Friday, March 31, 2023

ব্রিটিশ সংবিধান

 B. ১ । ব্রিটিশ সংবিধানের বা ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। / ব্রিটিশ সংবিধানের বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি?

 B. ২।  কি কি কারণে ব্রিটিশ সংবিধানকে অলিখিত সংবিধান বলা হয়?

 B. ৩  বৃটেনের অলিখিত সংবিধানের সুবিধা ও অসুবিধা মূল্যায়ন কর। 

 B. ৪। ব্রিটিশ সংবিধানের উৎস সমূহ আলোচনা কর।  / ব্রিটিশ সংবিধান তৈরি হয়নি জন্ম নিয়েছে ব্যাখ্যা কর। / সংবিধান প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি কি কি?

 B. ৫।  বিল অফ রাইটসের বিধান/ ১৬৮৮ সালের বিল অফ রাইটসের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।

 B. ৬।   কেন বলা হয় ব্রিটিশ সরকার ব্যবস্থায় রাজতন্ত্র অভিজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মিশ্রণ ।   ব্যাখ্যা কর।

 B. ৭।  বৃটেনের পার্লামেন্ট কি সার্বভৌম? / ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ভালো এবং মন্দ দিক আলোচনা কর।


 B. ৮।  ব্রিটিশ মন্ত্রীদের সমষ্টিগত ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব বলিতে কি বুঝো?

 B. ৯।  তুমি কি এই মতের সমর্থন করবে যে, মন্ত্রী ব্যক্তিগত দায়িত্ব সুযোগ নীতির বাস্তবে কোন শাস্তি মূলক ফলাফল নাই।  

 B. ১০।  কারা ক্রাউন মন্ত্রী?

 B. ১১।  যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।

 B. ১২।  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সাংবিধানিক ক্ষমতা ও মর্যাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী বর্ণনা কর। 

 B. ১৩।   কিভাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেবিনেট গঠনে ইহার পরিচালনায় এবং ইহার পতনে, মূল ব্যক্তি। ব্যাখ্যা কর। 

 B. ১৪।  বৃটেনের  কেবিনেট এবং মন্ত্রিসভার মধ্যে পার্থক্য লিখ।

 B. ১৫।   আইনের শাসন বা অনুশাসন কি বুঝ?

 B. ১৬।  আইনের অনুশাসন কোন দুইটি অর্থে ব্যবহৃত হয়?

 B. ১৭। আইনের অনুশাসনের পটভূমি বিকাশ লিখ। 

 B. ১৮। আইনের অনুশাসন সম্পর্কে ডাইসি এর মতামত পরীক্ষা আলোচনা কর।

 B. ১৯। আইনের অনুশাসন সম্পর্কে জেনিংস এর মতামত পরীক্ষা


 B. ২০।  সাংবিধানিক সরকার একবার প্রতিষ্ঠিত হলে আইনের শাসন আপনা আপনি নির্গত হবে।  আলোচনা করো।


 B. ২১। যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক কনভেনশন সমূহের বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্য আলোচনা কর:

 B. ২২। কিভাবে সাংবিধানিক কনভেনশন সমূহ ব্রিটিশ সংবিধানের অখন্ড অংশ?


 B. ২৩। কেন এগুলা সংহিতা আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি?


 B. ২৪।  ব্রিটিশ কেবিনেট ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য কি কি? 

B. ২৫। ব্রিটিশ কমন্সসভার গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর। / কমন্স সভার সদস্যদের বিশেষ অধিকার সমূহ কি কি?
 
B. ২৬। কমন্স সভা ও লর্ডস সভার সম্পর্ক বা পার্থক্য।

B. ২৭। বর্তমান কমন্সসভার কেবিনেট কে নিয়ন্ত্রণ করে না বরং কেবিনেট কমনসভা কে নিয়ন্ত্রণ করে। 

B. ২৮। লর্ড সভার কোন সদস্যকেই প্রধানমন্ত্রী রূপে নিয়োগ পেতে পারেন?

B. ২৯।  যুক্তরাজ্যের আইন প্রণয়নের লর্ড সভার ভূমিকা।
 
B.  ৩০।   রাজকীয় পরমাধিকার বলতে কি বুঝ?

B. ৩১। রাজকীয় পরমাধিকার কি কি?/রাজা বা রানীর ক্ষমতা ও কার্যাবলী। / যুক্তরাজের শাসন ব্যবস্থায় রাজা বা রানীর ভূমিকা ও অবস্থান।

B.  ৩২।  রাজকীয় পরমাধিকার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট কর্তৃক কতটুকু নিয়ন্ত্রিত?/ রাজকীয় পরমাদিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে সকল নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তা আলোচনা কর।

B. ৩৩।  কেন বলা হয় রাজা কোন অন্যায় করতে পারেন না?




 B. ১ । ব্রিটিশ সংবিধানের বা ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। / ব্রিটিশ সংবিধানের বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি?


সংবিধান সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। লিখিত ও অলিখিত। আমার দেশের সংবিধান লিখিত সংবিধান। এটি গ্রন্থাগারের প্রকাশিত হয়। কিন্তু ব্রিটিশ সংবিধান অলিখিত একটি সংবিধান। অর্থাৎ সংবিধানের লিখিত কোন রূপ নেই। অলিখিত সংবিধান মূলত: বিভিন্ন রীতিনীতি বা প্রথা ইত্যাদির মাধ্যমে গড়ে ওঠে।

ব্রিটিশ সংবিধানের বা বৃষ্টির শাসন ব্যবস্থা বৈশিষ্ট্য:

ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থায় একটি বিশেষ শাসন ব্যবস্থা। নিম্নে এর বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো;
১) এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা: ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থা federal বা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মত নয়। এ ব্যবস্থায় সরকারের যাবতীয় ক্ষমতা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সীমাবদ্ধ। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ক্ষমতার কোন বিভাজন নেই। এখানে স্থানীয় সরকার থাকলেও তা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্বে ও তাদের অধীনে থাকে। এবং কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। কেন্দ্রীয় সরকার যে কোন সময় স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে এমনকি তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত করতে পারে।

২) অলিখিত: ব্রিটিশ সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি অলিখিত, বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তান বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো লিখিত আকারে বৃটেনের সংবিধান নেই। এটি বিশেষ কোনো কর্তৃপক্ষ বিশেষ কোন দিনে রচনা করে কার্যকর করেনি। ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থা বিভিন্ন নজির, প্রথা বা রীতি-নীতির মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। তবে কোন অংশই যে লিখিত নেই তা নয়।  সংবিধানের কিছু কিছু অংশ লিখিত আছে। যেমন: ১২১৫ সালের Megna Carta বা মহাসনদ, ১৬২৮ সালের petition of rights, ১৬৮৯ সালের bill of rights, ১৭০১ সালের act of settlement ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো যেহেতু বিশেষ কোন দিনে দলিল আকারে গ্রহণ ও কার্যকর করা হয়নি সেহেতু বৃটেনের সংবিধানকে মূলত: অলিখিত সংবিধান বলা হয়।

৩) সুপরিবর্তনীয়: দোষ্পরিবর্তণীয় সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু সুপরিবর্তনীয় সংবিধানের জন্য বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয় না। ব্রিটিশ সংবিধান যেহেতু সুপরিবর্তনীয় সেই তো সাধারণ আইন প্রণয়নের পদ্ধতির মাধ্যমে এর বিধান পরিবর্তন করা যায় । এখানে সাধারণ আইন ও সাংবিধানিক আইনের মধ্যে পার্থক্য করা হয় না।

৪) সংসদীয় সর্বভৌমত্ব: সাধারণ সংবিধান সংসদ বা পার্লামেন্টের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে। কিন্তু ব্রিটিশ সংবিধান বা পার্লামেন্ট সংবিধানের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে। অর্থাৎ এখানে সাংবিধানিক সার্বভৌমত্ব এর স্থলে সংসদীয় সার্বভৌমত্ব কথাটি প্রযোজ্য।

৫) সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা: ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থা কে বলা হয় সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার মাতৃভূমি। এটি রাষ্ট্রপতি সরকার ব্যবস্থার বিপরীত। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সম্মানীয় ব্যক্তি হলেও তিনি থাকবেন মূলত নাম সর্বস্ব ও রাষ্ট্রপ্রধান।

৬) জবাবদিহিতা: ব্রিটিশ কেবিনেট মন্ত্রীদের দুই ভাবে জবাবদিহি করতে হয়। 
১) যৌথভাবে কেবিনেট কে পার্লামেন্টের নিকট জবাব দিহি করতে হয়। 
২) ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক মন্ত্রীকে তার বিভাগীয় কাজের জন্য পার্লামেন্টের নিকট জবাব দিহি হয়।

