনিয়মিত বিবাহের পর তালাক হলে- সহবাস হলে নির্দিষ্ট মোহর ও উপযুক্ত মোহরের মধ্যে যেটি কম সেটি স্ত্রী প্রাপ্য হবেন। আর সহবাস না হলে স্ত্রী মোহর প্রাপ্য হবেন না।


৪.৩. দেনমোহরের শ্রেণীবিভাগ বর্ণনা কর।  কিসের ভিত্তিতে দেনমোহন নির্ধারিত হয়?


দেন মোহরের শ্রেণীবিভাগ:
মোহর দুই প্রকার: ১) নির্দিষ্ট বা নির্ধারিত মোহর ২) উপযুক্ত বা যথাযোগ্য মোহর

১) নির্দিষ্ট বা নির্ধারিত মোহর: বিবাহ অনুষ্ঠানের সময় বা পরবর্তীতে স্বামী স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতিতে যে মোহর নির্ধারণ করা হয় তাকে নির্দিষ্ট বা নির্ধারিত মোহর বলে। নির্দিষ্ট বা নির্ধারিত মোহরাবার দুই প্রকার: ক) তলবি বা তাৎক্ষণিক মোহর। খ) বিলম্বিত মোহর।

ক) তলবী বা তাৎক্ষণিক মোহর: মোহরের যে অংশ বিবাহ অনুষ্ঠানের সময় বা চাহিবা মাত্র পরিশোধযোগ্য তাকে তলবী বা তাৎক্ষণিক মোহর বলে। 

খ) বিলম্বিত মোহর: মোহরের যে অংশ বিবাহ বিচ্ছেদ বা একজনের মৃত্যুতে পরিশোধযোগ্য তাকে বিলম্বিত মোহর বলে।

২) উপযুক্ত বা যথাযোগ্য মোহর: বিবাহের সময় মোহর ধার্য করা না হলে পরবর্তী সময় যে ন্যায় সঙ্গত মোহর নির্ধারণ করা হয় তাকে উপযুক্ত বা যথাযোগ্য মোহর বলে। 
উপযুক্ত মোহন নির্ধারণের জন্য স্ত্রীর পিতৃকুলের অন্যান্য মহিলাদের মোহরের পরিমাণ কি ছিল তা বিবেচনা করতে হয়। যেমন স্ত্রীর আপন বোন সৎ বোন না থাকলে ফুফুদের মোহরের সমপরিমাণ মোহর নির্ধারণ করতে হয়। পাশাপাশি স্বামীর সামর্থ্য বিবেচনা করতে হয়। এটি হলো উপযুক্ত বা যথাযোগ্য মোহর।


৪.৪. কোন বিবাহের দেনমোহরের শর্ত না থাকলে কিভাবে দেনমোহন নির্ধারণ করা হয় তা আলোচনা কর ‌

কোন বিবাহে যদি মোহর ধার্য করা না হয় বা মোহরের কোন শর্ত না থাকে তবুও স্ত্রী পরবর্তীতে মোহর পাওয়ার অধিকার্নী হবেন। কোন অবস্থায় স্ত্রী মোহর থেকে বঞ্চিত হবেন না। কারণ এটি আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক নির্ধারিত একটি বিধান। এটি পালন করা প্রত্যেক স্বামীর জন্য বাধ্যতামূলক কর্তব্য। বিবাহের সময় মোহর ধার্য না হলে পরবর্তীতে মোহর ধার্য করার ক্ষেত্রে যে সকল বিষয়গুলো লক্ষ রাখতে হয় তা হল:

১) স্ত্রীর পিতার বংশ মর্যাদা: স্ত্রীর মোহর ধার্য না থাকলে পরবর্তীতে মোহ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার পিতার বংশ মর্যাদা বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হয়।

২) স্ত্রী বংশের অন্যান্য মেয়েদের অবস্থা: স্ত্রীর মোহর ধার্য না থাকলে পরবর্তীতে মোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার অন্যান্য বোনদের মোহর পরিমাণ বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হয়। স্ত্রীর আপন বোন অথবা সৎ বোন না থাকলে তাহলে ফুফুদের মোহরের পরিমাণ বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হয়। 

৩) স্ত্রীর ব্যক্তিগত গুনাগুন: স্ত্রীর মোহর ধার্য না থাকলে পরবর্তীতে মোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত যোগ্যতা অর্থাৎ তার চরিত্র সততা শিক্ষা বয়স সৌন্দর্য ইত্যাদি বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হয়। 

