১১.২৭. আব্দুল বাকী তার স্ত্রী, মাতা, কন্যা ও পূর্বের মৃতপুত্রের কন্যা রেখে মারা যান। হানাফি আইন ও ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি বন্টন করো।
১১.২৮. দবির উদ্দিন তার পিতামহ, পিতা, মাতা, স্ত্রী, দুই কন্যা, এক বোন, এবং পূর্বে মৃত এক ছেলের মেয়ে রেখে মারা গেল। মৃত দবির উদ্দিনের সম্পত্তি ( ১) হানাফী নিয়ম অনুযায়ী এবং (২) বিধিবদ্ধ আইন অনুসারে বণ্টন কর।
৬.১. উত্তরাধিকার কাকে বলে?
উত্তরাধিকার বলতে, উত্তর + অধিকার কে বুঝায়। উত্তর অর্থ পরে, অধিকার অর্থ অধিকার। সুতরাং কারো মৃত্যুর পরে তার সম্পত্তিতে যারা অধিকার লাভ করে তাদেরকে উত্তরাধিকারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার সম্পত্তিতে তার ওয়ারিশগণ উত্তরাধিকার লাভ করেন। জীবিত অবস্থায় কোন ওয়ারিশ উত্তরাধিকার লাভ করেন না।
উত্তরাধিকার: কোন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পরে তার সম্পত্তির ( স্থাবর - অস্থাবর) উপর তার যে সকল আত্মীয়-স্বজন অধিকার লাভ করে তাদেরকে উক্ত ব্যক্তির উত্তরাধিকার বলে।
৬.২. উত্তরাধিকার এর ভিত্তি আলোচনা কর ।
উত্তরাধিকারের ভিত্তি মূলত: দুইটি।
১) বংশগত: বংশগত সম্পর্ক আবার তিন ভাগে বিভক্ত।
ক) মৃত ব্যক্তির পূর্বপুরুষ। যেমন- মৃত ব্যক্তির পিতা-মাতা, দাদা-দাদী।
খ) মৃত ব্যক্তির অধনস্থ বংশধর: যেমন- মৃত ব্যক্তির পুত্রকন্যা, পুত্রের পুত্র-কন্যা।
গ) এই দুই শ্রেণী ব্যতীত অন্য আত্মীয়-স্বজন: যেমন- ভাই, বোন, চাচা।
২) বৈবাহিক সম্পর্ক : বিবাহের কারণে একজন আরেকজনের উত্তরাধিকার হয়। যেমন- স্বামী স্ত্রী। তবে অনিয়মিত ও বাতিল বিবাহের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের উত্তরাধিকার হয় না।
৬.৩. উত্তরাধিকার এর শ্রেণীবিভাগ আলোচনা কর ।
উত্তরাধিকারের প্রথম এবং প্রধান উৎস হল পবিত্র আল কোরআন। আল কুরআনের সূরা আর নিসার ৭, ১২, ১৭৬ নং আয়াতে উত্তরাধিকার সম্পর্কে বিধান বর্ণিত হয়েছে।
হানাফী বা মুসলিম আইনের বিধান অনুযায়ী উত্তরাধিকারীগণকে ৩ শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়।
১) অংশীদার ( যাবিল ফুুরুয )
২) অবশিষ্টভোগী ( আসাবা)
৩) দূরবর্তী আত্মীয় ( যাবিল আরহাম)
১) অংশীদার ( যাবিল ফুুরুয ) : পবিত্র কোরআনে যাদের অংশ নির্দিষ্ট করা হয়েছে তাদেরকে অংশীদার বলে। অংশীদারদের অংশ পুরান দ্বারা নির্ধারিত। মুসলিম আইন অনুযায়ী অংশীদার হচ্ছেন ১৩ জন। এই ১৩ জনের মধ্যে ৪ পুরুষ, ৯ জন নারী।
৪ জন পুরুষ: ১) পিতা, ২) দাদা বা পিতামহ , ৩) স্বামী, ৪) বৈপিত্রিয় ভাই।
