৫.১. উত্তরণকালীন অসম্ভব্যতা বলতে কি বুঝ?
৫.২. উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতা কিভাবে ঘটে?
৫.৩. উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতার কারণে কোন চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটলে চুক্তির পদক্ষেপ সমূহের দায় ও অধিকার সম্পর্কে আলোচনা কর। / একটি উত্তরণ কালীন অসম্ভাব্যতার কারণে চুক্তির আইনগত ফলাফল কি / চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে উত্তর কালীন অসম্ভাবতার ফলাফল আলোচনা কর।
৫.১. উত্তরণকালীন অসম্ভব্যতা বলতে কি বুঝ?
পরস্পর পক্ষসমূহ যেকোনো চুক্তি করে তা সম্পাদন করার লক্ষ্য নিয়ে বা অভিপ্রায় নিয়ে। কিন্তু বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক সময় চুক্তি পালন করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে তারা চুক্তির দায় থেকে অব্যাহতি পেয়ে যান। এভাবেই চুক্তির উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতা সৃষ্টি হয়।
চুক্তির উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতা: যে সকল কার্যসম্পাদন করা সম্ভব সেই সকল বিষয় নিয়ে চুক্তি সম্পাদিত হয়। বাস্তবে সম্পাদন করা সম্ভব নয় এমন বিষয় নিয়ে চুক্তি করলে উক্ত চুক্তি বাতিল বলে গণ্য। তবে কোন চুক্তি যদি এমন হয় যে, চুক্তি গঠনের সময় তা পালন করা সম্ভব ছিল কিন্তু পরবর্তীতে পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে তাহলে পক্ষগণ চুক্তির দায় থেকে অব্যাহতি পেয়ে যান। এইটিই চুক্তির উত্তর কালীন অসম্ভাব্যতা।
চুক্তির আইন অনুযায়ী- চুক্তি গঠনের সময় যা পালন করা সম্ভব ছিল কিন্তু পরবর্তীতে কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনা দ্বারা তা পালন অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাহলে পক্ষসমূহ কে চুক্তির দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং চুক্তিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হয়। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতা বলে।
অর্থাৎ যে অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য কোন চুক্তি পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, সেই ঘটনাকে উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতা বলে।
৫.২. উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতা কিভাবে ঘটে?
যে সকল কার্যসম্পাদন করার সম্ভব সেই সকল বিষয় নিয়ে চুক্তি সম্পাদিত হয়।
যেমন- 'ক' এর ১২,০০,০০০ টাকার ৪ একর জমি 'খ' ২,০০,০০০ টাকায় বায়না করলো।
কিন্তু ব্যানার কিছুদিন পর সরকার রাষ্ট্রীয় কাজের জন্য উক্ত জমি অধিগ্রহণ করল। এক্ষেত্রে চুক্তি গঠনের সময় চুক্তি পালন করা সম্ভব থাকলেও অধিগ্রহণের জন্য উক্ত চুক্তি পালন করা পক্ষ সমূহের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সুতরাং উভয় পক্ষই এই চুক্তি থেকে অব্যাহতি পাবেন এবং উক্ত চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে ' খ' তার বায়নার ২ লক্ষ টাকা ফেরত পাওয়ার যোগ্য হবেন।
৫.৩. উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতার কারণে কোন চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটলে চুক্তির পদক্ষেপ সমূহের দায় ও অধিকার সম্পর্কে আলোচনা কর। / একটি উত্তরণ কালীন অসম্ভাব্যতার কারণে চুক্তির আইনগত ফলাফল কি / চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে উত্তর কালীন অসম্ভাবতার ফলাফল আলোচনা কর।
উত্তর কালীন অসম্ভাব্যতার ফলাফল বা উত্তর কালীন ও সম্ভাব্যতার কারণে চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটলে পক্ষসমূহের দায় দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১) চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হবে: যে চুক্তি গঠনের সময় পালন করা সম্ভব ছিল কিন্তু পরবর্তীতে পালন করার অসম্ভব হয়ে পড়ে সেই চুক্তি উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতা ।এমন যুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।
২) কোন পক্ষ সুবিধা গ্রহণ করলে তা ফেরত: চুক্তির উত্তরকালীন অসম্ভাব্যতার ক্ষেত্রে কোন পক্ষ সুবিধা গ্রহণ করলে উত্তর সুবিধা ফেরত দিতে হবে।
৩) প্রতিশ্রুতিদাতা অসম্ভাব্যতার সম্পর্কে জানা থাকলে: কোন চুক্তি গঠনে সময় যদি তার ও সম্ভাব্যতা সম্পর্কে প্রতিশ্রুতিদাতার জানা থাকে তাহলে প্রতিশ্রুতি গ্রহীতা আর ক্ষতি হলে উক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে প্রতিশ্রুতি দাতা বাধ্য থাকবে।
৪) ভবিষ্যৎ বাধ্যবাধকতা: চুক্তির উত্তর কালীন অসম্ভাব্যতার ক্ষেত্রে পক্ষসমূহের ভবিষ্যৎ বাধ্যবাধকতা বাতিল বলে গণ্য হয়।
ভবিষ্যতের কথা কোন মানুষই বলতে পারেনা। যার ফলে ভবিষ্যতে কোন কাজ পড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে বা চুক্তি করলে অনেক ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয় না। যেমন- প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যদি চুক্তির বিষয়বস্তু নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেই চুক্তি পালন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরিশেষে বলা যায় যুক্তি সঙ্গত কারণে চুক্তি পালন সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ দায় থেকে মুক্তি পেয়ে যান।
No comments:
Post a Comment