Friday, March 17, 2023

ইআ-২ঃ বিবাহ, বাল্যবিবাহ

২.১. বিবাহর সংজ্ঞা দাও। 

২.২. বৈধ বিবাহের শর্তাবলী/ উপাদান কি কি? 

২.৩. বিভিন্ন শ্রেণীর বিবাহের বর্ণনা দাও এবং ফলাফল বর্ণনা কর। 

২.৪. বাতিল ও ফাসিদ বিবাহের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর। 

২.৫. মুসলিম আইনে বিবাহ এক প্রকার দেওয়ানী চুক্তি ও পবিত্র বন্ধন সমন্বয় -আলোচনা কর।

২.৬. বিবাহের উদ্দেশ্য কি? 

২.৭. যে সমস্ত কারণে মুসলিম বিবাহ অনিয়মিত ও বাতিল হয় এর কারণসমূহ আলোচনা কর।

২.৮. বিবাহ নিবন্ধন না করিলে কি শাস্তির ব্যবস্থা আছে? 

২.৯. মুতা বিবাহের সংজ্ঞা দাও। 
২.১০. মুতা বিবাহের শর্তাবলী কি কি?

২.১১. নিম্নাক্ত সমস্যাগুলো আলোচনা করঃ 
ক) মুসলমান দম্পতির স্ত্রী খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করলে,  
খ) হিন্দু দম্পতির স্বামী ইসলাম গ্রহণ করলে, 
গ) চারজন স্ত্রীর বর্তমানে একজন মুসলিম অ-কিতাবিও মহিলা বিবাহ করলে, ‌ স্ত্রী থাকা অবস্থায় একজন মুসলিম পুরুষ একজন হিন্দু মহিলাকে বিবাহ করেছে, 
ঘ) বিবাহ বিচ্ছেদের ৩০ দিনের মধ্যে একজন মুসলিম নারী পুনরায় বিবাহ করেছে, 
ঙ) চার বছর যাবৎ একজন মুসলিম নারী তাহার স্বামীর খোঁজ খবর পায় নাই। 
চ ) প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী ও পুরুষ কাবিননামা ব্যতীত বিবাহের পর ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট এফিডেভিট দ্বারা বিবাহের ঘোষণা দিয়েছে, 

৪.১২. সমস্যা- ১। ক' নামে এক হানাফী মুসলমান তার এক স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় খ' নামে এক হিন্দু মহিলাকে বিবাহ করে। এই বিবাহে তাহার প্রথম স্ত্রীর সম্মতি দেয় নাই, তাহা ছাড়া এই বিবাহে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত হয় নাই। এই বিবাহের আইনগত ফলাফল বর্ণনা কর।

৪.১২. সমস্যা - ২‌ । পূর্বে মারা গিয়েছে এমন এক স্বামীর ওরস জাত এক কন্যা আছে' খ'  এর কন্যাটির নাম 'গ', 'ক' , 'খ' কে বিবাহ করে। 'ক' এবং'খ' এর মধ্যে যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার পূর্বে 'খ' মারা যায়। ক, 'গ' কে বিবাহ করে। ক এবং 'গ' এর মধ্যে বিবাহের বৈধতা এবং আইনগত ফলাফল বর্ণনা কর।

২.১২. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯ কাকে বলে ?

২.১৩. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯ কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে?/ এই আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা সমূহ কি? 

২.১৪. ইহার কোন বিধান কি সংশোধন করা উচিত বলে তুমি মনে কর? 

২.১. বিবাহর সংজ্ঞা দাও। 

আরবি 'নিকাহ' শব্দের বাংলা অর্থ বিবাহ।
ইংরেজিতে Marriage বলে। এটি শরীয়তের একটি বিধান। একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে পারস্পরিক চুক্তির মধ্যে এই বিধান পালিত হয়।

বিবাহ ( Marriage): 
ইংরেজি ম্যারেজ শব্দের বাংলা অর্থ বিবাহ। আরবিতে বলা হয় নিকাহ। সুস্থ সাবলক্ষ কোন মুসলিম নারী ও পুরুষ স্বাধীন সম্বন্ধ দিতে বৈধ উপায়ে যৌনসহবাস ও সন্তান প্রজননের জন্য যে চুক্তি করে তাকে বিবাহ বলা হয়। 

বিবাহের ক্ষেত্রে অবশ্যই দুজন পুরুষ সাক্ষী থাকতে হবে অথবা একজন পুরুষ দুইজন নারী সাক্ষী থাকতে হবে।


২.২. বৈধ বিবাহের শর্তাবলী/ উপাদান কি কি?