৭) দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট: বৃটেনের আইনসভা দুই কক্ষ বিশিষ্ট।
ক) নিম্নকক্ষ বার কমন্স সভা
খ) উচ্চকক্ষ বা লর্ডস সভা

৮) রাজতান্ত্রিক: বৃটেনের সংবিধানের অন্যতম আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি রাজতান্ত্রিক। কিন্তু বর্তমানে পূর্বের ন্যায় নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র নেই। কারণ বর্তমান রাজা বা রানী নামে মাত্র রাষ্ট্রপ্রধান। তাদের নামেই সকল কার্য পরিচালনা হয় কিন্তু মূল শাসন ক্ষমতা ভোগ করে মন্ত্রিসভা এবং পার্লামেন্ট।

৯) দ্বি- দলীয় ব্যবস্থা: ব্রিটি শ শাসন ব্যবস্থায় মূলত দুটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল প্রাধান্য বিস্তার করে। 
ক) কনজারভেটিভ বা রক্ষণশীল দল 
খ) লিভারেল বা উদারনীতি দল

১০) নাগরিক অধিকার: ব্রিটেন শাসনব্যবস্থায় নাগরিকের মৌলিক অধিকার বলে কিছু নেই। নাগরিকদের অধিকার বিধিবদ্ধ আইন প্রথা বিচারালয় সিদ্ধান্ত দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।

১১) আইনের শাসন: অধ্যাপক ডাইসের মতে আইনের শাসন বলতে বুঝায়,
ক) স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা অনুপস্থিত,
খ) আইনের চোখে সকলে সমান,
গ) নাগরিক অধিকার এর নিশ্চয়তা। ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থা এগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 

১২) সাংবিধানিক রীতিনীতি: বৃটেনের সাংবিধানিক রীতি-নীতির উপর তাদের সাংবিধানিক ইমারত দাঁড়িয়ে আছে।

১৩) তত্ব ও বাস্তবের ব্যবধান: ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থায় তত্ব ও বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
যেমন- 
ক) তত্ত্বগতভাবে রাজতন্ত্র চালু থাকলেও বাস্তবে গণতন্ত্র বিরাজমান
খ) তত্ত্বগতভাবে রাজা বা রানীর পরামর্শদাতা হলেও মন্ত্রিসভা কিন্তু বাস্তবে মন্ত্রিসভায় প্রকৃত দেশ শাসন করে।


 B. ২।  কি কি কারণে ব্রিটিশ সংবিধানকে অলিখিত সংবিধান বলা হয়?

উত্তর উপরে অংশ মিলিয়ে লিখলে হবে।


 B. ৩  বৃটেনের অলিখিত সংবিধানের সুবিধা ও অসুবিধা মূল্যায়ন কর। 

ব্রিটিশ অলিখিত সংবিধানের সুবিধা: 
নিম্নে বৃটেনের অলিখিত সংবিধানের সুবিধা আলোচনা করা হলো:
১) সুপরিবর্তনীয়: লিখিত সংবিধানে কোন সংশোধনী আনতে হলে নির্দিষ্ট নিয়মের মাধ্যমে তা আনা হয়। এটি সময় সাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু অলিখিত সংবিধানে খুবই সহজেই সংশোধন আনা যায়।

২) নমনীয়তা: অলিখিত সংবিধান লিখিত সংবিধানের তুলনায় নমনীয় থাকে।

৩) জনমতের প্রাধান্যতা: ব্রিটিশ সংবিধান লিখিত নেই বলে এখানে জনগণের মতামত প্রতিপালন করতে সরকারের তেমন অসুবিধা হয় না ‌

৪) বিপ্লবের আশঙ্কা কম থাকে: যেহেতু লিখিত ব্রিটিশ সংবিধানের জনমত প্রাধান্য পায়, সেহেতু এখানে বিপ্লবের আশঙ্কা কম থাকে।

৫) জরুরি অবস্থার মোকাবেলা: দেশের জরুরি অবস্থায় বা হঠাৎ প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। অলিখিত সংবিধানের কারণে খুব সহজে এবং খুব দ্রুত এই সকল অবস্থার মোকাবেলা করা যায়।

৬) দ্রুত বিরোধ মীমাংসা: সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। কারণ সংবিধান অলিহিত হওয়ায় নির্দিষ্ট কোন নিয়ম-নীতি মেনে চলার প্রয়োজন হয় না।

৭) কোন অনুচ্ছেদ বাতিল করতে হয় না: যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে বা সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদ বাতিল করার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশ সংবিধানে অলিখিত হয় তার কোন অনুচ্ছেদ বাতিল করার প্রয়োজন হয় না।



খ) ব্রিটিশ সংবিধানের অসুবিধা:

নিম্নে বৃটেনের অলিখিত সংবিধানের অসুবিধা আলোচনা করা হলো:
১) জনগণের আস্থা হীনতা: অলিখিত সংবিধান সহজেই পরিবর্তন করা যায়। যার কারনে জনগণের এই ধরনের সংবিধানের প্রতি আস্থা কম থাকে। 

২) অধিকার সম্পর্কে জনগণের অজ্ঞতা: অলিখিত সংবিধানে জনগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে। 

৩) নিশ্চয়তা হীনতা: যেহেতু অলিকৃত সংবিধানের জনগণের কোন অধিকার লিপিবদ্ধ থাকে না সেহেতু তারা নিশ্চয়তা হীনতায় ভুগে।

৪) অস্পষ্টতা: লিখিত সংবিধান মূলত: বিভিন্ন রীতিনীতি বা প্রথার উপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই এখানে বিভিন্ন বিধান অস্পষ্ট থাকে।

৫) আইনের পার্থক্যহীনতা: সংবিধান লিখিত হলে জনগণ বুঝতে পারেনা কোনটি তাদের সাধারণ আইনগত অধিকার আর কোনটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার।

 B. ৪। ব্রিটিশ সংবিধানের উৎস সমূহ আলোচনা কর।  / ব্রিটিশ সংবিধান তৈরি হয়নি জন্ম নিয়েছে ব্যাখ্যা কর। / সংবিধান প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি কি কি?

ব্রিটিশ সংবিধানের উৎস সমূহ: 

মিমি ব্রিটিশ সংবিধান প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন পদ্ধতি বা উৎস আলোচনা করা হলো: 

১) পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রণীত আইন: ব্রিটিশ সংবিধানের প্রধান উৎস হল বিভিন্ন সময়ে পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রাসকৃত আইন। তবে পার্মানেন্ট কর্তৃক পাসিত সকল আইন সংবিধানের উৎস নয় বা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সাথে সম্পর্কিত আইন পাস হলে সেই আইন গুলো সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়।

২) আদালতের সিদ্ধান্ত: ব্রিটিশ পার্লামেন্টের যে সকল আইন পাস হয় তা কোন আদালত তার বৈধতা বিচার করতে পারে না। পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রণীত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারে। 

৩) সাধারণ আইন: বিভিন্ন রীতিনীতি বা প্রথা দীর্ঘদিন প্রচলিত থাকার পর আইনে রূপ লাভ করে। একসময় আদালত কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করে । এক সময় এর অনেকগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। 

৪) বিভিন্ন সনদ বা চুক্তি: বিরির সংবিধানের অন্যতম একটি উৎস হল ঐতিহাসিক বিভিন্ন চুক্তি। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বিভিন্ন সময় রাজাগঞ্জ স্বৈরাচারী হয়ে গেলে সাধারণ জনগণ ও বিদ্রোহী শুরু করেছে। জনগণের বিদ্রোহের ফলে রাজা গঞ্জ চুক্তির মাধ্যমে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতেন। এই শহরবার চুক্তি গুলি এক সময় সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

৫) শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা: শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংবিধানের অন্যতম একটি উৎস। লর্ডস সভা ও কমন্স সভার সম্পর্ক, রাজা ও মন্ত্রীদের সম্পর্কে ইত্যাদি শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। 


ব্রিটিশ সংবিধান অলিখিত সংবিধান হলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি লিখিত সংবিধানের চেয়েও শক্তিশালী। দীর্ঘদিনের রীতিনীতি ও প্রথা একসময় সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়। যেহেতু নাগরিকদের দীর্ঘদিনের অভ্যাস সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হয় সেহেতু নাগরিকগণ উক্ত আইন বা নিয়ম ভঙ্গ করে না। তাই বলা হয় ব্রিটিশ সংবিধান তৈরি হয়নি জন্ম নিয়েছে।



 B. ৫।  বিল অফ রাইটসের বিধান/ ১৬৮৮ সালের বিল অফ রাইটসের গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।


বিল অফ রাইটসের বিধান: বিল অফ রাইটস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৮৮ সালে। যদিও এটি বিধিবদ্ধ হয় পরের বছর অর্থাৎ ১৬৮৯ সালে। 
১৬৮৮ সালে স্টুয়ার্ট রাজবংশ পুনঃ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ইংল্যান্ডের সিংহাসনে আরোহন করেন রাজা তৃতীয় উইলিয়াম এবং দ্বিতীয় মেরি। পরবর্তীতে ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করার জন্য বিল অফ রাইস বিধিবদ্ধ হয়।

