৩.১ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন।
৩.২ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের উদ্দেশ্য আলোচনা করো।
৩.৩ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর পরিধি।
৩.৪ । দলিল রদ / দলিল বাতিল/ নাকোচ/ বিলোপের অর্থ কি?
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তির যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা থাকে যে কোন দলিল বাতিল / রদ না হলে তার গুরুত্ব ক্ষতির কারণ হবে। তাহলে ওই ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত উক্ত দলিল বিলুপ্ত গণ্য করে তাকে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন । তাকেই দলিল বাতিল বলে।
৩.৫ কি কারনে দলিল মামলা করা যায় / উপাদান?
৩.৬ । কি কারনে দলিল সংশোধন করা যায়?
৩.৭ । দলিল রদ / নাকচ এর জন্য অত্যাবশ্যকীয় শর্তাবলি। / দলিল বিলোপ অথবা রদের বিধানবলি আলোচনা কর।
৩.৮ । রিসিভার কে?
৩.৯ । কখন রিসিভার নিয়োগ করা হয়?
৩.১০ । রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত এস আর এক্টের বিধান আলোচনা কর।
৩.১১ । দেওয়ানী আইনের অধীনে রিসিভার এর কর্তব্য ও দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখে আলোচনা করুন।
৩.১২। নিষেধাজ্ঞা কি?
৩.১২.১ নিষেধাজ্ঞার উপাদান
৩.১৩ । নিষেধাজ্ঞের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।
৩.১৪ নিষেধাজ্ঞার শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদ।
৩.১৫ । আদালত কোন কোন ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন?
/ আদালত কখন চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করবেন?
৩.১৬ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করার জন্য আদালত নিম্নে নীতিগুলো অনুসরণ করে।
৩.১৭ । স্থিতি বস্তা কি?
৩.১৮ অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা কি?
৩.১৯ । চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।
২ ।
৩ । এরূপ রদের জন্য কি কি উপাদান আবশ্যক? / একটি নাকচ বা রদ এর কি কি উপাদান আবশ্যক?
৪ । কখন আদালত একটি দলিল নাকচের আদেশ দিতে পারেন? / ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে কখন একটি দলিল রদ বা নাকচ করা যায়?
৫ । কে দলিল রদের প্রার্থনা করতে পারে?
৬ । দলিল রদের মামলায় কৃতকার্য হওয়ার জন্য বাদী কে কি কি আবশ্যকীয় বিষয় প্রমাণ করতে হয়?
৭ । ১৮৭৭ সালে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের নয় ধারার বিধান মতে বেআইনিভাবে সম্পত্তি হতে
৮ । দখলচ্যুত ব্যক্তির প্রতিকার কি?
৯ । দখলচ্যুত ব্যক্তির আদালতে দখল উদ্ধারের মোকাদ্দমা করার সময়সীমা কত?
১০ । আদালত কি গৃহাদি ভাঙ্গিয়া দখল প্রদানের আদেশ দিতে পারেন?
১১ । এই ধরনের ডিক্রির বিরুদ্ধে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির প্রতিকার কি?
১২ । ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার তদন্ত পরিসর কতখানি?
১৩ । তামাদি আইনের 142 ও ১৪৪ নং আর্টিকেল উল্লেখপূর্বক ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার
১৪ । আইনের ধারা ৮ এর বিধান বর্ণনা কর। ্।
১৫ । ১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৮ ও ৯ এর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।
২০ । কোন অবস্থায় রিসিভার প্রত্যাহার করা যায়? উদাহরণসহ লিখ।
২৬ । কি কি অবস্থায় আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে অস্বীকার করতে পারে?
নিবারণমূলক প্রতিকার কি?
কি কি অবস্থায় আদালত মিশরের প্রদান করতে অস্বীকার করতে পারে?
এসআর এক্ট এর ৯ ধারার অধীনে ইকুইটি পরিসর কতখানি?