বিবাহের উপাদান বা শর্ত:
নিম্নে একটি বৈধ বিবাহের শর্ত বা উপাদান উল্লেখ করা হলো: 
১) স্বাবলক হওয়া: একটি বৈধবিবাহ হতে হলে বর এবং কনের উভয়কে সাবালক হতে হবে। বর্তমানে পুরুষদের ক্ষেত্রে ২১ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বাভাবিক হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে ইসলামী আইন অনুযায়ী বর এবং কণে সাবালক না হলেও তাদের বিবাহ বৈধ হবে।

২) প্রস্তাব প্রধান: বৈধ বিভাগে যেকোনো একপক্ষ অন্য পক্ষকে প্রস্তাব প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ কণেপক্ষও প্রস্তাব দিতে পারেন আবার বরপক্ষ প্রস্তাব দিতে পারেন।

৩) প্রস্তাব গ্রহণ: যে পক্ষ বিবাহের প্রস্তাব প্রদান করবে অন্য পক্ষ কর্তৃক তা গ্রহণ হবে অথবা প্রস্তাবের সম্মতি প্রদান করতে হবে। 

৪) সাক্ষীর উপস্থিতি: একটি বৈধ বিবাহের ক্ষেত্রে অবশ্যই দুইজন পুরুষ সাক্ষী থাকতে হবে অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী থাকতে হবে। 

৫) দেনমোহর: বিবাহ হলেই দেনমোহর থাকবে।

৬) বিবাহ নিষিদ্ধ আত্মীয় না হওয়া: বৈধ বিবাহের গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হলো, যে সকল নারীদের বিবাহ করা হারাম তাদের বিবাহ না করা। যেমন: মাতা, দুধ মাতা , কন্যা, আপন বোন , দুধ বোন, ফুফু, খালা, আপন ভাইয়ের মেয়ে, আপন বোনের মেয়ে, স্ত্রীর মাতা, স্ত্রী জীবিত অবস্থায় তার আপন বোন, স্ত্রীর পূর্বে বিবাহ থাকলে সেই ঘরের মেয়ে, পুত্রের স্ত্রী, সধবা নারী ( যার স্বামী আছে)।

৭) বিবাহ রেজিস্ট্রি হওয়া: ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিবাহ অবশ্যই রেজিস্ট্রি হতে হবে। 


২.৩. বিভিন্ন শ্রেণীর বিবাহের বর্ণনা দাও এবং ফলাফল বর্ণনা কর।

বিবাহের শ্রেণীবিভাগ: মুসলিম আইনে তিন ধরনের বিবাহ লক্ষ্য করা যায়। নিম্নে তা দেওয়া হল-
১) বৈধ (সহীহ) বিবাহ:
পরস্পরের সাথে বিবাহ নিষিদ্ধ নয় এমন সুস্থ সবলক মুসলিম নারী ও পুরুষের মধ্যে স্বাধীন সম্মতিতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে যে বিবাহ সম্পন্ন হয় তাকে বৈধবিবাহ বলে।

২) অবৈধ বা বাতিল বিবাহ: 
যে বিবাহ ইসলামী আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয় না তাকে অবৈধ বা বাতিল বিবাহ বলে। যেমন বিবাহ নিষিদ্ধ আত্মীয় কে বিবাহ করা, কোন সাক্ষী ছাড়া বিবাহ করা ইত্যাদি।

৩) অনিয়মিত ( ফাসিদ ) বিবাহ:
যে বিবাহ ত্রুটিযুক্ত হলেও পরবর্তীতে তার সংশোধন করা যায় তাকে অনিয়মিত বা ফাসিদ বিবাহ বলে। অর্থাৎ যে বিবাহ বৈধ ও নয় আবার অবৈধ নয় তাকে অনিয়মিত বা ফাসিদ বিবাহ বলে।

বিবাহের আইনগত ফলাফল:

সহীহ বা বৈধ বা নিয়মিত বিবাহের আইনগত ফলাফল:
১) স্ত্রী দেনমোহর পাবেন।
২) স্ত্রী ভরণপোষণ পাবেন।
৩) স্বামী স্ত্রী পরস্পরের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী পাবেন।
৪) সন্তান বৈধ হবে,
৫) স্ত্রী তার স্বামীর গৃহে বসবাসের অধিকারিনী হবে।
৬) স্বামী স্ত্রীর বৈধ উপায়ে যৌন মিলনের অধিকার সৃষ্টি হবে।
৭) পরস্পরের বিবাহ নিষিদ্ধ আত্মীয়র সাথে বিবাহ অবৈধ হবে।
৮) বিবাহ বিচ্ছেদ হলে স্ত্রীকে ইদ্দত পালন করতে হবে।
৯) স্বামী মৃত্যুবরণ করলে স্ত্রীকে ইদ্দত পালন করতে হবে।