৯ জন নারী: ১) মাতা, ২) স্ত্রী, ৩) কন্যা, ৪) পুত্রের কন্যা ( নিম্নক্রম ), ৫) আপন বোন, ৬) বৈমাত্রিক বোন, ৭) বৈপিত্রিক বোন, ৮) দাদি ( উর্ধ্বক্রম) , ৯) নানি ( উর্ধ্বক্রম) ।
২) অবশিষ্টভোগী ( আসাবা ):
আরবিতে অবশিষ্ট ভোগীদের বলা হয় আসাবা। আশরা অর্থ পাগড়ী। পাগড়ী যেমন মাথাকে পেচিয়ে রাখে। আসাবাও কোন ব্যক্তির সম্পদকে তার অংশীদারদের মধ্যে পেঁচিয়ে রাখে। অর্থাৎ সম্পদ বাইরে যেতে দেয় না।
পিতার দিকের আত্মীয়রা অবশিষ্টভোগী আসাবা হয়।
অংশীদারদের নির্ধারিত অংশ বন্টন করার পর সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকলে যারা উক্ত অবশিষ্ট অংশের অধিকার লাভ করেন তাদের অবশিষ্টভোগী বলে।
অবশিষ্টভোগীদের অন্যতম দুইটি বৈশিষ্ট্য হলো:
এক আল আকরাবু ফাল আকরাবু।' অর্থাৎ নিকটতর ব্যক্তি আগে তারপর পরবর্তী নিকটতর ব্যক্তি।
অন্যভাবে বলা যায়, অবশিষ্টভোগীদের ক্রমানুসারে যারা আগে থাকবেন শুধু তারা সম্পত্তি পাবেন। পরবর্তী কেউ সম্পদ পাবে না।
যেমন- ১ নং সিরিয়ালের ব্যক্তিবর্গ জীবিত থাকলে ২,৩,৪,৫,৬ .... ইত্যাদি সিরিয়ালের কেউ অবশিষ্টভোগী হিসেবে সম্পদ পাবে না। যদি ১ নং না থাকে তাহলে ২ নং সিরিয়ালের ব্যক্তিরা সম্পদ পাবেন। এক্ষেত্রে ৩,৪,৫,৬,৭.... ইত্যাদি সিরিয়ালের কেউ অবশিষ্টভোগী হিসেবে সম্পদ পাবে না। ১ এবং ২ নং না থাকলে শুধুমাত্র ৩ নং সিরিয়ালের ব্যক্তিরা সম্পদ পাবেন। এক্ষেত্রে ৪,৫,৬,৭ ... ইত্যাদি সিরিয়ালের কেউ অবশিষ্টভোগী হিসেবে সম্পদ পাবেন না। এভাবে সিরিয়াল অনুযায়ী যারা আগে থাকবেন শুধুমাত্র তারা অবশিষ্টভোগী হিসেবে সম্পত্তিপ্রাপ্ত হবেন।
২) অংশীদারদের নির্ধারিত অংশ বন্টন করার পর যদি সম্পত্তি অবশিষ্ট থাকে তাহলে অবশিষ্টভোগীরা সম্পদ পাবেন। আর না থাকলে পাবেন না।
অবশিষ্টভোগী ( আসাবা ) চার শ্রেণীতে বিভক্ত:
১) আসাবা বি নাফসিহি। ২) আসাবা বি গাইরিহি, ৩) আসাবা সাবাবিয়্যাহ এবং ৪) আসাবা মা-আ-গাইরিহি।
৩) দূরবর্তী আত্মীয় ( যাবিল আরহাম) : যারা অংশীদার বা অবশিষ্টভোগী কোনটাই নয়। কিন্তু মৃত ব্যক্তির সাথে আত্মীয়র সম্পর্ক আছে তাদেরকে দূরবর্তী আত্মীয় বলে। যেমন- কন্যার পুত্র কন্যা, চাচার কন্যা ইত্যাদি।
কোন ব্যক্তির অংশীদার বা অবশিষ্টভোগী কেউ না থাকলে দূরবর্তী আত্মীয়গণ সম্পত্তিপ্রাপ্ত হন।
উপরের উল্লেখিত অংশীদার অবশিষ্টভোগী বা দূরবর্তী আত্মীয় কেউ যদি না থাকে তাহলে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।
৬.৪. উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ কি?
