২.১। বাংলাদেশের পার্লামেন্টের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।
২.২। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সমূহ কি কি?
২.৩। সংসদ সদস্যের আসন কিভাবে শূন্য হয় তা আলোচনা কর। / অথবা সংসদ সদস্যদের অপসারণ সংক্রান্ত বিধান।
২.৪) একজন সংসদ সদস্যের অধিকার ও দায়মুক্তি।/ একজন সংসদ সদস্য কি কি সুবিধা ভোগ করেন?/ সংসদ সদস্যরা কি বিশেষ অধিকার ও বাধ্যবাধকতা হতে দায়মুক্তি ভোগ করে থাকেন? সংসদ সদস্যগণ যে সকল সুবিধা ভোগ করে সেগুলো আলোচনা কর। তুমি কি এই সুবিধা গুলি সমর্থন করো?
২.৫। একটি বিল কি কি পর্যায়ে অতিক্রম করে জাতীয় সংসদের আইনে পরিণত হয়? বিশ্লেষণ কর। / একটি বিল কিভাবে আইনে পরিণত হয়?
সংসদ সদস্যদের স্বীয় দল ইচ্ছামত পরিবর্তন বা সংসদের দল বিপক্ষে ভোট দান হতে বিরত রাখার জন্য বাংলাদেশ সংবিধানে কোন বিধান আছে কি?
১.৫৮।
১.৫৯। তুমি কি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদকে একটি সার্বভৌম সংসদ মনে কর?
২.১। বাংলাদেশের পার্লামেন্টের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর।
পৃথিবীর অনেক দেশেই দুই কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা রয়েছে। বাংলাদেশে এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা পার্লামেন্ট রয়েছে। পার্লামেন্টে নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা ৩০০। সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫০। সর্বমোট ৩৫০। নির্বাচিত ৩০০ টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠন করে। পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের সংসদ বা পার্লামেন্ট গঠিত হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ গঠন:
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের আইনসভা কে জাতীয় সংসদ বলে। এটি এক কক্ষ বিশিষ্ট মোট ৩০০ জন সদস্য নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত। অনুচ্ছেদ ৬৫(২)।
সংসদ সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত। এছাড়া ৫০ টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। অনুচ্ছেদ ৬৫( ৩)। যারা সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত।
উল্লেখিত মহিলারা সংরক্ষিত আসন ছাড়াও সাধারন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। জাতীয় সংসদে একজন স্পিকার এবং একজন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন। স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর।
জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলী:
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। কিন্তু এই সংস্থা শুধু আইন প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিম্নে এর ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা করা হলো:
১) আইন প্রণয়ন: জাতীয় সংসদের প্রধান এবং প্রাথমিক কাজ হল দেশের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা। দেশের যেকোন বিষয় আইন প্রণয়নের পূর্ণ ক্ষমতা জাতীয় সংসদের। তবে জাতীয় পরিষদ আইন দ্বারা কোন ব্যক্তি বা কোন কর্তৃপক্ষ কে আদেশ বিধি প্রবিধান উপ আইন বা অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন।
সংসদ কর্তৃক গৃহীত বিল সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করতে হবে। রাষ্ট্রপতি তখন দুটি অপশন-
অপশন এক- হয়তো তিনি ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত বিলে সম্মতি প্রদান করবেন। যদি তিনি ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত দিলে সম্মতি প্রদান করেন তাহলে সাথে সাথেই বিলটি আইনে পরিণত হয়।
যদি রাষ্ট্রপতি বিলটিতে ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতিও না দেন এবং ফেরত না পাঠান তাহলে ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও উত্তর দিলে তিনি সম্মতি দিয়েছেন বলে ধরে নেয়া হবে।