২) ফাসিদ বা অনিয়মিত বিবাহের আইনগত ফলাফল: 
১) স্ত্রী মোহর পাবেন। এক্ষেত্রে যথাযথ মোহর ও সুনির্দিষ্ট মোহরের মধ্যে যেটি কম সেই মোহর প্রাপ্ত হবেন। 
২) স্ত্রীকে ইদ্দত পালন করতে হবে।
৩) বিবাহ অনিয়মিত হলে ও সন্তান বৈধ হবে।
৪) পরস্পর পরস্পরের সম্পদের উত্তরাধিকারীণী হবে না।
৫) পরস্পরের বিবাহ নিষিদ্ধ আত্মীয়ের সাথে বিবাহ অবৈধ হবে।


বাতিল বা অবৈধ বিবাহের আইনগত ফলাফল:
১) বিবাহ অবৈধ হবে
২) সন্তান অবৈধ বা জারজ হবে
৩) পরস্পর পরস্পরের সম্পদের উত্তরাধিকারী হবে না।
৪) সন্তানগণ শুধু মাতার সম্পত্তিতে অংশ পাবে। পিতার সম্পত্তিতে অংশ পাবে না।

৫) পরস্পরের মধ্যে কোন অধিকার বা দায়-দায়িত্ব সৃষ্টি হবে না।

 

২.৪. বাতিল ও ফাসিদ বিবাহের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর। 

১) সংজ্ঞাগত: 
যে বিবাহ বৈধ নয় আবার একেবারে অবৈধও নয় তাকে ফাসিদ বা অনিয়মিত বিবাহ বলে। 
পক্ষান্তরে ইসলামের বিধান সম্পূর্ণভাবে লংঘন করে যে বিবাহ সম্পন্ন হয় তাকে বাতিল বিবাহ বলে। 

২) সংশোধনগত: 
ফাসিদ বা অনিয়মিত বিবাহ সংশোধনের মাধ্যমে বৈধ করা যায়। পক্ষান্তরে বাতিল বিবাহ সংশোধনের মাধ্যমে বৈধ করা যায় না।

৩) সন্তানের বৈধতাগত:
ফাসিদ বা অনিয়মিত বিবাহের পর সন্তান জন্মগ্রহণ করলে উক্ত সন্তান বৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য হয়। পক্ষান্তরে বাতিল বিবাহের পর সন্তান জন্মগ্রহণ করলে উক্ত সন্তান অবৈধ সন্তান হিসেবে গণ্য হয়।

৪) অধিকার গত: 
ফাসিদ বা অনিয়মিত বিবাহের পর যৌন মিলন হলে অধিকার সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে বাতিল বিবাহের পর যৌন মিলন হলেও অধিকার সৃষ্টি হয় না।

৫) নিয়ম লঙ্ঘন গত: 
ফাসিদ বা অনিয়মিত বিবাহের ক্ষেত্রে ইসলামী বিবাহের কিছু নিয়ম লঙ্ঘন করা হয় আর কিছু মান্য করা হয়।
পক্ষান্তরে বাতিল বিবাহের ক্ষেত্রে ইসলামী বিবাহের সকল নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়।

৬) দায়-দায়িত্ব গত: 
ফাসিদ বা অনিয়মিত বিবাহের পর যৌন মিলন হলে দায়-দায়িত্ব সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে বাতিল বিবাহের পর যৌন মিলন হলেও দায়-দায়িত্ব সৃষ্টি হয় না।

৭) ইদ্দতগত: 
ফাসিদ বা অনিয়ত বিবাহের পর যৌন মিলন হলে অতঃপর বিবাহ বিচ্ছেদ হলে বা স্বামী মৃত্যুবরণ করলে স্ত্রীকে ইদ্দত পালন করতে হয়। পক্ষান্তরে বাতিল বিবাহের পর যৌন মিলন হলেও স্ত্রীকে ইদ্দত পালন করতে হয় না।

৮) সন্তানের উত্তরাধিকার গত: 
ফাসিদ বা অনিয়মিত বিবাহের পর সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তারা পিতা মাতার উভয়ের সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করবে। পক্ষান্তরে বাতিল বিবাহের পর সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তারা পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করবে না। শুধু মাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করবে।

৯) বিড়ি নিষেধ গত: 
ফাসিদ বা অনিয়মিত বিবাহের বিধি নিষেধগুলো স্থায়ী প্রকৃতির। পক্ষান্তরে বাতিল বিবাহের বিধি-নিষেধ গুলো স্থায়ী প্রকৃতির।


