১৬ । যদি অনিশ্চয়তার জন্য কোন ট্রাস্ট অকার্যকর হয় সেক্ষেত্রে সাইপ্রাসের মতবাদ প্রয়োগ করে
২৫ । বাংলাদেশের ট্রাস্ট এ্যক্টে তাদের যে অধিকার ও দায়-দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা আলোচনা কর।
২.১ । ট্রাস্ট এর সংজ্ঞা দাও।
ট্রাস্ট (Trust) একটি ইংরেজি শব্দ। এর বাংলা অর্থ জিম্মা, বিশ্বাস। ট্রাস্টকারী ও ট্রাস্টির মধ্যে যে সম্পর্ক তৈরি হয় তাকে ট্রাস্ট বলে। অর্থাৎ ট্রাস্ট কারীর ইচ্ছা অনুযায়ী ট্রাস্টি কোন কাজ করলে সেখানে ট্রাস্ট সৃষ্টি হয়। মূলত তৃতীয় কোন ব্যক্তির সুবিধার জন্য ট্রাস্ট সৃষ্টি করা হয়। মূলতঃ তৃতীয় কোন ব্যক্তির সুবিধার জন্য ট্রাস্ট সৃষ্টি করা হয়।
ট্রাস্ট এর সংজ্ঞা:
জিম্মাদার রূপে নিযুক্ত ব্যক্তি কোন সম্পত্তি স্থাবর অস্থাবর ব্যক্তিগত কতিপয় ব্যক্তির উপভোগের জন্য বা কোন বৈধ কাজ সম্পাদনের জন্য বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কর্তৃত্ব গ্রহণ করলে তাকে ট্রাস্ট বলে।
অর্থাৎ বলা যায়, কোন ব্যক্তি যখন তার উপর অর্পিত কোন অধিকার অন্যের পক্ষে ব্যবহারের জন্য বাধ্য করা হয় তখন উক্ত বাধ্যবাধকতাকে ট্রাস্ট বলে।
২.২ । ১৮৮২ সালের ট্রাস্ট আইনের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ কর।
নিম্নে ট্রাস্ট আইনের উদ্দেশ্য আলোচনা করা হলো:
যিনি ট্রাস্ট সৃষ্টি করেন তাকে ট্রাস্ট কারি বলে।
যার উপর ট্রাস্ট এর বিষয়বস্তু অর্পিত হয় তাকে ট্রাস্টি বলে।
যার বা যাদের কল্যাণের জন্য ট্রাস্ট সৃষ্টি করা হয় তাকে বা তাদেরকে লাভ ভোগী বলা হয়।
মূলত: ট্রাস্টি এবং লাভভীদের মধ্যে যে সম্পর্ক স্থাপিত হয় তা নিয়ন্ত্রণ করাই হলো ট্রাস্ট আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অন্যভাবে বলা যায় কোন বৈধ উদ্দেশ্য সাধন করা ট্রাস্ট আইনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
কোন প্রকার অবৈধ উদ্দেশ্য সাধন করা যাবে না।। এমনকি ট্রাস্টের বৈধ উদ্দেশ্য থেকে অবৈধ উদ্দেশ্য পৃথক করার না যায় তাহলে সম্পূর্ণ ট্রাস্ট বাতিল হবে। আর অবৈধ উদ্দেশ্য পৃথক করা সম্ভব হলে তা পৃথক করে শুধু বৈধ উদ্দেশ্য ও কার্যকর করা যায়।
সুতরাং বলা যায়,। কাশি এবং লাভ ববিদের মধ্যে যে বৈধ উদ্দেশ্যমূলক সম্পর্ক সৃষ্টি হয় তা বাস্তবায়ন করা ট্রাস্ট আইনের মূল উদ্দেশ্য।
২.৩ । ট্রাস্ট এর প্রয়োজনীয় পক্ষ কারা?
একটি ট্রাস্ট গঠনের তিনটি পক্ষ প্রয়োজন। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:
১) প্রথম পক্ষ: ট্রাস্টকরী। ( যিনি ট্রাস্ট সৃষ্টি করেন)
২) দ্বিতীয় পক্ষ: ট্রাস্টি। ( যার উপর ট্রাস্ট এর বিষয়বস্তু অর্পিত হয়)
৩) তৃতীয় পক্ষ: লাভভোগী বা স্বত্বভোগী ( যার বা যাদের কল্যাণের জন্য ট্রাস্ট সৃষ্টি করা হয়)
২.৪ । ট্রাস্টের বিষয়বস্তু কি?