৪) স্বামীর সামর্থ্য: স্ত্রী মোহর ধার্য না থাকলে পরবর্তীতে মোহন নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার স্বামীর সামর্থ্য বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হয়।

৪.৫. কেন বলা হয়ে থাকে যে, 'বিবাহ হলেই তাতে মোহর থাকবে' ? 
ইসলামী আইন অনুযায়ী মোহর মুসলিম বিবাহের অন্যতম একটি শর্ত বা উপাদান।
মোহর স্ত্রীর অধিকার যা মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার অনেক স্থানে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন হাদিসে মোহর এর উল্লেখ করেছেন। দেনমোহর পরিশোধ না করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ পাশাপাশি পরকালের কঠিন আজাবের ব্যবস্থা রয়েছে। বৈধ বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর স্বামী মৃত্যুবরণ করলে অথবা স্ত্রীকে তালাক প্রদান করলে জনাবাস হোক বা না হোক স্ত্রী মোহর পাবেন। বিবাহের সময় যদি মোহর উল্লেখ না থাকে তাহলে পরবর্তীতে স্ত্রী উপযুক্ত বা যথাযোগ্য মোহর পাবেন। এক্ষেত্রে স্ত্রীর বোন বা ফুবুদের যে পরিমাণ মোহর নির্ধারণ আছে সেই অনুবাদে মোহর পাবেন। ‌ অর্থাৎ বিবাহ অনুষ্ঠিত হলেই স্ত্রী মোহর এর অধিকারিনী হবেন। এটি স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর প্রদত্ত বাধ্যতামূলক কর্তব্য। 

৪.৬.  মোহরানায়ের জন্য কোন আদালতে এইরূপ মামলা করা যায়? / মোহরানা আদায়ের জন্য কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যায়?

দেনমোহর এক প্রকার ঋণ। ইসলামী আইন অনুযায়ী এটি পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। কোন ব্যক্তি যদি দেনমোহরের বকেয়া থাকে এবং তা পরিশোধ করতে না চায় তাহলে উক্ত স্বামী নির্দিষ্ট ঠিকানা যেই এলাকায় স্থানীয় পার্বিক আদালতের অধীনে সেই পারিবারিক আদালতে মোহনা আদায়ের জন্য মামলা দায়ের করতে হবে। কিন্তু স্বামীর যদি নির্দিষ্ট ইস স্থায়ী ঠিকানা না থাকে তাহলে স্ত্রী যেই ঠিকানায় বসবাস করেন সেই এলাকার স্থানীয় পারিবারিক আদালতে মোহরানা আদায়ের জন্য মামলা দায়ের করা যায়।

৪.৭. দেনমোহরের দাবি নিরাপদ সংরক্ষিত দাবি কিনা? আলোচনা কর ‌‌। 
মুসলিম বিবাহ বন্ধন উপলক্ষে স্ত্রীকে স্বামী কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে প্রদত্ত অর্থ বা সম্পদকে মোহর বলে। অর্থাৎ স্ত্রীর মর্যাদার প্রতিটি হিসেবে বিবাহ সময় স্বামী যে সম্পদ প্রদান করেন তাই হল মোহর। 

কোন স্বামী মৃত্যুবরণ করলে বা তার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করলে দেনমোহরের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন না। বরং কোন স্বামী মারা গেলে স্ত্রী তার দেনমোহর পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তার স্বামীর সম্পত্তি নিজের দখলে রাখতে পারেন। তবে এই ক্ষেত্রেই স্ত্রীর এই শর্তে দখলে রাখতে পারেন যে, মোহর পরিষদ হয়ে গেলে তিনি উক্ত সম্পদের দখল ছেড়ে দিবেন। ‌ দেন মোহর স্বামীর একটি ঋণ। তবে এই ঋণ অরক্ষিত। কারণ দেনমোহর স্বামীর সম্পত্তিতে কোন দায়ী সৃষ্টি করতে পারে না। ্্ স্বামী মারা গেলে তার অন্যান্য অংশীদারগণ আনুপাতিক হারে দেনমোহরের জন্য দায়ী থাকেন। ঠিক আছে স্বামীর সম্পত্তির দখলে রাখতে পারলেও উক্ত সম্পত্তিতে কোন চার্জ সৃষ্টি করতে পারে না।


৪.৮. দেনমোহরের মামলার আর্জিতে কি কি উপাদান থাকবে? 