স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে এস আর এ্যক্ট এর ৮ ধারার বিধান আলোচনা কর।
ঘোষণামূলক মামলার প্রকৃতি ও পরিধি আলোচনা কর। ঘোষণার সাথে অতিরিক্ত প্রতিকার না চাইলে ফলাফল কি?
৩.১ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন।
সাধারণত দেওয়ানী বা ফৌজদারি মামলায় আদালতের নিকট কোন প্রতিকার নির্দিষ্টভাবে চাওয়া হলে তা পাওয়া যায় না। এটি আদালতের বিবেচ্য বিষয় অর্থাৎ আদালত যেটি ভালো মনে করে সেই প্রতিকার দিয়ে থাকেন। কিন্তু যে খেতে আদালতের নিকট যা চাওয়া হয় আদালত তাই প্রতিকার দেন তাকে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বলে।
অনেক ক্ষেত্রে এমন ক্ষতি আছে যা টাকার অঙ্কে প্রকাশ করা যায় না বা টাকা দিয়ে সেই ক্ষতিপূরণ করা যায় না, সে ক্ষেত্রে আদালত সুনিষ্ঠ প্রতিকার আইনের মাধ্যমে যথাযথ প্রতিকার প্রদান করেন।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বলতে একটি বিশেষ ধরনের প্রতিকারকে বুঝায়। দেওয়ানি কার্যবিধি বা সাধারণ আইনের যে সকল প্রতিকার পাওয়া যায় না, সে যেই আইনে সুনির্দিষ্ট ভাবে পাওয়া যায় তাকেই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন বলে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আদালতে অধিকার হিসেবে চাওয়া যায় না। আদালত সুবিবেচনার উপর ভিত্তি করে এটি প্রদান করে।
দেওয়ানি ক্ষতির প্রতিকার হিসেবে আইনে সাধারণত টাকার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বাদীর জন্য অপ্রত্যাশিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত হয়ে যায়। এরূপ ক্ষেত্রে অর্থাৎ আর্থিক প্রতিকারের বিপরীতে আইনে বিভিন্ন প্রতিকারের যে বিধান আছে তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন বলে।
পরিশেষে বলা যায় আদালত নির্দিষ্ট কোন প্রকার প্রতিকার প্রার্থনা করলে আদালত যদি তা প্রদান করে তাহলে তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার হয়। আর এই সকল বিষয় যে আইনি লিপিবদ্ধ আছে তাকেই সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন বলে।
৩.২ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের উদ্দেশ্য আলোচনা করো।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের উদ্দেশ্য:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনটি ন্যায়পরায়ণতার উপর নির্ভরশীল। দেওয়ানি মামলায় প্রাপ্তি যোগ্য কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সংক্রান্ত আইনের সংজ্ঞা, ব্যাখ্যা এবং সংশোধনের উদ্দেশ্যে এই আইনটি প্রণীত হয়েছে।
দেওয়ানী আদালতে যে সকল প্রতিকার নিয়ে কাজ করে তাকে পর্যন্ত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১) দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়েরকারী বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত বা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিকার বলে গণ্য হয়।
২) মামলা দায়ের কারি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি যে জিনিসটি পাওয়ার অধিকারী সেই জিনিসটি তাকে প্রদান করা। অর্থাৎ অতি সাধন কারীর ব্যক্তিকে তার কর্তব্য পালনের উদ্দেশ্যে যে কাজ করতে নির্দেশ দিয়ে বা কোন কাছ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে প্রতিকার দেওয়া হয়।
এই দ্বিতীয়টি হলো সুনির্দিষ্ট প্রতিকার। আর এই আইনের প্রত্যক্ষ ও উদ্দেশ্য হলো সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান।
৩.৩ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এর পরিধি।
নিম্নে সুনিষ্ট প্রতিকার আইনের পরিসর উল্লেখ করা হলো।
সুনিষ্ঠ প্রতিকার আইনে একটি প্রস্তাবনা, তিনটি খন্ড, ১০টি অধ্যায় এবং 57 টি ধারা রয়েছে।
প্রস্তাবনা: প্রস্তাবনা হলো আরম্ভের পূর্বে আরম্ভ অথবা শুরুর পূর্বে শুরু। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের প্রস্তাবনায় উল্লেখ রয়েছে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সংক্রান্ত কতিপয় সংজ্ঞা নিরূপণ ও সংশোধনের প্রয়োজন নেই এই আইন প্রণয়ন করা হলো।
৩.৪ । দলিল রদ / দলিল বাতিল/ নাকোচ/ বিলোপের অর্থ কি?