নিম্নে ট্রাস্ট এর বিষয়বস্তু উল্লেখ করা হলো:
বাংলাদেশের আইনে ট্রাস্ট এর বিষয়বস্তু:
সাধারণত হস্তান্তরযোগ্য কোনো সম্পত্তি ট্রাস্টের বিষয়বস্তু হতে পারে। তবে এর ব্যতিক্রম আছে। যেমন: ১) কোন টাস্কৃত সম্পত্তির উপর ট্রাস্ট সৃষ্টি করা যায় না।
২) ভবিষ্যতে উত্তরাধিকারীত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন সম্পত্তির উপর ট্রাস্ট সৃষ্টি করা যায় না।
৩) সরকারি কর্মচারীদের বেতন, পেনশন বা এই জাতীয় ভাতা ইত্যাদির উপর ট্রাস্ট সৃষ্টি করা যায় না।
# ইংল্যান্ডের আইনের ট্রাস্ট এর বিষয়বস্তু: ইংল্যান্ডের আইনে হস্তান্তরযোগ্য যেকোনো সম্পত্তি ট্রাস্টের বিষয়বস্তু হতে পারে।
২.৫ । ট্রাস্ট সৃষ্টির ক্ষেত্রে যে সকল আনুষ্ঠানিকতার সম্পূর্ণ করতে হয় তা আলোচনা কর। / ট্রাস্ট কিভাবে সৃষ্টি করা যায়?
নিম্নে ট্রাস্ট গঠনের প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিকতা ও আনুষ্ঠানিকতা আলোচনা করা হলো:
১) ট্রাস্ট এর উপাদান নির্ধারণ: বৈধ উপাদান ব্যতীত বৈধ ট্রাস্ট হয় না। সুতরাং ট্রাস্ট সৃষ্টি করতে হলে প্রথমে ট্রাস্টের উপাদান নির্ধারণ করতে হবে। এদিকে একটি ট্রাস্টের সৃষ্টির প্রথম স্তর বলে।
২) ইচ্ছা প্রকাশ: ট্রাস্ট সৃষ্টি করতে হলে ট্রাস্ট গাড়িকে মৌখিক অথবা লিখিতভাবে ট্রাস্ট সৃষ্টি ইচ্ছা প্রকাশ করতে হবে।
৩) মৌখিক ঘোষণা দ্বারা ট্রাস্ট সৃষ্টি: মৌখিক ঘোষণা দ্বারা ট্রাস্ট সৃষ্টি করা যায় তবে মৌখিক ঘোষণা দেওয়ার ট্রাস্ট সৃষ্টি করতে হলে উক্ত ঘোষণা প্রকাশ্য অথবা সুস্পষ্ট হতে হবে।
৪) বাংলাদেশের মৌখিক ঘোষণা দ্বারা ট্রাস্ট সৃষ্টি: মৌখিক ঘোষণা দ্বারা ট্রাস্ট সৃষ্টি করা যায়। তবে মৌখিক ঘোষণা দ্বারা ট্রাস্ট সৃষ্টি করতে হলে উক্ত ঘোষণা প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট হতে হবে।
৫) স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ট্রাস্ট সৃষ্টি: স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ট্রাস্ট সৃষ্টি করতে হলে অবশ্যই তা লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে।
৬) দলিলটি স্বাক্ষরিত হতে হবে: ট্রাস্ট দলিল অবশ্যই ট্রাস্ট কারি কর্তৃক সম্পাদিত ও স্বাক্ষরিত হতে হবে।
৭) সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর: ট্রাস্ট সৃষ্টি করতে হলে ট্রাস্ট সম্পত্তির মালিকানা অবশ্যই ট্রাস্টির বরাবর হস্তান্তর করতে হবে।
৮) উইল দ্বারা ট্রাস্ট সৃষ্টি: উইল দলিলের মাধ্যমে ট্রাস্ট সৃষ্টি করা যায়।
অথবা,
নিম্নে ট্রাস্ট সৃষ্টির পদ্ধতি অথবা ট্রাস্ট সৃষ্টির বিধান আলোচনা করা হলো:
১) মৌখিক ঘোষণা দ্বারা: ট্রাস্ট সৃষ্টিকারী মৌখিক ঘোষণা দ্বারা ট্রাস্ট সৃষ্টি করতে পারেন। মৌখিক ঘোষণা দ্বারা ট্রাস্ট সৃষ্টি করলে ট্রাস্টের উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু ইত্যাদি প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হয়।
২) বাংলাদেশে মৌখিক ঘোষণা দ্বারা: কোন অস্থাবর সম্পত্তি বিষয়ে মৌখিক ঘোষণা দ্বারা বাংলাদেশের ট্রাস্ট সৃষ্টি করা যায়।
৩) উইল দ্বারা: উইল দ্বারা দলিলের মাধ্যমে ট্রাস্ট সৃষ্টি করা যায়।
৪) দলিল দ্বারা: স্থাবর সম্পত্তির বিষয়ে লিখিত অস্থায়ী দলিলের মাধ্যমে ট্রাস্ট সৃষ্টি করা যায়।
২.৬ । বৈধ ট্রাস্ট এর উপাদানসমূহ কি কি?