১) আদালতের নাম, 
২) বাদির নাম ও ঠিকানা, 
৩) বিবাদীর নাম ও ঠিকানার সম্ভাব্য,
৪) মামলা দায়ের এর কারণ,
৫) মামলার কারণ উদ্ভূত হওয়ার স্থান ও তারিখ
৬) আদালতের এখতিয়ার বা ক্ষমতা আছে কিনা, 
৭) প্রার্থিত প্রতিকার বা বাদি কি চায়,
৮) বিবাহের তারিখ, কাবিননামা, সাক্ষী সম্পর্কিত তথ্য,
৯) দেনমোহর সম্পর্কিত তথ্য,
১০) বিবাহ বিচ্ছেদের কারন, 
১১) স্বামীর কোন সম্পত্তি স্ত্রীর দখলে আছে কিনা
১৩) বিবাহের পর যৌন সহবাস হয়েছে কিনা
১৪) সত্যপাঠ

৪.৯. দৈহিক মিলন হয়নি এমন বিবাহের মোহরানার আইনগত ফলাফল কি?

দৈহিক মিলন হয়নি এমন বিবাহের মোহরানার ক্ষেত্রে দুই ধরনের অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে:
১) বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক: দৈহিক মিলনের পূর্বেই যদি স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক সংঘটিত হয় তাহলে স্ত্রী ধার্যকৃত মোহরের অর্ধেক অংশপ্রাপ্ত হবেন ‌

২) স্বামীর মৃত্যু: দৈহিক মিলনের পূর্বে যদি স্বামী মৃত্যুবরণ করেন তাহলেই স্ত্রী ধার্যকৃত মোহরের পূর্ণ অংশপ্রাপ্ত হবেন। 

পরিশেষে বলা যায়, চুক্তির প্রতিদানের মাধ্যমে সাধারণ কোনো জিনিসপত্র ক্রয় বিক্রয় হয়। কিন্তু দেনমোহর চুক্তির প্রতিদান হলেও এর দ্বারা স্ত্রীকে ক্রয় করা হয় না। এটি দ্বারা স্ত্রীর অধিকার প্রদান করা হয়। 

মোহর স্ত্রীর প্রতি কোন দয়া নয়। এটি প্রদান করা স্বামীর বাধ্যতামূলক কর্তব্য ।


৪.১০. দেনমোহরের পরিবর্তে স্ত্রী কি তার স্বামীর সম্পত্তি দখল করতে পারে? আলোচনা কর। / দেন মোহরের দেনার জন্য মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার কি দায়ী?


মুসলিমের স্ত্রী তার দেন মোহরের সাধারণ ঋণ হিসেবে দাবি করে আদালতে মুকাদমা করতে পারে। এবং ওই মুকাদমায় যদি উল্লেখিত হয় যে ওই দেনমোহরের মরহুমের সম্পত্তি হতে পরিশোধিত হবে তাহলে ওই সম্পত্তি দেনমোহরের জন্য দায়বদ্ধ ধরা হবে না। (১৯২৯) ৫৬ আই , এ (২৫৪) (২৫৮) অবশ্য আদালতে যদি ভুলক্রমে ও দেনমোহরের ঋণের জন্য স্বামীর সম্পত্তি দায়বদ্ধ করে এবং ইহা আপিলের দ্বারা নাকচ না হয় হয় তাহলে তাকে দায়বদ্ধ হিসেবেই ধার্য করা হবে। দেনমোহর ঋণের দাবিতে স্বামীর সম্পত্তি নিজ দখলে রাখলে বিধবা এই সম্পত্তিতে শুধুমাত্র বকুল রাখার ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়। তাতে কোন স্বত্ব স্বামীত্ব প্রাপ্ত হয় না। সুতরাং সে উহা কোন প্রকারের হস্তান্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত হবে না। যদি হস্তান্তর করে তাহলে বিধবার নিজের প্রাপ্য অংশ হস্তান্তর করতে পারবে। দেনমোহর আদায়ের জন্য বিধবা তার স্বামীর উত্তরাধিকারীগণের  বিরুদ্ধে কোন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবেনা। বিধবা একই সাথে সম্পত্তি দখল ও দেনমোহরের জন্য আদালতের ডিক্রি চাইতে পারবেন না ‌‌। বিধবা তার দেনমোহরের মাত্র এক অংশ বাবদ মামলা দায়ের করলে অবশিষ্ট ঋণের জন্য তিনি পরে কোন মামলা করতে পারবেন না। 


No comments:

Post a Comment