Friday, March 10, 2023

চুক্তি যোগ্য ব্যক্তি, নাবালক ,

২.১. চুক্তি করার যোগ্য ব্যক্তি কারা? / কে চুক্তি করতে পারে? / কোন কোন ব্যক্তি চুক্তি করার যোগ্য ?

২.২. নাবালক কে?  

২.৩. চুক্তি আইনে নাবালকের আইনগত অবস্থান কিরূপ?

২.৪. নাবালক  কি চুক্তি করতে পারে?/ নাবালকের চুক্তি করার যোগ্যতা সম্পর্কে আলোচনা কর।


২.৫. নাবালকের চুক্তিগত দায়-দায়িত্ব আলোচনা কর। / নাবালকের চুক্তিগত দায় পর্যালোচনা কর।

২.৬. নাবালকের চুক্তি সংক্রান্ত বিখ্যাত মামলা আলোচনা।  /  'নাবালকের চুক্তি শুরু থেকেই বাতিল' - মুহুরী বিবি বনাম ধর্মদাস ঘোষ (১৯০৩) মামলার আলোকে উক্তি ব্যাখ্যা কর।  / এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য/ মামলা কোনটি?

২.৭. অংশীদার ও প্রতিনিধি হিসেবে নাবালকের আইনগত অবস্থান আলোচনা কর।

২.৮ নাবালক কি শেয়ারহোল্ডার হতে পারে?



২.১. চুক্তি করার যোগ্য ব্যক্তি কারা? / কে চুক্তি করতে পারে? / কোন কোন ব্যক্তি চুক্তি করার যোগ্য ?

চুক্তি করার যোগ্য ব্যক্তি : 

যে সকল পক্ষ চুক্তি করবেন তাদের যুক্তি করার যোগ্যতা থাকতে হয়। বাংলাদেশের চুক্তি আইন অনুযায়ী- ' সাবালক, সুস্থ মস্তিষ্ক ও চুক্তি সম্পাদনের জন্য অযোগ্য ভূষিত নয় এমন যেকোনো ব্যক্তি চুক্তি করতে পারেন। (ধরা- ১১)

অর্থাৎ তিনটি যোগ্যতা থাকলে কোন ব্যক্তি চুক্তি করতে পারেন:
১) সাবালক: বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ হলে তাকে সাবালক হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু আদালত কর্তৃক কোন নাবালকের অভিভাবক নিযুক্ত থাকলে উক্ত নাবালকের বয়স 21 বছর পূর্ণ হলে সাবলক হিসেবে গণ্য হবে।

২) সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন ব্যক্তি: পাগল, মাতাল বা অপ্রকৃতস্থ নয় এমন ব্যক্তি চুক্তি করতে পারেন। চুক্তির ফলাফল সম্পর্কে জ্ঞাত বা সুস্থ মস্তিষ্কে সম্পন্ন ব্যক্তি চুক্তি করতে পারেন।

৩) আইন অনুসারে অযোগ্য ঘোষিত নয় এমন ব্যক্তি: কোন আদালত কর্তৃক কোন ব্যক্তি দেউলিয়া ঘোষিত হলে তিনি চুক্তি করতে পারেন না। অর্থাৎ কোন আদালত কর্তৃক দলীয় ভূষিত নয় এমন ব্যক্তি চুক্তি করতে পারেন।


২.২. নাবালক কে?  

বাংলাদেশে প্রচলিত চুক্তি আইন অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ না হলে তাকে নাবালক হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তাকে নাবালক বলে। আবার আদালত কর্তৃক কোন নাবালকের অভিভাবক নিযুক্ত থাকলে উক্ত নাবালকের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নাবালক হিসেবে গণ্য হবেন।


২.৩. চুক্তি আইনে নাবালকের আইনগত অবস্থান কিরূপ?