২.৫. মুসলিম আইনে বিবাহ এক প্রকার দেওয়ানী চুক্তি ও পবিত্র বন্ধন সমন্বয় -আলোচনা কর।
দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে কোন কাজ করা বা কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকার সম্মতি যদি আইন দ্বারা বলবৎযোগ্য হয় তাহলে তাকে চুক্তি বলে। 
মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ এক প্রকার দেওয়ানি চুক্তি। সুস্থ সাবলক কোন মুসলিম নারী ও পুরুষ স্বাধীন সম্মতিতে বৈধ উপায়ে যৌনসহবাস ও সন্তান প্রজননের জন্য যে চুক্তি করে তাকে বিবাহ বলে।

একটি বৈধ চুক্তির মধ্যে যে সকল উপাদান থাকে এটি বৈধ বিবাহের মধ্যে ও তা থাকে ।যেমন - 
১) চুক্তিতে দুইটি পক্ষ থাকে,। বিবাহেও দুটি পক্ষ থাকে।
২) চুক্তি এবং বিবাহ উভয় ক্ষেত্রে পক্ষসমূহ কে সাবালক হতে হয়।
৩) চুক্তি এবং বিবাহ উভয় ক্ষেত্রে একপক্ষকে প্রস্তাব প্রদান করতে হয় এবং অন্য পক্ষকে তা গ্রহণ করতে হয়।
৪) চুক্তি এবং বিবাহ উভয় ক্ষেত্রে সকল পক্ষকে স্বাধীনভাবে সম্মতি প্রদান করতে হয়।
৫) চুক্তি এবং বিবাহ উভয় ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রি হতে হয়।


পবিত্র বন্ধন: 
মুসলিম বিবাহের শুধুমাত্র একটি দেওয়ানী চুক্তি নয়, এটি একটি পবিত্র বন্ধনও বটে। কারণ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বিবাহ সম্পর্কে অনেক স্থানে উল্লেখ করেছেন। কোন কোন নারীকে বিবাহ করা যাবে, কোন কোন নারীকে বিবাহ করা যাবে না, বিবাহের দেনমোহর ইত্যাদি বিষয় যেমন মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন, তেমনি মোহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু সাল্লাম বিভিন্ন হাদিসে বিবাহের উল্লেখ করেছেন।

বিবাহের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে থেকে অপবিত্রতা দূর হয়। সমাজ থেকে যিনা ব্যাভিচার কমে যায়। বৈধভাবে সন্তান জন্ম নেয়। সুতরাং বলা যায় মুসলিম বিবাহ একটি দেওয়ানী চুক্তি এবং পবিত্র বন্ধন।


২.৬. বিবাহের উদ্দেশ্য কি? 


এখানে বিবাহের কতিপয় লক্ষ্য-উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হলঃ

১. স্বামী-স্ত্রীর নৈতিক চরিত্র পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও কলুষমুক্ত রাখা।
২. স্বামী-স্ত্রী উভয়ের আত্মিক প্রশান্তি ও স্থিতিলাভ।
৩. যৌনাচার-ব্যভিচার বন্ধ করা, গোপন বন্ধুত্বের নামে যৌন তৃপ্তি লাভ রহিত করা, সর্বোপরি সামাজিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
৪. বিবাহের মাধ্যমে নৈতিক চরিত্র রক্ষার জন্য পরিবার নামীয় এক দুর্জয় দুর্গ রচনা করা।
৫. পারিবারিক জীবন যাপন করে সন্তান জন্মদান এবং তাদেরকে লালন-পালন করে ভবিষ্যৎ সমাজের জন্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।


২.৭. যে সমস্ত কারণে মুসলিম বিবাহ অনিয়মিত ও বাতিল হয় এর কারণসমূহ আলোচনা কর।

নিম্নের ক্ষেত্রে একটি বিবাহ ফাসিদ বা অনিয়মিত বলে গণ্য হয়-
১) বিবাহের মধ্যে সাক্ষী না থাকলে, 
২) চারজন স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় পঞ্চমীর স্ত্রী গ্রহণ করলে বা পঞ্চম বিবাহ করলে।
৩) ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে কোন মহিলাকে বিবাহ করলে।
৪) কোন মুসলিম পুরুষ অগ্নি উপাসক কোন নারীকে বিবাহ করলে
৫) স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় তার সহোদর বা আপন বোনকে বিবাহ করলে।

