Friday, March 10, 2023

টর্ট - টিকা

লাইবেল এন্ড স্লান্ডার 


ব্রিটিশ কমন ল মানহানি কে দুই ভাগে ভাগ করেছে। এক লাইবেল , দুই স্ট্যান্ডার। মানহানি কর উক্তির ধারণ অনুযায়ী এই ভাগ করা হয়েছে।

লাইবেল হল মিথ্যা ও অপকারেচ্ছন্ন মূলক অভিযোগ। আর স্লান্ডার  হল বিদ্বেষ মূলক প্রচার। 

লাইবেল- কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য স্থায়ী কোন কিছু প্রকাশ করে তাহলে তাকে লাইবেল বলে। যেমন কোন লেখা প্রকাশ করা ছবি প্রকাশ করা ইত্যাদি।

লাইবেলের ক্ষেত্রে প্রকাশনাটি-
১) মিথ্যা হয়, ২) স্থায়ী হয়, ৩) বাদির উদ্দেশ্য প্রকাশ করা হয় এবং ৪) মানহানি কর হয়।

স্লান্ডার - 
কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য অস্থায়ী কোন কিছু প্রকাশ করে তাহলে তাকে  বলে। 
সান্ডারের ক্ষেত্রে প্রকাশনাটি-
১) মিথ্যা হয়, ২) অস্থায়ী হয়, ৩) বাদির উদ্দেশ্যে বলা হয়। এবং ৪) মানহানিকর হয় ।



অবৈধ কয়েক খানা: 
প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার রয়েছে। বিনা কারণে কেউ কাউকে বাধা প্রদান করবে না। এর ব্যতিক্রম হলে সেখানে ডট সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ কোন ব্যক্তিকে যদি অন্যায় ভাবে আটক করা হয় তাহলে তাকে অবৈধ কয়েদকরন বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, আইনে অনুমোদিত আটক ব্যক্তি অন্য আটক কে অবৈধ কয়েত করুন বলেন। 
১) বাদীর চলাফেরা বাধা প্রাপ্ত হবে। 
২) বাঁদিকে আইনসঙ্গত কারণ ছাড়া আটক রাখা হবে
৩) এই আটক কারাগারে বা অন্য কোন স্থানে হতে পারে
৪) এই আটক অল্প সময়ের জন্য বা দীর্ঘ সময়ের জন্য হতে পারে
৫) বিরোধী বা তার প্রতিনিধি কর্তৃক ঘটনাটি সংগঠিত হয়েছে।


ইন্নোয়েন্ড 

ইন্নোয়েন্ড হল এক ধরনের উক্তি বা কথা বা কাজ
 এটি এমন এক ধরনের উক্তি যা সাধারণভাবে মানহানি কর মনে হয় না, অথচ তা মানহানি করে।
অর্থাৎ সাধারণভাবে চিন্তা করলে মানহানিকর মনে হয় না কিন্তু অন্তর্নিহিত অর্থে মানহানি কর।

সুতরাং বলা যায়- কোন উক্তি সাধারণভাবে মানহানিকর না হলেও অন্তর্নিহিত অর্থে মানহানি কর হলে তাকে ইন্নোয়েন্ড বলে।


রূপান্তর: 
রূপান্তর হলো একটি বিশেষ ধরনের ক্ষমতা। যে ক্ষমতা অস্থাবর সম্পত্তি ভোগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রকৃত মালিক কে বঞ্চিত করে। 
আইন বিজ্ঞানী স্যামন্ড এর ভাষায় রূপান্তর হল- যথার্থ কারন ছাড়া কোন ব্যক্তির বস্তুতে এমনভাবে হস্তক্ষেপ করা যার ফলে প্রকৃত মালিক বেদখল হয়।
সুতরাং বলা যায়, রূপান্তর হলো এমন একটি অনুমোদিত কাজ যার ফলে কোন অস্থাবর সম্পত্তির মালিক স্থায়ীভাবে অথবা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়।

নিম্নত্ব ভাবে রূপান্তর সংঘটিত হয়- 
১) আইনিভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করে:  বেআইনিভাবে  অন্যের অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করে রূপান্তর হতে পারে

২) বেআইনিভাবে বিক্রয় দ্বারা:  বেআইনিভাবে  অন্যের বস্তু বিক্রয় দ্বারা রূপান্তর হতে পারে।

৩)  বেআইনিভাবে  হস্তান্তর করা;  বেআইনিভাবে অন্যের বস্তু কোন নির্দিষ্ট লোকের নিকট হস্তান্তর দ্বারা রূপান্তর হতে পারে। 
৪) বেআইনি সম্পত্তি আটক করে:  বেআইনিভাবে অন্যের বস্তু আটক করার মাধ্যমে রূপান্তর হতে পারে। 
৫); প্রকৃত মালিকের স্বত্ব অধিকার করে- দেয়নিভাবে কোন বস্তুর প্রকৃত মালিকের সত্য অস্বীকার করার মাধ্যমে রূপান্তর হতে পারে।