নিমে নাবালকের আইনগত অবস্থান বর্ণনা করা হলো: 
১) বয়সের দিক দিয়ে আইনগত অবস্থান: বাংলাদেশের প্রচলিত চুক্তি আইন অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ না হলে তাকে নাবালক হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তাকে নাবালক বলে। আবার আদালত কর্তৃক কোনো নাবালকের অভিভাবক নিযুক্ত থাকলে উক্ত না বলকের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নাবালক হিসেবে গণ্য হবেন। ব্যতিক্রম ছাড়া প্রত্যেক নাবালকের চুক্তি প্রথম থেকেই বাতিল বলে গণ্য ‌।

২) অংশীদার হিসেবে আইনগত অবস্থান: অংশীদার আইন অনুযায়ী কোন নাবালক অংশীদারী চুক্তি করতে পারে না। ( অংশীদারী আইন- ধারা -৩০)

৩) প্রতিনিধি হিসেবে আইনগত অবস্থান: একজন নাবালক কোন ব্যক্তির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারে তবে নাবালক কোন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে না।

৪) শেয়ার হোল্ডার হিসেবে আইনগত অবস্থান: আইন অনুযায়ী নাবালক কোন শেয়ার হোল্ডার হতে পারে না ‌



২.৪. নাবালক  কি চুক্তি করতে পারে?  নাবালকের চুক্তি করার যোগ্যতা সম্পর্কে আলোচনা কর।
বাংলাদেশের প্রচলিত চুক্তি আইন অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ না হলে তাকে নাবালক হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তাকে নাবালক বলে। আবার আদালত কর্তৃক কোনো নাবালকের অভিভাবক নিযুক্ত থাকলে উক্ত না বলকের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নাবালক হিসেবে গণ্য হবেন। ব্যতিক্রম ছাড়া প্রত্যেক নাবালকের চুক্তি প্রথম থেকেই বাতিল বলে গণ্য ।


২.৫. নাবালকের চুক্তিগত দায়-দায়িত্ব আলোচনা কর। / নাবালকের চুক্তিগত দায় পর্যালোচনা কর।

নিম্নে নাবালকের চুক্তির দায়-দায়িত্ব আলোচনা করা হলো: 

১) নাবালকের চুক্তি শুরুতেই বাতিল: ব্যতিক্রম ছাড়া একজন নাবালকের চুক্তি শুরুতে বাতিল বলে গণ্য।

২) নাবালকের মঙ্গলের জন্য চুক্তি: কোন নাবালকের পক্ষে তার মঙ্গলের জন্য চুক্তি করলে তা আইন দ্বারা বলবৎ করা যায়।

৩) নাবালকের ক্ষেত্রে এস্টোপেল নীতি প্রযোজ্য নয়: কোন না বলক নিজে সাবালক বলে দাবি করে চুক্তি করলে তা বলবৎ হয় না। অর্থাৎ নাবালকের ক্ষেত্রে অ্যাস্টোপ্যাল নীতি প্রযোজ্য নয়। 

৪) বয়সের দিক দিয়ে আইনগত অবস্থান: বাংলাদেশের প্রচলিত চুক্তি আইন অনুযায়ী ১৮ বছর পূর্ণ না হলে তাকে নাবালক হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তাকে নাবালক বলে। ব্যতিক্রম ছাড়া প্রত্যেক নাবালকের যুক্তি প্রথম থেকেই বাতিল বলে গণ্য। 

৫) অংশীদার হিসেবে আইনগত অবস্থান: অংশীদারি আইন অনুযায়ী কোন নাবালক অংশীদারি চুক্তি করতে পারে না। ( অংশীদারি আইন, ধারা-৩০)


৬) প্রতিনিধি হিসেবে আইনগত অবস্থান: একজন নাবালক কোন ব্যক্তির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে কোনো না বল ক কোন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে না।

৭) শেয়ার হোল্ডার হিসেবে আইনগত অবস্থান: আইন অনুযায়ী নাবালক কোন শেয়ার হোল্ডার হতে পারে না। 

৮) প্রতিশ্রুতি গ্রহীতা হিসেবে অবস্থান: একজন নাবালক প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করতে পারে কিন্তু কোন প্রতিশ্রুতি প্রদান করতে পারে না।

৯) নাবালক কোন অসুবিধা ভোগ করলে তা অফেরত যোগ্য: নাবালকের চুক্তি শুরুতেই বাতিল সুতরাং কোন চুক্তির অধীনে নাবালক সুবিধা ভোগ করলে তার ফেরত দিতে সে বাধ্য নয়।

১০) নাবালককে দেউলিয়া ঘোষণা করা যায় না: নাবালকের যুক্তি যেহেতু কোন চুক্তি নয় সেহেতু দলীয় ঘোষণা করা যায় না।