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তির যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা থাকে যে কোন দলিল বাতিল / রদ না হলে তার গুরুত্ব ক্ষতির কারণ হবে। তাহলে ওই ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত উক্ত দলিল বিলুপ্ত গণ্য করে তাকে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন । তাকেই দলিল বাতিল বলে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী যদি কোন ব্যক্তির যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা থাকে যে কোন দলিল বাতিল / রদ না হলে তার গুরুত্ব ক্ষতির কারণ হবে।
তাহলে ওই ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত উক্ত দলিল বিলুপ্ত গণ্য করে তাকে ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন । তাকেই দলিল বাতিল বলে।
কিন্তু দলিলটি যদি ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে তাহলে আদালত তার ডিক্রি একটি কপি সংশ্লিষ্ট অফিসের অফিসারের বর্বর প্রেরণ করবেন। উক্ত অফিসার তার বহিতে দলিলের নকলতা বিলুপ্তির বিষয় লিপিবদ্ধ করবেন।
৩.৫ কি কারনে দলিল মামলা করা যায় / উপাদান?
কোন ব্যক্তি যে কারণে কোন দলিল বাতিলের জন্য মামলা করতে পারেন তা হল:
১) দলিলটি বাতিল বা বাতিলযোগ্য হলে
২) যদি যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা থাকে যে কোন দলিল বাতিল না করলে তার গুরুতর ক্ষতির কারণ হবে।
৩.৬ । কি কারনে দলিল সংশোধন করা যায়?
যে সকল কারণে দলিল সংশোধন করা যায় তা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ থেকে ৩৪ ধারায় বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১) দলিলের প্রতারণা করা হলে: দলিলে প্রতারণা করা হলে কোন পক্ষ অথবা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ দলিলটি সংশোধনের জন্য মামলা করতে পারবে। আদালতে যদি প্রমাণিত হয় যে দলিলটি প্রতারণা করা হয়েছে তাহলে আদালত ইচ্ছা দিন ক্ষমতা বলে দলিলটি সংশোধনের আদেশ দিতে পারেন।
২) দলিলে ভুল হলে: দলিলে কোন ভুল হলে যে কোন পক্ষ বা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ দলিলটি সংশোধনের জন্য মামলা করতে পারবে। এক্ষেত্রে এক পক্ষের ভুল থাকলে চলবে না সকল পক্ষের ভুল থাকতে হবে। আদালত যদি প্রমাণিত হয় যে,। দলিলটি কোন ভুল হয়েছে তাহলে আদালত ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে দলিলটি সংশোধনের আদেশ দিতে পারেন।
৩) পক্ষবনের ন্যায় ভিত্তিক উদ্দেশ্য থাকলে: আদালত যদি এই বিষয়ে সন্তুষ্ট হন যে চুক্তিভুক্তগণের উদ্দেশ্য ছিল ন্যায় ভিত্তিক ও সুবিবেচনা মূলক তাহলে যে কোন পক্ষ উত্ত চুক্তির কোন সংশোধন দাবি করলে তাকে প্রচ্ছন্ন হাতে আসতে হবে। তা না হলে আদালত কোন প্রতিকার দেবে না।
৪) দলিলে পক্ষগণের অভিপ্রায় না থাকলে:
আদালত শুধু দলিলের ভাষা দ্বারা পক্ষ গনের কি অভিপ্রায় ছিল তা দেখবেন না, দলিল দ্বারা কি বুঝাতে চাওয়া হয়েছে তাও অনুসন্ধান করতে পারেন। এজন্য পক্ষবন যদি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেন যে, দলিলটি সম্পাদনের সময় তাদের যে উদ্দেশ্য ছিল সেই উদ্দেশ্য অনুযায়ী দলিলটি লিখিত হয়নি তাহলে আদালত ইচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে দলিলটি সংশোধনের আদেশ দিতে পারেন।