নিম্নে একটি বৈধ ট্রাস্টের উপাদান উল্লেখ করা হলো: ১) তিনটি পক্ষ থাকতে হবে:
একটু ট্রাস্ট কৃষি করতে হলে তিনটি পক্ষ থাকতে হবে। ট্রাস্ট কারি, ট্রাস্টি, লাভভোগী।
২) ট্রাস্টির এর যোগ্যতা: যিনি সম্পত্তির ধারণ করতে পারেন তিনি ট্রাস্টিক হতে পারেন।
৩) লাভোগির যোগ্যতা: যিনি ব্যক্তি সম্পত্তি ধারণ করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি লাখভোগী হবেন। এই নিয়ম অনুযায়ী একজন নাবালক এমনকি অজাত ব্যক্তি ও লাভভোগ হতে পারে।
৪) ট্রাস্ট কারীর যোগ্যতা: যে ব্যক্তির চুক্তি করার যোগ্যতা আছে তিনি ট্রাস্টকারী হতে পারেন।
৫) বৈধ উদ্দেশ্য: ট্রাস্ট এর উদ্দেশ্য অবশ্যই বৈধ হতে হবে। কোন অবৈধ উদ্দেশ্য থাকলে ট্রাস্টিটি বাতিল বলে গণ্য হবে।
৬) প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা: উলের মাধ্যমে বা দলিলের মাধ্যমে বা মৌখিক ঘোষণা যে পদ্ধতিতেই ট্রাস্ট গঠন করা হোক যার যার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হবে।
৭) বিষয়বস্তুর অস্তিত্ব: যে বস্তুটির উপর ট্রাস্ট কার্যকর হবে সেই বস্তুটির অস্তিত্ব থাকতে হবে।
২.৭ । ট্রাস্ট ভঙ্গ বলতে কি বুঝ?
একজন ট্রাস্ট এর বিভিন্ন দায়-দায়িত্ব, কর্তব্য ক্ষমতা অধিকার, ইত্যাদি নির্দিষ্ট থাকে। কোন ট্রাস্টটি যদি তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে তাহলে সেখানে ট্রাস্ট ভঙ্গ হয়। একে ট্রাস্ট ফান্ডের মিশ্রণ বলে। সাধারণত দুই ভাবে ট্রাস্ট ভঙ্গ হয়: ১) ট্রাস্ট সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে
২) ট্রাস্টির ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে
১) ট্রাস্ট সম্পত্তি ক্রয়ের মাধ্যমে: কোন ট্রাস্টি ট্রাস্টের টাকা এবং নিজের টাকা একত্র করে নিজ নামে সম্পত্তি ক্রয় করলে ট্রাস্ট ভঙ্গ হয়।
২) ট্রাস্টির ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে: ট্রাস্টের টাকা যদি কোন ট্রাস্টি নিজের ব্যক্তিগত একাউন্টে জমা করেন তাহলে ট্রাস্ট ভঙ্গ হয়।
২.৮ । ট্রাস্ট ভঙ্গের ক্ষেত্রে ট্রাস্টির/ লাভভোগী ও সুবিধাবী দায়-দায়িত্ব আলোচনা কর।
ট্রাস্ট আইনের ৬৮ ধারায় লাভভোগী ও সুবিধাবী বা সত্য ভুগি র দায় দায়িত্ব উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্নতা আলোচনা করা হলো:
১) কোন সুবিধা গ্রহণ করলে দায়: কোন লাভভুগি অন্য লাভভুগি দের অসম্মতিতে কোন সুবিধা গ্রহণ করলে তার জন্য সে দায়ী হবে।
২) প্রতারণা করলে দায়: কোন লাভভুগি ট্রাস্ট এর সাথে প্রতারণা করলে তার জন্য তাকে দায় গ্রহণ করতে হবে।
৩) ট্রাস্ট ভঙ্গ করলে দায়: কোন লাভভোগি ট্রাস্ট ভঙ্গ করলে তার জন্য সে দায়ী হবে।
৪) ট্রাস্ট ভঙ্গের বিষয় গোপন রাখলে দায়: কোন লাভ ফকির ট্রাস্ট ভঙ্গের কথা অবগত থাকার পর যদি তা গোপন রাখে তাহলে আইনত সে দায়ী হবে।
২.৯ । ট্রাস্ট ভঙ্গের ক্ষেত্রে ট্রাস্টের সুবিধাভোগীদের প্রতিকার সমূহ কি কি? আলোচনা কর।
নিম্নে কোন ট্রাস্ট ভঙ্গের ক্ষেত্রে লাভভোগী অথবা সুবিধাবীদের প্রতিকার আলোচনা করা হলো:
১) আইনি প্রতিকার: কোন ট্রাস্টটি যদি ট্রাস্ট ভঙ্গ করেন তাহলে লাভভুগি ফৌজদারী আইনে ট্রাস্টির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেন।
এক্ষেত্রে দন্ডবিধির ৪০৬ ধারা অনুযায়ী ট্রাস্ট এর তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