অপশন ২: ১৫ দিনের মধ্যে বিলটি পুনঃবিবেদনার জন্য সুপারিশ সহ সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন। যদি ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃ বিবেচনার জন্য সুপারিশসহ ফেরত পাঠান তাহলে সংসদে আবার বিল উত্থাপিত হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে বিলটি গৃহীত হলে পুনরায় বিলটি সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতি নিকট পেশ করা হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি একটি অপশন আছে।
উক্ত অপশন হল- সাত দিনের মধ্যে উক্ত বিলের সম্মতি প্রদান করবেন। যদি তিনি এতে অপরাগ বা অসামর্থ্য হন তবে সাত দিন অতিবাহিত হলে বিলটি তিনি সম্মতি দিয়েছেন বলে ধরে নেয়া হবে।
২) সংবিধান সংশোধন: সংবিধান সংশোধন করার একচ্ছত্র ক্ষমতার জাতীয় সংসদের মোট সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সম্মতিক্রমের সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা যায়।
৩) প্রশাসন বা শাসন বিভাগের উপর নিয়ন্ত্রণ: সংসদের অন্যতম কাজ হলো একটি শাসন বিভাগ তথা মন্ত্রিসভা কে নিয়ন্ত্রণ করা। এছাড়াও সংসদ মুলতবি প্রস্তাব নিন্দা সূচক প্রস্তাব প্রশ্ন জিজ্ঞাসা বাজেটের উপর আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ শাসন বিভাগের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। তাছাড়া সংসদ নেপাল নিয়োগের মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ৭৭ (২) কোন মন্ত্রণালয় বা সরকারি কর্মকর্তার কোন কাজের তদন্ত করতে পারে।
অর্থ সংক্রান্ত: জাতীয় সংসদই হলো জাতীয় অর্থ তহবিলের রক্ষক অভিভাবক ও নিয়ন্ত্রক। সংসদের অনুমোদনের মাধ্যমে কর আরোপ করা হয় এবং ব্যয় মঞ্জুর করা হয়। প্রত্যেক আর্থিক বছরের শুরুতে সরকারি জাতীয় আয় ব্যয় আনুমানিক হিসাব সম্মিলিত বার্ষিক বাজেট সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। সংসদ গ্রহণ ও অনুমোদন করলেই তা কার্যকরী হবে।
বিচার সংক্রান্ত: জাতীয় সংসদ সুপ্রিম কোর্ট কিংবা অন্য আদালতের ন্যায়বিচার কাজ সম্পাদন করে না। যে তবে সংবিধান লঙ্ঘন গুরুত্বের অপরাধ অসদআচরণ বা দৈহিক মানসিক অক্ষমতার কারণে রাষ্ট্রপতিকে দুই-তৃতীয়াংশের সংসদ সদস্যের সম্মতিক্রমে জাতীয় সংসদ অপসারণ করতে পারে। এছাড়া দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটে নেপালকে ও জাতীয় সংসদ অপসারণ করতে পারে।
নির্বাচন: জাতীয় সংসদ কিছু কিছু নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ করে থাকে। যেমন রাষ্ট্রপতি স্পিকার ডেপুটি স্পিকার নেপাল সংসদের বিভিন্ন কমিটির সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ইত্যাদি।
রাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য আইন প্রণয়ন: যুদ্ধ বা আক্রমণ বা সশস্ত্র বিদ্রোহ হলে রাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য জাতীয় সংসদ প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে পারে।
চুক্তি বা সন্ধি অনুমোদন: জাতীয় সংসদ আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তি বা সন্ধি করতে পারে।
জনমত প্রকাশ: জাতীয় সংসদ জনগণের মতামত তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকে। এর মাধ্যমে সমগ্র জাতি ও শাসন বিভাগ তাদের সমস্যার কথা জানতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত: রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলে তা সংসদে উত্থাপন করতে হবে। সংসদ অনুমোদন করলেই তা কার্যকরী হবে অন্যথায় তা কার্যকারিতা হারাবে।
অন্যান্য: জাতীয় সংসদ আইন দ্বারা রাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণ করতে পারে। এছাড়া রাষ্ট্রপতির বেতন ভাতা সংসদ সদস্যদের বেতন বাধা ও অন্যান্য অধিকার ও জাতীয় সংসদ নির্ধারণ করে থাকে। মহা হিসাব রক্ষক, সরকারি কর্মকমিশন, ও ন্যায়পালের বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপিত এবং আলোচিত হবে।
২.২। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সমূহ কি কি?