বিল অফ রাইটসের অন্যতম বিধান হল: 
১) বিল অব রাইটসের বিধান অনুযায়ী রাজা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। 
২) বিল অফ রাইটসের বিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের অনুমোদন ব্যতীত রাজা পর আদায় করতে পারবেন না।
৩) বিল অব rights প্রতিষ্ঠা লাভ করার ফলে পার্লামেন্টের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়।


 B. ৬।   কেন বলা হয় ব্রিটিশ সরকার ব্যবস্থায় রাজতন্ত্র অভিজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মিশ্রণ ।   ব্যাখ্যা কর।

নিম্নে ব্রিটিশ সরকার ব্যবস্থার রাজতান্ত্রিক নীতি অভিজাতান্ত্রিক নীতি ও গণতান্ত্রিক নীতি উল্লেখ করা হলো:

ক) রাজতান্ত্রিক নীতি:
 ব্রিটিশ বা যুক্তরাজ্যের সরকার ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো রাজতান্ত্রিক নীতি। পূর্বে রাজা বা রানী ছিলেন ক্ষমতার মূল উৎস। রাজা বা রানী এককভাবে মন্ত্রীদের নিয়োগ বা অপসারণ করতেন। সকল মন্ত্রী তাদের কাজের জন্য রাজা বা রানীর নিকট দায়ী থাকতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে বিভিন্ন বিপ্লব বিদ্রোহ ইত্যাদির ফলে রাজা বা রানীর ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। বর্তমানে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তবে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও রাজতন্ত্র একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি।

খ) অভিজাতান্ত্রিক নীতি: 
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের লর্ডস সভা ও কমন্স সভা দুইটি কক্ষন নিয়ে গঠিত। লর্ডস সভার কোন সদস্যই জনগণের সরাসরি ভোটের নির্বাচিত নন। এরা বংশানুক্রমিক লর্ড, ধর্মীয় লর্ড, স্কটল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড প্রতিনিধিত্বমূলক লর্ড ইত্যাদি। এই সকল লর্ড অভিজাত শ্রেণীর লোক। পূর্বে লর্ড সবার ব্যাপক ক্ষমতা থাকলেও ১৯১১ সালে এবং ১৯৪৯ সালে আইন দ্বারা লর্ড সবার ক্ষমতা সীমিত করা হয়। নানা আলোচনা সমালোচনার পর লর্ড সভা আজও একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি।


গ) গণতান্ত্রিক নীতি: 
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের লর্ডস সভা ও কমন্স সভা দুইটি কক্ষন নিয়ে গঠিত। কমন্স সভায় যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারা মন্ত্রিসভা গঠন করে। কমন্স সভার সদস্যগন জনগণের দ্বারা নির্বাচিত। যার ফলে এখানে গণতন্ত্রের প্রতিফলন ঘটে। অর্থাৎ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সদস্যগনই সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করে। এটি একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। 

 B. ৭।  বৃটেনের পার্লামেন্ট কি সার্বভৌম? / ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ভালো এবং মন্দ দিক আলোচনা কর।

বৃটেনের পার্লামেন্ট সে দেশের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। এই পার্লামেন্ট সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। বৃটেনের পার্লামেন্ট কে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর পার্লামেন্ট হিসেবে গণ্য করা হয়।

বৃটেনের পার্লামেন্টের ক্ষমতা সম্পর্কে ফরাসি সাংবাদিক ডিলুমি এর একটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়, তিনি বলেন- বৃটেনের পার্লামেন্ট শুধু স্ত্রীকে পুরুষ এবং পুরুষকেই স্ত্রীতে রূপান্তর করতে পারেনা এছাড়া সকল কাজ করতে পারে। 
ডাইসী বলেন, পিছনের পার্লামেন্টের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর অতিরিক্ত ক্ষমতা। এই অতিরিক্ত ক্ষমতার পজিটিভ দিক যেমন আছে তেমনি নেগেটিভ দিকও আছে।

পজিটিভ ভাই ইতিবাচক বা ভালো দিক হলো- 

বৃটেনের পার্লামেন্ট যেকোন আইন তৈরি করতে পারে আবার সংশোধন বা বাতিল করতে পারে। এই পার্লামেন্ট আদালতের রায় রদ করতে পারে। ও আইন পাশের সময়ে যে কাজ বৈধ ছিল তা অবৈধ ঘোষণা করে শাস্তি প্রদান করতে পারে। একজন নাবালককে সাবালক হিসেবে গণ্য করে বিশেষ অধিকার প্রদান করতে পারে। এমনকি একজন জারজ সন্তানকে বৈধতা দান করে স্বাভাবিক সন্তানের ন্যায় সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে পারে।

নেগেটিভ বা নেতিবাচক বা মন্দ দিক হলো:
এই পার্লামেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বী কোন প্রতিষ্ঠান নেই। পার্লামেন্টের কোন আইন সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা যায় না। কোন পার্লামেন্ট পরবর্তী কোন পার্লামেন্টকে কোন কাজ করতে বাধ্য করতে পারে না। 

উপসংহার: ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থা বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে ভিন্ন ধরনের একটি শাসন ব্যবস্থা। একদিকে এটি শিক্ষা সাহিত্য অর্থ শিল্প সহ নানা দিক দিয়ে উন্নত একটি দেশ। অন্যদিকে বিশ্বের বহু দেশ থেকে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হলেও বৃটেনের রাজতন্ত্র সম হিমায় টিকিয়ে রয়েছে। তবে রাজচন্দ্রকে টিকে থাকলেও রাজা বা রানী ক্ষমতা পূর্ব থেকে অনেক সংকুচিত হয়ে গিয়েছে। 


 B. ৮।  ব্রিটিশ মন্ত্রীদের সমষ্টিগত ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব বলিতে কি বুঝো?
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট একটি ব্যতিক্রম ধর্মী পার্লামেন্ট ‌‌ । এখানে একদিকে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে অভিজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত। আবার গণতন্ত্রও প্রতিষ্ঠিত ‌‌ । পৃথিবীর অন্য কোন দেশে এই ধরনের শাসনব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায় না।

ব্রিটিশ মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত দায়িত্বশীলতা: 

ব্রিটিশ মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সমষ্টিগত দায়িত্বশীলতা উল্লেখ করা হলো: 
১) মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত দায়িত্বশীলতা: 
সকল মন্ত্রী সরকারের কোন না কোন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অনেক মন্ত্রী একাধিক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যেমনটি যে বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি সেই বিভাগের যাবতীয় কাজের জন্য দায়ী থাকেন। অর্থাৎ এই বিভাগের সকল কাজের জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হয়। এটি হল মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত দায়িত্বশীলতা।


২) মন্ত্রীদের সমষ্টিগত দায়িত্বশীলতা: 

যৌথ দায়িত্বশীলতা মূলত: কেবিনেট এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অর্থাৎ বিভিন্ন কাজের জন্য ক্যাবিনেটের সকল সদস্যদের যৌথভাবে পার্লামেন্টের নিকট দায়ী হতে হয়। ক্যাবিনেটের সকল সদস্যকে পার্লামেন্টেটিক জবাবদিহি করতে হয়। যৌথ দায়িত্বশীলতা ইংল্যান্ডের ব্যাপক প্রচলিত। সেখানে কোন মন্ত্রীর সমালোচনা করলে তা সরকারকে সমালোচনা সমান সমান হয়। মন্ত্রী পরাজয়ের সরকারের পরাজয় হিসেবে গণ্য করা হয়। যে এজন্য মন্ত্রিসভায় তাদের কাজের দায়-দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। 

 B. ৯।  তুমি কি এই মতের সমর্থন করবে যে, মন্ত্রী ব্যক্তিগত দায়িত্ব সুযোগ নীতির বাস্তবে কোন শাস্তি মূলক ফলাফল নাই।  

প্রত্যেক মন্ত্রী বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সাথে জুনিয়র মন্ত্রী থাকে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাজের জন্য তারা দায়ী থাকেন। যদিও বৃটেনের সকল সরকারি কাজ মূলত: রাজা এবং রানীর নামে সম্পন্ন হয়। তবে তারা থাকেন নামে মাত্র। অর্থাৎ তারা থাকেন অলংকার হিসেবে । এমনকি রাজা বা রানীর স্বাক্ষরযুক্ত কোন সিদ্ধান্তের জন্য তারা দায়ী থাকেন না । সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে এর দায়ভার গ্রহণ করতে হয়। এই দায় দায়িত্ব দুই ধরনের হতে পারে। যেমন - আইনগত বা রাজনৈতিক।

