Friday, March 10, 2023

মানহানি

 ৭. ১. মানহানির সংজ্ঞা দাও। 

৭. ২. মানহানির উপাদান আলোচনা কর। 

৭. ৩. Innuendo কি? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর। 

৭. ৪. 'প্রকাশনা মানহানির সারবস্তু' ব্যাখ্যা কর। 

৭. ৫. মানহানির ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি/ পন্থা কি কি?

৭. ৬. লাইবেল ও স্লাইডারের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।  

৭. ৭. মানহানির ক্ষেত্রে বাদি বিবাদী কোন অধিকারের হস্তক্ষেপ করা হয়? 

৭.৮. সমস্যা: 


৭. ১. মানহানির সংজ্ঞা দাও। 

সুনাম প্রতিটি মানুষের অমূল্য সম্পদ। বস্তুগত সম্পদের চেয়ে সুনাম সম্পদের মূল্য অনেক বেশি। কারণ বস্তু হারালে তা ফিরে পাওয়া যায় কিন্তু সুনাম হারালে তার ফিরে পাওয়া অনেক কষ্টকর। কোন ব্যক্তি সম্পর্কে অন্য ব্যক্তির সুধারণা হলো সুনাম। প্রতিটি মানুষের অধিকার রয়েছে তার সুনাম অক্ষুন্ন রাখার। আর এই সুনাম অক্ষুন্ন করলে মানহানির সৃষ্টি হয়।

মানহানি কাকে বলে: 
বিভিন্ন আইন বিজ্ঞানী মানহানির বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।  যেমন- 
উইনফিল্ড এর মতে, কোন ব্যক্তির প্রতি কোন উক্তি প্রকাশের ফলে বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তির দৃষ্টিতে যদি তাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয় এবং অন্য কে তাকে বর্জন করে বা পরিহার করে তাহলে সেই উক্তিকে মানহানি বলে।

স্যামন্ড মতে,- 'কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত সমর্থন ছাড়া মিথ্যা উক্তি প্রকাশ করলে তাকে মানহানি বলে'

সুতরাং বলা যায় আইন সমর্থন করে না এমন উক্তি বা কাজের প্রকাশনা হলো মানহানি। 


৭. ২. মানহানির উপাদান আলোচনা কর। 

মানহানিতে নিম্নাক্ত উপাদান থাকতে হবে: 
১) কোন উক্তি বা কাজমানহানি হতে হলে কোন উক্তি বা কাজ বা কথা থাকতে হবে।
২) উক্তি বা কাজটি মানহানি কর: যে উক্তি বা কথা বা কাজ দ্বারা মানহানি করা হয় তা অবশ্যই মানহানিকর হতে হবে।
৩) উক্তিটি বাদীর প্রতি হতে হবে: যে উক্তি বা কথা বা কাজ দ্বারা মানহানি করা হয় তা বাজির প্রতি হতে হবে।
৪) বিবাদী কর্তৃক হতে হবে: যে উক্তি বা কথা বা কাজ দ্বারা মানহানি করা হয় তা বিবাদী কর্তৃক হতে হবে।
৫) উক্তিটি মিথ্যা হতে হবে: কোন উক্তি সত্য হলে তা মানহানিকর হবে না। মানানিকর হতে হলে অবশ্যই মিথ্যা হতে হবে।


৭. ৩. Innuendo কি? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর। 

Innuendo
যে সকল উক্তি আপাতত দৃষ্টিতে মানহানিকর বলে মনে হয় না কিন্তু এর অন্তর্নিহিত অর্থ মানহানিকর হয় তবে উক্ত উক্তিটি বা কথাটি যে গৌণ অর্থে বা অন্তর্নিহিত অর্থে মানহানিকর সেই বিষয়ে বাদী তার আর্জিতে ব্যাখ্যা প্রদান করবেন।  টর্ট আইনে এরূপ ব্যাখ্যা মূলক বিবৃতিকে ইন্নোয়েন্ডো বলা হয় অর্থাৎ যে ক্ষেত্রে কোন কথা প্রদান অর্থে মানহানিকর নয় কিন্তু গণঅর্থে মানহানিকর সেই ক্ষেত্রে কথাটি যে গণ অর্থে মানহানিকর সেই মর্মেবাদী কর্তৃক আরজিতে সন্নিবেশিত উক্তিকে Innuendo বলে। 