১) হত্যা করলে: কোন ব্যক্তি ইচ্ছে করে, ভুল করে, অবহেলা করে কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটালে সুন্নী আইন অনুসারে সে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। তবে শিয়া আইন অনুসারে ভুল করে বা অবহেলা করে কারোর মৃত্যু ঘটলে এসে মৃত্যু ব্যক্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না
২) জারজ সন্তান: সুন্নি আইন অনুসারে জারজ সন্তান মায়ের সন্তান হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং সে শুধু তার মায়ের এবং মাতৃ পক্ষের আত্মীয়ের উত্তরাধিকারী হবে এবং তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী ও হবে তার মা ও মাতৃপক্ষের আত্মীয়রা। অর্থাৎ পিতার উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে
৩) অনিয়মিত বিবাহ: অনিয়ত বিবাহের ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রী পরস্পর পরস্পরের সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করবে না।
৪) ধর্মের পার্থক্যের কারণে:
মুসলিম ধর্মের অনুসারী নয় এমন ব্যক্তি কোন মুসলিমের সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করবে না।
৫) বিদেশী হলে: বিদেশি কোন ব্যক্তি অর্থাৎ দুই দেশের নাগরিক ( পরস্পর আত্মীয় না হলে) একে অন্যের সম্পত্তির অধিকারী হবে না।
৬) সতীনের সন্তান: সতীনের ছেলেমেয়েরা তাদের সৎ মায়ের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
৬.৫. কারা কখনো অবশিষ্ট ভোগি হতে পারেন না?
যারা কখনো অবশিষ্টভোগী হতে পারেনা তারা হলেন:
১) মাতা, স্বামী, স্ত্রী, বৈপিত্রিয় ভাই - বোন, দাদি।
২) দূরবর্তী আত্মীয় কখনো অবশিষ্টভোগী হয় না। তবে কোন ওয়ারিশ না থাকলে তারা অংশ পায় এবং শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রী থাকলে তাদের অংশ বাদ দেয়ার পর দূরবর্তী আত্মীয় অংশ পায়।
৬.৬. কারা কখনো উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না? তাদের অংশের পরিমাণ কি?
১) পিতা, ২) মাতা, ৩) স্বামী, ৪) স্ত্রী, ৫) পুত্র, ৬) কন্যা।
( স্বামী ও স্ত্রী একসাথে উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এজন্য অনেক স্থানে এদেরকে একসাথে দেখানো হয়েছে। যেমন- ১) পিতা, ২) মাতা, ৩) স্বামী স্ত্রী, ৪) পুত্র , ৫) কন্যা। অর্থাৎ যারা কখনো উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন না তাদের সংখ্যা ৫ বললেও সঠিক আবার ৬ বললেও সঠিক।
তাদের অংশের পরিমাণ
তাদের সকলে বর্তমান থাকলে, পিতা ১/৬ অংশ, মাতা ১/৬ অংশ, স্বামী ১/৪ অংশ, স্ত্রী ১/৮ অংশ, পুত্রকন্যা অবশিষ্ট ভূমি হিসেবে ২ঃ১ অনুপাতের বাকি অংশ পাবে।
৬.৮. উত্তরাধিকার সম্পত্তি বন্টনের নিয়ম আলোচনা কর। / ইসলামী উত্তরাধিকারী আইনের সাধারণ নিয়মাবলী আলোচনা কর।
কোন ব্যক্তি মারা গেলে প্রথমে তার দাফন কাফনের খরচ, তার কোন কোন ঋণ থাকলে তা পরিশোধ, মৃত ব্যক্তি কোন বৈধ উইল করে গেলে তা কার্যকর করার পর উক্ত ব্যক্তির সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বা তাদের প্রাপ্য অনুযায়ী বন্টিত হবে। বন্টনের নিয়মগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১) উত্তরাধিকার যোগ্য সম্পত্তি:
কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার সকল সম্পত্তি অর্থাৎ স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তি উত্তরাধিকারের বিষয়বস্তু বলে গণ্য হবে।
২) জন্মসূত্রে উত্তরাধিকারী স্বীকৃত হবে না:
কোন ব্যক্তি মারা যাওয়ার সময় শুধুমাত্র তার যে সকল ওয়ারিশ জীবিত থাকবে তারাই উত্তরাধিকারী হবে। যাদের এখনো জন্ম হয়নি তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে মৃত ব্যক্তি যদি পুরুষ হয় এবং তার স্ত্রীর গর্ভের সন্তান থাকে তাহলে গর্ভস্থ সন্তান উত্তরাধিকারী লাভ করবে।