নিম্নের ক্ষেত্র বাতিল বিবাহের: 
বিবাহ অনুষ্ঠানকালে যদি বিবাহের এমন কোন শর্ত বাদ পড়ে যায় যার সংশোধনযোগ্য নয়, সেই রূপ বিবাহকে বাতিল বিবাহ বলে। যেমন মাহরাম আত্মীয়র মধ্যে অনুষ্ঠিত বিবাহ। 
কতিপয় বাতিল বিবাহ

১) মুতা বিবাহ : কোন ব্যক্তি কোন মহিলাকে সাময়িকভাবে উপভোগ করার উদ্দেশ্যে স্বল্প মেয়াদের জন্য বিবাহ করাকে মুতাবিবাহ বলে। যেমন - ১ , ৭, ১৫, ১ মাস। ‌‌ইত্যাদি। মেয়েদের জন্য বিবাহ করা, এই বিবাহকের সাময়িক বিবাহ বলে। এই বিবাহ জাহেলী যুগে প্রচলিত ছিল। ইসলাম এই বিবাহকে প্রত্যাখ্যান করেছে, এটি একটি বাতিল বিবাহ।

২) বদলি বিবাহ : কোন ব্যক্তির নিজের কন্যাকে অন্যের কাছে এই শর্তে বিয়ে দেয় যে ওই ব্যক্তি তার কন্যাকে প্রথম ব্যক্তির কাছে বিয়ে দেবে এবং এর জন্য কাউকে মোহরানা দিতে হবে না। 

হাদিসে এই প্রকার বিয়েকে 'সেগার বিবাহ' বলে। এই পদ্ধতিটি জাহিলি যুগে প্রচলিত ছিল। ইসলামিক জীবন ব্যবসায় এই জাতীয় বিবাহ বৈধ নয়। বাতিল বিবাহ।

২.৮. বিবাহ নিবন্ধন না করিলে কি শাস্তির ব্যবস্থা আছে? 

বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন আইনের ২০০৫ সালের সংশোধনীর ৫ ধারায় বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করলে কি শাস্তি হবে তা উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত ধারায় বলা হয়েছে:
১) বিবাহ যদি রেজিস্ট্রি না করা হয় তাহলে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নিকাহ রেজিস্টারকে প্রতিবেদন পেশ করতে হবে। 
২) কেউ যদি উপরোক্ত বিধান লংঘন করে তাহলে-
* বিনাশ্রম দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা
* ৩০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, 

* অথবা উভয় দন্ড হতে পারে।


২.৯. মুতা বিবাহের সংজ্ঞা দাও। 

মুতা বিবাহ একটি স্বল্প সময়ের বিবাহ। অর্থাৎ কোন নারী ও পুরুষ অল্প কিছু সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে এ বিবাহ করতে পারে। তবে এই সময় সম্পর্কে কোন সর্বনিম্ম বা সর্বোচ্চ সময় বাধা ধরা নাই। যেমন: ১ ঘন্টার জন্য ও চাইলে কোন পুরুষ/নারীর সাথে বা কোন নারী/পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। সহজ ভাষায়, এক রাত্রির বিয়ের ইসলামি পরিভাষায় নাম হলো মূতা বিবাহ। এই বিয়ের প্রথা হলো একজন পুরুষ কোন মেয়ের সাথে স্বল্প সময়ের জন্য বিয়ের চুক্তি করে তার সাথে সঙ্গম করতে পারবে। সুন্নী ইসলামে মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ, তবে শিয়া ইসলামদের মধ্যে এটা এখনো প্রচলিত আছে। একসাথে একজন মুসলিম চার স্ত্রীর বেশি রাখতে পারে না কিন্তু মুতা বিয়ের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। মুতা বিয়ের মাধ্যমে একজন মুসলমান ইচ্ছে করলে যে কোন নারীর সাথে সঙ্গমসুখ লাভ করতে পারবে। মুতা বিবাহে কোন কাজী বা সাক্ষীর প্রয়োজন হয় না। কয়েকটি আয়াত পাঠের মাধমে এ বিবাহ সম্পন্ন করা হয় এবং এ বিয়ের কোন তালাক নেই।



২.১০. মুতা বিবাহের শর্তাবলী কি কি?
সুন্নী ইসলামে মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মহানবী (স)-এর মক্কা বিজয়ের কিছু সময় পর এটি নিষিদ্ব করা হয় এবং খলিফা হযরত ওমর (রা)-এর রাজত্বকালে এটি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ব করা হয়। তবে শিয়া ইসলামে এ বিবাহ আজো প্রচলিত রয়েছে। 

তবে শিয়া ইসলামে এ বিবাহ প্রচলিত থাকলেও সকল শিয়াদের জন্যই মুতা বিবাহ প্রযোজ্য নয়। তবে বিবাহকৃত মহিলা/পুরুষ অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। এছাড়া যারা বিবাহিত, তারা মুতা বিবাহ করতে পারবে না। 