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্যতা:
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সংবিধানের ৬৬ এর ১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী:
ক) বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে,
খ) অবশ্যই তার বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হতে হবে।
এছাড়া সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় তার নাম থাকতে হবে।
সংসদ সদস্যদের অযোগ্যতা:
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিচের বৈশিষ্ট্য গুলি থাকলে কোন ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদের অযোগ্য হবেন:
১) উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা হলে।
২) দেউলিয়া ঘোষিত হলে এবং তার দায় থেকে অব্যাহতি না পেলে।
৩) অন্য দেশের আনুগত্য স্বীকার করলে বা অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে
৪) ফৌজদারী অপরাধে কমপক্ষে দুই বছরের সাজা হলে এবং তার মুক্তির ৫ বছর অতিবাহিত না হলে।
৫) বিশেষ ট্রাইবুনাল আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত হলে।
৬) প্রজাতন্ত্রের লাভজনক পদে অধিষ্ঠ থাকলে।
৭) আইন দ্বারা নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষিত হলে।
২.৩। সংসদ সদস্যের আসন কিভাবে শূন্য হয় তা আলোচনা কর। / অথবা সংসদ সদস্যদের অপসারণ সংক্রান্ত বিধান।
সংবিধানের সবশটি নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে-
১) নির্বাচনের পর সদস্যের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে ৯০ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করতে অসমর্থ হলে। অথবা শপথ পত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর দানের অসমর্থ্য হলে। তবে অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে স্পিকার যথার্থ কারণ তা বর্ধিত করতে পারবেন।
২) সংসদের অনুমতি ব্যতীত একাধিক ক্রমে অর্থাৎ পরপর 90 দিন বৈঠক দিবস অনুপস্থিত থাকবে।
৩) সংসদ ভেঙ্গে গেলে
৪) সংবিধানের ৬৬ এর ২ অনুচ্ছেদের অধীনে অযোগ্য হলে।
৫) নিজ নিজ জল পরিবর্তন করে অন্য দলের যোগদান করলে বা দলের বিপক্ষে ভোট দান করলে বা ভোটদানে বিরত থাকলে অথবা দলের নির্দেশ অমান্য করে সংসদে অনুপস্থিত থাকবে।
৬) স্বাক্ষর যুক্ত পদত্যাগ পত্র স্পিকার নিকট জমা দিলে । স্পিকারের পথ শূন্য থাকলে বা তিনি তার দায়িত্ব পালনে অসমাপ্ত হলে ডেপুটি স্পিকার উদ্যোগ পত্রপ্রাপ্ত হলে।
৭) একই ব্যক্তি একাধিক নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচিত হলে তার সর্বশেষ নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে তিনি যে এলাকায় প্রতিনিধিত্ব করতে ইচ্ছুক তা উপস্থাপন করে নির্বাচন কমিশনকে স্বাক্ষর যুক্ত ঘোষণাপত্র প্রদান করবেন অতঃপর তার অন্যান্য নির্বাচনী এলাকার আসন শূন্য হবে।
২.৪) একজন সংসদ সদস্যের অধিকার ও দায়মুক্তি।/ একজন সংসদ সদস্য কি কি সুবিধা ভোগ করেন?/ সংসদ সদস্যরা কি বিশেষ অধিকার ও বাধ্যবাধকতা হতে দায়মুক্তি ভোগ করে থাকেন? সংসদ সদস্যগণ যে সকল সুবিধা ভোগ করে সেগুলো আলোচনা কর। তুমি কি এই সুবিধা গুলি সমর্থন করো?
সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য নিম্নের সুবিধা গুলি ভোগ করেন।
১) সংসদের কার্যকরিতা বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
২) সংসদ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হতে হবে সংসদ কর্তৃক বিধিবদ্ধ কার্যপ্রণালী দ্বারা। তিনি সকল ক্ষমতার প্রয়োগ সম্পর্কিত কোন ব্যাপারে কোন আদালতের এখতিয়ারের অধীন হবে না।
৩) সংসদে বা সংসদের কোন কমিটিতে কোন কিছু বলা বা ভোটদানের জন্য সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে না।
৪) সংসদ সদস্যের বেতন ভাতা ও বিশেষ অধিকার সংসদের আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে।
৫) সংসদের নিজস্ব সচিবালয় থাকবে। এখানে কর্মচারী নিয়োগ ও কর্মের শর্ত সমূহ সংসদের আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে।
২.৫। একটি বিল কি কি পর্যায়ে অতিক্রম করে জাতীয় সংসদের আইনে পরিণত হয়? বিশ্লেষণ কর। / একটি বিল কিভাবে আইনে পরিণত হয়?
আইনের খসড়া প্রস্তাবটি বিল বলা হয়। এই খসড়া প্রস্তাব বা বিল আইনে পরিণত হতে হলে কয়েকটি পর্যায়ে বা ধাপ অতিক্রম করতে হয়। নিম্নেতে আলোচনা করা হলো।
১) সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রত্যেকটি প্রস্তাব দিল আকারে উত্থাপিত হতে হবে।
২) বেসরকারি সদস্য অর্থাৎ সাধারণ সদস্যদের কেউ বিল উত্থাপন করতে চাইলে সংসদ সচিবের নিকট ১৫ দিনের নোটিশ প্রদান করতে হয় এবং নোটিশের সাথে বিলের প্রতিলিপি প্রদান করতে হয়। আর সরকারি সদস্য অর্থাৎ মন্ত্রীদের কেউ বিল উত্থাপন করতে চাইলে সাত দিনের নোটিশ প্রদান করতে হয় এবং নোটিশের প্রতিলিপি বিলের সাথে প্রদান করতে হয়।
৩) সরকারি বিলের ক্ষেত্রে স্পিকার চাইলে সাত দিনের সময় আরো কমিয়ে আনতে পারেন। নোটিশের সময় শেষ হলে সংসদের কার্য দিবসের কার্য অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত সদস্য অর্থাৎ যে মন্ত্রী বা যে সদস্য বিলটি উত্থাপন করতে চান তিনি বিলটি উত্থাপনের অনুমতির জন্য সংসদে প্রস্তাব পেশ করেন। সংসদ অনুমতি দিলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটির শিরোনাম সকলকে পড়ে শোনান।
৪) কেউ যদি প্রস্তাবের বিরোধিতা না করেন তাহলে সংসদ অনুমতি দিয়েছেন বলে ধরা হবে। আর কেউ বিরোধিতা করলেই স্পিকার সেটি ভোটাভুটিতে দিবেন। যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে সংসদ অনুমতি দিয়েছেন বলে ধরা হবে। এ সময় বিলের উপর কোন আলোচনা হয় না। সরকার বিলটি গ্যাজেটের প্রকাশ করে সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করেন।
৫) বিল্টির উপর সাধারণ আলোচনার জন্য একটি দিন ধার্য করা হয়। উক্ত দিনে ভারপ্রাপ্ত সদস্য বিলটি বিবেচনার জন্য অর্থাৎ বিতর্ক ও আলোচনার জন্য সংসদ কর্তৃক গ্রহণ করার প্রস্রাব করেন। প্রস্তাবের ভাষা বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যেমন
ক) বিলটি বিবেচিত হোউক
খ) স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হোউক
গ) জন্ম যাচাইয়ের জন্য প্রচার করা হোউক
ঘ) বাছাই কমিটিতে প্রেরণ করা হোক
ঙ) অবিলম্বে সংসদে বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হোক ইত্যাদি।
কোন সদস্য বিরোধিতা না করলে বিলটি আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয় আর কেউই বিরোধিতা করলে ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়।
এ পর্যায়ে সংসদ দুটি কাজ করতে পারে:
১) বিলটি সরাসরি আলোচনার জন্য গ্রহণ করতে পারে:
নির্দিষ্ট একটি দিন ধার্য করা হবে। উক্ত দিনে বিলটি বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিভিন্ন দফা উপ দফা র উপর সংশোধনী আসতে পারে অর্থাৎ বিলের বিভিন্ন অংশে পরিবর্তিত হতে পারে। বিস্তারিত আলোচনার পর প্রত্যেক দফার উপর ভোটগ্রহণ করা হয়।
২) কোন কমিটিতে পাঠানোর পক্ষে অনুমোদন দিতে পারে:
সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিলটি যদি কোন কমিটিতে পাঠানো হয় তাহলে তিনটি পর্যায়ে অতিক্রম করতে হয়।
ক) কমিটি পর্যায়: কমিটিতে বিলটি বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়। কমিটির বিলের নীতি উদ্দেশ্য পরিবর্তন বা কোন অংশ সংযোজন করতে পারে না তবে কোন অংশ সংশোধনের প্রস্তাব করতে পারে।
খ) রিপোর্ট পর্যায়: কমিটির চেয়ারম্যান রিপোর্টটি সংসদে পেশ করেন। সেটি গেজেট আকারে প্রকাশ করার পর ভারপ্রাপ্ত সদস্য প্রস্তাব করেন যে, বিলটি বিচার বিবেচনার জন্য গ্রহীত হোক। সংখ্যাগরিষ্ঠের অনুমোদন পেলে তা আলোচনার জন্য গৃহীত হয়।
গ) সংসদে আলোচনার পর্যায়: মৃত বিলটি সংসদের আলোচনার জন্য একটি নির্দিষ্ট দিন ধার্য করে সেদিন বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিভিন্ন দফা ও দফার উপর সংশোধনী প্রস্তাবনা হয়। ্
পর্যায় অতিবাহিত হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সদস্য বিলটিকে সামগ্রিকভাবে গ্রহণের প্রস্তাব করেন। এই সময় আর কোন আলোচনা হয় না। সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেলেই বিলটি সামগ্রিকভাবে গৃহীত বা পাস হয় আর সমর্থন না পেলে বাতিল হয়ে যায়। বিউটি পাস হলে স্পিকার তার সত্যায়িত করেন।
রাষ্ট্রপতি সম্মতি: সংসদ কর্তৃক গৃহীত বিল সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতি নিকট পেশ করতে হবে। রাষ্ট্রপতির দুটি অপশন:
১); হয়তো তিনি ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত বিলে সম্মতি প্রদান করবেন। যদি তিনি পুরনো দিনের মধ্যে উক্ত বিলে সম্মতি প্রদান করেন তাহলে সাথে সাথে বিলটি আইনে পরিণত হয়।
আর যদি ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি নাও দেন এবং ফেরত না পাঠান তাহলে ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও উক্ত বিলটি ৩০ সম্মতি দিয়েছেন বলে ধরে নেয়া হবে।
২) ১৫ দিনের মধ্যে বিলটি পুনঃবিবেদনার জন্য সুপারিশ সহ সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন। যদি ১৫ দিনের মধ্যে পুনঃ বিবেচনার জন্য সুপারিশসহ ফেরত পাঠান তাহলে সংসদে আবার বিল উত্থাপিত হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে বিলটি গৃহীত হলে পুনরায় বিলটি সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতি নিকট পেশ করা হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি একটি অপশন আছে।
উক্ত অপশন হল- সাত দিনের মধ্যে উক্ত বিলের সম্মতি প্রদান করবেন। যদি তিনি এতে অপরাগ বা অসামর্থ্য হন তবে সাত দিন অতিবাহিত হলে বিলটি তিনি সম্মতি দিয়েছেন বলে ধরে নেয়া হবে।
উপসংহার: বাংলাদেশের পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদ একটি সার্বভৌম আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। প্রথমে কোন প্রস্তাবিত বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়। অতঃপর যদি উক্ত বিল সংসদে গৃহীত হয় এবং রাষ্ট্রপতি তাদের সম্মতি প্রদান করেন তাহলে উক্ত বিল আইন রূপে লাভ করে।
No comments:
Post a Comment