৫) আরজিতের প্রার্থনা থাকলে: আরজিতে প্রার্থনা থাকলে এবং আদালত যুক্তিসঙ্গত মনে করলে সংশোধিত চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যেতে পারে।
৬) বন্টনের মামলায়: বন্টনের মামলায় বাদী সংশোধনের ও প্রার্থনা করতে পারেন। এইজন্য তার পৃথক মামলার প্রয়োজন নেই।
৩.৭ । দলিল রদ / নাকচ এর জন্য অত্যাবশ্যকীয় শর্তাবলি। / দলিল বিলোপ অথবা রদের বিধানবলি আলোচনা কর।
একটি দলিল নাকচের জন্য নিম্নের শর্তাবলী পালন করতে হয়।
১) দলিলটি বাতিলযোগ্য হলে
২) দলিলটি অনিষ্পন্ন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হলে
৩) দলিলটি গুরুতর ক্ষতির কারণ হলে
৪) আদালত তার স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে দলিল নাকচ / রদ করতে পারেন।
৩.৮ । রিসিভার কে?
ইংরেজি রিসিভার শব্দের বাংলা অর্থ তত্ত্বাবধায়ক। অনেক সময় মামলা বিবাদমান সম্পত্তি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে আদালতের নিকট মনে হতে পারে মামলার বিষয়বস্তু ঠিক রাখতে হলে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দিয়ে তত্ত্বাবধাদন করানো প্রয়োজন। তখন আদালত উত্তর সম্পত্তির রক্ষার জন্য তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করেন।
রিসিভার:
রিসিভারে নির্দিষ্ট সংজ্ঞা কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। তবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন এবং দেওয়ানি কার্যবিধি পর্যালোচনা করে বলা যায়,
মোকদ্দমার বিষয়বস্তু রক্ষণাবেক্ষণ বা সঠিকভাবে পর্যালোচনার জন্য আদালত কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তিকে রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক বলে।
রিসিভার সম্পর্কে Hulsbury বলেন, a receiver is the representative of the court and of all parties interested in the litigation.
সুতরাং বলা যায়, বিদ্যমান বিষয়বস্তুর যথাযথ সংরক্ষণ বা ব্যবহারের জন্য আদালত কোন ব্যক্তিকে নিযুক্ত করলে তাকে রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক বলে।
৩.৯ । কখন রিসিভার নিয়োগ করা হয়?
কোন মোকদ্দমার বিষয়বস্তু যদি রক্ষণাবেক্ষণ বা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা র প্রয়োজন হয় তাহলে আদালত উক্ত সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ করতে পারেন। অর্থাৎ মোকদ্দমার বিষয়বস্তু যেন কোন ক্ষতি না হয় এজন্য আদালত রিসিভার নিয়োগ করে থাকেন।
দেওয়ানী কার্যবিধির ৪০ আদেশে ( ১ ও ২ বিধিতে) রিসিভার নিয়োগের বিধান উল্লেখিত হয়েছে। নিম্ন তা উল্লেখ করা হলো:
১) আদালত কোন ডিগ্রীর পূর্বে বা পরে কোন সম্পত্তির জন্য রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।
২) সম্পত্তির দখল থেকে আদালত কোন ব্যক্তিকে অপসারণ করতে পারেন।
৩) আদালত রিসিভারকে বিভিন্ন ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন। যেমন- মামলা দায়ের করা, মামলার জবাব দেওয়া, সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা করা, সম্পত্তির উন্নয়ন করা, খাজনা আদায় করা ইত্যাদি।