আল্লাহ যাদেরকে বিবাহ করার সামর্থ্য দেয়নি, তারাই সম্মান বাঁচানোর জন্য মুতা বিবাহ করতে পারবে। আর যারা বিবাহ করে নি কিন্তু যৌনতৃপ্তির প্রয়োজন, কেবলমাত্র তাদের জন্যই মুতা বিবাহ জায়েজ বা বৈধ।


২.১১. নিম্নাক্ত সমস্যাগুলো আলোচনা করঃ 

ক) মুসলমান দম্পতির স্ত্রী খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করলে,  
মহান রাব্বুল আলামিন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের উপর ইঞ্জিল কিতাব নাযিল করেন। অর্থাৎ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা কিতাবধারী। মুসলিম আইন অনুযায়ী কিতাব ধারীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার নিয়ম রয়েছে। 

বিবাহ বিচ্ছেদ আইনের চার ধারা অনুযায়ী- কোন বিবাহিতা মুসলিম মহিলা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করলে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হবে না। 
যেহেতু কোন মুসলিম মহিলা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করলে বিবাহ বিচ্ছেদ হবে না, সেহেতু তাদের গর্ভজাত সন্তান অবৈধ হবে না। অর্থাৎ তাদের সন্তান বৈধ হবে এবং তারা পিতা-মাতার সম্পদের উত্তরাধিকার হবে। 

খ) হিন্দু দম্পতির স্বামী ইসলাম গ্রহণ করলে, ফলাফল কি? 

যদি কোন হিন্দু পুরুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাহলে জন্মসূত্রে ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের জন্য যে নিয়ম প্রযোজ্য তার জন্য সেই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। 

ইসলামী আইন অনুযায়ী কোন মুসলিম ব্যক্তির সম্পত্তিতে হিন্দু ধর্মের অনুসারী কেউ উত্তরাধিকার হতে পারবে না। সুতরাং ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী ব্যক্তির হিন্দু স্ত্রী পুত্রকন্যা যদি ইসলাম গ্রহণ না করে তাহলে তারা উত্তরাধিকার হিসেবে গণ্য হবে না। অর্থাৎ ইসলাম গ্রহণকারীর সম্পত্তিতে তারা বঞ্চিত হবে। 

গ) চারজন স্ত্রীর বর্তমানে একজন মুসলিম অ-কিতাবিও মহিলা বিবাহ করলে, ‌ স্ত্রী থাকা অবস্থায় একজন মুসলিম পুরুষ একজন হিন্দু মহিলাকে বিবাহ করেছে, 

ইসলামী আইন অনুযায়ী কোন মুসলিম পুরুষ চারজন স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় পঞ্চম স্ত্রী গ্রহণ করলে বা পঞ্চম বিবাহ করলে সেই বিবাহ অনিয়ত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে গণ্য হবে।

আবার কোন অঙ্কিতা দিয়া নারীকে বিবাহ করলেও সেই বিবাহ অনিয়মিত বা ফাসিদ বিবাহ হিসেবে গণ্য হবে।

সুতরাং চারজন স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় একজন মুসলিম একজন অকিতাবিয়া মহিলাকে বিবাহ করলে সেই বিবাহ অনিয়মিত বা ফাসিদ বিবাহ হিসেবে গণ্য হবে।

এ ধরনের বিবাহের পর যৌন মিলন না হলে কোন ফলাফল সৃষ্টি হবে না। 

কিন্তু যৌন মিলন হলে নিম্নের ফলাফল সৃষ্টি হবে:
১) স্ত্রী মোহর পাবেন। এক্ষেত্রে যথাযথ মোহর ও সুনির্দিষ্ট মোহরের মধ্যে যেটি কম সেই মোহর প্রাপ্ত হবেন।
২) স্ত্রীকে ইদ্দত পালন করতে হবে।
৩) বিবাহ অনিয়মিত হলে ও সন্তান বৈধ হবে।
৪) স্বামী স্ত্রী পরস্পর পরস্পরের সম্পদের এর উত্তরাধিকারী হবে না
৫) সন্তানগণ উত্তরাধিকার গন্য হবে।
৬) পরস্পরের বিবাহ নিষিদ্ধ আত্মীয়র সাথে বিবাহ অবৈধ হবে।

