Friday, March 17, 2023

ইআ-৭ অংশীদার , আউল, রদ

৭.১. অংশীদার কারা?

৭.২  মুসলিম আইনে 'জাবিল ফুরুজ' কারা?

৭.৩ কেন তাদেরকে প্রথম শ্রেণীর অংশীদার বলা হয়? 

৭.৪ . মৃত ব্যক্তির ঋণের জন্য কি অংশীদার দায়ী থাকেন? 

৭.৫. ওমরিয়াতান বা উমারিয়াতান বা হিমারিয়াতান নীতি আলোচনা কর। 


৭.৬. আউল নীতি এবং রদ অথবা রাদ অথবা রদ্দ নিতে কি? 

১১.১৩. মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন বলতে কি বুঝ? 
১১.১৪. উদাহরণসহ ইহার নীতিগুলো ব্যাখ্যা কর।
১১.১৫ সম্পত্তি বন্টনের পূর্বে মুসলমান মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির উপর প্রাথমিক দাবি কি কি? 
১১.১৬. সম্পত্তি বন্টনের পূর্বে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হতে কি পরিমান সম্পত্তি কোন কোন কারণে বাদ দিতে হবে? 
১১.১৭. মৃত ব্যক্তির ঋণের জন্য ওয়ারিশগণ কি পরিমাণ দায়ী? 
১১.১৮. কেউ যদি কাউকে হত্যা করে তবে কি তিনি নিহত ব্যক্তির সম্পত্তিতে অংশ পাবেন? 
১১.১৯. এক্ষেত্রে শিয়া ও সুন্নি আইন কি একই ধরনের?


১১.১৯. হানাফী আইনে অংশীদার কারা? 
১১.২০.  কেন তাদের অংশীদার বলা হয়? 
১১.২১. সুন্নি উত্তরাধিকার আইনে স্বীকৃত অবশিষ্ট ওয়ারিশগণকে তুমি কিভাবে শ্রেণীবিভাগ করবে? প্রত্যেক শ্রেণীর উদাহরণ দাও। 

১১.২২.নতুন সংসার সমাধান কলপে আউল ও রদ্দ এর প্রচলন করা হয়েছে - ব্যাখ্যা কর।


৭.১. অংশীদার কাকে বলে? 

অংশীদার

কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার সম্পত্তিতে যারা অধিকার লাভ করে তাদেরকে ঐ ব্যক্তির অংশীদার বলে।

বিভিন্ন ধরনের অংশীদার মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার লাভ করে। হনুমান অংশীদারদের প্রাপ্য অংশের কথা পবিত্র কোরআনে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে আবার অনেক কথা উল্লেখ নেই। যাদের কথা কুরআনে উল্লেখ নেই তারা রাসূলের হাদিসই বাকি আছে বিধিবদ্ধ আইন ইত্যাদি দ্বারা নির্ধারিত অংশ লাভ করেন।

উত্তরাধিকার হিসেবে যাদের কথার আল কোরআনের নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তাদেরকে আরবীতে জাবিল ফুরুজ আর বাংলায় অংশীদার বলে। পবিত্র আল-কুরআন করিমে মোট ১৩ জন ব্যক্তির কথা নির্দিষ্ট উত্তরাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা রয়েছে। এদের মধ্যে চারজন হল পুরুষ নয়জন হল নারী।


৭.২  মুসলিম আইনে 'জাবিল ফুরুয' বা অংশীদার কারা?
 
উত্তরাধিকারী হিসেবে যাদের কথা আল কুরআনের নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে তাদেরকে আরবীতে 'যাবিল ফুরুয ' বলে।
পবিত্র কুরআনুল কারিমে মোট ১৩ জন ব্যক্তির কথা উত্তরাধিকারী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এদের মধ্যে চারজন হল পুরুষ চজন হল নারী। এই তেরো জনের কথা যেহেতু পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে অর্থাৎ কোরআনে যেহেতু অংশ নির্ধারণ রয়েছে তাই এরাই অংশীদার।

৭.৩ কেন তাদেরকে প্রথম শ্রেণীর অংশীদার বলা হয়? 

৭.৪ . মৃত ব্যক্তির ঋণের জন্য কি অংশীদার দায়ী থাকেন? 

কোন মানুষ মারা গেলে তিনি সকল কিছুর ঊর্ধ্বে চলে যান। অর্থাৎ তিনি যেমন কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করতে পারেন না তিনি তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনা যায় না। তার বোঝো ব্যক্তিত্বের অবসান ঘটে। তবে মারা যাওয়ার সাথে সাথেই তার সকল অধিকার শেষ হয়ে যায় না। মারা যাওয়ার পর তিনি কিছু অধিকার ধারণ করেন। যেমন- একটা ফোন দা ফোন বাই সৎকার করা ঋণ পরিশোধ করা বকেয়া আবেদন পরিশোধ করা বৈধ ওসিহত বা উইল কার্যকর করা নিন্দা না করা ইত্যাদি। 

ঋণ পরিশোধ: মৃত ব্যক্তির যদি কোন ঋণ থাকে তাহলে তা রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে তা পরিশোধ করতে হবে। এটি তার অধিকার। তবে মৃতের ঋণ যদি তার রেখে যাওয়া সম্পদের চেয়ে বেশি হয় তাহলে তার ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারীগণ অতিরিক্ত অংশের জন্য দায়ী হবেন না। নিজের সম্পদ থেকে যতটুকু পরিশোধ করা সম্ভব ততটুকু পরিশোধ করতে হবে। 
সুতরাং বলা যায় অর মৃত ব্যক্তির জ্বীনের জন্য তার উত্তরাধিকার বা অংশীদার সম্পূর্ণভাবে দায়ী না থাকলেও আংশিক দায়ী থাকেন।

