৫.১ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদা ও যোগ্যতা আলোচনা কর।
৫.২ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।
৫.৩ প্রধানমন্ত্রী সাথে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক সম্পর্ক কি? / প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ব্যতিরেকে রাষ্ট্রপতি কি কি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন? এবং প্রধানমন্ত্রী কি কি বিষয় রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন?
৫.৪) কিভাবে রাষ্ট্রপতি কে অপসারণ ও অভিসংসন করা যায়?
৫.৫) রাষ্ট্রপতি সুশাসন নিশ্চিত করতে কিভাবে তার ক্ষমতা ব্যবহার করেন?
৫.৬) রাষ্ট্রপতি কিভাবে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন?
৫.৭) কখন জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকে না?
৫.৭ কখন একটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়?
৫.১ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদা ও যোগ্যতা আলোচনা কর।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সর্বোচ্চ সম্মানিত ও মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তি। তিনি দেশের অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন। জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মর্যাদা বা রাষ্ট্রপতির যোগ্যতা:
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন যিনি সংসদ সদস্য কর্তৃক প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। অনুযায়ী তার মেয়াদকাল হবে পাঁচ বছর। তবে মেয়াদ শেষ হলেও তার উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। (আর্টিকেল ৪৮ এর ৪) অনুযায়ী কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না যদি-
১) বয়স ৩৫ বছরের কম হয়
২) সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা না থাকে
৩) কখনো অভিশংসন দ্বারা অপসারণ হয়ে থাকলে
৪) দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকলে
উল্লেখ্য কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হয়ে থাকলে তাকে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করতে হলে সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে।
৫.২ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।
বাংলাদেশে একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী হবেন। তিনি নির্বাহী বিভাগের প্রধান। তবে নির্বাহী বিভাগ রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হলেও প্রস্তাবের সকল ক্ষমতার প্রয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা।
নিম্নে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করা হলো:
১) প্রশাসনিক বা নির্বাহী বিভাগ সংক্রান্ত:
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি। দেশের সকল নির্বাহী ক্ষমতার রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হবে। প্রশাসন বা নির্বাহী বিভাগে তার কার্যাবলী উল্লেখ করা হলো:
ক) সংসদ সদস্যদের মধ্যে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দান।
খ) প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দান এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে অন্যান্য বিচারপতি নিয়োগ।
রাষ্ট্রপতি মূলত উপরের দুইটি নিয়োগ স্বাধীনভাবে করতে পারেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী তিনি অন্যান্য যে কাজ করেন তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
গ) অন্যান্য মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ
ঘ) অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ
ঙ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ
চ) মহা হিসাব রক্ষক নিয়োগ
ছ) সরকারি কর্মকমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য নিয়োগ
জ) রাষ্ট্রপতি প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের সর্বাধিনায়ক হবেন
২ । আইন সংক্রান্ত:
রাষ্ট্রপতির আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা ও কার্যাবলী নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
ক) প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান স্থগিত এবং সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারবেন।
খ) সংসদে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দান করতে পারবেন এবং বাণী প্রেরণ করতে পারবেন। প্রত্যেক ইংরেজি বছরের সূচনায় তিনি ভাষণ দান করবেন।
গ) সংসদে গৃহীত প্রতিটি বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিবেন। তার সম্মতি ব্যতীত কোন বিল আইনে পরিণত হবে না।
ঘ) সংসদ অধিবেশন না থাকলে বা সংসদ ভেঙ্গে গেলে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন মনে করলে অধ্যাদেশ জারি করতে পারবেন।
৩) অর্থ সংক্রান্ত:
রাষ্ট্রপতির অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা বা কার্যাবলী নিম্নে উল্লেখ করা হলো-
ক) কোন অর্থ বিল রাষ্ট্রপতি সুপারিশ না করলে সংসদে উত্থাপন করা যাবে না।
খ) রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ব্যতীত মঞ্জুরী দাবি করা যাবে না।
গ) কোন কর্ম বিভাগের অনুমোদিত ব্যয় অপযপ্ত হলে বা কোন কর্ম বিভাগের ব্যয় মঞ্জুরীকৃত অর্থের চেয়ে বেশি হলে রাষ্ট্রপতি সংযুক্ত তহবিল থেকে ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন। তবে তাকে সম্পূর্ণ ও অতিরিক্ত বাজেট সংসদে পেশ করতে হবে।
৪) বিচার সংক্রান্ত:
রাষ্ট্রপতি কোন আদালত, ট্রাইবুনাল বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যেকোনো দ্বন্দ্বের মার্জনা, বিলম্বন এবং যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করতে পারবেন।
৫) অবহিত থাকা: রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের যে কোন বিষয় সম্পর্কে অবৈধ থাকার অধিকার রাষ্ট্রপতি রয়েছে।
৬) জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত: দেশের সংকটকালে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
৭) দায় মুক্তি: রাষ্ট্রপতির কার্য ভারকালে তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের করা যাবে না। গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালতে পরোয়ানা জারি করা যাবে না।
৮) অন্যান্য: উপরের কার্যাবলী ছাড়াও রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধান বিচারপতির শপথ বাক্য পাঠ করান।
৫.৩ প্রধানমন্ত্রী সাথে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক সম্পর্ক কি? / প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ব্যতিরেকে রাষ্ট্রপতি কি কি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন? এবং প্রধানমন্ত্রী কি কি বিষয় রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখবেন?