৪) আদালত কোন আদেশ দ্বারা রিসিভারের পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতে পারেন।
৫) রাজস্ব প্রতিদানকারী ভুল সম্পত্তি হলে কালেক্টর এর সম্মতিতে আদালত তাকে রিসিভার নিয়োগ করতে পারেন।
৩.১০ । রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত এস আর এক্টের বিধান আলোচনা কর।
))) রিসিভার নিয়োগের নীতি:
ক) রিসিভার এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বাঁদিকে প্রমাণ করতে হবে।
খ) নিয়োগের আবেদনে যথেষ্ট যুক্তি থাকতে হবে
গ) রিসিভার নিয়োগের জন্য দ্রুত আবেদন করতে হবে
ঘ) দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন তার প্রমাণ দিতে হবে
ঙ) আবেদনকারীর আচরণ দোষ মুক্ত হতে হবে
চ) আদালত তার বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
৩.১১ । দেওয়ানী আইনের অধীনে রিসিভার এর কর্তব্য ও দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিধি উল্লেখে আলোচনা করুন।
)) একজন নিয়োগ প্রাপ্ত রিসিভার এর ক্ষমতা দায়িত্ব ও কর্তব্য:
একজন নিরাপত্তা রিসিভার এর ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে দেওয়ানি কার্যবিধির ৪০ আদেশে ( ৩ বিধিতে) উল্লেখিত হয়েছে। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:
১) অঙ্গীকার পত্র প্রদান: একজন রিসিভার একজন জমির মালিকের ন্যায় সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারেন। যার ফলে রিসিভার কর্তৃক কোন সম্পত্তির ক্ষতি সাধন খুবই স্বাভাবিক বিষয়। রিসিভার মোকদ্দমার বিষয়বস্তু বিষয়বস্তুর যেন কোন ক্ষতি করতে না পারে এজন্য তার নিকট থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বা মূল্যবান বস্তু জামানত হিসেবে গ্রহণ করা হয়। রিসিভার উক্ত টাকা বা সম্পত্তি প্রদানের সম্মত আছেন এই মর্মে অঙ্গীকারপত্র প্রদান করতে হয়।
২) আয় ব্যয়ের হিসাব দাখিল: রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ককে যে সম্পত্তির জন্য নিযুক্ত করা হয় তিনি উক্ত সম্পত্তির আয় ব্যয়ের হিসাব লিপিবদ্ধ করবেন এবং নিজস্ব সময়ের পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে হিসাব দাখিল করবেন। রিসিভার এর কোন খরচ থাকলে তিনি ভাউচারের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করবেন।
৩) টাকা পাওনা থাকলে তা পরিশোধ: সম্পত্তির আয় ব্যয়ের হিসাব দাখিলের পর যদি দেখা যায় রিসিভারের নিকট টাকা পাওনা আছে তাহলে রিসিভার উক্ত টাকা পরিশোধ করবেন।
৪) ক্ষতিপূরণ প্রদান: রিসিভারের কোন ত্রুটির কারণে বা ইচ্ছাকৃত ভুলের কারণে যদি সম্পত্তির কোন প্রতি সাধন হয় তাহলে রিসিভার উক্ত ক্ষতির জন্য দায়ী হবেন এবং তার নিকট থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।
৫) শাস্তি মূলক ব্যবস্থা: রিসিভার যদি আয় ব্যয়ের হিসাব টাকা পাওনা থাকলে তা পরিষদে ব্যর্থ বা ক্ষতিপূরণ প্রদান ব্যর্থ হয় তাহলে আদালত তার সম্পত্তি ক্রোক করা নির্দেশ দিতে পারেন। যে উক্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনা টাকা বা ক্ষতিপূরণ ইত্যাদি পরিশোধ করা যাবে। বাংলা টাকা বা ক্ষতি পূর্ণ ইত্যাদি পরিষদের পরও যদি টাকা অতিরিক্ত থাকে তাহলে রিসিভারকে প্রদান করা হবে।
৩.১২। নিষেধাজ্ঞা কি?