৭.৫. ওমরিয়াতান বা উমারিয়াতান বা হিমারিয়াতান নীতি আলোচনা কর। 

ওমরিয়াতান বা উমারিয়াতান:
ওমরিয়াতান মানে হচ্ছে" কোমরের দুই" অর্থাৎ ওমরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ওমর ( রা) প্রথমে এই দুটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন বিদায় এটা ওমরিয়াতান কি নামে পরিচিত। প্রথমে ওমরিয়াতান ইজতিহাদ নামে শুরু হলেও অন্যান্য সাহাবাদের দ্বারা তা ব্যাপকভাবে গৃহীত হওয়ায় তা ইজাম নামে পরিচিত।

দুইটি ক্ষেত্রে ওমরিয়াতান প্রযোজ্য- ১) মা, বাবা, স্বামী এবং (২) মা, বাবা, স্ত্রী

এই পরিস্থিতিতে মায়ের ধার্যকৃত অংশ ১/৩ । কিন্তু এই পরিমাণ অংশ পেলে তা বাবার থেকে বেশি হয়ে যায় ‌‌। যার ফলে মুসলিম আইনের সাধারণ নীতি পুরুষ ও মহিলার ২:১ অনুপাতে সম্পত্তি বন্টন নীতি লঙ্ঘিত হয়। অর্থাৎ এই পরিস্থিতিতে মায়ের সম্পত্তি কমানোর যে প্রক্রিয়া ওমর (রা) দিয়েছেন তাই ওমরিয়াতান। হযরত ওমর রাহমাতুল্লাহ সমাধান করতে গিয়ে বলেন যে, স্বামী বা স্ত্রীর অংশ প্রদান করার পর যা অবশিষ্ট থাকবে মা তার ১/৩ অংশ পাবে । অবশেষে সম্পত্তিতে পিতা অবশেষ প্রাপক হবেন।


হিমারিয়াতান নীতি: 

হিমারিয়াতান নীতি মানে হচ্ছে গাধার নীতি। 
মুসলিম আইন অনুযায়ী সম্পত্তি বন্টনের সময় সহোদর ভাই ও বৈপিত্রিয় ভাই ওয়ারিস থাকলে কোন কোন ক্ষেত্রে বৈপিত্রিয় ভাই সম্পত্তি পায় কিন্তু সহোদর ভাই বঞ্চিত হয়। ফলে মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে নিকট সম্পর্ক সবসময় দূরবর্তীকে বঞ্চিত করার সাধারণ নীতি লঙ্ঘিত হয়। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে সহোদর ভাই হযরত ওমর (রা) এর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে উক্ত ঘটনার
সমাধান দাবি করেন। হযরত ওমর চিন্তা-ভাবনা করে সহধর ভাই বঞ্চিত হওয়ার গাধার উপমা দিয়ে সমাধান দিয়েছিলেন বলে এর নামকরণ করা হয় গাধার ঘটনা বা গাধার নীতি বা হিমারিয়াতান নীতি। 

হযরত ওমর এর সমাধান করতে গিয়ে বলেন যে, এক্ষেত্রে অন্যান্য অংশীদারদের অংশ ঠিক রেখে বাকি অংশ সহোদর ভাই ও বৈপিত্রিয় ভাইদের ভাগ করে দেয় উত্তম। অর্থাৎ সহোদর ভাই ও বৈপিত্রিয় ভাই একত্রে অবশেষে প্রাপক হবেন।


৭.৬. আউল নীতি এবং রদ অথবা রাদ অথবা রদ্দ নিতে কি? 

আউল বা আওল নীতি: 
কোন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টন করতে গিয়ে যদি এমন হয় যে, অংশীদারদের প্রাপ্য অংশের যুগ ফল মৃত মৃতের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে বেশি, তাহলে যে অংশটি বেশি হবে তা উত্তরাধিকারীদের মধ্যে আনুপাতিক হারে হ্রাস করার নীতিকে আওল নীতি বলে।

যেমন- কোন মহিলা যদি শুধুমাত্র তার স্বামী দুই বোন ও মাথা রেখে মারা যান তাহলে তারা অংশ পাবেন যথাক্রমে, স্বামী ১/২+ দুই বোন ২/৩ +  মাতা ১/৬ বা (৩+৪+১)/৬ = ৮/৬ অংশ। এখানে দেখা যায় অংশীদারদের অংশের চেয়ে মোট সম্পত্তি কম। সুতরাং এখানে আউল নীতি প্রয়োগ করে সম্পত্তি বন্টন করতে হবে। অর্থাৎ অংশীদারদের অংশ থেকে আনুপাতিক হারে অংশ হ্রাস করতে হবে। এটি হলো আউল নীতি।


রদ বা রাদ্দ বা রাদ নীতি: 

রদ / রাদ এর আভিধানিক অর্থ- বারংবার, পুনরায়, ফেরানো ইত্যাদি।
কোন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি অংশীদারদের মধ্যে বন্টন করার পর যদি কিছু অংশ সম্পত্তি থেকে যায় এবং অবশিষ্ট ভুগি কেউ না থাকে, তাহলে ওই বেশি অংশটুকু অংশীদারদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বন্টন করতে হয় বা ফেরত দিতে হয়। এই বন্টন করার নীতি কে রদ বা রাদ বা রাদ্দ নীতি বলে।

রাদনীতির শর্তাবলী: 
বন্টন প্রক্রিয়ায় রাদ হওয়ার শর্ত তিনটি।
১) অংশীদার হওয়া,
২) অবশিষ্ট ভোগী না থাকা,
৩) সম্পদ বন্টনের পর কিছু সম্পদ অবশিষ্ট থাকা।

No comments:

Post a Comment