২) ট্রাস্টির সুবিধা আটক: কোন ট্রাস্টি যদি ট্রাস্ট ভঙ্গ করেন তাহলে লাভ ভোগীগণ ট্রাস্টিকে প্রদত্ত সকল সুবিধা আটক করতে পারে ন।
৩) সম্পত্তি বিনিয়োগ করলে প্রতিকার: ট্রাস্টি যদি ট্রাস্ট সম্প্রতি কোন অংশীদারি কারবারের বিনিয়োগ করেন তাহলে অন্যান্য অংশীদারগণ এই বিষয়ে অবগত না থাকলে তাদেরকে দায়ী করা যাবে না। এক্ষেত্রে শুধু ট্রাস্টি দায়ী হবে।
৪) ট্রাস্ট এর বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিকার: কোন ট্রাস্টিজ যদি ট্রাস্ট ভঙ্গ করেন তাহলে লাভ ভোগীগণ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেন। যদি ট্রাস্টি একাধিক হয় তাহলে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
৫) ট্রাস্ট সম্পত্তির মালিক হলে প্রতিকার: কোন ট্রাস্টিজ যদি ট্রাস্ট সম্পত্তির মালিক হয়ে যান তাহলে লাভ হবিগঞ্জ যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
২.১০ । কিভাবে একটি ট্রাস্ট বিলুপ্ত হয়?
বিভিন্ন কারণে একটি ট্রাস্টি বাতিল হতে পারে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১) ট্রাস্টের উদ্দেশ্য পূর্ণ হলে: যে উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট সৃষ্টি করা হয় সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেলে ট্রাস্টের আর প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে গেলে একটি ট্রাস্ট বাতিল হতে পারে।
২) ট্রাস্ট সম্পত্তি ধ্বংস হলে: যদি চাঁদ সম্পত্তি কোন কারণে ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে এটি ট্রাস্ট বাতিল হতে পারে।
৩) প্রত্যাহারযোগ্য ট্রাস্ট হলে: কোন ট্রাস্ট যদি প্রত্যাযোগ্য হয় তাহলে উক্ত ট্রাস্ট বাতিল হতে পারে।
৪) উদ্দেশ্য অবৈধ হলে: ট্রাস্টের উদ্দেশ্য যদি অবৈধ হয় তাহলে একটি ট্রাস্ট বাতিল হতে পারে।
১১ । ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশী আইনে/ ১৯৮২ এর ৬ ধারা অনুযায়ী ট্রাস্ট সৃষ্টির ক্ষেত্রে তিনটি আবশ্যকীয় সুনির্দিষ্টতা ব্যাখ্যা কর।
নিম্নে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশী আইনে ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী সৃষ্টির ক্ষেত্রে তিনটি আবশ্যকীয় সুনির্দিষ্টতা নীতি উল্লেখ করা হলো:
১) বক্তব্যের সুনির্দিষ্টতা: ট্রাস্ট কারীর বক্তব্য সুনির্দিষ্ট হতে হবে । ট্রাস্ট সংক্রান্ত কোন বিষয় বুঝতে অসুবিধা হয় এমন বক্তব্য দেয়া যাবে না।
২) বিষয়বস্তুর সুনির্দিষ্টতা: ট্রাস্টকৃত সম্পত্তি বা বিষয়বস্তু সুনির্দিষ্ট হতে হবে। বিষয়বস্তুর সুনিলিষ্ট না হলে ট্রাস্ট গঠন হবে না।
৩) উদ্দেশ্যের সুনির্দিষ্টতা: যে উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট সৃষ্টি করা হবে তা সুনির্দিষ্ট হতে হবে।
উপরোক্ত তিনটি সুনির্দিষ্টতা অনুপস্থিত থাকলে ফলাফল: কোন ট্রাস্টে বক্তব্য ও বিষয়বস্তু অনুপস্থিত থাকলে ট্রাস্ট এর পতন ঘটবে এবং লাভভোগীদের স্বার্থের অনুকূলে ট্রাস্ট সম্পত্তি চলে যাবে। আর উদ্দেশ্যের অনুপস্থিতি থাকলে ট্রাস্ট পতন ঘটবে এবং ট্রাস্ট সম্পত্তি ট্রাস্ট কারীর নিকট ফিরে আসবে। যদি ট্রাস্ট করি জীবিত না থাকেন তাহলে তার উত্তরাধিকারীদের নিকট ফেরত আসবে।
২.১২ । মৌখিকভাবে কি ট্রাস্ট সৃষ্টি করা যায়?