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি দুটি কাজে স্বাধীনভাবে করতে পারেন।
আর তা হলো প্রধান মন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতির নিয়োগ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ অনুযায়ী তিনি অন্যান্য কাজ করে থাকেন। নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো:
ক) অন্যান্য মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ
খ) অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ
গ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ
ঘ) মহা হিসাব রক্ষক নিয়োগ
ঙ) সরকারি কর্মকমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য নিয়োগ
চ) প্রধানমন্ত্রী লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত এবং সংসদ ভেঙে দিতে পারেন।
সংসদের সাথে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক সম্পর্ক:
ক) রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত এবং সংসদ ভেঙে দিতে পারবেন।( আর্টিকেল ৭২)
খ) সংসদে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দান করতে পারবেন এবং বাণী প্রেরণ করতে পারবেন। প্রত্যেক ইংরেজি বছরের সূচনায় তিনি ভাষণ দান করবেন।
গ) সংসদে গৃহীত প্রতিটি মিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিবেন। তার সম্মতি ব্যতীত কোন বিল আইনে পরিণত হবে না। ( আর্টিকেল ৮০)
৫.৪) কিভাবে রাষ্ট্রপতি কে অপসারণ ও অভিসংসন করা যায়?
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই দুই নিয়মে তাকে অপসারণ করা যায়।
১) অবিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ , এবং ২) অসমর্থ্য বা অপারগতার কারণে অপসারণ
১) অবিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ:
বাংলাদেশের সংবিধান লংঘন বা গুরুতর কোন অপরাধ করলে পার্লামেন্ট রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করলে তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ বলে। সে ক্ষেত্রে যে নিয়ম অনুসরণ করতে হবে তা হলো:
ক) রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অপরাধের অভিযোগ উত্থাপিত হতে হবে।
খ) অভিযোগটি লিখিত এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত হতে হবে।
গ) স্পিকার নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে ১৪ দিন পর কিন্তু ৩০ দিনের পূর্বে সংসদে তা আলোচিত হতে হবে। ১৪ দিনের পূর্বে যেমন আলোচনা করা যাবে না তদ্রূপ 30 দিন পর আলোচনা অব্যাহত রাখা যাবে না ।
ঘ) নোটিশ পাওয়ার সময় সংসদ অধিবেশন চালু না থাকলে স্পিকার অবিলম্বে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন।
ঙ) অভিযোগ আলোচনাকালে রাষ্ট্রপতি বা তার প্রতিনিধি সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
চ) অভিযোগটি আলোচনার পর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে তিন চতুর্থাংশ সদস্য অভিযোগটি যথাযথ বলে ভোট প্রদান করলে প্রস্তাব গৃহীত হবে। এবং প্রস্তাব গৃহীত হবার দিন থেকেই রাষ্ট্রপতির পথ শূন্য হবে।
২) অসামর্থ্য বা অপারগতার কারণে অপসারণ:
ক) রাষ্ট্রপতি শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ বা অপারগতার কারণে রাষ্ট্র পরিচালনার অযোগ্য হয়ে পড়েছেন এই মর্মে অভিযোগ উত্থাপিত হতে হবে।
খ) অভিযুক্ত লিখিত এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত হতে হবে। অতঃপর দা প্রস্তাব আকারে স্পিকার নোটিশ করতে হবে।
গ) নুদিসটিক পাওয়ার সময় সংসদ অধিবেশন চালু না থাকলে স্পিকার অবিলম্বে সংসদ অধিবেশন চালু করবেন এবং চিকিৎসা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব আহ্বান করবেন।
ঘ) স্পিকার নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে ১৪ দিন পর কিন্তু ৩০ দিন ৩০ দিনের পূর্বে সংসদে তা আলোচিত হতে হবে। ১৪ দিনের পূর্বে যেমন আলোচনা করা যাবে না তেমনি ৩০ দিন পর আলোচনা অব্যাহত রাখা যাবে না।
ঙ) প্রস্তাব উত্থাপন ও গৃহীত হবার পর তাৎক্ষণিক উক্ত নোটিশের প্রতিলিপি স্পিকার রাষ্ট্রপতির নিকট পাঠাবেন এবং রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করবেন 10 দিনের মধ্যে চিকিৎসা পরিষদের নিকট পরিক্ষিত হওয়ার জন্য।
চ) অভিযোগ আলোচনাকালে রাষ্ট্রপতি বা তার প্রতিনিধি সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন
ছ) রাষ্ট্রপতি নিজেই সময়ের মধ্যে হাজির না হলে চিকিৎসা পরিষদের রিপোর্ট বা মতামত ছাড়াই প্রস্তাব ভোট দেয়া যাবে। এবং সংসদ সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশ বোর্ডে প্রস্তাবটি গৃহীত হলে সেদিনই থেকে রাষ্ট্রপতির পথ শূন্য হবে।
জ) রাষ্ট্রপতি উল্লেখিত সময়ের মধ্যে চিকিৎসার জন্য পরিশোধ নিকট উপস্থিত হলে চিকিৎসা পরিষদ ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট বা মতামত পেশ করবেন। অতঃপর সেটি ভোট দেয়া যাবে এবং সংসদ সদস্যদের দুই অংশ ভোটের প্রস্তাবটি গৃহীত হলে সেদিন থেকেই রাষ্ট্রপতির পথ শূন্য হবে।
৫.৫) রাষ্ট্রপতি সুশাসন নিশ্চিত করতে কিভাবে তার ক্ষমতা ব্যবহার করেন?
সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করে তার ক্ষমতা ব্যবহার করে থাকেন। আবার প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ছাড়াও তার ক্ষমতা ব্যবহার করে থাকেন।
১) প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করে ক্ষমতা ব্যবহার: প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্য সকল কাজ রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।
২) প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ছাড়া ক্ষমতা ব্যবহার: বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের তিন দফা অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং বিচারপতি নিয়োগ এই দুইটি কাজ রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ছাড়া করতে পারেন।
৫.৬) রাষ্ট্রপতি কিভাবে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন?
বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিম্নোক্তভাবে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।
১) সংসদের প্রয়োজন না থাকলে,
২) সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হলে,
৩) দেশের মাধ্যমে সংবিধানের কোন পরিবর্তন করা যাবে না।
৪) পূর্বে জারিকৃত অধ্যাদেশের পরবর্তী অধ্যাদেশের মাধ্যমে বলবৎ করা যাবে না।
৫) অন্ত দেশ জারির পর তা যদি বাতিল করা না হয় তাহলে পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত সংসদে প্রথম বৈঠকে উপস্থাপিত হবে।
৬) ৩০ দিনের মধ্যে উক্ত অধ্যাদেশ পাস হতে হবে।
৭) ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে উক্ত অধ্যাদেশের কার্যকারিতা থাকবে না।
৮) যে অধ্যাদেশ গুলোর সরকার আইনে পরিণত করতে চাই সেগুলোর প্রত্যেকটির ব্যাপারে বিলের নোটিশ প্রদান করতে হবে। উক্ত নোটিসের ভিত্তিতে আইন ও সংসদ বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করবেন।
৯) ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর উত্থাপিত বিল সাধারণ বিলের ন্যয় আলোচনা হতে পারে আবার আলোচনা ছাড়াও আইনে পরিণত হতে পারে।
১০) রাষ্ট্রপতি সংযুক্ত তহবিল থেকে ব্যয় নির্বাহের আদেশ জারি করতে পারবেন।
১১) রাষ্ট্রপতির জারিগৃত অধ্যাদেশ সংসদের আইনের ন্যায় সমান ক্ষমতা সম্পন্ন হবে।
৫.৭) কখন জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকে না?
কখন জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকবে না সেই সম্পর্কে বাংলাদেশ সংবিধানের 141 অনুচ্ছেদের ২ দফায় বিধানে উল্লেখিত হয়েছে।
নিয়ে উক্ত বিধান উল্লেখ করা হলো:
১) ঘোষণা দ্বারা জরুরি অবস্থা রহিত করা: একবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর পরবর্তীতে কোন ঘোষণা দ্বারা এই অবস্থা প্রত্যাহার করা যায়। অর্থাৎ পরবর্তী ঘোষণা দ্বারা প্রত্যাহার করলে জরুরি অবস্থা আর কার্যকর থাকে না।
২) সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত না হলে: জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর তা অনুমোদনের জন্য সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। সংসদে উপস্থাপনের ১২০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না হলে উক্ত ঘোষণা কার্যকর থাকে না।
৩) সংসদ ভেঙ্গে গেলে: জোরীর অবস্থা ঘোষণার ১২০ দিনের মধ্যে যদি সংসদ ভেঙ্গে যায় তাহলে নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার পর প্রথম বৈঠকের ৩০ দিনের মধ্যে অথবা ১২০ দিনের অবসান যেটি আগে আসে তার মধ্যে অনুমোদন না হলে জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকে না।
৪) সংসদ না থাকলে: জোরজব অবস্থায় ঘোষণার সময় যদি দেশে সংসদ না থাকে তাহলে নতুন সংসদ গঠিত হওয়ার প্রথম বৈঠকের ৩০ দিনের মধ্যে অথবা ১২০ দিনের অবসান যেটি আগে আসে তার মধ্যে অনুমোদন না হলে জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকে না।
উপসংহার: কোন ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করবে এটি তার অধিকার। আবার কোন অন্যায় না করলে কেউ আটক করবে না এটি ও তার অধিকার। কিন্তু দেশে বিশেষ অবস্থায় বিরাজ করলে জনগণের অনেক অধিকার বজায় থাকে না। অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থের জনগণের অনেক অধিকার হরণ করা হয়। মূলত জনগণের কল্যাণের জন্য এটি করা হয়।
৫.৭ কখন একটি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয়?
No comments:
Post a Comment