আইনগত কোন সমস্যা হলে তাকে আদালতে জবাবদিহি করতে হয়। এক্ষেত্রে তার পক্ষে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জবাবদিহি করে থাকেন ।আর রাজনৈতিক সমস্যা হলে মন্ত্রিসভা সমষ্টিগতভাবে জবাবদিহি করে থাকেন । অর্থাৎ বৃটেনের শাসন ব্যবস্থায় একজন মন্ত্রী ভুল করলে তার দায়ভার সমগ্র মন্ত্রিসভার উপর বর্তায় । এমনকি একজন মন্ত্রী ভুলের জন্য সমগ্র মন্ত্রিসভার পতন হতে পারে । এজন্য বলা হয় যে মন্ত্রী ব্যক্তিগত দায়িত্ব সূচক-নীতির বাস্তবের কোন শাস্তি মূলক ফলাফল নেই।

 B. ১০।  কারা ক্রাউন মন্ত্রী?

প্রত্যেক মন্ত্রী বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সাথে জুনিয়র মন্ত্রী থাকে। যারা ক্ষমতাসীন দল বা তাদের সাথে যারা কোয়ালিশনে আছে তাদের যে সকল সদস্য রাজনৈতিক পদ ধারণ করেন তাদেরকে প্রাউন মন্ত্রী বলে । বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী এদেরকে মনোনীত করেন । আর রাজা বা রানী তাদের নিয়োগ দেন।

 B. ১১।  যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।

ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভার গুরুত্ব অনেক। কেউ কেউ একে নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী কেউ রাজনৈতিক তোরন , কেউ শাসন নীতির চুম্বক শক্তি, ইত্যাদি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।  রাজা বা রানির নামে সকল কার্য পরিচালিত হলেও মূলত ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় দেশ পরিচালনা করে থাকে।

Jennings এর মতে, ব্রিটিশ শাসনতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রাণকেন্দ্র হলো ব্রিটিশ মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভার কার্যাবলী কে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায় । যেমন-
১) নীতি নির্ধারণ: ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রধান কাজ হলো শাসন নীতি নির্ধারণ করা।  ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থায় সকল ক্ষমতা রাজার নামে পরিচালিত হয়। মূলত রাজার নামে পরিচালিত হলেও মন্ত্রিসভা কর্তৃক উক্ত ক্ষমতা নির্ধারণ ও পরিচালিত হয়। 

২) শাসন ক্ষমতা পরিচালনা: যদিও রাজার নামের শাসন ক্ষমতা পরিচালিত হয়।  মূলত মন্ত্রিসভার সদস্যগণ পরস্পর পরস্পরের সাথে পরামর্শ ও মতবিনিয়মের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিচালনা করে। 

৩) বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন: ব্রিটিশ মন্ত্রী পরিষদ অন্যান্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধনের কাজ করে থাকে । বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে যদি কোন বিরোধ দেখা দেয় তাহলে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মন্ত্রী পরিষদ উক্ত বিরোধ মীমাংসা করে। 

৪) আইন প্রণয়ন: ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার সকল সদস্যই আইনসভার সদস্য। শাসন কাজ পরিচালনার পাশাপাশি মন্ত্রী পরিষদ আইনের খসড়া প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য আইন সভায় পেশ করেন। মন্ত্রী পরিষদ যে ফর্সা আইন পরিষদের উত্থাপন করে তা অবশ্যই অনুমোদিত হয়। 

৫) অন্যান্য কাজ: মন্ত্রী পরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী রাজা আইনসভার অধিবেশন আহ্বান করেন , অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন এবং অধিবেশন ভেঙে দেন। 

 B. ১২।  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সাংবিধানিক ক্ষমতা ও মর্যাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী বর্ণনা কর। 

ব্রিটেনে যেহেতু রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু আছে সেহেতু সেখানে রাজা বা রানী হচ্ছেন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি। রাজাবা রানী নামে সকল কার্য পরিচালিত হয়। পাশাপাশি বৃটেনের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থাও চালু আছে । বাস্তবে যেহেতু মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করে সেহেতু মন্ত্রিসভার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হলেন দেশের সর্বোচ্চ কর্তৃস্থানীয় ব্যক্তি। তার হাতেই সরকার গঠন , সরকার পরিচালনা, সরকার পতন হয় । বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদটি কোন আইনের সৃষ্টি পদ নয় । এই পদ এবং এর ক্ষমতা ও কার্যাবলী সম্পূর্ণরূপে শাসনতান্ত্রিক রীতি-নীতির ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে । নিম্নে কয়েকটি ভাগে তা উল্লেখ করা হলো:

১) কেবিনেট সম্পর্কিত কাজ: নিম্নকক্ষ বা কমনসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বা নেত্রীকে রাজা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। নিয়োগ পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী প্রথম ও প্রধান কাজ হল ক্যাবিনেট গঠন বা সরকার গঠন করা।


২) ক্যাবিনেট বা সরকার গঠন: প্রধানমন্ত্রীর সর্বাধিক গুরুত্ব কাজ হল কেবিনেট বা সরকার গঠন। তিনি রাজার নিকট মন্ত্রিসভার জন্য যে তালিকা পেশ করবেন । রাজা সেই তালিকা অনুযায়ী মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন । যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে এনে যথাস্থানে বসানো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব।

৩) কেবিনেট তথা সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা: প্রধানমন্ত্রী কে কেন্দ্র করেই কেবিনেট পরিচালিত হয় । কেবিনেট সভায় সভাপতিত্ব করা । সবার আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করা । আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।  উক্ত সিদ্ধান্তকে ক্যাবিনেটের সদস্যদের নিকট গ্রহণযোগ্য করে তোলা।  সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া । বৃটেনের সকল সদস্যদের মাঝে ঐক্য বজায় রাখা ইত্যাদি কাজ প্রধানমন্ত্রী কে করতে হয়। 

৪) প্রশাসন সচল রাখা: প্রশান্তকে সজল রাখার জন্য মন্ত্রিসভা থেকে কোন সদস্যকে বাদ দেয়া বা নতুন কোন ব্যক্তিকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা,  দপ্তর পুনর বন্টন করা,  ক্যাবিনেটের বিভিন্ন কমিটিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা সহ সরকারের সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। 

৫) কেবিনেট পতনে প্রধানমন্ত্রী: কেবিনের পতনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ভূমিকা সর্বাধিক।  কারণ প্রধানমন্ত্রী যতদিন সপদে বহাল থাকবেন, কেবিনেট ও ততদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে। কোন কারণে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে সমস্ত কেবিনেটকে পদত্যাগ করতে হয়। 

৬) পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ: বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী রাজা বা রানীর প্রধান পরামর্শ দাতা হিসেবে কাজ করেন। প্রধান মন্ত্রীর পরামর্শে রাজা বা রানির কেবিনেটের মন্ত্রীদের নিয়োগ দান করেন। 

৭) আন্তর্জাতিক বিষয়ের কাজ: অন্যান্য দেশের সাথে যে কোন ধরনের সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ভূমিকা প্রধান । তার বক্তব্য সরকারের বক্তব্য হিসেবে গণ্য হয়।

৮) অন্যান্য: উপরোক্ত কাজ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী কমনসভা ভেঙ্গে দেওয়া বিচারক নিয়োগ রাষ্ট্রদূত নিয়োগ ইত্যাদি বিষয়ে রাজা বা রানীকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 


 B. ১৩।   কিভাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেবিনেট গঠনে ইহার পরিচালনায় এবং ইহার পতনে, মূল ব্যক্তি। ব্যাখ্যা কর। 


ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দুটি কক্ষ অর্থাৎ লর্ডস সভা ও কমন্স সভা নিয়ে গঠিত হয়। কমন্স সভায় যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করবে সেই দল মন্ত্রী পরিষদ গঠন অর্থাৎ সরকার গঠন করে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকারী দলের যে ব্যক্তি অধিক সদস্যের আস্থাভাজন বলে রাজা বা রানীর নিকট প্রতিয়মান হয় তাকে রাজা বা রানী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ অনুযায়ী রাজা বা রানী অন্যান্যমন্ত্রী উপমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করেন। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ তো ব্যতীত রাজা বা রানী মন্ত্রী পরিষদ গঠন করতে পারেনা। 

কেবিনেট পরিচালনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী:

ব্রিটিশ কেবিনেটের প্রধানমন্ত্রী হলেন মূল ব্যক্তি। তাকে কেন্দ্র করে মন্ত্রী পরিষদের কাজ করে থাকে । ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য মন্ত্রীদের দপ্তর বন্টন তাদের কাজের তদারকি করে থাকেন। সকল মন্ত্রী তাদের কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিকট দায়ী থাকেন। 