টালি বনাম ফ্রাই এন্ড সন্স লিমিটেড: এই মামলার বাদী একজন গলফ খেলোয়াড়।  বিবাদী তার উৎপাদিত চকলেট বিজ্ঞাপনের সময় বাঁদিকে ব্যঙ্গ করে চিত্র করে এবং তার খেলার সুনামের সাথে চকলেটের সুনাম জড়িয়ে থাকে এর ফলে বাদি তার Innuendo তে এই মর্মে অভিযোগ করেন যে বিবাদী কর্তৃক এরূপ প্রচারের কারণে অনেকে ধারণা করেছেন যে বাড়ি অর্থের বিনিময়ে গুরুত্ব বিজ্ঞাপনে নিজেকে জড়িয়েছেন যা যেকোন সৌখিন গলফ খেলোয়াড়দের জন্য নিন্দনীয় বলে গণ্য হয়। এছাড়া বিজ্ঞাপনে এরূপ জড়ানোর কারণে তার ক্লাবের সদস্য প্রধান সম্ভাবনা রয়েছে ।  এই মামলায় স্বাক্ষর প্রমাণাদি গ্রহণ করা হয় এবং উপরোক্ত বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণিত এবং আদালত বাতির পক্ষের রায় দিয়ে দেন।


৭. ৪. 'প্রকাশনা মানহানির সারবস্তু' ব্যাখ্যা কর। 

কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত সমর্থন ছাড়া মিথ্যা উক্তি প্রকাশ করলে তাকে মানহানি বলে। কোন কথা বা কাজের প্রকাশ না হলে মানহানি হয় না। মানহানির উক্তিটি বাজিল উদ্দেশ্যে বিবাদী কর্তৃক প্রকাশিত হবে। পাশাপাশি সেখানে তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিত থাকতে হবে।  অর্থাৎ বিষয়টি তৃতীয় কোন ব্যক্তির দৃষ্টিগোচর বা কর্ণগোচরে আসতে হবে। যদি তৃতীয় কোন ব্যক্তির দৃষ্টিগোচর বা কোন বছর না আসে তাহলে কোন উক্তি বা কাজ প্রকাশ হিসেবে গণ্য হবে না।  যেমন: একটি ঘরের মধ্যে বা কোন স্থানে এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে খারাপ ভাষায় কটুক্তি করল সেখানে এই দুই ব্যক্তি ছাড়া আরো কেউ উপস্থিত ছিল না এটি মানহানি হবে না কারণ খারাপ ভাষায় কটুক্তি করলেও সেখানে তৃতীয় কোন ব্যক্তি না থাকায় প্রকাশ হয়নি সুতরাং বলা যায় প্রকাশনায় মানহানির সারবস্তু।

৭. ৫. মানহানির ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি/ পন্থা কি কি?

১) উক্তিটির সত্যতা: কোন উক্তি সত্য হলে তা মানহানিকর হবে না মানহানিকর হতে হলে অবশ্যই মিথ্যা হতে হবে। অর্থাৎ বিবাদী যদি প্রমাণ করতে পারে যে তার বক্তব্য সত্য তাহলে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের উপায় হতে পারে।
২) নিরপেক্ষ উক্তি: প্রকাশিত উক্তিটি যদি জনস্বার্থের পক্ষে হয় বা কোন জনস্বার্থে জড়িত থাকে তাহলে তা বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থনের উপায় হতে পারে।
৩) বিশেষ অধিকার: অনেক সময় মানহানিকর উক্তি প্রকাশের পর ও কোন ব্যক্তিকে দায়ী হতে হয় না। কারণ আইনের প্রত্যেক ব্যক্তির বিশেষ অধিকার সংরক্ষিত আছে ইংরেজিতে যাকে প্রিভিয়াস বলে এই অধিকার আবার দুই ধরনের হতে পারে 
ক) চূড়ান্ত অব্যাহতি: মানহানি কর উক্তির জন্য যখন কোন ভাবেই দায়ী করা যায় না তখন তাকে চূড়ান্ত অব্যাহতি বলে। যেমন বিচারকের কাজ সংসদের আলোচনা স্বামী স্ত্রীর আদান-প্রদান ইত্যাদি। 
খ) সীমিত অব্যাহতি: শর্তসাপেক্ষে যদি বিবাদীকে অব্যাহতী প্রদান করা হয় তাহলে তাকে সীমিত অব্যাহতি বলে।  যেমন আত্মরক্ষার জন্য কোন বিবৃতি, আইনজীবী ও মোক্কেলের পেশাগত আচরণ ইত্যাদি।