মৌখিকভাবে ট্রাস্ট সিসিক্ষে খেতে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের ভিন্ন নীতি লক্ষ্য করা যায়। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:
বাংলাদেশের মৌখিকভাবে ট্রাস্ট সৃষ্টি:
বাংলাদেশের স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে মৌলিকভাবে ট্রাস্ট সৃষ্টি করা যায় না। শুধু অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে মৌখিকভাবে ট্রাস্ট সৃষ্টি করা যায়। অর্থাৎ অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে মৌখিকভাবে ঘোষণা দিলে ট্রাস্ট সৃষ্টি হবে। তবে উক্ত সম্পত্তির দখল হস্তান্তর করতে হবে। ডাবল হস্তান্তর না করলে ট্রাস্ট সৃষ্টি হবে না।
ইংল্যান্ডে মৌখিকভাবে ট্রাস্ট সৃষ্টি: ইংল্যান্ডে মৌখিক ঘোষণার মাধ্যমে ট্রাস্ট সৃষ্টি হতে পারে। তবে মৌমিতা সৃষ্টি করলে তা অবশ্যই প্রকাশ্য ও সুস্পষ্ট হতে হবে।
২.১৩। ট্রাস্টি কে?
কোন ট্রাষ্ট সৃষ্টি হলেও উক্ত ট্রাষ্ট যিনি পরিচালনা করেন তাকে ট্রাস্টি বলে। ট্রাস্ট সম্পত্তি পরিচালনায় একজন ট্রাষ্টির যেমন অধিকার বা ক্ষমতা রয়েছে, তেমনি কিছু দায়-দায়িত্ব রয়েছে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে তাকে ট্রাস্ট সম্পত্তি পরিচালনা করতে হয়। নিয়মের বাইরে গেলে ট্রাষ্ট ভঙ্গ হয়। আর ক্লাস ভঙ্গ হলে উক্ত ট্রাষ্ট বাতিল করা যায়।
ট্রাষ্টি কে?
যিনি ট্রাষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করেন বা ট্রাষ্ট সম্পত্তি সংরক্ষণ করেন তাকে ট্রাষ্টি বলে।
ট্রাস্ট আইন ১৮৮২ অনুযায়ী 'যিনি বিশ্বস্ততা সহকারে ট্রাস্ট গ্রহণ করে তাকে ট্রাস্টি বলে'।
যেকোনো ব্যক্তি ট্রাস্টি হতে পারেন। তবে সাধারণত ভালোমন্দ বিবেচনা করতে পারে না এমন ব্যক্তি ট্রাস্টি হতে পারে না। অর্থাৎ যারা চুক্তি করার যোগ্যতা রাখেন না তাদের পক্ষে ট্রাস্টি হওয়ার অনেক কঠিন।
২. ১৪। একজন ট্রাস্টির অধিকার, দায়িত্ব - কর্তব্য ও ক্ষমতা , দায় ও অপারগতা আলোচনা করো।
)) একজন ট্রাস্টির অধিকার:
নিম্নে একজন ট্রাস্টির অধিকার উল্লেখ করা হলো:
১) দলিলপত্র সংরক্ষণ করা: একজন ট্রাস্টি ট্রাস্ট কর্তৃক সম্পত্তির যাবতীয় দলিলপত্র সংরক্ষণ অধিকারী।
২) ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী: ট্রাস্টি ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি যদি ট্রাস্ট ভঙ্গ করে তাহলে যে পরিমাণ ট্রাস্ট ভঙ্গ হবে ট্রাস্টি সেই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হবেন।
৩) হিসাব পরীক্ষা: একজন ট্রাস্টি ট্রাস্ট সম্পত্তির যাবতীয় হিসাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন।
৪) নাবালকের ব্যয়বহন: ট্রাস্টি কোন নাবালকের শিক্ষা ভরণ পোষণ রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদির জন্য আদালতের নিকট ট্রাস্টি সম্পত্তি থেকে ব্যয় করার অনুমতি প্রার্থনা করতে পারেন।
৫) নিজের ব্যয় ফেরত: ট্রাস্টি যদি ট্রাস্ট সম্পত্তির কল্যাণের জন্য রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিজের কোন খরচ করে থাকেন তাহলে তা ফেরত পাবেন।
)) একজন ট্রাস্টের দায়-দায়িত্ব ও কর্তব্য ক্ষমতা:
নিম্নে একজন ট্রাস্টের দায়-দায়িত্ব কর্তব্য ও ক্ষমতা উল্লেখ করা হলো:
১) ট্রাস্ট কারীর ট্রাস্ট বাস্তবায়ন করা: একজন ট্রাস্টি অন্যতম দায়িত্ব হল ট্রাস্টকারীর ট্রাস্ট বাস্তবায়ন করা। ট্রান্স কারীর আইন সম্মত নির্দেশ মোতাবেক লাভভোগীর স্বার্থে কাজ করা।
২) ট্রাস্ট সম্পত্তি সংরক্ষণ করা: একজন ট্রাস্টের বাধ্যতামূলকভাবে ট্রাস্ট সম্পত্তির সত্য সংরক্ষণ করতে হয়।
৩) মামলা পরিচালনা: ট্রাস্ট সম্পত্তির স্বার্থ রক্ষার্থে ট্রাস্টিকে অনেক ক্ষেত্রে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করতে হয়। আবার ট্রাস্ট সম্পত্তির বিরুদ্ধে কেউ মামলা দায়ের করলেন বিবাদী হয়ে উক্ত মামলা পরিচালনা করতে হয়।
৪) ট্রাস্ট সম্পত্তির ঋণ পরিশোধ করা: কোন ট্রাস্ট সম্পত্তির যদি কোন ঋণ থাকে তাহলে ট্রাস্টের উক্ত ঋণ পরিশোধ করবেন।
৫) ট্রাস্ট সম্পত্তির বকেয়া পাওনা থাকলে তা আদায় করা: ট্রাস্ট সম্পত্তির যদি কোন বকেয়া পাওনা থাকে তাহলে ট্রাস্টটি উক্ত বকে আদায় করবেন।
৬) পচনশীল সম্পত্তি রূপান্তর করা: ট্রাষ্টকৃত সম্পত্তি যদি পচনশীল হয় তাহলে ট্রাষ্টি তার রূপান্তরের মাধ্যমে লাভজনক সম্পত্তিতে পরিণত করতে পারেন।
৭) ট্রাস্ট সম্পত্তির ক্ষতি রোধ করা: কাজ সম্পত্তির যেন ক্ষতি না হয় সেজন্য ট্রাস্টি কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়।
৮) লাভজনক খাতে বিনিয়োগ:
সংস্কৃত সম্পত্তি যেখানে বিনিয়োগ করলে লাভ হবে ট্রাস্টি সেভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
৯) যথাযথ হিসাব পরিচালনা: ট্রাস্টি ট্রান্সকৃত সম্পত্তির হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে থাকেন।
১০) লাভ ভুগিদের মুনাফা প্রদান:
একজন ট্রাস্টিকে ট্রাস্ট সম্পত্তি থেকে অর্জিত মুনাফা যথাযথভাবে লাভ ভুগিদের প্রদান করতে হয়।
একজন ট্রাস্টের দায় বা অপারগতা:
নিম্ন একজন ট্রাস্টির দায় বা অপারগতা উল্লেখ করা হলো:
১) ট্রাস্ট ভঙ্গের দায়: একজন ট্রাস্টি যদি ট্রাস্ট ভঙ্গ করেন তাহলে তাকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
২) পূর্ববর্তী ট্রাস্টের ত্রুটির জন্য দায়: ট্রাস্টি তার পূর্ববর্তী ট্রাস্টের কোন ত্রুটির জন্য দায়ী হবেন না।
৩) শহর ট্রাস্টটির ট্রাস্ট ভঙ্গের জন্য দায়: কোন শহর ট্রাস্টটি যদি ট্রাস্ট ভঙ্গ করেন তাহলে ট্রাস্টি তার জন্য দায়ী হবেন না। কিন্তু সহ ট্রাস্টের ত্রুটির অন্তরালে যদি ক্লাসটি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোন সমর্থন থাকে অথবা সহ- ট্রাস্টির ত্রুটির কথা জানার পরও লাভভোগীর স্বার্থ রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সহ ট্রাস্টির সাথে ট্রাস্টি দায়ী হবেন।
৪) লাভ ভুগি সম্পর্কে দেয়:
লাভভীরা তাদের অধিকারের বিষয়ে অবগত না থাকলে ট্রাস্ট এর কোন দায়িত্ব থাকবে না।
৫) ট্রাস্ট সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হলে দেয়:
সরকার যদি ট্রাস্ট সম্মতি বায়াজপ্ত করে তাহলে তার জন্য চাচীর দায়ী থাকবে না।
৬) অনিচ্ছাকৃত ক্ষতির জন্য দায়: কোন ভুল বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে ট্রাস্ট সম্পত্তির ক্ষতি হলে ট্রাস্টি তার জন্য দায়ী হবেন না।
৭) প্রাকৃতিক কারণে ক্ষতির জন্য দায়: প্রাকৃতিক কারণে যেমন বন্যা খরাঝড় ইত্যাদি কারণে ট্রাস্ট সম্পত্তির ক্ষতি হলে ট্রাস্টি তার জন্য দায়ী হবেন না।
২.১৫ । বিভিন্ন শ্রেণীর ট্রাস্ট এর বর্ণনা / বিভিন্ন ট্রাস্টের শ্রেণীবিভাগ ।
নিম্নে বিভিন্ন প্রকার ট্রাস্টের উল্লেখ করা হলো:
১) ব্যক্তিগত ট্রাস্ট: কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির কল্যাণের জন্য যে ট্রাস্ট সৃষ্টি করা হয় তাকে ব্যক্তিগত ট্রাস্ট বলে।
২) প্রকাশিত ট্রাস্ট: যে ট্রাস্ট সৃষ্টিতে ট্রাস্টের সকল বিষয় প্রকাশ্যভাবে ব্যক্ত করা হয় তাকে প্রকাশিত ট্রাস্ট বলে।
৩) অপ্রকাশিত ট্রাস্ট: যে ট্রাস্ট সৃষ্টিতে ট্রাস্টের সকল বিষয় প্রকাশ্যভাবে ব্যক্ত করা হয় না তাকে অপ্রকাশিত ট্রাস্ট বলে।
৪) সম্পাদিত ট্রাস্ট: যে ট্রাস্ট পরিপূর্ণ ভাবে ট্রাস্টকারী সম্পাদন করে দিয়েছেন তাকে সম্পাদিত ট্রাস্ট বলে।
৫) দাতব্য ট্রাস্ট: দাতব্য ট্রাস্ট অনেক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ব্যক্তিগত ট্রাস্ট ধাতব্য ট্রাস্ট বিষয় নিরব।
৬) সম্পাদিতব্য ট্রাস্ট: ট্রাস্ট সৃষ্টির ক্ষেত্রে করণীয় কোন কিছু বাকি থেকে গেলে তাকে সম্পাদিতব্য ট্রাস্ট বলে।
৭) সাধারণ ট্রাস্ট: সাধারণ জনগণের কল্যাণের জন্য যে ট্রাস্ট সৃষ্টি করা হয় তাকে সাধারন ট্রাস্ট বলে।
৮) ফলদায়ক ট্রাস্ট: কোন ট্রাস্ট এর সত্য যদি ট্রাস্ট সৃষ্টিকারী বা তার প্রতিনিধির নিকট ফিরে আসে তাহলে তাকে ফলদায়ক ট্রাস্ট বলে।
৯) গঠন মূলক ট্রাস্ট: নেইপুর আদালতের ন্যায় ভিত্তিক আইনের অধীনে যে ট্রাস্ট সৃষ্টি হয় তাকে গঠনমূলক ট্রাস্ট বলে।
২.১৬ একজন নতুন ট্রাস্টি নিয়োগের বিধানসমূহ আলোচনা কর
একজন ট্রাস্টি নিয়োগের বিধান:
নিম্নে একজন নতুন ট্রাস্টি নিয়োগের বিধান আলোচনা করা হলো।
১) ট্রাস্ট দলিল দ্বারা মনোনয়ন প্রদান করে ট্রাস্টি নিয়োগ করা যায়,
২) জীবিত ব্যক্তি বা ধারাবাহিক ট্রাস্টিকে নতুন ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ দেয়া যায়।
৩) জীবিত ব্যক্তি বা ধারাবাহিক ট্রাস্টটির আইনগত প্রতিনিধিকে নতুন ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ দেয়া যায়।
৪) আদালতের সম্মতিতে অবসপ্রাপ্ত ট্রাস্টিকের নতুন ট্রাস্টি নিয়োগ দেয়া যায়।
৫) আদালতের সম্মতিতে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত ট্রাস্টিকে নতুন ট্রাস্টে নিয়োগ করা যায়।
নতুন ট্রাস্টি নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ কারী কে লিখিত নিয়োগ পত্রের মাধ্যমে ট্রাস্টি নিয়োগ করতে হবে এবং উক্ত নিয়োগপত্র নিয়োগ কারীর নিজ হাতে লিখিত হতে হবে।
২.১৭ কোন ট্রাস্টি ট্রাস্ট সম্পত্তি ক্রয় করতে পারেন কিনা?
কোন ট্রাস্টি ট্রাস্ট সম্পত্তির ক্রয় করতে পারেন কিনা তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী কোন ট্রাস্টি ট্রাস্ট সম্পত্তির ক্রয় করতে পারে না। কোন ট্রাস্টিস সম্পত্তি বন্ধক দেওয়া হলে ভাই যারা প্রধান করা হলে বা নিলাম হলেও ট্রাস্টি সেই সম্পত্তি ক্রয় করতে পারেন না।
Fox vs Mackreth মামলায় সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয় যে, ট্রাস্ট সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোন লাভভুগি যদি বাধা প্রদান করে তাহলে ট্রাস্টি উক্ত সম্পত্তি ক্রয়ের জন্য দায়ী হবে। সুতরাং বলা যায় একজন ট্রাস্টি কোনভাবেই ট্রাস্ট সম্পত্তি ক্রয় করতে পারে না।
২.১৮ সাইপ্রেস মতবাদ / নীতি কি ? উদাহরণ সহ আলোচনা কর। / সাইপ্রাসের মতবাদ কি পাবলিক এবং প্রাইভেট ট্রাস্ট এর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য?