এক্ষেত্রে গর্বের সম্মান জন্ম লাভ করার পর সম্পত্তি বন্টন করা উত্তম। কারণ উক্ত সন্তান- পুত্র হতে পারে বা কন্যা হতে পারে। আবার পুত্রকন্যা বা একাধিক পুত্র বা একাধিক কন্যা যমজ হতে পারে। এ সকল ক্ষেত্রে অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের হিসাব ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যাবে।
৩) মৃত্যু হলেও উত্তরাধিকার স্বীকৃত হবে:
কোন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার কোন উত্তরাধিকার মারা গেলে ওই মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশগণ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবে না। যেমন- ক তার পুত্র খ এবং গ কে রেখে মারা গেলেন। কিছুদিন পর সম্পত্তি বন্টনের পূর্বেই ক্ষমা মারা গেলেন এক্ষেত্রে 'খ' এর সন্তান বা ওয়ারিশ থাকলে তারা 'ক' সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে।
৪) প্রতিনিধিত্ব: মুসলিম আইনে প্রতিনিয়ত স্বীকৃত নয়। কোন ব্যক্তি মারা যাওয়ার পূর্বে তার কোন সন্তান মারা গেলে ওই সন্তানের ওয়ারিশগণ সম্পত্তি থেকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বঞ্চিত হবে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী মৃত সন্তানের ওয়ারিশগণ সম্পত্তির সেই অংশের উত্তরাধিকারী হবে যা তাদের পিতা-মাতা বেঁচে থাকলে পেতেন। যেমন ক ও এর দুইটি ছেলে খ এবং গ । ক এর মৃত্যুর পূর্বে তার প্রথম পুত্র খ মারা গেলেন। কিছুদিন পর ক মারা গেলেন। এক্ষেত্রে ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী খ এর সন্তান থাকলেও ক এর আরেক পত্র গর্জীবিত থাকায় তারা কয়ের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে না। কিন্তু 1961 সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী খ এর সন্তান থাকলে তারা তাই পাবে যা তাদের পিতা হওয়া বেঁচে থাকলে পেতেন।
৫) হত্যাকারী হলে উত্তরাধিকারী হবে না: কেউ যদি কারো হত্যাকারী হয় তাহলে সে তার সম্পদের উত্তরাধিকার হবে না।
৬) অন্য ধর্ম গ্রহণ করলে উত্তরাধিকার হবে না: মৃত ব্যক্তির কোন ওয়ারিশ যদি ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করে তাহলে সে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
৭) পুরুষের চেয়ে নারীর অংশ কম: সাধারণত পুরুষের চেয়ে নারীর অংশ কম হবে। অর্থাৎ পিতার চেয়ে মাদার অংশ কম, স্বামীর যে স্ত্রীর অংশ কম পুত্রের চেয়ে কন্যার অংশ কম ইত্যাদি তবে বই পি থ্রি এর ভাইবোন সামান্য অংশ পায়
৭) বৈবাহিক সূত্রে উত্তরাধিকারী লাভ: বৈধবিবাহ হলে স্বামী এবং স্ত্রী একে অন্যের উত্তরাধিকারী হবে। কিন্তু বাতিল বা অনিয়মিত বিবাহ হলে উত্তরাধিকারী হবে না।
পরিশেষে বলা যায় যারা সুন্নি মতের অনুসারী তাদের সম্পত্তি হানাফি বা ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী করতে হয়। যারা ছবা অন্য মদের অনুসারী তাদের সম্পত্তি তাদের নিয়ম অনুযায়ী বণ্ডিত হয়
৬.৯.কোন উত্তরাধিকারী তার সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মামলা করার সময়সীমা ( তামাদি মেয়াদ) কত?
প্রিভি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত হল:
১) স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে: তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১৪৪ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে অর্থাৎ 12 বছর।
২): অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে: তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের ১২০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে অর্থাৎ ছয় বছর।
এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর দিন থেকে নয় বরং শরিকগণ কর্তৃক তার অংশ প্রকাশ্যে অস্বীকার করার দিন হিসেবে ।
৬.১০. মৌলিক উত্তরাধিকারী কারা? বিভিন্ন অবস্থায় তাদের প্রাপ্য অংশের পরিমাণ কি?