কেবিনেট পতনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী: প্রধানমন্ত্রীর সাথে অন্যান্য কোন মন্ত্রীর মতবিরোধ দেখা দিলে সেই মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। কোন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুনিনিষ্ট অভিযোগ এলে প্রধানমন্ত্রী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন । এছাড়া প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে সকল মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন বলে গণ্য হয়। 

সুতরাং বলা যায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেবিনেট গঠন, কেবিনেট পরিচালনা এবং কেবিনেট পতনের মূল ব্যক্তি। 

 B. ১৪।  বৃটেনের  কেবিনেট এবং মন্ত্রিসভার মধ্যে পার্থক্য লিখ।

এমনি বৃটেনের মন্ত্রী পরিষদ ও কেবিনেট এর পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:

১) গঠনগত পার্থক্য: বৃটেনের সকল মন্ত্রী অর্থাৎ চার ধরনের মন্ত্রী নিয়ে মন্ত্রী পরিষদ গঠিত হয়। পঅন্তরে শুধু কেবিনেট মন্ত্রীদের নিয়ে কেবিনেট গঠিত হয়। 

২) পরিসরগত পার্থক্য: মন্ত্রিপরিষদের পরিষদ বৃহৎ। কেবিনেটের পরিসর অপেক্ষাকৃত ছোট।

৩) প্রকৃতিগত পার্থক্য: ক্যাবিনেট এর সকল সদস্য মন্ত্রী পরিষদের সদস্য। পক্ষান্তরে মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্য কেবিনেটের সদস্য নয়। 

৪) প্রিভি কাউন্সিলর সদস্য: মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্যদের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্যপদ প্রদান করা হয় না। পক্ষান্তরে কেবিনেটের সকল সদস্যের প্রিভি কাউন্সিলর সদস্যপদ প্রদান করা হয়।

৫) বৈঠক গত: মন্ত্রী পরিষদের বৈঠক প্রতি মাসে আহ্বান করা হয় না। পক্ষান্তরে কেবিনেটের বৈঠক প্রতি মাসে আহ্বান করা হয়।
৬) আইনগত: মন্ত্রিপরিষদ ব্যবস্থার আইনগতভিত্তি আছে। পক্ষান্তরে কেবিনেট ব্যবস্থার আইনগত ভিত্তি নেই।

৭) রাজাবা রানীকে পরামর্শ: মনি পরিষদ শাসনতান্ত্রিক বিষয়ে রাজবা রানীকে পরামর্শ দিতে পারেনা। কেবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলে শাসনতান্ত্রিক বিষয়ে রাজা বা রানীকে পরামর্শ দেয়।

৮): সরকারি নীতি: মন্ত্রী পরিষদ সরকারি নীতি নির্ধারণ করতে পারেনা। পক্ষান্তরে কেবিনের সরকারি নীতি নির্ধারণ করতে পারে।

৯) দায়গত: মন্ত্রী পরিষদের যৌথ দায়-দায়িত্ব নেই। পক্ষান্তরে কেবিনেট সদস্যদের যৌথভাবে কমন্স সভার নিকট দায়ী থাকতে হয়। 

 B. ১৫।   আইনের শাসন বা অনুশাসন কি বুঝ?



বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি দেশ একটি নিয়ম তান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত হয়। পূর্বে কার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বিভিন্ন ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। অধিকাংশ দেশেই আগে রাজা বাদশা বা একনায়ক তন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্র জেঁকে বসেছিল।
ক্ষমতাসীনরা নিজেদেরকে সকল কিছুর ঊর্ধ্বে মনে করত। মূলত কোন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছিল না। ক্ষমতাসীনদের মুখের কথায় ছিল আইন।

আইনের শাসন: 
কোন রাষ্ট্রের যাবতীয় কার্যাবলী আইনের মধ্যে পরিচালিত হলে তাকে আইনের শাসন বলে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের সকল নাগরিকের জন্য একই আইন প্রয়োগ হয়। অর্থাৎ ক্ষমো জয়শীন দল ও বিরোধী পক্ষ সকলের জন্য একই আইন। কারো প্রতি কোন বিদেশমূলক আচরণ হয় না ‌‌ । 
পুরান বলা যায় কোন দেশের সকল নাগরিক যদি প্রকৃতপক্ষে একই আইনের অধীনে পরিচালিত হয় তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে গণ্য করা যায়।

 B. ১৬।  আইনের অনুশাসন কোন দুইটি অর্থে ব্যবহৃত হয়?

আইনের অনুশাসন যে দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়;

১) সংকীর্ণ অর্থে: সরকার আইন দ্বারা প্রচলিত হবে বা সরকার আইনের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করবে অর্থাৎ সরকার আইনের অধীনে থাকবে এটি হলো সংকীর্ণ অর্থে আইনের অনুশাসন। এই নীতি অনুযায়ী সরকার নিজের খেয়াল খুশিমতো যা ইচ্ছা করতে পারবে না।

২) ব্যাপক অর্থে: জনগণ আইন দ্বারা পরিচালিত হবে বা জনমণ আইনের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করবে এবং আইন দ্বারা শাসিত হবে এটি হলো ব্যাপক অর্থে আইনের অনুশাসন। 

 B. ১৭। আইনের অনুশাসনের পটভূমি বিকাশ লিখ। 


প্রখ্যাত মনীষী ব্রেকট্রন বলেন, রাজাকে অবশ্যই ঈশ্বরের এবং আইনের অধীনে হতে হবে কারণ আইনি তাকে রাজা বানিয়েছে। 

দীর্ঘদিন রাজা বাদশাহাদের আধিপত্য বিস্তারের পর এক সময় রাজার সাথে ভূস্বামীদের বিরোধ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে রাজা ভু স্বামীদের কিছু অধিকার মেনে নিতে বাধ্য হন। এটি ম্যাগনাকাটা নামে পরিচিত। এটি ইংল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বাইরের বিভিন্ন দেশের আইনের শাসনের গোড়াপত্তন করে। ত্রয়োদর শতাব্দী থেকে শাসনতন্ত্রের ক্রমে বিকাশে যে সকল ঘটনা প্রবাহ বিশেষভাবে সহায়তা করে তার মধ্যে ম্যাগনাকার্টা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ১২১৫ সালে এই সনদ প্রমাণিত হয়েছে। টেমস নদীর তীরে দাঁড়িয়ে শপথ করা হতো। রুনি বিচ নামক স্থানে সম্পাদিত এই সনদ বৃটেনের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে । একে শাসনতন্ত্রের প্রধানতম উৎস তথা লিখিত অংশ হিসেবে অভিহিত করা হয়। 

যদিও প্রচার করা হয় যে, ম্যাগনাকার্টা জনগণের অধিকারের মহাসনদ, মূলত এটি ছিল ভূমিধিকারী ও জমিদার ও পুরোহিতগণের স্বাক্ষর দলিল। তবুও এই কথা বলা যায় যে ম্যাগনাকার্টা ব্রিটেনের শাসনতন্ত্রের অগ্রগতিতে এক বৃহৎ ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। কেউ কেউ একে the Bible of constitution বলেও আখ্যায়িত করেছেন।

 B. ১৮। আইনের অনুশাসন সম্পর্কে ডাইসি এর মতামত পরীক্ষা আলোচনা কর।

আইনের অনুশাসন সম্পর্কে এ ভি ডাইসি এর মতামত হল: 

১) আইনের শাসন সরকারের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার একটি বলিষ্ঠ প্রতিবাদ।
২) কোন ব্যক্তি দেশে প্রচলিত সাধারন আইন অনুযায়ী দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে শাস্তি বা দ্বন্দ্ব দেয়া যাবেনা। 
৩) আইনের চোখে সকলেই সমান। ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও ক্ষমতাহীন ব্যক্তি সকলে সমান।

৪) সংবিধান দ্বারা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার স্বীকৃত। বৃটেনের আদালতে ঐতিহাসিক বিবর্তন দ্বারা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। 

 B. ১৯। আইনের অনুশাসন সম্পর্কে জেনিংস এর মতামত পরীক্ষা

আইনের অনুশাসন সম্পর্কে জেনিংস এর মতামত হল:

১) সুনির্দিষ্ট এবং স্থায়ী নিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধ ঠিক করা হবে।
২) এই নিয়মের বহির্ভূত অপরাধের জন্য কাউকে শাস্তি দেয়া যাবে না।
৩) পূর্বের কোন অপরাধ সংগঠিত হলে পরবর্তীতে প্রণীত আইন দ্বারা তার বিচার করা যাবে না।


 B. ২০।  সাংবিধানিক সরকার একবার প্রতিষ্ঠিত হলে আইনের শাসন আপনা আপনি নির্গত হবে।  আলোচনা করো।

নিমি সাংবিধানিক সরকার একবার প্রতিষ্ঠিত হলে আইনের শাসন আপনা আপনি নির্গত হবে বক্তব্যটির যথার্থ আলোচনা করা হলো:

১) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: প্রশাসন থেকে বিচারবিভাগ পৃথক না থাকলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তার বিচার বিভাগ থাকবে স্বাধীন। আর বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকলে ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষ যা ইচ্ছা তাই করতে পারে না । অর্থাৎ ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা হয়। সুতরাং আইনের শাসন ও প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 

২) জবাবদিহিতা: সরকার যদি জবাব দিতাম মধ্যে থাকে তাহলে সহজেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। কারণ সরকার তখন প্রতিটি ক্ষেত্রে হিসাব করে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে সরকারের কাজের আলোচনা সমালোচনার সুযোগ থাকে। 

৩) গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা: সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে গণতন্ত্র ও প্রতিষ্ঠিত হয়। গণবানন্দ প্রতিষ্ঠা লাভ করলে সরকার জনগণকে সমীহ করতে বাধ্য হয়। কারণ সরকার ভুল ত্রুটি বা অন্যায় করলে পরবর্তী নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয় থাকে। সুতরাং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

৪) প্রতিশ্রুতি রক্ষা: সাংবিধানিক সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। অর্থাৎ জনগণকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনপ্রতিনিধিরা বিজয় লাভ করেন উক্ত প্রতিষ্ঠিত রক্ষা না করলে পরবর্তীতে তার ভরাডুবির আশঙ্কা থাকে। অর্থাৎ জনপ্রতিনিধিরা জনগণের বিপক্ষে কোন কাজ করতে পারে না। সুতরাং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

B. ২১। যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক কনভেনশন সমূহের বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্য আলোচনা কর:

কনভেনশন বলতে বিভিন্ন প্রথাকে বুঝায় যা শাসনতন্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তা আদালতের মাধ্যমে বলত যোগ্য নয়। নিম্নে যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক কনভেনশনসমূহ বৈশিষ্ট্য উদ্দেশ্য আলোচনা করা হলো:

১) অলিখিত: ব্রিটিশ কনভেনশন গুলো লিখিত কোন বিধান নয় এটি অলিখিত।
২) আইন নয়: ব্রিটিশ কনভেনশন গুলো মূলত কোন আইন নয়। 
৩) মেনে চলা বাধ্যতামূল: ব্রিটিশ কনভেনশন গুলো মূলত কোন আইন না হলেও তা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কারণ তা মেনে চলা না হলে জনগণের চাপে আইনে রূপ লাভ করা সম্ভবনা আছে ‌

৪) আইনের প্রয়োগ নিয়ন্ত্রণ: ব্রিটিশ কনভেনশন গুলো আইনের প্রয়োগকে নিয়ন্ত্রণ করে। 
৫) আইনের পরিপূরক: ব্রিটিশ কনভেনশন গুলো আইনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।


 ৬) সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ: ব্রিটিশ কনভেনশন গুলো রাজার সাথে মন্ত্রীদের মন্ত্রীদের সাথে পার্লামেন্টের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে। 
৭) প্রথাভিত্তিক: ব্রিটিশ কনভেনশন গুলো বিভিন্ন প্রথার উপর নির্ভর করে সৃষ্টি হয়েছে। 

 B. ২২। কিভাবে সাংবিধানিক কনভেনশন সমূহ ব্রিটিশ সংবিধানের অখন্ড অংশ?

ব্রিটিশ কনভেনশন গুলো ব্রিটিশ সংবিধানের অপূর্ণ অংশ।  কারণ ব্রিটিশ কনভেনশন অনুযায়ী- 
১) প্রতিবছর কমপক্ষে একবার পার্লামেন্টের অধিবেশন বসবে।
২) অর্থ সংক্রান্ত বিল কমনসভায় পেশ করা হয়
৩) কমান্ডসভা ও লর্ড সবার মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে তা কমন্স সভায় প্রাধান্য পায়।

 B. ২৩। কেন এগুলা সংহিতা আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি?

বৃটেনের সাংবিধানিক কনভেনশন গুলো সংহিতা আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। কারণ কনভেনশন গুলো যদি সঙ্গীত আকারে লিপিবদ্ধ করা হয় তাহলে তা আইন হিসেবে গণ্য হবে। বৃটেনের জনগণ কনভেনশন গুলো মেনে চলে কিন্তু তা আইন হিসেবে দেখতে চায় না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কনভেনশন গুলো মেনে চলা হয়। যদি কনভেনশন গুলো মেনে চলা না হয় তাহলে জনগণের চাপে তা আইনের রূপ লাভ করতে পারে এই ভয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তা মেনে চলে।


B. ২৪।  ব্রিটিশ কেবিনেট ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য কি কি? 


নিম্নে ব্রিটিশ কেবিনেট ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো।

১) গঠন: ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থায় চার ধরনের মন্ত্রী নিয়ে মন্ত্রী পরিষদ গঠিত হয়। এর মধ্যে শুধু কেবিনেট মন্ত্রীদের নিয়ে কেবিনেট গঠিত হয়।

২) পরিসর: বিদেশ কেবিনেটের পরিসর অপেক্ষাকৃত ছোট। মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্য কেবিনেটের সদস্য হয় না।

৩) প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য: ক্যাবিনেটের সকল সদস্যদের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য প্রদান করা হয়।

৪) বৈঠক: পার্লামেন্ট চলাকালীন প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুইবার এবং অন্যান্য সময় একবার বা তারও কম কেবিনেটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 
৫) পরামর্শদাতা: কেবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলে শাসনতান্ত্রিক বিষয়ে রাজা বা রানীকে পরামর্শ দেয়। 
৬) সরকারি নীতির নির্ধারণ: কেবিনেট সরকারি নীতি নির্ধারণ করতে পারে।
৭) দায়: ক্যাবিনেটের সকল সদস্য যতভাবে কমন্স সভার নিকট দায়ী থাকে। 
৮) নীতি নির্ধারণ: ব্রিটিশ কেবিনেট জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শাসন সংক্রান্ত মৌলিক নীতি নির্ধারণ করে।
৯) আইন প্রণয়ন: বৃটেনের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ ক্যাবিনেট নেতৃত্ব প্রদান করে থাকে। 
১০) শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ: ব্রিটেন কেবিনেট শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। 
১১) বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করা: প্রত্যেক টেবিনের সদস্যকে এক বা একাধিক দপ্তর পরিচালনা করতে হয়। তার ফলে তাকে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়।

 B. ২৫। ব্রিটিশ কমন্সসভার গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর। / কমন্স সভার সদস্যদের বিশেষ অধিকার সমূহ কি কি? 


ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দুটি কক্ষ অর্থাৎ লর্ডস সভা ও কমন্স সভা নিয়ে গঠিত। 

লর্ডস সভা গঠন: 
রাজা বা রানী কর্তৃক উত্তরাধিকার সূত্রে ধর্মীয় লর্ড স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রতিনিধিত্বমূলক লর্ড নিয়ে লর্ড সভা গঠিত হয়।

কমন্স সভা:
জনগণের সরাসরি ভোটে কমন্স সভা নির্বাচিত হয়। কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী যে কোন ব্রিটিশ নাগরিক কমন্সসভার সদস্য নির্বাচিত হতে পারেন। বর্তমান কমন্সসভার সদস্য সংখ্যা ৬৫০ জন। কমন্স সভার সদস্যগণ পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। কমন্স সভার সদস্যগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করেন। স্পিকার বলেন কমন্স সভার সভাপতি। 

কমন্স সভায় যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করবে সেই দল মন্ত্রিপরিষদ অর্থাৎ সরকার গঠন করবে । সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ কারী দল যে ব্যক্তি অধিক সদস্যের আস্থাভাজন বলে রাজা বা রানীর নিকট প্রতিয়মান হয় তাকে রাজা বা রানী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাজা বা রানী অন্যান্য মন্ত্রী উপমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করেন ‌‌। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতীত রাজা বা রানী মন্ত্রী পরিষদ গঠন করতে পারেন না। 


ব্রিটিশ কমন্সসভার ও লর্ডস সভার ক্ষমতা ও কার্যাবলী।


পার্লামেন্ট লর্ডস সভা ও কমন্স সভা নিয়ে গঠিত হলেও পার্লামেন্ট বলতে কমন্স সভাকেই বুঝায়। বর্তমানে রাজা রানী বা লর্ড সভায় প্রায় ক্ষমতাহীন। নিম্নে কমন্স সভার ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর হলো:

১) সরকার গঠন করা: কমন্স সবাই মূলত ব্রিটিশ সরকার গঠন করে । আবার সরকারের সেই দল মন্ত্রী পরিষদ অর্থাৎ সরকার গঠন করে।  সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ কারি দলের যে ব্যক্তি অধিক সদস্যের আস্থাবাজন বলে রাজা বা রানীর নিকট প্রতিয়মান হয় তাকে রাজা বা রানী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন।