রাইল্যান্ডস এন্ড ফ্লেচার মামলা বা বিধি:

রাই লেন্স এন্ড ফ্লেচার মামলার বাদী ছিলেন ফ্লেচার এবং বিবাদী ছিলেন রাইলেন্ডস। 
ফ্লেচার একজন খনির ইজারাদার এবং রাইলেন্স পার্শ্ববর্তী একটি মিলের মালিক। বিবাদী রাইলেন্স তার জমিতে একটি চৌবাচ্চা নির্মাণ করেন। যেখানে চৌবাচ্চাটি নির্মাণ করা হয় তার নিচে অবস্থিত মাইনিং সেলফ এবং সুরঙ্গের মাধ্যমে বাজির খনির যোগাযোগ ছিল। ঠিকাদারের অবহেলার দরুন চৌবাচ্চা নির্মাণের ত্রুটি রয়ে যায় ‌‌যার ফলে চৌবাচ্চার পানি সুরঙ্গ পথে বাদির খনিতে প্রবেশ করে।  এক্ষেত্রে বিবাদীর অবহেলা না থাকলেও তাকে দায়ী করা হয় এবং লর্ড সভা তা অনুমোদন করে। কারণ অতিরিক্ত পানি জমার করা কে বিপজ্জনক বলে অভিমত ব্যক্ত হয়। রইলেন্স এন্ড ফ্লেচার বিধি অনুযায়ী যে জিনিসটি প্রতিষ্ঠিত হয় তা হলো, কেউ যদি নিজের জমিতে এমন কিছু জড়ো করে রাখে যা মুক্ত হয়ে গেলে অন্যের ক্ষতি বা আশঙ্কা থাকে এবং পরবর্তীতে যদি তা মুক্ত হয়ে অন্যের ক্ষতি করে তাহলে উক্ত ব্যক্তির অবহেলা বা অসতর্কতা না থাকলেও তিনি দায়ী হবেন এটা হল রাইলেন্স এন্ড ফ্লেচার বিধি।


ট্রেস পাস এ্যাবিনিশিও: 
যদি কোন ব্যক্তি আইনসঙ্গতভাবে কোথাও প্রবেশ করার পর কোন ন্যায় সঙ্গত কাজ অন্যায় ভাবে সমাধা করে তাহলে তার প্রবেশকে  ট্রেস পাস এ্যাবিনিশিও বা প্রথম হতেই অনধিকার প্রবেশ বলে।

কিন্তু আইন সম্মতভাবে প্রবেশের পর কর্তব্য পালনের ব্যর্থ হলে তা ট্রেস পাস এ্যাবিনিশিও বা প্রথম হতেই অনেক অনধিকার প্রবেশ হয় না। 


রেস ইপসা লিকুইটার: 
অবহেলা সংক্রান্ত মামলায় যদি বাদী দুর্ঘটনা প্রমাণ করতে পারে কিন্তু কিভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা দেখতে না পারে তাহলে ইতিবাচকভাবে অবহেলা প্রমাণ করা কখনো কখনো তার জন্য কষ্টসাধ্য হতে পারে। এক্ষেত্রে দুর্ঘটনাটি সম্পূর্ণ বিবাদের গোচরে থাকে। এইসব ক্ষেত্রে বাদিকে শুধু দুর্ঘটনার প্রমাণ করলেই চলে। তার চেয়ে বেশি কিছু প্রমাণ করার প্রয়োজন হয় না ‌‌কারণ দুর্ঘটনা নিজেই অনেক ক্ষেত্রে অবহেলার যুক্তিসঙ্গত স্বাক্ষর তৈরি করে। 

রেস ইপ্সা লিকুইটার এর শর্ত:
স্বাভাবিকভাবে অবহেলা ছাড়া ঘটাতে পারে পারেনা, এমন ঘটনার দ্বারা বাড়ির ক্ষতি হবে ।

যে জিনিসটি নাড়াচাড়ার ফলে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই জিনিসটি সম্পূর্ণরূপে বিবাদীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। 

রেস ইপ্সা লিকুইটার নীতির ফলাফল- যদি বিবাদী প্রমাণ করতে পারে যে, তার অবহেলার কারনে জন্য তুলনায় ঘটেনি তাহলে বাদই হেরে যেতে পারে
যদি বিবাদী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় যে, তার অবহেলার জন্য দুর্ঘটের ঘটেনি তাহলে বাদীর পক্ষে মামলার রায় হবে।