ঘ) বিবাহ বিচ্ছেদের ৩০ দিনের মধ্যে একজন মুসলিম নারী পুনরায় বিবাহ করেছে, 
কোন মুসলিম নারী যদি তার বিবাহ বিচ্ছেদের ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় বিবাহ করে তাহলে 1961 সালের মুসলিম পারিবারিক আইন বা ৬১ সালের বিধিবদ্ধ আইনের ৭ (৬ ) ধারা অনুযায়ী উক্ত বিবাহ বৈধ বলে গণ্য হবে। 

তবে কোন নারী বিবাহ বিচ্ছেদের ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় বিবাহ করলে তার এই বিবাহ অনিয়মিত বিবাহ বা ফাসিদ বিবাহ বলে গণ্য হবে।

আইন অনুযায়ী কোন নারীর বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তাকে তিন মাস পর্যন্ত ইদ্দত পালন করতে হয়।
অনিমিত বিবাহের পর যৌন মিলন না হলে কোন ফলাফল সৃষ্টি হবে না।
ফলাফল ফাঁসির বিবাহের ফলাফল ‌‌

ঙ) চার বছর যাবৎ একজন মুসলিম নারী তাহার স্বামীর খোঁজ খবর পায় নাই।
চার বছর যাবত একজন মুসলিম নারী তার স্বামীর খোঁজ খবর না পেলে আইনগত ফলাফল:

যদি কোন নারী চার বছর যাবত তার স্বামীর খোঁজ খবর না পায় তাহলে ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে। ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন অনুযায়ী কোন স্বামীর যদি চার বছর যাবত কোন খোঁজ পাওয়া না যায় তাহলে সেই স্ট্রিট বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য ডিগ্রী পাওয়ার অধিকারীনি হবেন।
এ ধরনের মামলার বৈশিষ্ট্য নিম্ন রূপ:

১) স্বামীর ওয়ারিশদের নাম
২) উক্ত ওয়ারিশদের উপর নোটিশ জারি করতে হবে
৩) উক্ত ওয়ারিশগণ তাদের বক্তব্য পেশ করতে পারবেন
৪) স্বামীর চাচা বা ভাই থাকলে তাদেরকেও মামলায় পক্ষ ভুক্ত করতে হবে।

তবে এই ধরনের ডিগ্রী পাওয়ার পর স্ত্রীকে ৬ মাস অপেক্ষা করতে হবে। কারণ এই ধরনের ডিগ্রী ছয় মাস পর্যন্ত কার্যকর হয় না।
ছয় মাসের মধ্যে স্বামী নিজে অথবা তার কোন প্রতিনিধি আদালতে হাজির হয়ে তার কর্তব্য পালনের প্রস্তুত বলে স্বীকৃতি প্রদান করলে আদালত উত্তর ডিগ্রী অবশ্যই রোধ করবেন। 



২.১২. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯ কাকে বলে ?

আরবি নিকাহ শব্দের বাংলা অর্থ বিবাহ। ইংরেজিতে একে মেরিজ বলে। এটি শরীয়তের একটি বিধান। একজন পুরুষ ও একজন নারীর মধ্যে পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে এই বিধান পালিত হয়। ইসলামী আইন অনুসারে বিবাহের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বয়স কোন বাধা নয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বাল্যবিবাহ সমাজে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হিসেবে উদ্ভব হওয়ার ফলে বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন 1929 পাস করা হয়।

বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন 1929:

ইসলামী আইন অনুযায়ী- সুস্থ সবলক কোন মুসলিম নারী ও পুরুষ স্বাধীন সম্মতিতে বৈধ উপায়ে যৌন সহবাস ও সন্তান প্রজননের জন্য যে চুক্তি করে তাকে বিবাহ বলে। এখানে স্বাবলক বলতে পুরুষের বয়সের ক্ষেত্রে ২১ বছর নারীর ক্ষেত্রে ১৮ বছর বোঝানো হয়েছে।

অর্থাৎ কোন মুসলিম পুরুষ ও নারীর বয়স যদি যথাক্রমে একুশ বছর ও ১৮ বছর পূর্ণ না হয় এবং তাদের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয় তাহলে তাকে বাল্যবিবাহ বলে। 

২.১৩. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯ কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে?/ এই আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা সমূহ কি? 