পাঁচজন উত্তরাধিকারী সর্বক্ষেত্রেই উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবেন। অর্থাৎ তারা কখনোই বঞ্চিত হবে না। তারা হচ্ছে- ১) পিতা, ২) মাতা, ৩) স্বামী/ স্ত্রী, ৪) পুত্র, ও ৫) কন্যা, এদেরকে বলা হয় মৌলিক উত্তরাধিকারী।
তাদের সকলে বর্তমান থাকলে, পিতা ১/৬ অংশ, মাতা ১/৬ অংশ, স্বামী ১/৪ অংশ, স্ত্রী ১/৮ অংশ, পুত্রকন্যা অবশিষ্ট ভূমি হিসেবে ২ঃ১ অনুপাতের বাকি অংশ পাবে।
৬.১১ . কারা কখনো উত্তরাধিকার অবশিষ্ট ভুগি হিসেবে উত্তরাধিকার পাইতে পারেনা? তাদের হিস্যা ব্যাখ্যা কর।
যারা কখনো অবশিষ্টভোগী হন না বা নিম্নে তাদের নাম ও অংশ উল্লেখ করা হলো:
১) মাতা , ২) স্বামী, ৩) স্ত্রী, ৪) বৈপিত্রিয় ভাই এবং বৈপিত্রিয় বোন, ৫ ) দাদি এবং ৬) নানী।
যারা কখনো অবশিষ্টভোগী হিসেবে অংশ পায়না তাদের হিস্যা
ক) মাতা: মাতর তিন অবস্থা
ক) মৃত ব্যক্তির পুত্র কন্যা বা পুত্রের পুত্র- কন্যা জীবিত থাকলে কিংবা আপন/বৈপিত্রিক / বৈমাত্রিক দুই বা ততোধিক ভাই বোন জীবিত থাকলে মাতা পাবেন ১/৬ অংশ।
খ) মৃত ব্যক্তির পুত্রকন্যা বা পুত্রের কন্যা জীবিত না থাকলে কিংবা আপন/বৈপিত্রিক / বৈমাত্রিক ভাই বোন মাত্র একজন জীবিত থাকলে মাথা পাবেন ১/৩ অংশ।
গ) যদি কখনো এমন হয় যে পিতার চেয়ে মাতার অংশ বেশি, তাহলেই পিতা ও মাতা ব্যতীত অন্য যে অংশীদার থাকবে তাকে তার অংশ দেয়ার পর মাতাকে বাকি অংশ থেকে ১/৩ অংশ প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে যদি পিতা জীবিত না থাকে কিন্তু দাদা থাকে তাহলে মাতা মোট সম্পদ থেকে ১/৩ অংশ পাবেন।
২) স্বামী: স্বামীর দুই অবস্থা:
ক) মৃত স্ত্রীর পুত্র কন্যা, পুত্রের কন্যা জীবিত না থাকলে স্বামী পাবেন ১/২ অংশ।
খ) মৃত স্ত্রীর পুত্র কন্যা, পুত্রের পুত্রকন্যা জীবিত থাকলে স্বামী পাবে ১/৪ অংশ
***নোট: মৃত স্ত্রীর একাধিক ঘরের সন্ধান থাকলেও উপরোক্তভাবে সম্পত্তি বন্টিত হবে।
৩) স্ত্রীর দুই অবস্থা:
১) মৃত স্বামীর পুত্র কন্যা, পুত্রের পুত্র কন্যা জীবিত না থাকলে স্ত্রী পাবেন ১/৪অংশ.
২) মৃত স্বামীর পুত্রকন্যা' পুত্রের পুত্র কন্যা জীবিত থাকলে স্ত্রী পাবেন ১/৮ অংশ।
৪) বৈপিত্রিয় ভাই বোন এর তিন অবস্থা
মৃত ব্যক্তির পুত্রকন্যা, পুত্রের পুত্র কন্যা, পিতা, দাদা জীবিত না থাকলে এবং বৈপিত্রিয় ভাই অথবা বোন একজন হলে ১/৬ অংশপ্রাপ্ত হবে।
২) মৃত ব্যক্তির পুত্রকন্যা, পুত্রের পুত্র কন্যা, পিতা দাদা-দাদী জীবিত না থাকলে এবং বৈপিত্রিয়/ বোন একাধিক হলে ১/৩ অংশপ্রাপ্ত হবেন।
৫) দাদির দুই অবস্থা
১) মৃত ব্যক্তির পিতা বা মাথা কেউ জীবিত না থাকলে দি পাবেন ১/৬ অংশ।
২) মৃত ব্যক্তির পিতা ও মাতা যে কোন একজনকে জীবিত থাকলে দাবি বঞ্চিত হবেন।
৬) নানি দুই অবস্থা
১) মৃত ব্যক্তির মাতা জীবিত না থাকলে নানি পাবেন ১/৬
২) মৃত ব্যক্তির মাথা জীবিত থাকেন নানি বঞ্চিত হবেন।
No comments:
Post a Comment