নিষেধাজ্ঞা কি:
ইংরেজি injection শব্দের বাংলা অর্থ নিষেধাজ্ঞা। কোন কাজ করলে যদি বাদীর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে সেই না করার জন্য আদালত বিবাদীকে আদেশ প্রদান করবেন। আবার কোন কাজ না করলে যদি বাদীর ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তাহলে সেই কাজ করার জন্য আদালত বিবাদীকে আদেশ প্রদান করবেন। এটিই হলো নিষেধাজ্ঞা।
নিষেধাজ্ঞা কাকে বলে:
নিষেধাজ্ঞা আদালতের একটি সুনির্দিষ্ট আদেশ। নির্দিষ্ট কোন কাজ করতে অথবা না করতে বা বিরত থাকতে আদালত কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তি সমষ্টিকে যে নির্দেশ প্রদান করে থাকে তাকে নিষেধাজ্ঞা বলে।
Lord Halsbury এর মতে, নিষেধাজ্ঞ হল এমন একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম, যার দ্বারা কোনো পক্ষ কোনো একটি কাজ হতে বিরত থাকার জন্য বা কাজটি করার জন্য আদালত কর্তৃক আদিষ্ট হয়।
নিষেধাজ্ঞ আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতার আওতাভুক্ত। তবে এটি মঞ্জুর করতে বা না করতে আদালত কতগুলি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে।
৩.১২.১ নিষেধাজ্ঞার উপাদান
)) নিষেধাজ্ঞার উপাদান:
১) এটি একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম
২) এটি আদালতের একটি সুনির্দিষ্ট আদেশ
৩) যে কাজ করা কর্তব্য তা করতে আদালত আদেশ করে।
৪) যে কাজ না করা কর্তব্য ও সেই কাজ থেকে বিরত থাকতে আদালত নির্দেশ করে।
৩.১৩ । নিষেধাজ্ঞের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।
সমাজে নিষেধাজ্ঞার বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত হয়।
নিম্নেতে আলোচনা করা হলো:
১) মামলার বিষয়বস্তুর স্থিতি অবস্থা বজায় রাখা: যে সম্পত্তি নিয়ে পক্ষ বনের মধ্যে বিরোধ, আদালত যদি মনে করে যে মামলা চলাকালীন সময়ও উক্ত সম্পত্তি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে তাহলে যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারেন।
২) অন্যায় কাজ প্রতিহত করা: কোন পক্ষ যদি কোন অন্যায় কাজের প্রস্তুতি গ্রহণ করে তাহলে নিষেধাজ্ঞের মাধ্যমে তা প্রতিভূত করা যায়।
৩) যে কাজ করা উচিত সেই কাজ করতে বাধ্য করা: এমন অনেক কাজ আছে যা না করলে অন্য পক্ষ তার ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আদালত সেই কাজ করার জন্য নিষেধাজ্ঞ মঞ্জুর করতে পারেন।
৪) ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করার: কোন পক্ষকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রেখেই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়।
৫) যে কাজ করা উচিত নয় সেই কাজ না করতে বাধ্য করা: এমন অনেক কাজ আছে যা করলে অন্যে পক্ষের ক্ষতি সম্মুখীন হবে । আদালত সেই কাজ না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন।
৬) সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা: যে কাজ করা উচিত সেই কাজ করার মাধ্যমে এবং যেই কাজ করা উচিত নয় সেই কাজ না করার মাধ্যমে সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে। নিষেধাজ্ঞের মাধ্যমে আদালত সেই কাজ করে থাকেন।
৩.১৪ নিষেধাজ্ঞার শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদ।
নিম্নে নিষেধাজ্ঞার শ্রেণীবিভাগ বা প্রকারভেদ আলোচনা করা হলো:
১) স্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞ: ১৮৭৭ এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী মামলার শুনানি ও গুনাগুন বিচার করে বিক্রি মাধ্যমে আদালত বিবাদীকে বাজিল অধিকারের পরিপন্থী কোন কাজ সম্পাদন থেকে চিরস্থায়ীভাবে বিরত থাকার জন্য যে নির্দেশ প্রদান করে তাকে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলে।
এটি নির্ধারিত সময়ের জন্য কার্যকর না হয়ে চিরস্থায়ীভাবে কার্যকর হয়।
কোন পক্ষের অধিকার চিরস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। মামলার শেষে আদালত বিক্রির মাধ্যমে এটি প্রদান করে।
২) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: সুদৃষ্ট পত্রিকার আইন ১৮৭৭ এর ৫৩ ধারা অনুযায়ী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হলো আদালতের একটি সাময়িক নির্দেশ যা মামলার বিচারের পূর্বেই প্রদান করা হয়। এটি নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত বলবৎ থাকে। এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকে। এটি মামলার যেকোনো পর্যায়ে মঞ্জুর করা যেতে পারে।
অর্থাৎ মামলার রায় বা অধিকার কোন পক্ষের উপর বর্তাবে তা বিবেচনা না করে মামলার বিষয়বস্তু ঠিক রাখার জন্য আদালত সাময়িকভাবে যে নির্দেশ প্রদান করে তাকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলে।