১১) সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদনের বাধ্য করা যায় না: নাবালক কোন চুক্তি করলে তা যেহেতু বৈধ হয় না সেহেতু চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য তাকে বাধ্য করা যায় না।


২.৬. নাবালকের চুক্তি সংক্রান্ত বিখ্যাত মামলা আলোচনা।   'নাবালকের চুক্তি শুরু থেকেই বাতিল' - মুহুরী বিবি বনাম ধর্মদাস ঘোষ (১৯০৩) মামলার আলোকে উক্তি ব্যাখ্যা কর।

ধর্মদশ নামক এক নাবাল ক একটি সম্পত্তি ২০ হাজার টাকায় মুহুরী বিবির নিকট বন্ধক রাখে।  বন্দুক বাবদ ধর্মদাস মুহুরী বিবির নিকট হতে ৮ হাজার টাকা গ্রহণ করে ‌।  পরবর্তীতে ধর্মদাস উক্ত বন্ধক বাতিল বলে দাবি করে এবং আদালতে মামলা দায়ের করে। অপরদিকে মরুর বিবি ধর্মদাসকে দেওয়া আট হাজার টাকা দাবি করে। 

এই মামলায় প্রিভি কাউন্সিল সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে, বন্ধক দলিল প্রদানের সময় ধর্মদাস নাবালক ছিল বিধায় উক্তিটি শুরুতেই বাতিল । অর্থাৎ মুহুরী বিবি তার টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকারী নয়।



২.৭. অংশীদার ও প্রতিনিধি হিসেবে নাবালকের আইনগত অবস্থান আলোচনা কর।

সাবালকত্ব আইন অনুযায়ী- যার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি তাকে নাবালক বলা হয়।  ( সাবালক আইন- ধারা -৩)

তবে আদালত যদি কোন নাবালকের অভিভাবক নিযুক্ত করেন বা কোন নাবালকের সম্পত্তি আদালত নিয়ন্ত্রণে থাকে তাহলে উক্ত নাবালকের বয়স ২১ বছর অতিক্রম না করা পর্যন্ত তাকে সাবালক হিসেবে গণ্য করা হয় না।

নিম্নে অংশীদার ও প্রতিনিধি হিসেবে নাবালকের আইনগত অবস্থান উল্লেখ করা হলো: 

অংশীদার হিসেবে:
অংশীদার আইন অনুযায়ী একজন নাবালক অংশীদারি চুক্তি সম্পাদন করতে পারেনা। ( অংশীদারি আইন, ধারা -৩০)
তবেও অন্যান্য অংশীদারদের সম্মতিক্রমে নাবালককে সুবিধা প্রদান করা যায়। এক্ষেত্রে নাবালককে সুবিধা প্রদান করা হলেও সে কোন দায় বহন করতে বাধ্য থাকবে না।

প্রতিনিধি হিসেবে: একজন নাবালক অন্য কোন ব্যক্তির প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারে বা কাজ করতে পারে। তবে কোন নাবালক অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারে না। নাবালকে প্রতিনিধি নিয়োগ করলে সে দায় গ্রহণ করতে বাধ্য নয়, বরং মূল মালিককে দায় গ্রহণ করতে হয়।



২.৮ নাবালক কি শেয়ারহোল্ডার হতে পারে?

চুক্তি আইন অনুযায়ী কোন নাবালক চুক্তি করতে পারে না বা চুক্তি সম্পাদন করার যোগ্য নয়। সুতরাং কোন নাবালক সাধারণত কোন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার হতে পারে না। 

তবে কোম্পানির Article of Association বা নিয়মাবলিতে কোন নিষেধ না থাকলে একজন নাবালক উক্ত কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার হতে পারে। এক্ষেত্রে কোম্পানির নিয়মাবলীতে সুনির্দিষ্ট বিধান উল্লেখ থাকতে হবে।

সুতরাং বলা যায়, একজন নাবালক সাধারণত কোন কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার হতে পারে না।
তবে কোম্পানির নিয়মাবলীতে এরূপ বিধান উল্লেখ থাকলে একজন নাবালক কোম্পানির শেয়ার হোল্ডার হতে পারে।

No comments:

Post a Comment