সাইপ্রেস নীতি:
সাইপ্রেস শব্দের অর্থ যতদূর সম্ভব নিকটবর্তী বা কাছাকাছি।
কোন টাচকারির উদ্দেশ্যে যদি অবিকল ভাবে কার্যকর করা না যায় তাহলে তা যতদূর সম্ভব কাছাকাছি কার্যকর করতে হবে। এটি হলো সাইপ্রেস নীতি।
ট্রাস্ট কারীর মূল উদ্দেশ্য যদি বাস্তবায়ন করা না যায় তাহলে তার উদ্দেশ্যকে গুরুত্ব দিয়ে যতদূর সম্ভব উদ্দেশ্যের কাছাকাছি বাস্তবায়ন করতে হবে।
তবে ব্যক্তি ট্রাস্টের ক্ষেত্রে সাইপ্রেস নীতি প্রযোজ্য হবে না। কারণ ব্যক্তিগত ট্রাস্ট নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি হয়।
পাবলিক বা সাধারণ ট্রাস্ট এর ক্ষেত্রে সাইপ্রাস নীতি প্রযোজ্য হবে। কারণ সাধারণ ট্রাস্ট এর সুবিধার সাধারণ জনগণ ভোগ করে।
সাইপ্রাস নীতির উদাহরণ: কোন ট্রাস্ট কারি একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কোন ট্রাস্টির বরাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করল। অর্থের অপর্যাপ্ততার কারণে যদি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না হয় তাহলে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে ট্রাস্টকারীর উদ্দেশ্যর কাছাকাছি বাস্তবায়ন হবে।
উপসংহার: একটি ট্রাস্ট সৃষ্টি হলে ট্রাস্ট সম্পত্তি পরিচালনার দায়িত্ব থাকে ট্রাস্টির উপর। ট্রাস্টি ট্রাস্ট কারীর শর্তের বাইরে যেতে পারেনা বা নিজের ইচ্ছে মত উক্ত সম্পত্তি পরিচালনা করতে পারে না। যদি এমনটি করেন তাহলে ট্রাস্ট ভঙ্গ হয়। আর ট্রাস্ট ভঙ্গ হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
২.১৯ দাতব্য ট্রাস্ট ও ব্যক্তিগত ট্রাস্ট এর মধ্যে পার্থক্য।
১) সংজ্ঞাগত: যে ট্রাস্ট কোন ব্যক্তি বা পরিবারের কল্যাণে গঠিত হয় তাকে ব্যক্তিগত ট্রান্সফার করে। পক্ষান্তরে যে ট্রাস্ট সর্বসাধারণের কল্যাণে গঠিত হয় তাকে দাতব্য ট্রাস্ট বলে।
২) প্রতিশব্দগত: ব্যক্তিগত প্রশ্নের ইংরেজি প্রতিশব্দ private trust. পক্ষান্তরে দাতব্য ট্রাস্টের ইংরেজি প্রতিশব্দ public trust.
৩) উদ্দেশ্য গত: ব্যক্তিগত ট্রাস্টের উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি বা পরিবারের কল্যাণ করা। পক্ষান্তরে ট্রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হলো সকলের কল্যাণ করা।
৪) বলবৎগত: ব্যক্তিগত ট্রাস্ট এর শর্ত ভঙ্গ হলে লাভভুগি তা বলবৎ করতে পারে। পক্ষান্তরে দাতব্য ট্রাস্টের শর্ত ভঙ্গ হলে সরকার বা আদালত বা অ্যাটর্নি জেনারেল তা বলবধ করতে পারে।
৫) আকার গত: ব্যক্তিগত ট্রাস্ট অপেক্ষা কৃত ছোট। পক্ষান্তরে দাতব্য ট্রাস্ট ব্যক্তিগত ট্রাস্টের তুলনায় অনেক বড়।
৬) ফেরত গত: ব্যক্তিগত ট্রাস্ট এর উদ্দেশ্য ব্যর্থ হলে তা ট্রাস্ট কারীর নিকট ফেরত আসে। পক্ষান্তরে দাতব্য ট্রাস্টের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হলে তা ট্রাস্ট কারীর নিকট ফেরত আসে না।
No comments:
Post a Comment