৭. ৬. লাইবেল ও স্লাইডারের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।  

১. সংজ্ঞাগত: কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য স্থায়ী কোন কিছু প্রকাশ করে তাকে লাইবেল বলে। পক্ষান্তরে কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য অস্থায়ী কোন কিছু প্রকাশ করে তাহলে তাকে স্লান্ডার বলে।
২) প্রতিশব্দগত: লাইবেলের ইংরেজি প্রতিশব্দ- 
Libel, পক্ষান্তরে স্লান্ডারের ইংরেজি প্রতিশব্দ Slander. 
৩) উক্তি গত: লাইবেরের ক্ষেত্রে কোন প্রচারকারী অনেক সময় মানহানিক উক্তি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে। অপরদিকে 
স্লান্ডার এর ক্ষেত্রে কোন পুন প্রচারকারী মানহানি কর উক্তি সম্পর্কে জ্ঞাত থাকে।

৪) প্রমান গত: ক্ষতিকর প্রমাণ ছাড়াও লাইবেলে প্রতিকার পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে ক্ষতির প্রমাণ ছাড়া স্লেন্ডার এর প্রতিকার পাওয়া যায় না। তবে ব্যতিক্রম কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া যায়।

৫) প্রকৃতিগত: লাইবেলের ক্ষতিপূরণ ও শান্তি বিনষ্টের জন্য শাস্তি হতে পারে। পক্ষান্তরে স্প্লেন্ডার এর ক্ষতিপূরণ শুধু আর্থিক।


৭.৮. সমস্যা: 

সমস্যা: 
বিবরণ: 'ক' একটি পত্রিকা বিতরণ করেছিল। এতে 'খ' এর বিরুদ্ধে মানহানিকর উক্তি লেখা ছিল।  ' ক' পুস্তিকাগুলি অন্য ব্যক্তির নিকট হতে সংগ্রহ করেছিল এবং এতে যে মানহানিকার উক্তি লেখা ছিল তা সে জানতো না।  'খ' বিতরণের সময় দেখে ফেলে এবং ' ক' এর বিরুদ্ধে মানহানিকর মামলা দায়ের করে। 

বিচার্য বিষয়: 'ক' মানহানির জন্য দায়ী কি না তা আলোচনা করা।


পর্যালোচনা: কয়টি পুস্তিকার বিতরণ করেছিল এতে ঘরের বিরুদ্ধে মানহানিকর উক্তি লেখা ছিল।  এগুলো অন্য ব্যক্তির নিকট হতেই সংগ্রহ করেছিল।  এত যে মানবিক রূপটি লেখা ছিল সেটা সে জানতো না। 

টর্ট আইন অনুযায়ী এই মানহানিকর উক্তি প্রবেশকারী ও রটনাকারী উভয় একইভাবে দায়ী হয়।  অর্থাৎ 'ক' এখানে মানহানির জন্য দায়ী হবে।

সিদ্ধান্ত: সুতরাং বলা যায় 'ক' যদিও মানহানি কর উক্তি সম্পর্কে জানত না তবুও উক্ত পুস্তিকা বিতরণের জন্য মানহানির মামলা দায়ী হবে।

No comments:

Post a Comment