৩) অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞ: অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা হলো বিদ্যমান সম্পত্তিটির মামলা যতদিন পর্যন্ত নিষ্পত্তি না হবে ততদিন পর্যন্ত উক্ত সম্পত্তি স্থিতি অবস্থায় থাকবে। অর্থাৎ মামলা চলাকালীন সময়ে মামলার মূল উদ্দেশ্য যদি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আবেদনে আদালত উক্ত সম্পত্তি স্থিতি অবস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা বলে।
৩.১৫ । আদালত কোন কোন ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন?
/ আদালত কখন চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করবেন?
নিষেধাকে মঞ্জুরের ক্ষেত্রে আদালত দুই ধরনের নীতি অবলম্বন করে। অর্থাৎ স্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞ মঞ্জুর করার জন্য আদালত এক ধরনের নীতি অবলম্বন করে এবং অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞ মঞ্জুর করার জন্য আরেক ধরনের নীতি অবলম্বন করে। নিম্নে সেই সকল নীতি উল্লেখ করা হলো:
স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করার জন্য আদালত নিম্নে নীতিগুলো অনুসরণ করে:
১) জিম্মাদার এর ক্ষেত্রে: বিবাদী যদি বাদীর সম্পত্তির জিম্মাদার হয় তাহলে আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞ মঞ্জুর করতে পারে।
২) অর্থ দ্বারা ক্ষতির পূরণ দেওয়া না গেলে: কোন অধিকার লঙ্ঘনের ফলে যে ক্ষতি হবে তা যদি এমন হয় যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দ্বারা উপযুক্ত প্রতিকার দেওয়া সম্ভব নয় তাহলে আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
৩) আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে: কোন অধিকার লঙ্ঘনের ফলে যে ক্ষতি হবে তার আর্থিক ক্ষতিপূরণ যদি আদব পাওয়া সম্ভাবনা না থাকে তাহলে আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
৪) জটিলতা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে: যদি বিচার বিভাগীয় কার্যধারা জটিলতার প্রতিরোধ করার প্রয়োজন হয় তাহলে আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞ মঞ্জুর করতে পারে।
৫) বিশেষ মানদন্ড না থাকলে: কোন অধিকার লঙ্ঘনের ফলে যে ক্ষতি হবে তা নিরূপণের যদি বিশেষ কোনো মানদন্ড না থাকে তাহলে আদালত চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
৩.১৬ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করার জন্য আদালত নিম্নে নীতিগুলো অনুসরণ করে।
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করার জন্য আদালত নিম্নে নীতিগুলো অনুসরণ করে:।
১) প্রাইমাফেসী কেইস প্রমাণ করতে পারলে: বাদীর আবেদন যদি আদালতের নিকট প্রাথমিকভাবে যুক্তিযুক্ত মনে হয় তাহলে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
২) উভয় পক্ষের সুবিধার ভারসাম্য:
আদালত দেখবেন যে এ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করলে বিবাদীর কতটুকু ক্ষতি হবে এবং নামঞ্জুর করলে বাতিল কতটুকু ক্ষতি হবে। এক্ষেত্রে যদি উভয় পক্ষের সুবিধা ভারসাম্য থাকে তাহলে আদালত অস্থায়ী হিসেবে মঞ্জুর করতে পারে।
৩) বাদীর অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে: বাদী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর না করলে তার অপর নিয়োগ ক্ষতি হবে তাহলে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
৪) আদালত প্রয়োজন মনে করলে;
নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন আছে কিনা তা আদালত বিবেচনা করে দেখবেন। যদি আদালত প্রয়োজন মনে করেন তাহলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
৫) বাড়ির চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা অর্থহীন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে: অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর না করলে বাড়ির চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা অর্থহীন হওয়ার আশঙ্কা থাকলে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
৬) স্টোপেল বাই একুইনস থাকলে: স্টোপেল বাই একুইনস থাকলে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞ মঞ্জুর করতে পারে
৭) বাদীর আচরণ পবিত্র হলে: অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য আদালত বাড়ির আচরণ বিবেচনা করবেন। বাঁদিকে পবিত্র মনে আদালত আসতে হবে। আদালত যদি সে রূপ মনে করেন তাহলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
৮) অস্বাভাবিক বিলম্ব না হলে: বাজি যদি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জন্য অস্বাভাবিক বিলম্ব না করে দ্রুত আবেদন করে তাহলে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারে।
৩.১৭ । স্থিতি বস্তা কি?