২) স্পিকার নির্বাচন: সবার অন্যতম প্রধান কাজ হলো স্পিকার নির্বাচন করা নতুন পার্লামেন্টের শুরুতেই স্পিকার নির্বাচন করা হয়। কমন্সসভার সবার সদস্যগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করেন স্পিকার হলেন কমন্সসভার সভাপতি।
 
৩) আইন প্রণয়ন করা: কমন্স সভাতেই ব্রিটিশ আইন তৈরি হয়। কমন সভায় প্রচলিত আইন যেমন সংশোধন বাতিল করতে পারে, এমনি নতুন আইনও তৈরি করে থাকে । কমন্স সবাই যে বিল পাস হয় তা লর্ড সভা বা রাজা রানী বাতিল করতে পারে না। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কমন্স সভার ক্ষমতা অপরিসীম।

৪) আয় ব্যয়ের ক্ষমতা: আয় ব্যয়ের ক্ষমতা কমন্সসভার একক কর্তৃত্ব বজায় রাখে।  যেকোনো আয় ব্যয় বিল কমন্স সভাতে উত্থাপিত হয় । কমন্সসভার অনুমোদন ব্যতীত সরকারি কোন অর্থ ব্যয় করা যায় না । কমন্স সভার অনুমোদিত কোনো অর্থ বিল লর্ড সভা বাতিল করতে পারেনা। 

৫); আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান: কমন্সসভার সদস্যগণ যে এলাকায় থেকে নির্বাচিত হন সেই এলাকার বিভিন্ন সমস্যা কমন সভায় তুলে ধরতে পারেন ‌‌।  সরকার উক্ত সমস্যার সমাধানের জন্য তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। 

৬) শাসন বিভাগের তদারকি করা: কমন্স সভা শাসন বিভাগের উপর তদারকি করতে পারে। কমন সবার সদস্যগণ কমনসভায় মন্ত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারে। সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য থাকে মন্ত্রীরা। যার ফলে মন্ত্রীরা বিভিন্ন কাজে সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে। সরকারের কোন ত্রুটি ধরা পড়লে কমন সভা নিন্দা প্রস্তাব, মুলতবি প্রস্তাব বা অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে।


 B. ২৬। কমন্স সভা ও লর্ডস সভার সম্পর্ক বা পার্থক্য।

নিম্নে কমেন্স সভা ও লর্ডস সভার সম্পর্ক বা পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:

১) গঠনগত: নির্বাচিত সদস্যরা যে সভা গঠন করে সেটি হল কমন্স সভা। পক্ষান্তরে অভিজাত শ্রেণি দিয়ে যে সভা গঠিত হয় সেটি হল লর্ডস
 সভা।

২) সদস্য সংখ্যাগত: কমন্সসভার সদস্য কম থাকে। পক্ষান্তরে লর্ডস সভার সদস্য অনেক বেশি থাকে। 

৩) নির্বাচন গত: কমন্সসভার সদস্যরা জনগণ দ্বারা নির্বাচিত। পক্ষান্তরে লর্ডস সভার সদস্যরা মনোনীত। 

৪) সরকার গঠনে ভূমিকা: ব্রিটিশ সরকার ঘটনায় কমন্সসভা মূল ভূমিকা পালন করে। পক্ষান্তরে ব্রিটিশ সরকার গঠনে লর্ড সবার তেমন কোন ভূমিকা থাকে না।

৫) দায়গত: সকল সদস্য ও মন্ত্রীরা কমন্সসভার নিকট দায়বদ্ধ থাকে। পক্ষান্তরে সকল সদস্য মন্ত্রীরা লর্ডস সবার নিকট দায়বদ্ধ থাকে না। 

৬) সরকার পতন: কমন্স সভার আস্থা হারালে সরকার পতন ঘটে। পক্ষান্তরে লর্ডস সবার আস্থা হারালে সরকারের পতন ঘটে না। 

৭) বিচারগত: বিচারের ক্ষেত্রে কমন্সসভার ক্ষমতা কম। পক্ষান্তরে বিচারের ক্ষেত্রে লর্ডস সবার ক্ষমতা অনেক বেশি।


B. ২৭। বর্তমান কমন্সসভার কেবিনেট কে নিয়ন্ত্রণ করে না বরং কেবিনেট কমনসভা কে নিয়ন্ত্রণ করে। 


ব্রিটিশ শাসনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী নিম্নকক্ষ বা কমন্সসভা কেবিনেট কে নিয়ন্ত্রণ করে। কারণ কেবিনেটের সদস্যগণ কমন্সসভার নিকট দায়ী থাকেন। তাছাড়া কমনসভার আস্থা হারালে কেবিনেটকে পদত্যাগ করতে হয়।  কিন্তু বিংশ শতাব্দীতে এসে এর বিপরীত চিত্র লক্ষ্য করা যায় । পূর্বে কেবিনেট কমন্সসভার অজ্ঞাবহ থাকলেও এখন ক্যাবিনেটই কমন্স সভার উপর প্রভাব বিস্তার করে। এর কয়েকটি কারণ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

১) বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী কমেন্স সভার প্রধান, ব্যক্তি সাথে সাথে কেবিনেটের উপর প্রধান। আবার কেবিনেটের সদস্যগণ কমন্সসভারও সদস্য আবার লর্ডস সভার ও সদস্য । যার কারণে কেবিনেটের সদস্যগণ কমন্সসভার সদস্যদের নিকট আস্থাভাজন থাকেন । যার ফলে কেবিনেট কমন্সেসভার উপর প্রভাব খাটাতে পারে।

২) কেবিনেট হল বর্তমান রাজার পরামর্শদাতা। সেহেতু কমন্সসভার সাথে তাদের কোন বিরোধ দেখা দিলে রাজার সাথে পরামর্শ করে ক্যাবিনেট কমন্স সভাকে ভেঙ্গে দিয়ে নতুন নির্বাচন ব্যবস্থা করতে পারে। কেন কমন সভাকে কেবিনেটের আনুগত থাকতে হয়। 

৩) বর্তমানে কমন্সসভার  কার্যক্রম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য সকল বিষয়ে আইনের ছোটখাটো বিষয় ব্যাখ্যা দান তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। যার ফলে বিভিন্ন বিষয় সিদ্ধান্তের জন্য কমন্স সভাকে কেবিনেটের শরণাপন্ন হতে হয়।
এভাবে ধীরে ধীরে কেবিনেট এর প্রভাব বিস্তৃত হয়েছে।


B. ২৮। লর্ড সভার কোন সদস্যকেই প্রধানমন্ত্রী রূপে নিয়োগ পেতে পারেন?

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দুটি কক্ষ অর্থাৎ লর্ডস সভা ও কমন্সসভা নিয়ে গঠিত। কমন্স সভায় যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করবে সেই দল মন্ত্রিপরিষদ অর্থাৎ সরকার গঠন করে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ কারী দলের যে ব্যক্তি অধিক সদস্যের আস্থাভাজন  বলে রাজা বা রানীর নিকট প্রতিয়মান হয় তাকে রাজা-রানী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। 
যদিও ব্রিটিশ কমন্সসভা বা লর্ডস সভার সদস্যদের মধ্যে থেকে যে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। কিন্তু ১৯০২ সালে লর্ড লসবেরী পদত্যাগের পর আর কোন লর্ডস সভার সদস্যদের মধ্যে থেকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়নি। ১৯২৩ সালে এই সম্পর্কিত শাসনতান্ত্রিক রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় প্রশ্ন উঠেছিল লর্ড সভার নেতা লর্ড কার্জন এবং কমন্সসভার নেতা মিস্টার বলডুইন এদের মধ্যে কাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করা হবে? তখন রাজা পঞ্চম জর্জ শাসনতান্ত্রিক রীতি অনুসরণ করে কমন্স সভার নেতা মিস্টার বলডুইনকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। এ সময় থেকে প্রতিষ্ঠিত হয় যে, কমন্স সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ লাভ করবে। কিন্তু বর্তমানে বলা হয় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কমন্সসভা থেকে নিযুক্ত নাও হতে পারেন তবে তাকে দ্রুত কমন্সসভার সদস্য হতে হবে। 



B. ২৯।  যুক্তরাজ্যের আইন প্রণয়নের লর্ড সভার ভূমিকা: 

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ অর্থাৎ লর্ড সভা ও কমন্স সভায় গৃহীত এবং রানীর সম্মতি পাওয়ার পর একটি বিল আইনে পরিণত হয়। আইনের খসড়া প্রস্তাবকে বিল বলা হয়। 
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সাধারণত দুই ধরনের বিল আলোচিত হয়। 
ক) পাবলিক বিল ( সাধারণ স্বার্থ সম্পর্কিত বিল)
খ) প্রাইভেট বিল ( বিশেষ শর্ত সম্পর্কিত বিল)

১) পাবলিক বিল: যে বিল জনগণের বা সর্বসাধারণের স্বার্থ বহন করে তাকে পাবলিক বিল বলে। এই বিল সরকারি অথবা বেসরকারি উভয় প্রকার হতে পারে।