বিবাদী অবশ্যই আদালতকে সন্তুষ্ট রাখবে সম্ভাব্যতার ভারসাম্যের উপর সে অবহেলা প্রদর্শন করেনি


ভলেন্টি ন্ ন কি নন ফিট ইঞ্জুরিয়া

কোন ব্যক্তির অবগতিতে কোন টড সংগঠিত হলে অথবা কোন ব্যক্তির সম্মতি সাপেক্ষে কোন সংগঠিত হলে তা ভলেন্টি নন ফিট ইনজুরিয়া মতবাদ অনুযায়ী প্রতিকারযোগ্য হয় না
 অর্থাৎ স্বেচ্ছায় যদি কেউ তার অধিকার পরিবেগ করে তাহলে তা বড় যোগ্য করা যায় না।
সুতরাং বলা যায়, কোন ব্যক্তির সম্মতিতে কোন কাজ সম্পাদিত হলে উক্ত কাজের জন্য যদি কোন ক্ষতি হয় তাহলে সম্পাদনকারী কোন অভিযোগ করতে পারেনা
 এটি যে নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত তাকে ভলেন্টি নন ফিট ইনজুরিয়া বলে।

ভলেন্টি ননফিট ইনজুরিয়ায় দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। 
১) এক অবগতি ২) সম্মতি

সুতরাং বলা যায় স্বেচ্ছায় কেউ তার অধিকার ত্যাগ করলে উক্ত কাজের ফলাফলের ক্ষেত্রে ভলেন্টি নন ফিট ইনজুরিয়া উদ্ভব হয়। 

ভলেন্টিয়ার ননফিট সীমাবদ্ধতা ব্যতিক্রম বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ১) অবৈধ কাজ হলে, ২)  আইনগত কাজের ঝুঁকি গ্রহণ করলে, ৩) বিবাদী অবহেলা থাকলে। ৪) বিধিবদ্ধ আইন লঙ্ঘন হলে: বিধিবদ্ধ আইন অনুযায়ী কোন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে এই মতবাদ প্রযোজ্য হয় না।



ব্যক্তিগত উৎপাত:
ইংরেজি Nuisance. শব্দের বাংলা অর্থ উৎপাত ‌
প্রত্যেক মানুষের অধিকার রয়েছে তার ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষণ করার ‌ ব্যক্তিগতভাবে যে কোন কাজ করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। তবে নিজ অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে অন্যের ক্ষয়ক্ষতি বা অসুবিধার প্রতি ও লক্ষ্য রাখতে হয়। নিজের অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে অন্যের অসুবিধা সৃষ্টি করলে তার জন্য তা উৎপাতে পরিণত হয়।
উৎপাত দুই প্রকার: 
সাধারণ উৎপাত, ‌ ব্যক্তিগত উৎপাত

ব্যক্তিগত উৎপাত: যে উৎপাত কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষতি বা বিরক্ত করে তাকে ব্যক্তিগত উৎপাত বলে।
অর্থাৎ এক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের ক্ষতি হয় না ব্যক্তি বিশেষ ক্ষতি হয়। ‌‌তিন ভাবে ব্যক্তিগত উৎপাত এর প্রতিকার লাভ করা যায়। 
অপসারণ, ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞ। 







টিকা: 

১) লাইবেল এবং স্প্লেন্ডারঃ

২) অবৈধ কয়েক খানা


১) চূড়ান্ত দায়ঃ


৩) ইন্নায়োন্ডঃ


 ৪) রাইল্যান্ডস বনাম ফ্লেচার বিধিঃ 



৫) ভ্যালেন্টি নন ফিট ইনজুরিয়া


৬)  ট্রেস পাস এবেইনিশিও



২) সর্বসাধারণের বিরুদ্ধে উৎপাত, ৩) সাইনটার বিধি,  ৫), ৬) অবহেলা, ৭) মানহানি, ৮) , ১০) অগ্রবর্তী ক্ষতি,  ১২) ড্যামনাম সাইন ইনজুরিয়া,  ১৩) আইনগত ক্ষতি, ১৪)  , ১৫) ইউ বি জাস ইবি রিমেডিয়াম, ১৬) পারার্থ দায়, ১৭) রেস ইপসা লুকুইটার,  ১৯) বিদ্বেষ প্রসুত মামলা, ২০) স্ট্রিক ও এ্যাবসলুট ল্যআয়আবইলইটই, ২১) ভ্যালেন্টি নন ফিট ইনজুরিয়া, ২২) মেল ফিসেন্স, মিস ফিসেন্স, ননফিসেন্স।

No comments:

Post a Comment