ইসলামী আইন অনুযায়ী বিবাহের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বয়স কোন বাধা নয় ‌‌যেকোনো বয়সে নারী-পুরুষ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। কিন্তু কম বয়সে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার ফলে ব্যক্তি জীবনে, সমাজ জীবনে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে ১৯২৯ সালে বাল্যবিবাহ নীরদ আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু এই আইন বাস্তবায়নে বিভিন্ন বাধা পরিলক্ষিত হয়। নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

১) প্রচারের অভাব: বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন যথেষ্ট প্রচার না পাওয়ায় এটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন কঠিন।

২) শিক্ষার অভাব: মূলত অশিক্ষিত লোকেরাই অল্প বয়সে বিবাহ করে থাকে। আমাদের দেশে শিক্ষার হার কম থাকায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন বাস্তবায়নে এটি একটি বাধা।

৩) জন্ম নিবন্ধন না থাকা: বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হলেও পূর্বে ছিল না। কাজী কোন নারী বা পুরুষ সাবালক না হলেও কাগজে-কলমে তাদেরকে সাবালক দেখিয়ে বিবাহ দেওয়ার সুযোগ ছিল।

৪) দুর্নীতি: কিছু কিছু বিবাহ রেজিস্টার অন্যায় ভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য নাবালক ব্যক্তিদের বিবাহ সম্পন্ন করে থাকেন যার ফলে এই আইন বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পরে।

৫) শাস্তি কম থাকা : বাল্যবিবাহের জন্য মাত্র এক মাসের কারাদণ্ড ও ১০০০ টাকা জরিমানা ব্যবস্থা রয়েছে। যার ফলে এটি বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন বাস্তবায়নে বাধা।
৬) মহিলাদের কারাদণ্ড না থাকা: এই আইনের অধীনে কোন মহিলাকে কারাদণ্ড দেয়া যায় না। যার ফলে মহিলারা বাল্যবিবাহ দানে উৎসাহিত হয় ‌

৭) সচেতনতার অভাব: অনেক অভিভাবক সচেতন না হওয়ায় তাদের সন্তানদের বাল্যবিবাহও দিয়ে থাকেন। যার ফলে এই আইন বাস্তবায়ন কষ্টসাধ্য হয়ে যায়।

৮) নির্দিষ্ট স্থানে অভিযোগ: ইউনিয়ন কাউন্সিল অথবা ইউনিয়ন কাউন্সিল না থাকলে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট বাল্যবিবাহ অভিযোগ আনতে হয়। যেকোনো আদালতে বাল্যবিবাহের অভিযোগ করা যায় না। কাজেই এটি বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন বাস্তবায়নে বাধা।

৯) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগ: বাল্যবিবাহের পর এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে আর অভিযোগ আনা যায় না। কাজী বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন বাস্তবায়নের বাধা।


২.১৪. ইহার কোন বিধান কি সংশোধন করা উচিত বলে তুমি মনে কর? 

বাল্যবিবাহ বিরোধী আইনের নিম্নোক্ত বিধানগুলো সংশোধন করা উচিত:
১) শাস্তি কম থাকা: বাল্য বিবাহের জন্য মাত্র এক মাসের কারাদণ্ড ও ১০০০ টাকা জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে। যার ফলে এটি বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন বাস্তবায়নে বাধা। এই শাস্তি বৃদ্ধি করা উচিত।
২) অভিভাবকের শাস্তি কম থাকা: বাল্যবিবাহের জন্য অভিভাবকের জন্য মাত্র এক মাসের কারাদণ্ড ১ হাজার টাকা জরিমানা ব্যবস্থা রয়েছে। যার ফলে এটি বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন বাস্তবায়নের বাধা। এই শাস্তি বৃদ্ধি করা উচিত।

৩) মহিলাদের কারাদণ্ড না থাকা: এই আইনের অধীনে কোন মহিলাকে কারাদণ্ড দেওয়া যায় না। যার ফলে মহিলারা বাল্যবিবাহ দানে উৎসাহিত হয়। অর্থাৎ মহিলাদের জন্য কারো ধরনের বিধান থাকা উচিত। 

৪) নির্দিষ্ট স্থানে অভিযোগ: ইউনিয়ন কাউন্সিল অথবা ইউনিয়ন কাউন্সিল না থাকলে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ নিকট বাল্যবিবাহের অভিযোগ আনতে হয়। যেকোনো আদালতে বাল্যবিবাহের অভিযোগ করা যায় না। কাজী এটি বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন বাস্তবায়নের বাধা। যে কোন আদালতে বাল্যবিবাহ অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

৬) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগ: বাল্যবিবাহের পর এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে আর অভিযোগ আনা যায় না। কাজেই এটি বাল্যবিবাহ বিরোধী আইন বাস্তবায়নে বাধা। এই বিধান সংশোধন করা উচিত।


মূলত বিবাহ বন্ধ করা এই আইনের উদ্দেশ্য নয়। বাল্যবিবাহের ফলে সমাজ থেকে ক্ষতিকর বিষয়গুলো রোধ করা এই উদ্দেশ্য।

No comments:

Post a Comment