২) প্রাইভেট বিল: যে বিল কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংঘ বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বহন করে তাকে প্রাইভেট বিল বলে। 

কোন বিল লর্ডস সভা বা কমন্সসভা যে কোন কক্ষেই উত্থাপন করা যায়। কোন মন্ত্রী বা সাধারণ সদস্য যে কেউ এই বিল উত্থাপন করতে পারেন। তবে অর্থবিল শুধু কমন্স সভায় উত্থাপন করতে হয়।

সরকারি বিল আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন নিয়ে উত্থাপন করতে হয়। এক্ষেত্রে বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ উল্লেখ করতে হয়। কোন সংশোধনী থাকলে কমিটি পর্যায়ে তা বিবেচনা করা হয়। 

অতঃপর বিলটি কোন স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করতে হয়। উক্ত কমিটির রিপোর্ট পেশ করলে তার উপর পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়। অতঃপর ভোট গ্রহণ করা হয়। কমন্স সভায় গৃহীত হলে লর্ড সভায় পাঠানো হয়। আর যদি লর্ড সভায় গৃহীত হয় তাহলে কমন্স সভায় পাঠানো হয়। কমন্স সভায় গৃহীত বিল লর্ডস সভায় গ্রহণ করতেও পারে আবার প্রত্যাখানো করতে পারে। তবে অর্থবিল লর্ড সভা প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। লর্ড সভা ১ বছরের মধ্যে কোন বিল অনুমোদন না করলে অনুমোদন ছাড়াই কমন্স সভা বিলটি অনুমোদনের জন্য রাজার নিকট প্রেরণ করতে পারে। রাজা বাধ্যতামূলকভাবে বিলটি তে সম্মতি প্রদান করেন। অর্থবিল হলে লর্ড সভাকে ১ মাসের মধ্যে অনুমোদন করতে হয় অথবা সুপারিশ মূলক প্রস্তাব করতে হয়। ১ মাসের মধ্যে লর্ড সভা অনুমোদন বা সুপারিশ না করলে অর্থাৎ বিলটি লর্ড সবাই গৃহীত হয়েছে বলে গণ্য হয়।

বলা যায় যুক্তরাজ্যের আইন প্রণয়নে লর্ডসভা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। 


B.  ৩০।   রাজকীয় পরমাধিকার বলতে কি বুঝ?

ব্রিটিশ রাজা বা রানী বিশেষ কিছু ক্ষমতা ভোগ করে থাকেন। বিভিন্ন রীতিনীতির মাধ্যমে এই ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পূর্বে রাজা বা রানীর ক্ষমতা ছিল অসীম। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে পার্লামেন্টের সাথে সংঘর্ষের ফলে উক্ত ক্ষমতার অনেকাংশ হ্রাস পেয়েছে।

রাজকীয় পরমাধিকার: 

বিভিন্ন রীতিনীতির মাধ্যমে রাজা বা রানী যে সকল বিশেষ ক্ষমতা লাভ করেছেন এবং যা এখনো বর্তমান আছে তাকে রাজকীয় পরমাধিকার বলে।

B. ৩১। রাজকীয় পরমাধিকার কি কি?/রাজা বা রানীর ক্ষমতা ও কার্যাবলী। / যুক্তরাজের শাসন ব্যবস্থায় রাজা বা রানীর ভূমিকা ও অবস্থান।


রাজা বা রানীর বিশেষ অধিকারগুলো হলো রাজকীয় পরমাধিকার। নিম্নে রাজকীয় পরমাদিকার উল্লেখ করা হলো।

১) রাষ্ট্রপ্রধান: ইংল্যান্ডের রাজা বা রানী হলেন রাষ্ট্রের প্রধান। এছাড়া রাজা বা রানী তিন বাহিনীরও প্রধান। 

২) আইন প্রণয়ন: রাজা বা রানী হলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রধান। পার্লামেন্টের কোন বিল রাজা বা রানীর সম্মতি ছাড়া আইনের রূপে লাভ করতে পারে না। 

৩) বিচারক নিয়োগ: রাজাবা রানী ব্রিটিশ উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ করে থাকেন।

৪) সাজা মওকুফ: ব্রিটিশ রাজা বা রানী কোন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা হ্রাস করতে পারেন বা স্থগিত করতে পারেন এমনকি একেবারে মওকুফ ও করতে পারেন। 

৫) বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল: রাজা বা রানী হলেন ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল।
৬) পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান: রাজা বা রানী পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন স্থগিত রাখতে পারেন বা ভেঙ্গে দিতে পারেন। 

৭) বিভিন্ন নিয়োগ: রাজাবা রানী বিচারপতি নিয়োগ ছাড়াও মন্ত্রীদের নিয়োগ সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগ অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে থাকেন।

৮) গির্জার প্রধান: রাজা বা রানী যেহেতু ধর্মীয় প্রধান ব্যক্তি সেহেতু গির্জার ও প্রধান।

৯) যুদ্ধ ঘোষণা: রাজাবা রানী অন্য দেশের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন।

১০) চুক্তি করার ক্ষমতা: রাজা বা রানী অন্য দেশের সাথে কোন সন্ধি বা চুক্তি করতে পারেন।

১১) রাজস্ব সম্পর্কিত ক্ষমতা: ইংল্যান্ডের গুপ্তধনের ভান্ডার' বোনা ভেকেনসিয়া' এর এত ছোট আধিপতি হলেন রাজা বা রানী। এছাড়া বিশেষ অবস্থা রাজা বা রানী অতিরিক্ত রাজস্ব আদাই করতে পারেন।




B.  ৩২।  রাজকীয় পরমাধিকার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট কর্তৃক কতটুকু নিয়ন্ত্রিত?/ রাজকীয় পরমাদিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে সকল নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তা আলোচনা কর।


ব্রিটিশ রাজা বা রানী বিশেষ কিছু ক্ষমতা ভোগ করে থাকেন। এগুলিকে রাজকীয় পরমাধিকার  বলে বলে। বর্তমানে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট রাজকীয় পরমাধিকার সংক্ষিপ্ত করতে পারে বা রদ করতে পারে। 

যেমন- কোন পণ্য সরবরাহ , বাজেট পেশ, কর নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়ের জন্য রাজা বা রানী পার্লামেন্টের অধিবেশন আহবান করতে বাধ্য থাকেন। 

পার্লামেন্ট আহ্বান করা হয় মূলত: উক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার জন্য। সুতরাং বলা যায় রাজকীয় পরমাধিকারের বিষয়ে রাজা বা রানীর স্বাধীনতা নেই। অর্থাৎ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক রাজকীয় পরমাধিকার নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে।


B. ৩৩।  কেন বলা হয় রাজা কোন অন্যায় করতে পারেন না?

কোন মানুষই ন্যায়-অন্যায়ের ঊর্ধ্বে নয়। সকল মানুষ ভুল করে। এটি মানুষের সহজ আর প্রভৃতি। রাজা ও একজন মানুষ। কাজেই তার দ্বারা কোন অন্যায় কাজ সংগঠিত হলে তা অস্বাভাবিক হবে না। বরং সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু বলা হয়ে থাকে রাজা কোন অন্যায় করতে পারে না। উক্তিটি আপাতত দৃষ্টিতে আপত্তিকর বা বিভ্রান্তিকর মনে হয়। কিন্তু বৃটেনের প্রথাগত আইন অনুযায়ী কোন সরকারি কাজের জন্য রাজাকে দায়ী করা যায় না বা তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনা যায় না। এমনকি রাজা বা রানীর স্বাক্ষরিত কোন কাজে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতি হলে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রাজা বা রানীর নামে কোন আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে না।

এর কারণ হলো বৃটেনের প্রত্যেক মন্ত্রী বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সাথে জুনিয়র মন্ত্রী থাকে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাজের জন্য তাড়া থাকেন।

বৃটেনের সকল সরকারি কাজ মূলত: রাজা বা রানীর নামে সম্পন্ন হয়। তবে তারা থাকেন নামে মাত্র। অর্থাৎ তারা থাকেন অলংকার হিসেবে। বৃটেনের শাসনব্যবস্থা নামে মাত্র পরিচালিত হয় রাজা বা রানী নামে কিন্তু শাসন কার্য পরিচালনা করেন মূলত মন্ত্রিপরিষদ বা কেবিনেট। যার ফলে সকল কাজের দায়-দায়িত্ব মন্ত্রীদের উপর বর্তায়। অর্থাৎ কোন ভুল বা অন্যায় হলে তার দায়ী কেবিনেট কে গ্রহণ করতে হয়। 

সুতরাং বলা যায়, যেহেতু কোন কাজের জন্য রাজা বা রানীর কোন দায় নেই সে তো তারা কোন অন্যায়ও করেন না। 


No comments:

Post a Comment