কোন সম্পদ বা বস্তু বর্তমানে যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় থাকাকে স্থিতি অবস্থা বলে।
এক্ষেত্রে মোকদ্দমার কোন পক্ষই উক্ত সম্পদ বা বস্তুর কোন পরিবর্তন করতে পারে না।
যেমন, কোন পক্ষ একটি বিল্ডিং নির্মাণ শুরু করল। এমন অবস্থায় অন্য পক্ষের আবেদনে আদালত স্থিত অবস্থার আদেশ প্রদান করল।
এক্ষেত্রে যতটুকু কাজ হয়েছে ততটুকুই সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ উক্ত বিল্ডিং এর নির্মাণ কাজও করা যাবে না আবার যতটুকু কাজ হয়েছে তা ও ভেঙে ফেলা যাবে না। এটি হলো স্থিতি অবস্থা।
৩.১৮ অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা কি?
অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা হলো বিদ্যমান সম্পত্তির মামলা যতদিন পর্যন্ত নিষ্পত্তি না হবে ততদিন পর্যন্ত উক্ত সম্পত্তি স্থিতি অবস্থায় থাকবে। অর্থাৎ মামলা চলাকালীন সময় মামলার মূল উদ্দেশ্য যদি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আবেদনে আদালত উক্ত সম্পত্তি স্থিতি অবস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে তা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা বলে।
৩.১৯ । চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।
))) স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পার্থক্য
১) সংজ্ঞাগত পার্থক্য: মামলার শুনানি ও গুনাগুন বিচার করে ডিগ্রি মাধ্যমে আদালত বিবাদীকে বাদীর অধিকারের পরিপন্থী কোন কাজ থেকে সম্পাদন থেকে চিরস্থায়ীভাবে বিরত থাকার যে নির্দেশ প্রদান করে তাকে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বলে।
পক্ষান্তরে মামলার রায় বা অধিকার কোন পক্ষের উপর বর্তাবে তা বিবেচনা না করে মামলার বিষয়বস্তু ঠিক রাখার জন্য আদালত সাময়িকভাবে যে নির্দেশ প্রদান করে তাকে অস্থায়ী নিষেধাকে বলে।
২) প্রতিশব্দগত: স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো perpetual injection
পক্ষান্তরে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো temporary injunction.
৩) উদ্দেশ্য গত: স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো বাদীর অধিকার চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা। পক্ষান্তরে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো মামলা চলাকালীন সময়-সম্পত্তির স্থিতি অবস্থা বজায় রাখা।
৪) কার্যকরগত: স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চিরদিনের জন্য কার্যকর হয়। পক্ষান্তরে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিনের জন্য কার্যকর হয়।
৫) নিয়ন্ত্রণগত: স্থায়ী নিষেধাজ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়। পক্ষান্তরে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়ানী কার্যবিধি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়।
No comments:
Post a Comment